ম্যুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটি’র ‘মনের মানুষ’ চলচ্চিত্রের বিষয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ বিষয়ক পোস্টে যে মন্তব্যগুলি আসছে (facebook, somewhereinbolg) সেগুল একসাথে একটা পোস্ট বানায়া দিলাম। এই চান্সে আমি দুইটা কথা কইতে চাই। হযরত সুনীল একটা উপন্যাস নাজিল করছেন এবং কইছেন এই উপন্যাসের কাহিনি বিশ্বাস না যাইতে। কারন তিনি বানায়া বানায়া লিখছেন। সেইটারে হযরত গৌতম ছবি করছেন, পুরস্কার নিয়া হালাল করছেন। ছবির টিকেট এর লগে তেনারা উপন্যাস ফ্রী দেন নাই, ফলে সবাই পরেন নাই। আন্তর্জতিকভাবে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবি আন্তর্জতিক মহলে কি জানাইতে চায় সেইটা একটা প্রশ্ন। বাংলার লালন ব্যাবসায়িরাও এইসব বিষয়ে নিশ্চুপ, এইটাও ভাবনার বিষয়। মন্তব্যগুলি পইড়া দেখতে পারেন, ভালো লাগবো।
Iftekhar Ahmed: Ghotona shotto hoile boroi ashonkar kotha...
Jayati Banerjee: দেখা দরকার।তারপর বলা উচিত।গৌতম ঘোষ অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় পরিচালক।
Liza Akter: tumi ki cinema ta dekhe ei commant korla?? naki emni...
Ishpaa Khan: ami sampurno ekmot..konomotai eta kora uchit na..lalon nijai kono dhormok babohar koren ni..
Shoaib Shorbonam: razib @ ghotona sotto, film ta dekhe nite paris. Jayati @ goutom ghos er porichalona niya kono sondeho nai, somossha script niya. Liza @ kheyal kore dekho, ata ekta film society er bibrity hisebe deya hoise, na dekhe asob kora jay na. Ispaa @ apni hoyto janben laloner ekta nijesso dhormomot chilo, seta ignor kora thik na.
Ahmad Mazhar: আমি ছবিটা দুদুবার দেখেছি। ম্যুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটির ভাষ্যের সঙ্গে আমি একমত হতে পারছি না। কারণ এই চলচ্চিত্রটি একটি ফিকশন ফিল্ম, প্রামাণ্যচিত্র নয়। যে উপন্যাসটি অবলম্বন করে ছবিটি নির্মিত সে উপন্যাসটি শিল্পকর্ম হিসাবে খুব উন্নত না-হতে পারে কিন...্তু এর মধ্যে শিল্পকর্মসুলভ কল্পনা আছে। 'মনের মানুষ' চলচ্চিত্রটিতে এই কাল্পনিকতাকে ব্যবহার করা হয়েছে।আর এই কাল্পনিকতার আমদানি করতে গিয়ে লালনকে বিকৃত করতে চাওয়া হয়েছে এমন মনে হয় নি। ছবিতে লালনকে হিন্দু বা মুসলমান হিসাবে তো দেখানো হয়ই নি বরং তাঁর অসাম্প্রদায়িকতাকেই আদর্শায়িত করা হয়েছে।ছবিতে সিরাজ সাঁইয়ের কাছে লালন নিজের যে পরিচয় দিয়েছে এর দিকে ইঙ্গিত করে যদি মনে করা হয় লালনের নিজস্ব ধর্মমতের পবিচয় দেয়ার বদলে বিকৃত করা হয়েছে তাহলে আমি বলব এ-ক্ষেত্রে ছবির শৈল্পিক অভিযাত্রাকে অনুধাবনে ভুল হয়েছে।