somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুভি রিভিউঃ “The Man From Nowhere” দারুন একটি শ্বাসরুদ্ধকর এ্যাকশন মুভি! না দেখে থাকলে দেখুন, নয়ত মিস করবেন!

০৩ রা জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১০:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাস খানেক আগে অসাধারণ একটি কোরিয়ান এ্যাকশনধর্মী মুভি দেখেছিলাম। ভায়োলেন্সের ছড়াছড়ি।
প্রতিটা এ্যাকশন দৃশ্য এবং কিছু কিছু মূহুর্ত-যা বারবার পেছনে রিওয়াইন্ড করে দেখার মত।
কিছু ডায়ালগ যা শুনে গায়ের রোম শিউরে ওঠে, কখনো বা কাঁদায়-ভাবায়।
কিছু দৃশ্য যা দেখে নিজের ভিতর থেকে লুকিয়ে থাকা কোন এক পশু শিকল ছিড়ে বেরিয়ে আসতে চায়...
মুভিটিতে "LEON: The Professional" এর ফ্লেভার আছে। আবার Man on fire এর কোরিয়ান ভার্সন হিসাবে ও ধরা যায়। মূলত এই মুভিটি রিলিজ পাওয়ার পর ই নায়ক Won Bin এর জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া হয়ে যায়।
মুভি’টির নাম টাই বলা হয়নি! “The Man From Nowhere”
IMDB রেটিং দেখে আমি সন্তুষ্ট হতে পারিনি, মাত্র 7.9, এর রেটিং আরো বেশি হওয়া উচিত ছিল!
তবে আমার ব্যক্তিগত রেটিং থাকবে 8.5!
১১৯ মিনিট রানটাইমের এই মুভিটি সাউথ কোরিয়াতে ২০১০ সালের ৫ অগাস্ট রিলিজ পায়।


মুভি’টির নায়ক Won Bin এর কান্না-রাগ-হিংস্রতা... প্রতিটা এক্সপ্রেশন ছিল দেখার মত! এমনিতেই সমস্ত মুভি’তে Won Bin ডায়ালগ ছিল খুব ই কম, অবশ্য তার প্রয়োজন ও হয়নি। Won Bin এর চোখেই যে এক্সপ্রেশন ছিল তা অনেক না বলা ডায়ালগ খুব সুন্দর করে ফুটে উঠেছে...
ছোট্ট মেয়েটির ভূমিকায় অভিনয় করা Kim Sae-ron এর অভিনয় ও মন কেড়েছে।

