somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঃঃঃ মোবাইলবাজ ঃঃঃ

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক দিন আগে একটা এসএমএস পাইছিলাম আমার মোবাইলে,"আমার হৃদয়ের ভালোবাসা হয়ে গেছে ঘাস, খেয়ে গেছে গরু দিয়ে গেছে বাঁশ।

আমার জন্যে কারো হৃদয় ঘাসের মত সবুজ আর তরুনদীপ্ত হয়ে গেছে, কিংবা আমি কাকে বাঁশ দিলাম ব্যাপারটা অনেক ভেবেও বের করতে পারলাম না। যেহেতু আমি সবসময় মোবাইল সাইলেন্ট করে রাখি তাই এস এম এস পাবার অনেক পড়ে আমি টের পেয়ে কল ব্যাক করলাম। কাকে বাশ দিছি এইজন্যে না বেচারার কাব্য প্রতিভাকে স্বাগত জানাতে। দেখলাম নাম্বারটা বন্ধ।

আরেকবার খুব তাড়াহুড়ার মধ্যে আছি। বাংলাদেশ ইন্ডিয়ার খেলা হচ্ছে মীরপুরে। অনেক কষ্টে টিকিট ম্যানেজ করছি। যেই বন্ধুর সাথে যাওয়ার কথা সে কল করবে বলছিল, মোবাইলের রিঙ্গার অন করে হাতে নিয়ে বসে আছি তার ফোনের অপেক্ষায়। কখন কল করে...হঠাত ফোন। ওই ফ্রেন্ডের স্বভাব আছে দুই তিন দিন পর পর নাম্বার চেঞ্জ করার। হঠাত মিস কল। আন নোন নাম্বার। কল ব্যাক করে দেখি অচেনা কন্ঠ। হেলো এটা কি সোনিয়ার নাম্বার। জ্বীনা ভাই, সোনিয়া নামের কাউকে আমি চিনিনা। ঐ লোক উলটা ঝারি...ফাউল কথা কন কেন, এইটা সোনিয়ার নাম্বার, আপনি কে? কি উত্তর দিব বুঝতে পারলাম না। কি মিয়া উত্তর দেন না কেন? সোনিয়ারে দেন কথা কমু। আমি ভদ্র ভাবে বললাম ভাই আপনি ভুল করছেন সোনিয়া নামের কেউ থাকে না এখানে। সে মুখের দরজা খুলে দিল। আমাকে গালি গালাজ শুরু করলো। কারনটা বুঝলাম না কিছুই সোনিয়া নামের কাউকে আমি চিনিনা দেখে আমাকে গালি খেতে হবে কেন। আমি কথা না বলে লাইন কেটে দিলাম। সেই লোকের অসীম ধৈর্য, কল করেই যেতে থাকলো, জরুরি কল আসবে তাই আমি অফ করে রাখতেও পারি না। ঐলোক গালিগালাজের মাঝে যা বল্লো সেটা হলো সে বাজার করতে গেছে। তরকারীওয়ালা একটা ২ টাকার নোট দিছে যেখানে সোনিয়া নামের কেউ নাকি আমার নাম্বার দিয়ে বলছে এই নাম্বারে কল করতে। ভদ্রলোক ২টাকার বিনিময়ে প্রেম করার সুবর্ণ সুযোগ ফস্কে যাওয়ায় আমাকে গালি গালাজ শুরু করে দিল।