তবে আমিও মনে করি অপরাপর চলচ্চিত্রের মতো এই চলচ্চিত্রটিও একটি পণ্য। বাংলাদেশে চলচ্চিত্র যে আজও পেশাদারিত্বে, শৈল্পিক সামর্থ্যে ন্যূনতম মানও অর্জন করতে পারে নি তার কারণ এর পণ্যত্ব সম্পর্কে চলচ্চিত্র পরিচালকদের সচেতন না থাকা। কারণ চলচ্চিত্র মাধ্যমটি সামগ্রিক অর্থে ললিতকলা হিসাবে এইখানেই দুর্বল যে মুনাফার তাঁবেদারি না করে তার পক্ষে অস্তিত্বশীল থাকা প্রায় অসম্ভব। আর যখনই তাকে পণ্য হিসাবে মুনাফার কথা বিবেচনা করতে হবে তখন এর বাজেট আর পেশাদারিত্বের মধ্যে আপোষরফা করতেই হবে। মুনাফার হিসাবে ব্যর্থ হবার আশঙ্কা এর পেছনে তাড়া করে ফেরে বলে এই মাধ্যমটি ললিতকলার পাশাপাশি পণ্য হয়েও উঠতে চায়। আমি মনে করি 'মনের মানুষ'-এও এ অর্থে পণ্য হয়ে উঠবার আকাঙ্ক্ষা আছে। এর পণ্যায়নের সূত্র অসাম্প্রদায়িকতার চেতনা। দর্শক হিশেবে আমি বলতে পারি যে ছবিটি দেখা শুরু করার পর আমার একবারও উঠে আসতে মন চায় নি। তবে হ্যাঁ, সমালোচনা করবার বা আপত্তি করবার বিষয়ও এতে অনেক আছে। আপত্তি করবার কিছু নেই এমন সম্পূর্ণ শিল্প পৃথিবীতে অলীক।
Shoaib Shorbonam: আপনার সচেতন পর্যবেক্ষণের জন্য ধন্যবাদ।
দয়াল চাঁদ: প্রিয় শোয়েব, আপনাদের ধন্নবাদ দেবার পদ্ধতিটা বেশ বেখাপ্পা মনে হলো। কিছু মনে করবেন না, সুন্দর গুছিয়ে কয়েকটা কথা বললেই সেটা কে সমর্থন করে- অনতি তরুণরা এ সুন্দর কথার কায়দা কানুনে মুরুব্বিদের চিন্তায় আটকে পড়ে। মুরুব্বিদের আপনাদের যথাযুক্ত যুক্ত...ি দিয়ে বিচার করা উচিত। খেয়াল করুণ, আমাদের আহমেদ মাজহার তেমন নতুন কথা বলেন নাই। তিনি একট দিক দেখিয়েছেন বটে কিন্তু হাজারটা দিক বাকী থেকে যায়। বরবাদ করার জন্য এমন সিনেমা কোন কোন স্থানে আঘাত হানে তা খেয়াল করা উচিত। তর্কে মেতে তা বের করে আনা উচিত। আকাশ থেকে সব নেমে আসবে না। আর সবই পড়ে লেখে তাত্বিক হয়ে যায় না। স্বীকার আর অস্বীকারের ভেতর দিয়েই আপনাকে বেড়ে উঠতে হবে। ত্যাদড়ামো করা না আবার। মুরুব্বিরা ভালো কথাও যেমন বলেন তেমনি ভুল কথাও বলেন। আর তার ভুলটাই (হয়ত তারও নজরে আসে না) হয়ে পড়ে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য দূর্ঘট। আপনাকে ও আপনার পরবর্তীরা এই সব ফিকশনের ফিউশনে পড়ে শেষ পর্যন্ত কেমন তর ভোতা চরিত্রের হবে তা অনুধাবন করতে অনুরোধ জানাচ্ছি। আর লালন কে ঠিক নিজের, নিজস্ব বলয়ের ভালোবাসা ও লালন-পালন থেকে না ভেবে এটাকে সাম্রগ্রিক ভাবে ভাবুন। লালন আমাদের আর কি কি কাজে আসে। আসতে পারে। এক সময় লালনকে শহুরে বিত্তের মানুষরা বুঝতে পারতো না, দূর্বোদ্য, রহস্যময়, সস্তা, এবং সেকেলে বলে ঠেকতো - কিন্তু ঠিকই লালনের সমতলের গ্রামের সহজ মানুষ তাকে বুঝতো এবং গ্রহন করতো, সে অংশ কম না। এই ভাবে লালন তাদের জীবন পদ্ধতির চর্চায় নতুন দিশ আনতেন। কিন্তু ঐ যে শহুরে উঠতি মধ্য আর উচ্চ তাকে গ্রহন করত না তারা আজ এই সময়ে লালনকে নিচ্ছে- ভালো কথা- কিনতু নিচ্চে নিজের জাত-কূল ঠিক রেখে, ফিউশন যেমন গানে করছে, তেমনি করছে লালনের জীবনকে নিয়েও। বাজার যে ভাবে চাইছে। সরাসরি লালনকে নিলে তো সমূহ বিপদ। ধারণ করার শক্তি লাগে, সমর্থ এবং সে অনুযাযী ভোগের জীবনে ছাড় দেয়াও লাগে। সে সেটা পারবে না, সে সেটা জানে- জেনে বুঝেই তার মাতো করেই আরোপ করে। আর বলবে এটা আমার গল্পিক, কাল্পনিক, সাহিত্যিক ইচ্চা। তো এই 'ইচ্ছে পূরণের' লালন দেখবেন একদিন অন্যদের কাছে দূরহ, দূর্বোধ্য হয়ে উঠছে। তারা কারা- তারা হলো ওরাই যারা একদিন লালকে বুঝতো খুব সহজে তারা। তারা আর একদিন আসবে যখন লালন ব্যন্ডের সুমির গান শুনে লালন কে চিনবে না, তারা অরূপ রাহীর গান শুনে লালনকে ধরে উঠতে পারবে না। অপরিচিতকরণ ঘটে যাবে।আরো কথা থাকে.....ভালো থাকবেন শোয়েব, আপনাদের প্রচেষ্টা ভালো লাগলো। নানান দিকে রাজনৈতিকতা ধরে ফেলতে হবে। স্রেফ তথ্য বিকৃতির জন্য মন খারাপ করলে হবে না, কেন তথ্য বিকৃতি ঘটে তার উদ্দেশ্য শেষপর্যন্ত কি তা জব্দ করেন। ভালোবাসা রইল। @ শোযেব
