somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি ভয়ঙ্কর জোঁক।

০১ লা নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(ক্যাপশানঃ দেড় ইঞ্চি একপ্রানীর আক্রমনে নাজেহাল ৫ফুট ১০ইঞ্চি আরেকটা প্রানীর রক্তাক্ত চেহাড়া)

বাংলার খুব কমন একটা প্যারাসাইট জোক। সাধারনত দেশের সখানে এক দেড় ইঞ্চি আকৃতির সাধারন জোক পাওয়া যায়। জোক শিতল ভেজা এবং স্যাত স্যাতে জায়গায় গাছের পাতায় কিংবা ঘাসে থাকে। মাটিতে কিংবা পানিতে এরা থাকেনা। গাছ পালা কিংবা ঝোপ ঝারে কোন প্রানী গেলেই টূপ করে তার গায়ে পড়ে এবং রক্ত খেয়ে ফুলে ঢোল হয়। মাঝে মাঝে মুল আকৃতির দ্বিগুন বা তিন গুন পর্যন্ত হয়ে যায় রক্ত খাবার পড়ে।

জোকের শরীরে পা কিংবা অন্য কোন উপাঙ্গ নাই। শুধু চোষক আছে। জোক অনেক দূর থেকে মানুষ কিংবা অন্য প্রানীর গন্ধ পায় (নাক কিংবা আর কিছু নাই)। এবং তক্কে তক্কে থাকে। প্রানী পেলেই লাফিয়ে পড়ে। জোকের মুখ তিনখন্ডে ভাগ করা। সমারসল্টিং (মাথা বাকিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে) পদ্ধতিতে হাইড্রার মত করে চলাচল করে জোক।


দেখা যায় মানুষের মধ্যে কিছু কিছু লোক জোকের শিকার বেশী হয়। সাধারন ভাবে বলা হয় এদের রক্ত নাকি মিষ্টি। আমি হয়তো এই দলে। আমার শরীরে প্রায় ১০০ জোকের কামড়ের দাগ আছে। আর আরেকদলকে জোক বলতে গেলে ধরেই না। আমার পর্যবেক্ষন যারা বেশি ঘামে তাদেরকে জোক কম ধরে। হয়তো লবনাক্ত পরিবেশে এরা টিকতে পারে না এই কারনে।

আমাদের দেশে সবখানেই অসংখ্য জোক কিলবিল করে। এদের বেশির ভাগ হচ্ছে চিনা জোক। তবে চট্টগ্রামে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পিছে উদালিয়া বলে একটা ঘন জঙ্গল আছে। বাংলাদেশ মিলিটারী একাডেমীর ক্যাডেটরা সামরিক মহড়ার জন্যে যখনই ওখানে যায় ওখানকার বিখ্যাত ৬ ইঞ্চি জোক নিয়ে আসে সুভেনির হিসাবে। এছাড়া বান্দারবনের রুমা, থানছি, পুকুড়পাড়া, তিনমাথা এবং মায়ানমার বর্ডারের কাছে বিখ্যাত ৬ ইঞ্চি জোক পাওয়া যায়।এ গুলো অনেক বড় চ্যাপ্টা তাই জোকের ফিজিওলজি পরিষ্কার জানতে এগুলোই বেষ্ট। ঢাকা শহরে ফুটপাথে বিভিন্ন যৌনরোগের চিকিতসার জন্যে বোতলে যেই দৈত্যাকার ৬ ইঞ্চি জোক দেখা যায় এগুলা আসে ওখান থেকে। এই জোক থেকেই জোকের তেল (ভাল্গার ওয়েল, চির যৌবন তেল নানা নামে পরিচিত) পাওয়া যায়।

সাধারনত জোক ধরলে ক্ষত স্থানে আমরা লবন ছিটিয়ে দেই তাহলে জোক পড়ে যায়। কারণ ক্ষত স্থান থেকে টেনে জোক সরানো কঠিন। যতই টানিবে ইলাস্টিকের মত ইহা ততই বাড়িবে। জোকের লালায় একটা কেমিক্যাল থাকে যা রক্তকে জমাট বাধতে দেয় না। তাই ক্ষত স্থান থেকে ক্রমাগত রক্ত পড়তেই থাকে। টানা ৫ দিন রক্ত পড়ার ঘটনা দেখেছি। সবচেয়ে ভাল হয় সাথে লাইটার দিয়ে ক্ষত স্থানে আগুনের ছেকা দেয়া তাতে রক্তপাত বন্ধ হয়ে যায়। ট্রেকিং এ ট্রেকাররা এবং পাহাড়ি আদিবাসীরা বাঁশের পাত্রে লবন পানি নিয়ে যায় এবং ঝিরি পথে ঢোকার সময় কঞ্চি দিয়ে লবন পানি গায়ে মাখে। কেউ কেউ গুল গায়ে মাখে।

সবচেয়ে মারাত্নক হয় জোক মাঝে মাঝে বড় বাথরুম কিংবা ছোট বাথরুমের রাস্তা দিয়ে শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে যায়। সিলেটে SI&T(যেখানে এডভান্স কমান্ডো করানো হয়) একটা পুকুর আছে জোকে ভর্তি। কমান্ডোদের প্রায় সময় শাস্তি স্বরুপ ওখানে নামিয়ে দেয়া হয়। ওখানে নামার সময় ১হাত দিয়ে ১ নাম্বার বাথরুমের রাস্তা আরেক হাতে ২নাম্বার বাথরুমের রাস্তার ছিদ্র পথ আঙ্গুল দিয়ে বন্ধ করে নামতে হয়। (অশালিন মনে হলে ক্ষমা করবেন, কিন্তু ঘটনা সত্যি)। পাহাড়ে ঝিরি পথে সাধারনত যাতায়াত সোজা। দুপাশে খাড়া পাহাড় ভর্তি জঙ্গলে দিনের আলো প্রবেশ কঠিন। জোকের আড্ডা। এসব জায়গায় ট্রেকিং করার সময় ভালো বুদ্ধি হচ্ছে আন্ডারওয়ারের বদলে টাইটস পড়া। প্যারাসুট কাপড়ের পিছলা প্যান্ট খুব উপকারী। সবচেয়ে ভালো হয় পায়ের মোজার সাথে প্যান্ট ইন করে সংযোগস্থলে ইলাস্টিক দিয়ে সীল করে দেয়া। জোক অবশ্য কাপড় ভেদ করে ভেতরে খুব সহজেই ঢুকে পড়ে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা, পায়ে শক্ত ডিএমএস আর্মি বুট এবং সার্ভিস সক্স ভেদ করে আঙ্গুলে জোক ধরা (চট্টগ্রাম শহরের ভিতরে)।

জোকের ইংরেজি লিচি। বানান জানিনা। নেটে খোজার চেষ্টা করলাম পেলাম না। জোক সম্পর্কে আর অতিরিক্ত কেউ কিছু জানলে জানাবেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ২:০৬
১৬টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×