মানুষ কতটা মুক্ত?
আমি জানিনা ঠিক কতটা তারা মুক্ত। তবে, ওদের ব্যস্ততা দেখে, ঘামার্ত চোখের তৃষ্ণা দেখে, আবেশী ও অবসন্ন মুখ দেখে খুব বেশি মোহগ্রস্ত মনে হয়। মনে হয় যেন তারা বাঁধা পড়ে আছে কোনো যাদুর বালি-ঘড়িতে। অবিরত সেটা চলছে, চলছে তারা, তারা বাড়ি ছাড়ছে, তারা বাড়ি ফিরছে, তারা ঘুমুচ্ছে, তারা জেগে উঠছে...।
আমি কি স্বাধিন? স্বাধিন আর মুক্ত হওয়ার মধ্যে তফাৎ আছে। আমি মুক্ত, স্বাধিন নই। বেলায় অবেলায় ছোটোছুটি করি, এদিকে যাই, ঐদিকে যাই। সন্ধ্যে হলে পাখিরাও ঘরে ফিরে আসে, ঘরের টানে। আমি ফিরি না। আমার ঘর নাই কিংবা ঘরের পটে মনের মানুষ নাই। চাঁদ জাগা রাতে পাশে বসে শরীরের উমম নেবার প্রিয়জন নাই। আঁচলের আলতো ছোঁয়ায় ঘুম ভাঙ্গানোর পিছুটান নাই। এটা নিয়ে আমার বাড়তি আকাঙ্খাও নাই। ঘরে এলে ছোট টুনটুনি ব্যতিত অন্য কারো সাথে কথা বলতে আমার ইচ্ছে করেনা। ওর সাথে কথা বলে আরাম আছে। কিছুই সে বোঝেনা, আমি যা বলি এবং আমিও তার কিছুই বুঝিনা, যা সে বলে।
মাঝে মাঝে মনে হয় আমি শক্তিশূণ্য একজন মানুষ। অবশ, অসাড় একজন মানুষ। যাকে দিয়ে কিছু হবার নয়। যে দায়িত্ববান নয়। আবেগী নয়। কাঠখোট্টা একজন মানুষ ব্যতিত স্বীকৃত পাবার মতন তেমন কিছুই আমি নই।
খুব খুব কম সময় আছে, যখন নিজেকে সো পাওয়ারফুল মনে হয়। পর্বত চূড়া থেকে তখন আমি সাত সমুদ্র তেরো নদি ভ্রমন করে কতগুলো হাস্যময় চোখের উপর স্থিত হই। অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকি ওদের সুন্দর, অসম্ভব সুন্দর চোখ, কান, মুখ, নাক, কপালের উপর লেপ্টে থাকা দানা দানা ঘামের উপর। ওরা কত সুন্দর করে কথা বলে, ওরা কত সুন্দর করে টুকরো ভালোবাসার আলো জ্বালে। আমি কতযে শক্তিমান থাকি তখন! চিৎকার দিয়ে তখন খুব বলতে ইচ্ছে করে... পৃথিবী দ্যাখো তোমার কোলে এখনো রোদ্রুর খেলা করে।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ৩:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