Sayed Jamil : ম্যুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটির সদস্যদের উচিত সুনীলের 'মনের মানুষ' ভূমিকা সমেত বারবার পড়া।ইতিহাস আর ঐতিহাসিক উপন্যাসের ভেতর কি পার্থক্য সেটা অনুধাবন করা তথাকথিত এই সংগঠনের জনৈক ব্যক্তিদের জন্য এখন ফরজ। ম্যুভিয়ানার এই প্রতিবাদের পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য... থাকতে পারে ব'লে সন্দেহ হচ্ছে।
Shoaib Shorbonam: দয়াল চাঁদ,এই চলচ্চিত্রে লালনকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়ে অনেক কিছুই বলার আছে। আমি কোন লালন বিশেষজ্ঞ নই, আমি হতাশ হয়েছি কারন এ চলচ্চিত্রে যে লালনকে আমি দেখি, আমার চেনা লালন সে নয়। আপনার মন্তব্ব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
Fahmidul Haq: এখনও দেখিনি। আপনাদের উদ্বেগটি মাথায় রইলো। দেখার পর মিলিয়ে নেয়া যাবে।
Ratan Paul: i am planning to watch it very soon...
Ashraf Shishir: Manik Bandhapadhdhy er "Podma Nodir Majhi" jokhon Gautom Ghosh Movie te porinoto korlen, taar poriniti amar temon bhalo laage ni.
Moner Manush Dekha Hoy ni ekhonO, dekhar por motamot janate parbo aasha korchi!
Rano Sarker: বেলায়াত, আপনার বক্তব্যর সঙ্গে আমি একমত। আপনি আন্দোলন চালিয়ে যান, আমাকে পাবেন আপনার ও আপনাদের সঙ্গে..
Proshoon Rahmaan: সহমত।ছবিটি দেখবার সুযোগ হয়েছে এবং অবশ্যই এটি সচেতন পর্যবেক্ষণের দাবী রাখে। অন্যত্র বিস্তারিত লিখবার প্রস্তুতি থাকবে।
আজম আলী বলেছেন: এভাবে কোন শিল্প বা শিল্প নির্মাতার সমালোচনা করা যায় না। সমালোচনার সমর্থনে কিছু তথ্য উপস্থাপন করতে হয়। চলচ্চিত্রটিতে কি কি বিকৃতি আছে তা উল্লেখ করেননি। লালনকে কিভাবে খাটো করা হয়েছে তা উল্লেখ করেননি।
Shoaib Shorbonam:: এটি কোনো ফিল্ম রিভিউ না, সুতরাং তথ্য দেয়াটা তত গুরুত্তপুর্ন নয়। সচেতন পররযবেক্ষন আশা করা হয়েছে এই কারনে যে যারা ফিল্মটা দেখেছেন বা দেখবেন তারা আমাদের দার্শনিক জায়গায় একমত কি না এটা জেনে নেয়ার উদ্দেশ্যে।
সুমন দি গ্রেট বলেছেন: ছবিটি আমিও দেখেছি। যৌনতা এবং প্রেম সম্পর্কে বাউলদের ধ্যান ধারনা এবং চর্চাকে অশ্রদ্ধার সাথে চিত্রায়িত করাকে অমার্জনীয় অপরাধ বলে আপনি মনে না করলে আমার কিছুটা মনে হয়েছে। লালনকে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করা হয়েছে।
জবাব দিন|মুছে ফেলুন |
Shoaib Shorbonam:: আমি আপনার সাথে একমত।
ব্লগ মন্ত্রী বলেছেন: তথ্য প্রমান সংগ্রহ করে ও যুক্তি দিইয়ে পোস্ট দিন খালি খালি বক বক করসেন কেন
Shoaib Shorbonam:: khub taratari tottho somriddho ekta post deya hobe. Apnader Montobber jonno dhonnobad.