বিশেষ করে Won Bin কে উদ্দেশ্য করে Kim Sae-ron এর বলা ডায়ালগঃ
Mister... You must feel embarrassed about me, don’t you?
That’s why you pretended not knowing me, wasn’t it?
It’s alright though. My classmates feel the same, so do the teachers.
Mom also told me if I ever get lost, I should pretend I don’t know our address or phone numbers.
Everytime she gets drunk, she keeps saying we should kill ourselves together.
You are worse than the fat son of bitch, who calls me a begger. Still, I don’t hate you.
If I come to hate you, there’s not a single one I like in this world.
If I keep thinking that, Its really hurts here! (she knocks her chest)
So, I’m not going to hate you!
চোখের পানি ধরে রাখা যায় না। এটি ছিল মুভি’টির সবচাইতে মন খারাপ করা ডায়ালগ যা অনেকদিন কোন মুভিতে পাইনি।
এবার মূল কাহিনী তে আসি।
মুভি’র হিরো Won Bin এর সাথে পরিচয় ঘটে একজন অদ্ভুত আর অচেনা মানুষ হিসাবে, যে কিনা প্রয়োজন ছাড়া একটি কথা ও বলে না। হাঁসে না, কাদে না।
সে কে-কোত্থেকে এসেছে কেউ জানে না।
একটি পনশপ (সোনা-দানা বা মুল্যবান বস্তু বন্ধকের দোকান) চালিয়ে দিন কাটায় সে। একটি দুর্ঘটনায় প্রানপ্রিয় স্ত্রীকে হারিয়ে বাইরের পৃথিবীর কারো সাথেই তার কোন যোগাযোগ নেই। নাহ, ভুল বললাম। আছে-ছোট্ট মেয়েটির সাথেই এখন তার একমাত্র যোগাযোগ এই পৃথিবীতে, যার মা একজন ড্রাগ স্মাগলার। খেলার সাথী আর বন্ধুহীন ছোট মেয়েটা প্রায় এসে জ্বালাতন করে Won Bin কে।
Won Bin অদ্ভুত রকমের নিশ্চুপ-নিরব আর অনুভূতিহীন একজন মানুষ, আর ছোট্ট মেয়ে Kim Sae-ron চঞ্চল-বুদ্ধিমতী আর প্রচুর কথা বলে। অতি শীঘ্রিই দু’এর মধ্যে বেশ বন্ধুত্ব হয়ে যায়।
এভাবে দু’জনের অসম বন্ধুত্বের দিন গুলো কেটে যাচ্ছিল। হঠাৎ পরিস্থিতি মোড় নেয় অন্যদিকে। Kim Sae-ron এর মা ঐ শহরের সবচাইতে বড় ড্রাগ ডিলারের হেরোইনের প্যাকেজ মেরে দেয় এবং সেটি একটি ক্যামেরার বক্সে লুকিয়ে রেখে Won Bin এর পনশপে বন্ধক রেখে যায়। ভিতরে কি আছে Won Bin তা জানতো না। এদিকে হেরোইনের প্যাকেজ ফেরত পাওয়ার জন্য ঐ ড্রাগ ডিলার ছোট্ট মেয়েটা আর তার মাকে কিডন্যাপ করে এবং Won Bin কে চ্যালেঞ্জ করে বসে। কিন্তু অজানা-অচেনা এক মামুলি যুবকের অসাধারণ রিফ্লেক্স এ্যাকশন দেখে হতভম্ব হয়ে পড়ে তারা। নিরব-নিশ্চুপ Won Bin ভয়ংকর ক্ষেপে ওঠে ছোট্ট মেয়েটিকে বাচানোর জন্য। ঐ ড্রাগ ডিলারের অনেক ব্যবসার মধ্যে একটি ছিল ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে যুবক বয়সের মানুষকে ধরে নিয়ে এসে তাদের মুল্যবান যেমন চোখ, কিডনী, ফুসফুস ইত্যাদি অঙ্গ কেটে নিয়ে যাদের প্রয়োজন তাদের কাছে বিক্রি করা। তারা Kim Sae-ron এর মাকে টর্চার করে শরীর থেকে মুল্যবান অঙ্গ কেটে নিয়ে মেরে ফেলে, আর ছোট্ট মেয়েটাকে বন্দী করে রাখে পরবর্তীতে তার অঙ্গ সমূহ কেটে নেওয়ার জন্য।
এদিকে পুলিশ ভাবে কাজটি Won Bin এর। তাই তারা Won Bin কে গ্রেফতার করে।
কিন্তু তখনো না ড্রাগ ডিলার এবং পুলিশ, দু’পক্ষের কেউ ই জানেনা তার পরিচয় কি, সে কে, কোত্থেকে এসেছে!
কিন্তু হায়! যদি তারা জানত সে কতটা ভয়ংকর ছুরি আর অস্ত্র হাতে! এমন কি কতটা ভয়ংকর খালি হাতে! যদি তারা জানত!
হয়ত এমন কি সাহস ও করতো না তাকে চ্যালেঞ্জ করার।
পুলিশের উপস্থিতিতেই জেল ভেঙ্গে পালায় Won Bin।
এবার পুলিশ উঠে পড়ে লাগে Won Bin এর আসল পরিচয় জানার জন্য। কেঁচো খুড়তে গিয়ে বেরিয়ে আসে সাপ। থুক্কু ভুল বললাম! বেরিয়ে আসে কেঁচোর গর্তে লুকিয়ে থাকা মস্ত এক সিংহ!


সমস্ত প্রশাসন পিছু লেগে যায় তার আসল পরিচয় পেয়ে।
কিন্তু মুভি’র একটা পর্যায়ে যখন ঐ ড্রাগ ডিলার Won Bin এর কাছে পরিচয় জানতে চায়, সে শুধু বলে- “I’m her neighber”!
অসাধারণ লেগেছে ডায়ালগ টি!
আমি ও তার আসল পরিচয় এখন ই প্রকাশ করতে চাইছি না। মুভিতেই দেখে নিবেন, আশা করি আপনি ও হতভম্ব হয়ে যাবেন Won Bin এর আসল পরিচয় পেয়ে!
যারা দেখেন নি এখনো, এক্ষুনি ডাউনলোড করে দেখে ফেলুন বাকি টুকু জানতে।
অনেকদিন পর এমন একটি এ্যাকশন মুভি নিশ্চয় ই আপনি মিস করতে চাইবেন না!
সিঙ্গল স্টেজভ্যু লিঙ্ক দিলাম, সাথে ইংলিশ সাবটাইটেল দেওয়া আছে তাই বুঝতে অসুবিধা হবে না।
এখান থেকে ডাউনলোড করুন
কেমন লাগলো অবশ্যই জানাতে ভুলবেন না!
সবাই ভাল থাকুন...
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ দুপুর ২:০১
২৪টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×