somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঃঃঃবিসিএস কম্পিউটার মেলাঃঃঃঃ

২১ শে নভেম্বর, ২০০৮ ভোর ৪:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিকাল বেলা অসময়ে ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিয়ে বন্ধু ধরে নিয়ে গেল কম্পিউটার মেলায়। কিছুদিন ধরেই বলছিলাম ডিভিডি রাইটার কিনবো একটা। মেলা নাকি শুক্রবার শেষ। আলসেমী করে একদিনও যাওয়া হয় না। তাই কাঁচা ঘুম ভাঙ্গিয়ে দাওয়ায় হালকা বকা ঝকা করে ছেড়ে দিলাম।

তো বিসিএস কম্পিউটার মেলা। তাই ভাবছি কম্পিউটার সিটিতে হবে। কম্পিউটার সিটিতে সবসময়ই ব্যানার ফেস্টুনে ভর্তি থাকে। তাই মেলা মেলা লাগে। সোজা গিয়ে ঢুকে পড়লাম। টিকেট কাটতে হলোনা দেখে অবাক হলাম। ভিতরে কোথায় জানি বালামের কিন্নরী নারীবাচক কন্ঠে গান বাজছে...। শুধুউউউউউউ তোমার জন্যঅঅ অ অ অ...। এ তো মেলা হতে পারে না। লোকজন নেই। খাঁ খাঁ করছে। বাংলাদেশে টয়লেট মেলাতেও লোক হয়, সিমেন্ট বালুর মেলাও দেখছি। দাম দিয়ে টিকেট কেটেও ভিতরে ঢোকা যায়না। এতো কম্পিউটার মেলা। দোতালায় গিয়ে আহাম্মকি টের পেলাম। মেলা হচ্ছে বাংলাদেশ চায়না তে।