একা পথচারী : হুমম
সাহসী : তথ্য বিকৃত করার জন্যই সব ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র বানান হয়। কাজেই এই নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই
নিষিক্ত: হয়ত এ কারণেই সকল ঐতিহাসিক চলচ্চিত্রই তথ্য বিকৃতির আখড়া বলা হয়...
মাজাহারুল রাজু : হয়ত এ কারণেই সকল ঐতিহাসিক চলচ্চিত্রই তথ্য বিকৃতির আখড়া বলা হয়...
শিপু ভাই : হয়ত এ কারণেই সকল ঐতিহাসিক চলচ্চিত্রই তথ্য বিকৃতির আখড়া বলা হয়. +++++
রাত জাগা তারা : সচেতন পর্যবেক্ষন আশা করছেন আপনাদের না আমরা যারা আম জনতা তাদের । 'মনের মানুষ' সিনেমাটি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'মনের মানুষ' থেকে চিত্রিত। তাই চলচ্চিত্রটি নিয়ে কথা বলতে হলে আগে উপন্যাস টি পড়তে হবে । উপন্যাসটির শেষে লেখকের বক্তব্যে সুনীল লিখেছেন "এই উপন্যাসটি লালন ফকিরের প্রকৃত ঐতিহাসিক জীবনকাহিনি হিসেবে একেবারেই গ্ণ্য করা যাবে না । কারন তাঁর জীবনের ইতিহাস ও তথ্য খুব সামান্যি পাওয়া যায় ।" তাই এটি ধরে নিচ্ছি উপন্যাসটি লালন বোধ কে সেই অর্থে তাড়িত করে না । এর পরে গৌতম ঘোষের চলচ্চিত্র 'মনের মানূষ' এ পরিচালক তার মতো করে লালন কে বানিয়েছেন । এখানে তিনি উপন্যাসটিকে উপজীব্য করে নতুন এক কাহিনী তৈরী করেছেন । এখানেও প্রকৃত লালন কে ধরার চেষ্টা করা হয় নি । আমি জানি না পরিচালক এ সম্বন্ধে কি বলেছেন । তিনি যদি লালন সাঁইকে পর্দায় তুলতে চান তাহলে তিনি ভুল ভাবে উপস্থাপন করেছেন বটেই । অন্যদিকে মনের মানুষকে উপজীব্য করলে খুব বেশী তথ্য বিভ্রাট করেছেন বলে আমার মনে হয় নি। বাকিটা আপনাদের কাছে আশা করছি ।
প্রথম কমেন্টের সাথে একমত। যুক্তি দিয়ে বলুন । অকারনে ল্যাদাবেন না । ব্লগ ল্যাদানোর জায়গা নয় ।
Shoaib Shorbonam:১। সচেতন পর্যবেক্ষন আশা করা হয়েছে এই কারনে যে যারা ফিল্মটা দেখেছেন বা দেখবেন তাদের কাছে। ২। একজন ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্তপুর্ন চরিত্রকে নিজের মত করে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে উপস্থাপন করা জায়েয বলে আপনি মনে করেন? কস্টকল্পিত একটি উপন্যাস ফেঁদে দিয়ে এবং সে কিতাবের দোহাই দিয়ে লালনের দার্শনিক মতকে অবজ্ঞা করা কি ঠিক? ৩। 'ব্লগ ল্যাদানোর জায়গা নয়'- এই আয়াতটি কোন কিতাব থেকে সংগ্রিহীত জানাবেন?
