ট্রেকিং, ব্যাক পেকিং আমাদের দেশে এখনো গেম হিসাবে জনপ্রিয়তা পায়নি। পাশের দেশ নেপালে কিংবা দার্জিলিং সহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে কিংবা ভুটানের বিভিন্ন অঞ্চলে ট্রেকিং, মাউণ্টেন্ট বাইকিং অথবা রিভার রেফটিং অনেক এগিয়ে আছে। বিভিন্ন টুর অপারেটররা অনেক ডলার কামিয়ে নিচ্ছে। আমাদের দেশ পুরাটাই যখন সমতল তারপরেও গেম হিসাবে ট্রেকিং কিংবা রিভার রেফটিং পিছিয়ে থাকার কথা না। কেওকারাডং ক্লাব কিছুদিন আগে মাউন্টেন্ট বাইকিং করে কেওকারাডং জয় করে, ইউ টিউবে তার ভিডিও অনেকের মাঝে সারা জাগিয়েছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে যেই সব ট্রেকিং ক্লাব আছে তার মধ্যে মুসা ভাই এর নর্থ আলপাইন ক্লাব আর ন্যাচার এডভেঞ্চার ক্লাব অনেক কিছু করছে। রেগুলার ওরা ট্রেকিং করে। আরো অনেক ক্লাব দারুন কাজ করছে। মুসা ভাই এর নর্থ আলপাইন ক্লাব শুরু করেছে বাংলাদেশের প্রথম এডভেঞ্চার ম্যাগাজিন “অভিযাত্রিক”। সাম্প্রতিক বছর গুলোতে অনেক বাংলাদেশি দার্জিলিং এর এশিয়ান মাউণ্টেনিয়ারিং থেকে কোর্স করে আসছে। আশা করা যায় খুব দেরী নেই প্রথম এভারেস্ট বিজয়ী বাংলাদেশির দেখা পেতে।
ট্রেকিং করার জন্যে বান্দারবান, রাঙ্গামাটি, খাগরা ছড়ির কোনো জুরি নেই। ইন্টারনেটে ঘাটা ঘাটি করলে বাংলাদেশের ট্রেকিং ডেস্টিনেশন পাওয়া যায় বগা লেক। রুমা থেকে ২০/২২ মাইল দূরে কেওকারাডং রেঞ্জের ভু-স্বর্গ বগা লেক। তবে সাম্প্রতিক সময়ে টুরিস্ট (ট্রেকার না) দের আনাগোনা খুব বেড়ে গেছে। একমাত্র থাকার জায়গাটাতে ওভার বুকিং খুব অহরহ হচ্ছে। আর টুরিস্টদের পরিবেশন দুষন থামানোর কোনো আয়োজন নেই। যে যা পারে, চকলেট, বিস্কিট চানাচুরের প্যাকেট, জুসের খোসা ফেলছে। বগা লেক রহস্যময় একটা জায়গা। সি লেভেল থেকে ৩৭০০ ফিট(আমার ভুল হতে পারে) ওপরে একটা নেচারেল লেক। আশে পাশে আগ্নেয়শিলার পাহাড় দেখে অনেকেই ধারণা করে এটা হয়তো লক্ষ বছর আগে মরে যাওয়া কোনো আগ্নেয় গিরির ধবংসাবশেষ। ম্রো আর বম গ্রাম গুলোতে দারুন খাতির করে। যদিনা টুরিস্টরা দুর্ব্যাবহার করে ওদের সাথে। রুমা বাজার থেকে চান্দের গাড়ি দিয়ে (সেফ নয় মোটেও) কিংবা ট্রেকিং করে যাওয়া যায় মেইন রাস্তা (ইট বিছানো খাড়া রাস্তা অথবা ঝিরি পথের ট্রেইল ধরে)। বগা লেকের গভিরতা কত জানা যায়নি এখনো। আর্মি ক্যাম্পের লোকেরা রশি ফেলে মাপার চেষ্টা করেছে (ওদের মুখে শোনা)...কিন্তু ২০০ ফিটের পরে আর পারে নাই। লেকে বড় বড় অনেক গজার মাছ আছে। আর আশে পাশে জারুল, পাহাড়ি জবা আর নাম না জানা অনেক বন্য গাছ।
সাধারণত ৩০০০ ফিটের বড় পাহাড়কে পর্বত বলা হয়ে থাকে। সেই হিসাবে গুগল আর্থ দিয়ে মেপে দেখলে দেখা যাবে বাংলাদেশে টোটাল ১৭টা পর্বত আছে (সরকারী ভাবে কোনো সার্ভে হয় নাই, শিওর ইনফর্মেশন নেই, নিয়মিত ট্রেকার রা ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর মত করে বের করেছে)। ট্রেকাররা এখন আর্মি ক্যাম্পের হিসাব না মেনে নিজেরাই জিপিআরএস নিয়ে মেপে দেখে। আর্মি ক্যাম্পের লোকজনেরা অবশ্য অনেক জ্বালায়। যাবার পার্মিশন দিতে অনেক গরিমসি করে। যেতেও দেয়না প্রায় সময়। ট্রেকাররা যারা চান্দের গাড়িতে না গিয়ে ট্রেকিং করে তাদের জন্যে জ্বালাতন আরো বেশী। যদিও তারা যেই কাজটা করছে ওটা দেশেরই কাজ যেটা সরকারী লোকদের করার কথা। নেচার ক্লাব মেপে দেখেচে জি পি আর এস দিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে উচু পর্বত সাকা হাফলং। কেউ বলে মদক ময়াল। মদক রেঞ্জের মধ্যে পড়ে। মায়ানমার সীমান্তের কাছে। বম ভাষায় সাকা হাফলং মানে সুন্দর পাহাড়। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চুড়া সিপ্পি আসুয়াং। বম আর ম্রোদের রাজত্ব। বম ভাষায় সিপ্পি আসুয়াং মানে মোরগের ঝুটি। চুড়াটা পুরাপুরি খাড়া দেখতে মোরগের ঝুটির মত।
সাকা হাফলং কিংবা মদক যেটাই বলি না কেন, এখনো দেখা হলো না। সিপ্পি আসুরাং দূর থেকে দেখেছি। আশা রাখি আগামী মাসে প্রফেশনাল আর অভিজ্ঞ ট্রেকার কারো হেল্প পাবো এবং সিপ্পি ঘুরে আসবো। কেউ আগ্রহী থাকলে যোগাযোগ করুন।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ২:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



