এক গ্রামে এক ছেলের বাবা মা কেউ ছিলনা। নানা-নানীর কাছে মানুষ। কিন্তু ছেলেটার ছিল ভিষন চুরি করার স্বভাব। কিছু পেলেই ভালো মানুষের মত মুখ করে পকেটে ঢুকিয়ে ফেলতো। তো তার এই স্বভাবে ত্যাক্ত বিরক্ত হয়ে তার নানা তাকে বেদম ধোলাই দেয়। ধোলাই খেয়ে ঐ ছেলে বাড়ি থেকে পালিয়ে শহরে চলে যায়। অনেক বছর পরে বিস্তর টাকা পয়সা কামিয়ে সে বাড়ি ফিরলে, নানা জিজ্ঞেস করে এত টাকা তুই কিভাবে কামালি। নাতি কিছুই বলতে চায়না। নানা অনেক জোড় জবরদস্তি করলে নাতি বললো ঠিক আছে আমি তোমাকে পরে দেখাবো একদিন কিভাবে করেছি।
কিছু দিন পর নাতি নানীকে গিয়ে বলে নানী জান। শহরে তো আমি বিশাল দালান করেছি, চল কিছুদিন তুমি সেখান থেকে ঘুরে আস। শহরের রঙ ঢং কিছু দেখে আসো। নানী রাজী হলো। নানাকে গ্রামে রেখে নাতী নানীকে নিয়ে শহরে আসছে। একদিন হঠাত সে গ্রামে ফিরে এসে নানার কাছে কাঁদতে কাঁদতে বললো, নানা জান কি দুঃখের কথা। হঠাত কলেরা হয়ে নানী জান মারা গেছে। এই বলে সে আছাড়ি পিছারি কান্না। নানাও নানীর দুঃখে বিস্তর কান্না কাটি করলেন। আস্তে আস্তে তার শোক কম হয়ে গেল নানা অন্য কাজ কর্মে মন দিলেন। নাতী এবারে শহরে গিয়ে নানীকে বললো নানী, গ্রামে তো গেছলাম কিন্তু দুঃখের কথা কি বলবো, হঠাত কলেরায় নানা জান মারা গেছে। এই শুনে নানীও অনেক কান্না কাটি করলেন। কিছুদিন পর সব আবার ঠিক হয়ে গেল। নানীর শোক কমে আসলো।
এর পরে ঐ ছেলে একদিন নানীকে গিয়ে বললো। নানী তোমাকে একটা কথা বলি, কিছু মনে কর না। সামনের মহল্লায় একটা বয়স্ক লোক আছে। অবিকল নানাজানের মত চেহাড়া। সেই দাড়ি সেই পাকা চুল, তেমনি হাটা। যেন আমাদের নানাজানের জময ভাই। বেচারার বউ মারা গেছে। একা বুড়ো মানুষ অনেক কষ্ট। দেখে খারাপ লাগে। এখন তুমিও কেবল বিধবা হয়েছ। তুমি যদি তাকে বিয়ে কর তাহলে ভালো হয়। শুনে নানীতো মহা খাপ্পা। তাকে এই মারে তো সেই মারে। আস্তে আস্তে নাতী নানীকে নরম করে। একদিন নানী কনভিন্স হয়ে যায়। আচ্ছা তোর যখন এত ইচ্ছা। আর বেচারা দেখতে যদি অবিকল তোর নানার মত হয় তাহলে আমি মত দিলাম। বেচারা একা বুড়ো মানুষ। নাতী, নানীর কাছ থেকে বিয়ের খরচ বরচ বাবদ হাজার খানেক টাকা নেয়।
নাতী এই বার নানার কাছে যায়। নানাকে বলে এক মহিলা কেবল বিধবা হয়েছে, অবিকল নানীর মত চেহাড়া। একা মহিলা দেখার কেউ নাই। এইসব পাম্প পট্টী মেরে নানাকেও রাজি করিয়ে ফেলে এবং চাপার জোড়ে নানার কাছ থেকে যৌতুক বাবদ টাকা হাতিয়ে নেয়।
বিয়ের পর বাসর ঘরে নানা-নানী একে অপরকে দেখে নাতীর কীর্তি কলাপ সব টের পেয়ে যায়। নানা নানী দুজন গিয়ে নাতীর কানে ধরে আনে। নাতী উত্তরে হেসে জানায়, আমার কি দোষ, নানাই তো জানতে চাইছিলো বিনা পুজিতে কিছু মিছু ব্যাবসা করে আমি কিভাবে এত টাকা কামাইলাম। নানা-নানী তোমরা দুজনেই পুনর্মিলনীতে খুশ। মাঝ খান থেকে আমি যৌতুকের টাকা গুলা পেয়ে গেলাম

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