রাত জাগা তারা: ধন্যবাদ ।
আমার কমেন্টের কোথাও লেখা নেই , এভাবে লালন কে উপস্থাপন করাকে আমি সমর্থন করেছি ! চোখে সমস্যা থাকলে ডাক্তার দেখান । আপনি একটি সংগঠনের হয়ে প্রপগন্ডা চালাচ্ছেন , লালন বিষয়ে অনেক জানাশোনা আপনার আছে , আমি অধ্ম আগে একটু জানান তার পর না হয় পর্যবেক্ষন । আপনার মন্তব্য মানলে ঐতিহাসিক চরিত্র নিয়ে উপন্যাস, সিনেমা করা বন্ধ করতে হবে । শিল্প সৃষ্টিতে স্রষ্টার স্বাধীনতা থাকে বলে জানতাম । ছবিটি নিয়ে অনেক আলোচনা হতে পারে , কিন্তু আগে আপনার জানার পরিধি বড় করুন তার পর জানাতে আসবেন । ভাল থাকুন। ছবিটি দেখতে আরো অনেককে উৎসাহিত করচ্ছেন 'চ্যানেল চোখ" এর এজেন্ট কিনা সেটা ভাবনায় এসে যাচ্ছে ।
Shoaib Shorbonam:: আপনার প্রতিটি প্রশ্নে জবাব দেয়ার ইচ্ছা পোষন করেছিলাম, কিন্তু আপনার বক্তব্য উস্কানিমুলক মনে হওয়ার কারনে আমি আপনার সাথে আর বাক্যালাপে আগ্রহী নই। তদুপরি, প্রথম জবাবটির ৪ ন প্রশ্নের উত্তর আপনি সচেতনভাবে এড়িয়ে গেছেন (এখানে বলা যেত, 'চোখে সমস্যা থাকলে ডাক্তার দেখান' কিন্তু এটিকে আমি উস্কানিমুলক মনে করি) তাই আমি আপনার বিষয়ে পুরোপুরি অনাগ্রহ প্রকাশ করছি।
হাওয়ায় উড়া ধূলা : ভাইসাব, আপনার লেখায় পর্যবেক্ষণের 'প' অ খুঁজি পেলাম না। প্রপাগান্ডা টাইপ লেখাগুলোর সহিত আপনার এই লেখার বহুত মিল রহিয়াছে । কেবলই মেনাস দিবার পারুম।
Shoaib Shorbonam:: এখানে দর্শকদের পর্যবেক্ষণের আশা করা হয়েহে, কোন পর্যবেক্ষণের দেয়া হয় নাই।
রাত জাগা তারা: আপনার অনাগ্রহে আমার কিছুই এসে যায় না ।
না জেনে কুযুক্তিতে মেতে আছেন । এটা তো লালনের গানেই ছিল । আপনি এত বড় লালন বোদ্ধা ভুল করেন কিভাবে ।
Rano Sarker:
মনের মানুষ চলচ্চিত্রে লালনকে প্লেবয় বানালেন গৌতম ঘোষ!
যাচ্ছে-তাই করে গৌতম ঘোষ ছবিটা শুরু করেছেন। বৃদ্ধ লালনের উপস্থি'তি দিয়ে। যেখানে দর্শক পর্দায় দেখেন- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় ভাই জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়িতে লালন স্মৃতিচারণে ব্যস্ত। তাঁর প্রতিকৃতি আঁকছেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি দামী সিগারেট খাচ্ছেন, লালনকেও খাওয়াচ্ছেন! লালন কথা বলছেন সিগারেট খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে। ফ্ল্যাশব্যাকের রীতিতে লালন জানাচ্ছেন - কৈশোর ,উদ্দাম যৌবন-জীবনের সঙ্গীত সাধনা আর গুরু সিরাজ সাঁইয়ের কথা। কোনোভাবেই মানা যায় না, গান গাওয়ার আমন্ত্রণ পাওয়া লালন- ফিটফাট, অভিজাত, আয়েশী পোষাক পরে জীবনকাহিনী বলে যাচ্ছেন জমিদার শ্রেণির একজন ভদ্র যুবার কাছে- ঘণ্টার পর ঘন্টা। চলচ্চিত্র-বাণিজ্যের কথা চিন্তা করে গৌতম ঘোষ পর্দায় অবলীলায় দেখালেন লালনকে! যাঁর সঙ্গে আমাদের বাউল ভাবধারার সিদ্ধপুরুষ লালনের সম্পর্ক খুবই ক্ষীণ।
চ্যানেল আইয়ের ১২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ৩০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার বিকালে স্টার সিনেপ্লেক্সে গৌতম ঘোষ পরিচালিত চলচ্চিত্র মনের মানুষ-এর বিশেষ প্রদর্শনী হলো। চিত্রনাট্য গৌতম ঘোষের, উপন্যাস লিখেছেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। মূলত ছবি দেখার জন্যই ঢাকা এসেছিলেন সুনীল। বলেছিলেন - খুব উদগ্রীব হয়ে আছি ছবি দেখার জন্য। প্রদর্শনী শেষে চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগরের এক প্রশ্নের উত্তরে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বললেন- ছবিটা একদম ভালো লাগেনি। সঙ্গে সঙ্গে সংক্ষিপ্ত হয়ে গেল প্রশ্নোত্তর পর্ব। কথা ছিল প্রদর্শনী শেষে দর্শক তাঁদের প্রশ্ন করবেন। উত্তর দেবেন গৌতম ঘোষ ও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। কিন্তু কোনো প্রশ্নের সুযোগ না দিয়ে বলা হলো অনুভূতি প্রকাশের কথা। এমন সময় গৌতম ঘোষ কণ্ঠ চড়ালেন। বললেন - না, আমি কোনো প্রশ্নের উত্তর দেব না। আমাকে আগে কিছু বলা হয়নি। এ বিষয়ে আমি খুব প্রফেশনাল। মাইক্রোফোন চালাচালি হলো কয়েকবার। অনেকটা জোর করে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে দিয়ে কিছু বলানো হলো। বাধ্য হয়েই বললেন -ছবিটা ক্লাসিক। আবার মাইক্রোফোন চালাচালি। হঠাৎ পর্দার সামনে, অনির্ধারিত মঞ্চে একজন নারী এলেন। বললেন- এই মুহূর্তে নিশ্চই কারো প্রশ্ন করার কথা না! কারো মনে নিশ্চয়ই কোনো প্রশ্ন তৈরি হয়নি! তাই এখানেই প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ! তখনো অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে অতিথিরা। দাঁড়িয়ে - সমরেশ মজুমদার, হুমায়ুন আহমেদ, জুয়েল আইচ এঁরা। বলার অপেক্ষা রাখে না, দর্শক মনে ছিল নানা প্রশ্ন। এমন ঘোষণা যেন সবাইকে স্তব্ধ করে দিলো! কেন এই স্তব্ধতা?