যাইহোক নাম্বার বিভ্রাটের একটা মজার ঘটনা। ডঃ ইউনুস তখন নোবেল পুরুষ্কার পেয়েছেন। উনি টিভিতে বলছেন নিজে পলিটিক্যাল পার্টি করবেন। জনগনের মত জানতে নাকি কয়েকটা ফোন নাম্বারও দেয়া হয়েছে। আমি টিভি কিংবা পেপারের সাথে কখোনো যোগাযোগ রাখি না, আমার জানার কথা না। জানতে পারলাম কারন সারাদিন রাত আমার মোবাইলে কল আসছে। ফোন ধরলেই আগ্রহী কন্ঠস্বর, হ্যালো স্লামালেকুম। আপনি কি ডঃ ইউনুস বলছেন? আমি সবাইকে বিনীত ভাবে জানালাম এই অধম ড; ইউনুসকে চোখেও দেখেনাই, আমার নাম সৌম্য। কিন্তু কল আর থামেনা, বিরক্ত হয়ে ফোন অফ রাখলাম, কোন ফল এলোনা। ডঃ ইউনুস যেদিন ইন্ডিয়া সফরে যাচ্ছেন ঐদিন আমি বাসে করে কই জানি যাচ্ছি, একটা আন নোন নাম্বার থেকে ঘন ঘন মিস কল। বিরক্ত হয়ে কল ব্যাক করলাম,"কি ব্যাপার মিস কল দিচ্ছেন কেন?" যে ধরলো সে বললো আমি দেই নাই, আমার দোস্ত দিছে, দাড়ান ওরে ডাকি। যাই হোক তার দোস্ত খুব আহলাদিত কন্ঠে সালাম দিয়ে বললো, স্যার আমি ...... কলেজে পড়ি, আপনার নোবেল বিজয়ে আমি অনেক আনন্দিত। মেজাজ ঠান্ডা রাখতে পাড়লাম না, আমি তাকে ঝাড়ি লাগায় বললাম, আপনার মাথার ঠিক আছে? আপনি ডঃ ইউনুসকে মিস কল দিবেন আর উনি কল ব্যাক করে আপনার সাথে রসালাপ করবে? ২ মিনিটের মধ্যে আরেকটা কল। ভদ্রলোক খুব ভদ্রকন্ঠে জানালেন, উনি খুব নামকরা একটা জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক। উনি এই নাম্বারটা পেয়েছেন। ডঃ ইউনুসের সাথে কথা বলতে চান(আমাকে ডঃ ইউনুসের পিএ ভাবছে) তার রাজনৈতিক দলের ব্যাপারে জানতে চান। বাড়ি থেকে বের হবার আগে দেখছি ডঃ ইউনুস ইন্ডিয়া যাচ্ছে, আমি বললাম, ভাই আমি প্রফেসর সাঈদ বলছি, আমি ডঃ ইউনুস এর এসিস্টেন্ট। উনি তো ইন্ডিয়া যাচ্ছেন। কি জানার আছে আমাকেই বলেন। উনি বিগলিত কন্ঠে বললেন, মানে স্যার যে পার্টি করছেন ওটা সম্পর্কে জানতে চাই। আমি খুব ভাবস নিয়া বললাম, ও পার্টির কাজ কর্ম শুরু হয়ে গেছে। পার্টির নাম বাংলাদেশ গ্রামীন আন্দোলন পার্টি। ইনশাল্লাহ শিঘ্রি আমরা হরতাল অবরোধের মত কর্মসুচীও দেয়া শুরু করব। ভদ্রলোক ঘাবড়ে গিয়ে বললেন, স্যার কি বললেন? আমি আরো ভাবস নিয়া বল্লাম,"ধুর মিয়া, আপনি কথা বেশি কন, নেক্সট টাইমে আপয়ন্টমেন্ট কইরা ফোন দিয়েন, ওয়ালেকুম সালাম" ফোন কেটে দিয়ে অনেকক্ষন একা একাই হাসলাম। বাসের লোকজন আমাকে অবাক হয়ে দেখছিলো। ভয়ে ভয়ে বেশ কিছু দিন ঐ পত্রিকাটা চোখে চোখে রাখলাম, ডঃ ইউনুসের এসিস্টেন্টকে নিয়ে কোন রিপোর্ট আছে নাকি। পাই নাই। কিন্তু ফোনের অত্যাচার বন্ধ হয়ে গেসলো।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ২:০৩
৯টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×