কয়েক বছর আগের কথা, আবিরের সাথে আমার পরিচয় হলো। আমার বন্ধুদের সার্কেলের জনপ্রিয়তম। যদিও আমার বন্ধু মহলের সবাই ইউনিভার্সিটি পড়ে আর আবীরের পড়ে ক্লাশ থ্রিতে
আমি খুব আগ্রহ নিয়ে মিলিটারি একাডেমি তে গিয়েছিলাম। বাসায় সবাই প্রবল আপত্তি করলেও আমার ইচ্ছা ছিল কষ্ট করে ২টা বছর পার করে দিলেই সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট। কে পায়। তাই ইউনিভার্সিটি বাদ দিয়ে চলে গেলাম। পা ভেঙ্গে হাফ খোড়া হয়ে ব্যাক করার পর দেখলাম অনেক কিছু পালটে গেছে। এরিক মারিয়া রেমার্কের অল কোয়ায়েট অন দি ওয়েস্টার্ন ফ্রন্টের নায়ক যখন কিশোর বয়সে আর্মি থেকে বাসায় ফিরে দেখে সব অন্যরকম। মহল্লার ফ্রেন্ড সার্কেলে অনেক পরিবর্তন। অনেক মুখ নাই আবার অনেক নতুন মুখ। সবচে জনপ্রিয়তম হচ্ছে আবীর। সবার মুখে আবীরের নাম। তুই এখোনো আবিরের সাথে পরিচয় হোস নাই? ওদের কথার ভঙ্গিতে ভাবছিলাম আবীর খুব কুল ডুড। যখন ক্লাশ ৩এর একটা ছেলে নিজেকে আবীর বলে পরিচয় দিল খুব অবাক হলাম। ওযে ক্লাশ ৩ এর ছেলে আমাদের সাথে বেমানান সেটা কারো কথায় বার্তায় দেখলাম না। বুঝলাম ওর শারীরিক আকৃতি যাই হোক না কেন, ও বয়সে আমাদের সমান।
আবীরের বাবা বিদেশে থাকে। ছেলে ভয়ানক দস্যি, ওর মা চোখে চোখে রাখতে পারে না। একটা লোক আছে যার দায়িত্ব ওর পিছে পিছে দৌড়ানো, আবীর টম এন্ড জেরির মত ওকে খেলায়। ও হাফাতে থাকে বুঝলাম আবার বাড়ি থেকে পালিয়ে আসছে। জেরী ভদ্রলোক ধাওয়া করছে। আমাকে ভাইয়া টাইয়া জাতিয় কোন সম্বোধনের ধারে কাছেও গেল না।
তোমার নাম সৌম্য
আমি মাথা ঝুকালাম।
তোমার জি এফ আছে? আমি বুঝতে না পেরে বললাম, জি এফ কি? সে প্রচন্ড বিরক্ত হয়ে বল্লো, ছি ছি তুমি জি এফ মানে জানো না? জি এফ মানে গার্ল ফ্রেন্ড।
আমি মাথা নাড়িয়ে বললাম না আমার জি এফ নাই, তোমার আছে?
আবীরের মুখ একশ ওয়াটের আলোর মত জ্বলে উঠলো।হ্যা আছে। আমাদের ক্লাশে পড়ে। ওর নাম শ্যারন, ও খ্রিস্টান। আমি ওকে বলছি তুমি মুসলমান হয়ে যাও। তাইলে বিয়ে করতে সুবিধা হবে। ও আমাকে খ্রিস্টান হতে বলে। আমি বলছি মুসলমান হওয়া সোজা, তিনবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বললেই মুসলমান হওয়া যায়, আমিই বানায় দিতে পারবো। কিন্তু কিভাবে খ্রিস্টান হতে হয় ও জানে না। আবির দাত বের করে হাসে।
আমি কি বলবো বুঝলাম না।
ও নিজেই বলতে থাকে আমরা প্রতি রাতে মোবাইলে কথা বলি, আমার নাম্বারের সাথে ওকে এফ এন এফ করা আছে। মাঝে দেখতাম ওর মোবাইল বিজি। পড়ে আমি ধরে ফেলি ক্লাশ৪ এর একটা ছেলের সাথে ও রাতের বেলা কথা বলে। আমি ওই ছেলেকে স্কুলের বাথরুমের মধ্যে ডেকে নিয়ে সাইকেলের চেন দিয়ে পিটাইছিলাম। এখন আবার সব ঠিক হয়ে গেছে,
আমি কি বলবো বুঝতেছি না। আবীর চান্স না দিয়ে বললো আম্মু খুজতেছে, স্যার আসবে তো। আমি এখন পালাই, জেরী মামু এলো বলে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ২:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