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাস মনের মানুষ প্রকাশিত হয়েছে ২০০৮ সালে। চলচ্চিত্র নির্মিত হলো ২০১০-এ। যে দুইজনের নাম ছিল উৎসর্গপত্রে- তাঁদের একজন গৌতম ঘোষ। জানিনা, এজন্যই তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন কী-না? চলচ্চিত্র শুরুর আগে গৌতম ঘোষ বললেন- ইচ্ছে ছিল বাবরি মসজিদ যখন ভাঙা হয় তখনই লালনের জীবনাদর্শ নিয়ে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের। নানা কারণে তা করতে পারিনি। যখন সুযোগ পেলাম, দেখলাম, এ নিয়ে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় উপন্যাস লিখে বসে আছেন।
লালনসাঁই সন্ধানী লেখক ডক্টর আবুল আহসান চৌধুরী ঢাকায় একবার সুনীলকে বলেছিলেন- লালনের জীবন নিয়ে একটা উপন্যাসের কথা ভাবতে পারেন না? সুনীল মনের মানুষ উপন্যাসে লেখকের বক্তব্যে এ কথাগুলো বলেছেন। শুরুতেই স্বীকার করেছেন- এই উপন্যাসকে লালনের তথ্যভিত্তিক জীবনকাহিনী হিসেবে একেবারেই গণ্য করা যাবে না।
উপন্যাসে কল্পনার আশ্রয় নিতে হয়। সুনীল করেছেনও তাই। কিন্তু কল্পনাকে লাগাম ছাড়া করেননি, যেমনটি গৌতম ঘোষ করেছেন। সুনীল উপন্যাসে চরিত্র তৈরিতে এমন মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন- যা বাস্তবসম্মত না হলেও বাস্তবের কাছাকাছি। তিনি উপন্যাসের কাহিনীতে অনেক ঐতিহাসিক চরিত্রের অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছেন- যাঁরা লালনের জীবদ্দশায় বেঁচে ছিলেন এবং তাঁর সংস্পর্শে আসার সুযোগ পেয়েছিলেন- তারাই ঠাঁই পেয়েছেন উপন্যাসে। যেমন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর, মীর মোশাররফ হোসেন, কাঙাল হরিনাথ। এঁরা থাকতেন লালনের নিবাস কুষ্টিয়ার কাছাকাছি।
ঠাকুর পরিবারের জমিদারির মধ্যে লালনের আখড়া। তাই জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর লালনের কাছাকাছি আসতেই পারেন। চরিত্র নির্মাণের দিক থেকে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও গৌতম ঘোষের মধ্যে তেমন বৈপরীত্য দেখা যায়নি। দেখা গেছে, কাহিনীক্রম পর্যায়ে চরিত্রের উপস্থিতি। যদিও কোনো বাধ্যবাধকতা এই ক্ষেত্রে চলচ্চিত্রকারের থাকে না। যে কারণে গৌতম ঘোষ কিছু সুবিধা পেয়েছিলেন ঘটনাক্রম নিজের মতো করে তৈরি করার। কিন্তু তিনি যা করলেন, তাতে সেই পুরাতন কথাটি মনে না এসে পারে না। অনুকরণে মহৎ প্রতিভা বিনির্মাণ করে আর ক্ষুদ্র প্রতিভা নষ্ট করে। গৌতম ঘোষ এমনি নষ্ট করেছেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মনের মানুষকে। একইসঙ্গে লালনকেও।
সুনীল মনের মানুষ উপন্যাসে লালনের ভাবধারা আদর্শকে মহাকাব্যিক ভাববলয়ে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন- তা নয়। কিন্তু যতটা পেরেছিলেন, তা একটা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের কাহিনীর জন্য যথেষ্ট। এর মধ্য দিয়ে লালনের আদর্শকে ফুটিয়ে তোলার ব্যাপারটা অনেকটা স্পষ্টও ছিল। কিন্তু গৌতম ঘোষ যেন আস্ত একটা লালনকে হাজির করলেন দর্শকের সামনে। ছবি দেখে মনে হয়- লালন নিজে লালন হয়ে ওঠেননি, লালন হিসেবেই জন্মেছেন মায়ের গর্ভ থেকে! ফলে লালনের লালন হয়ে ওঠার যে কার্যকারণ ও শিল্পগুণ ছিল সুনীলের মনের মানুষ উপন্যাসে, গৌতম ঘোষের মনের মানুষ চলচ্চিত্রে সেটি আর থাকলো না!
