somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রসঙ্গঃ খালেদা জিয়ার বাড়ি বিধিবহির্ভূত কিনা?

১৪ ই নভেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পরে বেগম জিয়া ও তার দুই ছেলেকে গুলশানে প্রায় তিন একর জায়গার ওপরে বাড়িসহ বিপুল সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। তিন একর জায়গাসহ গুলশানের ওই বাড়িটি তাদেরকে নামমাত্র একশত এক টাকায় লিখে দেওয়া হয়। পাশাপাশি সেনানিবাসের শহীদ মইনুল রোডের ৬ নম্বরের বাড়িটিও লিজ দেওয়া হয় সেনানিবাস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রেসিডেন্টস পেনশন অর্ডিন্যান্স-১৯৭৯ উপেক্ষা করে শুধু মানবিক কারণে তাদের এ সুযোগ-সুবিধা দেন তখনকার কর্তাব্যক্তিরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মারা যাওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক করে বিপুল পরিমাণ সুযোগ-সুবিধা খালেদা জিয়া এবং তার দুই পুত্র তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অথচ কোনো রাষ্ট্রপতি কর্মরত থাকা অবস্থায় মারা গেলে বা নিহত হলে তার পরিবার কী সুযোগ-সুবিধা পাবে তাও কিন্তু সুস্পষ্টভাবে আইনে উল্লেখ আছে। প্রেসিডেন্টস পেনশন অর্ডিন্যান্স-১৯৭৯ তে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে জিয়াউর রহমানের পরিবার কি ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেতে পারেন। কিন্তু তারপরও মন্ত্রিসভা বৈঠক করে বিপুল সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করে।

জানা যায়, ১৯৮১ সালের ১২ জুনের ওই মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি খালেদা জিয়াকে দুটি নয়, একটি বাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। খালেদা জিয়া সেই বাড়িও নিয়েছেন আবার সেনানিবাসের মইনুল রোডের বাড়িটিও ছাড়েননি। আবার বাড়িটি লিজ নেওয়ার জন্যও আবেদন করেননি।

যেসব সুবিধা দেওয়া হয়েছে : ১৯৮১ সালের ১২ জুন মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে গুলশান মডেল টাউনে ১৯৬নং রোডের এনই (ডি) ৩বি নং বাড়িটি মাত্র ১০১ টাকা মূল্যে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে বেগম জিয়া ও তার দুই ছেলের কাছে বিক্রি করা হয়। এছাড়া ওই বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, খালেদা জিয়াকে এককালীন ১০ লাখ টাকা অনুদান, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ফিলিপাইনের রাষ্ট্রপতির দেওয়া গাড়ির মূল্য বাবদ এক লাখ ৭৪ হাজার টাকাও দেওয়া হয়। বেগম জিয়ার জন্য একজন গাড়িচালক, একজন ব্যক্তিগত সহকারী, একজন বাবুর্চি, বেয়ারা দু'জন এবং মালি ও ঝাড়ুদারের একটি করে পদ সৃষ্টি করা হয়। সরকারি খরচে একটি টেলিফোন, তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর দেশে-বিদেশে পড়াশোনার ব্যয়ভার বহন এবং তাদের বয়স ২৫ বছর না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেককে মাসিক দেড় হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। খালেদা জিয়ার জন্য সরকারি একটি গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়, যে গাড়ির জ্বালানি খরচ সরকার দেবে। এছাড়া বাড়ির গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ বিলও সরকার দেবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। আর মইনুল রোডের ৬নং বাড়িটি এক টাকার বিনিময়ে পারমিচুয়াল লিজের মাধ্যমে কতিপয় শর্তে রেজিস্ট্রিকৃত দলিল মূল্যে ইজারা দেওয়া হয়। তবে এ বাড়িটি লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে নেওয়া হয়নি।

আইনগতভাবে যা পাওয়ার কথা : একজন রাষ্ট্রপতি কর্মরত অবস্থায় মারা গেলে কি সুযোগ-সুবিধা তার পরিবার পাবে তার সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে প্রেসিডেন্টস পেনশন অর্ডিন্যান্স-১৯৭৯ তে। এ অর্ডিন্যান্সের ২(৪) ধারা অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়া এবং দুই পুত্রের শুধু গ্রাচুইটি পাওয়ার কথা। কাজেই প্রেসিডেন্টস পেনশন অর্ডিন্যান্স সংশোধন না করে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক নয় বলে মনে করেন আইনবিদরা। সুবিধা দিতে হলে প্রেসিডেন্টস অর্ডিন্যান্স সংশোধন না করে দেওয়া যায় না বলে মনে করা হয়।

সেনানিবাসের বাড়ি : এছাড়া যে আইন বলে খালেদা জিয়ার মইনুল রোডের বাড়ি লিজ পাওয়ার কথা সেই আইনেই বলা আছে, লিজ পেতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবশ্যই আবেদন করতে হবে। কিন্তু খালেদা জিয়া বাড়িটির লিজ পেতে আজও পর্যন্ত কোনো আবেদনই করেননি। আগে থেকেই তিনি যেহেতু বাড়িটিতে থাকতেন তাই আবেদন না করেই ৩০ বছর ধরে ওই বাড়িটিতেই আছেন।

বাড়িটি লিজ দেওয়ার সময় আবেদন করতে বলার পাশাপাশি লিজের চুক্তিতেও কিছু শর্ত ছিল। চুক্তিতে এটাও উল্লেখ ছিল, ইজারাদার খালেদা জিয়া এসব শর্তের একটি ভঙ্গ করলেও সরকার চুক্তি বাতিল করার অধিকার সংরক্ষণ করবে। এসব শর্তের মধ্যে একটি শর্ত ছিল বাড়িটির মূল কাঠামো পরিবর্তন করে কিছু নির্মাণ বা কিছু ভাঙা যাবে না। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান মইনুল রোডের বাড়িটির ভেতরে একটি তিনতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন।
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×