সুনীলের উপন্যাসে সিরাজ সাঁইয়ের সঙ্গে লালনের প্রথম দেখা হয় বসন্ত-রোগ হওয়ার পর, আশ্রয়দাত্রী রাবেয়ার ঘরে। সিরাজ সাঁই মাঝে মাঝে এখানে আসতেন। লালন বসসন্ত-রোগে যখন অনেকটা স্মৃতিভ্রষ্ট, সিরাজ সাঁই-ই তাঁকে আকৃষ্ট করেন তাঁর দর্শন, জীবনাচরণ ও কথাবার্তায়। লালন যেখানে গেছেন- সঙ্গে নিয়ে গেছেন সিরাজসাঁইয়ের জীবন জিজ্ঞাসাকে। ফলে বসন্ত-রোগ শেষে নিজ বাড়িতে ফিরে গিয়ে, প্রত্যাখ্যাত হয়ে, তাঁর পক্ষে সহজেই সম্ভব হয়েছে বাউল জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ হতে। সুনীল তাঁর উপন্যাসে লালনের এই মনোজাগতিক পরিবর্তন অসামান্যভাবে দেখিয়েছেন। লালনের পিতৃপ্রদত্ত নাম ছিল লালমোহন কর। লোকে সেই নামটিকে করেছিল লালু। আর অরণ্যের মাঝে সংসার-সমাজ-জননী-স্ত্রী পরিত্যক্ত হয়ে তিনি নিজেকে বানালেন- লালন।
সুনীল শুধু নামের বৈপ্লবিক পরিবর্তন দেখাননি। দেখিয়েছেন, অরণ্যজীবনে লালনের মুখে কী করে এক একটি গান স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধরা দিতে থাকে অনিবার্যভাবে। যাঁর একসময় একটু-আধটু গানের চর্চা ছিল, সুর সামান্য ভুল হলে যিনি বিচলিত হতেন- সেই ব্যক্তি শুধু গানই গাইছেন না। সুরের ভাষায় রচনা করে করে যাচ্ছেন জীবন-নিঙড়ানো প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত উপলব্ধি।
লালন জেনেছেন, সমাজের নীচুতা ও অন্তসারশূন্যতা। সন্ধান করেছেন, মনের মানুষের। যে কারণে বাউল ভাবধারার এই সিদ্ধ পুরুষের গানের কথায়- নারী, পুরুষ, ধর্ম, বর্ণ নয়- উঠে এসেছে মানবপ্রেম ও কল্যাণ।
অথচ কী আশ্চর্যের বিষয়, গৌতম ঘোষের মতো একজন পরিচালক, কর্মময় লালনকে আড়াল করে কী-না পর্দায় দেখালেন এমন ব্যক্তিগত জীবনযাপনে দিনাতিপাত করতে, যিনি কেবল তখনই সবচেয়ে সক্রিয় যখন তিনি কোনো নারীসঙ্গকামী! এই বিবেচনায় এমন কথা বলা খুবই কি অন্যায়- লালন একজন প্লেবয়? যে বয়সে লালন একজন সাধক, যখন তাঁর সামাজিক কর্মে ব্যস্ত থাকার কথা, তখন বিস্ময়ের সঙ্গে আমরা পর্দায় দেখি- তাঁর জীবন কেবল গৃহস্থালীকর্ম ও যৌনজীবন নিয়ে আবর্তিত। কী অদ্ভুত! সমস্তজীবনের একটি অংশ হিসেবে যখন লালনের যৌনজীবন বর্ণিত না হয়, এবং যখন সমগ্র কর্মতৎপরতায় কেবলই যৌনজীবনযাপনেই লালনকে সক্রিয় থাকতে দেখা যায়, তখন এই প্রশ্নই ওঠা স্বাভাবিক। আর তখন সিরাজ সাঁইয়ের মুখ দিয়ে লালনকে বলা- নারী আনন্দ সহচরীর মতো কথাও দার্শনিক অর্থে আনন্দ না হয়ে উঠে কেবল শরীরী অর্থে আনন্দ হয়ে উঠে! তখন আবারো প্রশ্ন ওঠে লালনের উদ্দেশে গুরুর এমন কথা কতটুকু বাউলদর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? নারীকে কেবল ভোগের উপকরণ হিসেবে দেখেছেন লালন? এই ভুল অবশ্য সুনীল করেননি, তিনি এমন কোনো কথাই বলাননি কারো মুখ দিয়ে। কিন্তু গৌতম ঘোষেরমনের মানুষ চলচ্চিত্র এই গুন ধারন করে। অবশ্য এ বিষয়ে গৌতম ঘোষের সত্যিকার অর্থে কিছুই করার হয়তো ছিলো না। তিনি প্রমাণ করেছেন প্রতিভার স্তরে তিনি আসলে কোন পর্যায়ের একজন চিন্তাবিদ।
চলচ্চিত্রের কোরিওগ্রাফি ছিল মনোমুগ্ধকর। পোশাকে চাতুর্য থাকলেও, তা ছিলো মোটামুটি মানানসই। এছাড়া শব্দ, আলো এবং ক্যামেরার কাজ ভালো হয়েছে। পরিচালক গৌতম ঘোষ চলচ্চিত্রের সংলাপের ক্ষেত্রে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। সঙ্গীত পরিচালনাও ভাল করেছেন। কিশোর লালন চরিত্রে চমৎকার অভিনয় করেছেন জিসান এবং লালনের স্ত্রী চরিত্রে তাথৈ। পরিণত লালনের চরিত্রে প্রসেনজিৎ-এর অভিনয়? একদম গতানুগতিক। কামুক লালন হিসেবে ভালো অভিনয় করেছেন, সাধক লালন হিসেব মোটেই উপযোগী নন তিনি। তাঁর কথা বলার ঢঙ, হাঁটাচলা সর্বোপরি অভিনয়- অসম্ভব কৃত্রিম মনে হয়েছে। বলা যেতে পারে, তিনি লালনের সর্বনাশ করেছেন। সেক্ষেত্রে লালনের মার চরিত্রে আমাদের চম্পা, লালনের পালক মার চরিত্রে রোকেয়া প্রাচী অভিনয় করেছেন চমৎকার। সিরাজ সাঁই চরিত্রে রাইসুল ইসলাম আসাদের অভিনয় অসাধারণ। অনেক ক্ষেত্রে ছবির প্রাণ তিনিই। মঞ্চনাটকের ইফ ম্যাজিককে চলচ্চিত্রে এমনভাবে মার্চ করিয়েছেন আসাদ- ছবি না দেখলে কোনভাবেই তা বোধে আনা সম্ভব না। একইসঙ্গে কালুয়া চরিত্রে আগাগোড়া প্রাণবন্ত অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী। চঞ্চলের অভিনয় দেখে কারোই মনে হবে না তিনি অভিনয় করছেন, মনে হবে তিনি আশৈশবই কালুয়া হিসেবে বড়ো হচ্ছিলেন, আমরা তারই খানিক অংশ দেখতে পেলাম এখানে। চঞ্চলই বরং লালনরূপী প্রসেনজিতের জড়তামিশ্রিত অভিনয় স্পষ্ট করে তুলে ধরলেন আমাদের কাছে যে, লালন হিসেবে এককালের বাণিজ্যিক ড্যাশিং নায়ক প্রসেনজিত চোখের বালির লম্পট মহেন্দ্র হবার যোগ্য, লালন হিসেবে ততটাই অযোগ্য। তার তুলনায় ভাল লাগবে কবিরাজ চরিত্রে হাসান ইমাম এবং তাঁর স্ত্রী লায়লা হাসানের অভিনয়।
চলচ্চিত্রের নামমনের মানুষ। এই মনের মানুষ যে আসলে কে সেটি একটি দার্শনিক প্রশ্ন বটে; ও শুধু প্রেয়সী নন, শুধু ঈশ্বরও নন, বা হয়তো আরো অনেক কিছু না হতে পারেন, কিন্তু পরিচালক গৌতম ঘোষের মনের মানুষ যে কী, এবং তিনি যে আসলে কীসের সন্ধান করতে নেমেছেন- চলচ্চিত্রটি দেখার পর হয়তো কারো জানবার বাকি থাকবে না!
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৫:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