তারাতারি বের হবার সময় আমার ডাকাত ডাকাত চেহারা দেখে আর তারাহুরো দেখে গার্ডের সন্দেহ হলো। আমাকে থামিয়ে প্রথমে হ্যান্ড মেটাল দিয়ে চেক করলো। বন্ধুর ব্যাগ সাবধানে ঘেটে ঘুটে দেখলো, যেন ভিতরে কি না কি তালেবানী বোমা আছে। ব্যাপারটা বুঝলাম না। কোথাও ব্যাগ নিয়ে ঢোকার সময় চেক করে। এরা বের হবার সময় চেক করছে কেন?? বোমা পেতে রাখলে বের হবার সময় তো খালি হাত থাকবে। বন্ধুর ব্যাগে একটা পানির বোতল ছিল। শুটকা গার্ড ঢাকনী খুলে গন্ধ নিলো নিশ্চিত হবার জন্যে। আমাদের চেহারায় মনে হয় ক্রিমিন্যাল লুক আছে। আগেও প্রমান পাইছি। বেশি কিছু মনে করলাম না। তল্লাশী শেষ হতেই দৌড় দিলাম বাংলাদেশ চায়নায়। এবারে বুঝলাম মেলায় আসছি। অনেক দূরে থাকতেই ঠেলে লাইনে দাঁড় করায় দিল। ২০টাকার টিকেটের লাইন। মাইকে ঘোষনা দিচ্ছে টিকেটের পিছে আপনার নাম ফোন নাম্বার লিখে দিবেন, লটারীতে কি জানি দিবে। আমার বন্ধুর উতসাহ খুব বেশি। সে নাম ফোন নাম্বার, ৩টা ইমেইল এড্রেস দেবার পরে দেখে চতুর্থ ইমেইল এড্রেস দেবার জায়গা নেই।
ঢুকলাম ভিতরে। ল্যাপটপের স্টল মানেই ভির ভাট্টা। ডিজি ক্যামের স্টল গুলো ঘুরলাম। এক দোকানে দেখলাম সিডি বিক্রি হচ্ছে, ঘরে বসে টাকা কামানোর সহজ বুদ্ধি। লোকজন লাফায় লাফায় কিনতেছে। দূর থেকেই নজর করলাম সিডির গায়ে গুগল এডসেন্সের লোগো।
মেলায় এক দোকানে এক দুর্দান্ত রুপসী সেলস গার্ল মাইকে দারিয়ে ইন্সট্যান্ট কুইজ প্রোগ্রাম করছে। স্বভাবতই এখানে ভির। লোকজন পারলে টেবিল টপকে আপামনির হাত থেকে মাইক কেড়ে নেয়। চিল্লা চিল্লিতে মাইকের আওয়াজই শুনিনা। কুনুইএর সদব্যাবহার করে আমরা প্রথম সাড়িতে দাঁড়িয়ে গেলাম। মেয়েদের কখনোই আমার দিকে চোখ পড়ে না। আগেও দেখছি। আমার এই বন্ধুটার কপাল এদিক দিয়ে খুব ভালো।
শেষ বার ট্রেকিং করতে পাইখং পাড়া নামের একগ্রামের কারবারীর বাড়িতে ছিলাম। সন্ধ্যার সময়েই দেখেছি পাশের বাড়িতে ভয়ঙ্কর রুপসী ১ মেয়ে থামি পরে হাটা হাটি করছে। আমরা ৩ বন্ধুই একসাথে কুপোকাত। পাহাড়ের গভীরের মেয়ে গুলো এত সুন্দরী হয় কেন? সেই মেয়েকে নিয়ে কি ঝগরা। পারলে এক্ষুনি পর্বতের ঢাল থেকে আরেকজনকে ঠেলে ফেলে দেই। সকালে দাত মাজার সময় গ্রামের খোলা জায়গায় তার সাথে কথা বলার চান্স পেলাম। কপাল মন্দ এই মেয়ে বাংলা জানেনা। ইশারা ইঙ্গিতে মনের ভাব প্রকাশ করা গেলে ই-মেইল আর এসএমএস আসতো না। মনক্ষুন্ন হয়ে আমরা দুজন যখন আশা ছেড়ে দিছি বিকালের পর দেখি এক বাসার বারান্দা থেকে আমার ঐ ফ্রেন্ড ইশারায় ঐ মেয়ের সাথে কথা বলছে। কি বলেছে জানি না। এর পরে ঐ ফ্রেন্ডকে দেখলে গ্রামের সবগুলো তরুনী এক সাথে প্রচন্ড শব্দে হাসি দিত।
যাই হোক মেয়ে মেয়েই। তা বম রুপসী হোক আর বাঙ্গালী হোক। বরাবরের মত আমার বন্ধুর চোখে চোখ পড়লো। ও হাসি দিতেই চোখ আটকালো। খুব সহজ সহজ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে গিফট বগল দাবা। হিংসায় আমি জ্বলে পুরে খাক। সামনে আরেক স্টলে নীল শাড়ি পড়া এক দঙ্গল মেয়ে স্টল সামলাচ্ছিল। এক টাক মাথার বয়স্ক লোক বোধহয় দোকানের আসল বিক্রেতা। কেউ তারে পাত্তাই দেয়না। সবাই দরদাম কিংবা অন্যান্য ইনফর্মেশনের জন্যে নীল শাড়ির বড় বড় চোখের মেয়েটাকে অস্থির করে তুলেছে। সামনেই আরেকটা কুইজ কন্টেস্ট। এখানেও অনেক ভির তবে আগেরটার মত না। ফ্রেঞ্চ কাট ছুল্লু দাড়ির এক হিপ হপ তরুন এইখানে ভাড়ামি করে লোকজনের দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা। মঞ্চে ৪/৫ জন দর্শককে ডেকে উঠিয়েছে গান গাইবার জন্যে। দূর একি জ্বালাতন। আবারো বালাম। দ্রুত দৌড়ে পালালাম। ভেবেছিলাম মেলা শেষ। সামনে মুল বিল্ডিং এ টিকেটের বাকী অংশ দেখিয়ে ঢুকে পড়লাম। আমি এই অংশটা ফেলে দিতে চাইছিলাম আগে। কারন কেউ বলে নাই। এক টিকেটে দুই মেলার সিস্টেম।
এখানেও হই হই কান্ড রই রই ব্যাপার, গানের তালে মন মাতে সবার। সাউন্ড সিস্টেমের ব্যাবসা বোধহয় ভালো। কান ফাটানো উফার থেকে মিলা বেগমের গান। বাব্বু রাম সাপ্পুরে... সাপুরে তালে মেলা ঘুরছিলাম। কি জ্বালাতন মাঝখান থেকে আবারো বালাম সাহেব। ওয়ারফেজের সাবেক এই গিটারিস্টকে ওয়ারফেজ ছাড়ার পরে মনে মনে কম গালি দেই নি। এখন নাকি নাকি কিন্নরী কন্ঠে গান। এখানেও কুইজ শো। একটা বয়স্ক টাক মাথার লোক মাইক্রোফোন হাতে ডাকা ডাকি করে সবাইকে প্রশ্ন করছে। আগের দুইটার হোস্ট ঝকঝকে দুই তরুনী তাই অসম প্রতিযোগীতার কারনে এনাকে কেউ পাত্তাই দিচ্ছে না। হাত তুলতেই চান্স পেলাম। ভদ্রলোক জিজ্ঞেস করলো, কারেন্ট চলে গেলে পিসিতে কি ব্যাবহার হয়?? উত্তরটা বোধহয় খুব সহজ আশে পাশের সবার মুখের ভঙ্গিতে বুঝলাম কিন্তু আমি জানি না। আমতা আমতা করছিলাম। হঠাত দোকানের নামের দিকে চোখ পড়লো। এরা ইউ পি এস বিক্রি করে। খুব স্টাইল মেরে বললাম ইউপিএস। সঠিক উত্তর।
কোন কোম্পানীর ইউপিএসএর গুনে মানে সবার সেরা?
এবার দ্বিধার কিছুই ছিলনা। ভদ্রলোকের ঘারের পিছন দিয়ে ব্যানারটার নাম বানান করে পরে বললাম, এই ব্র্যান্ডের ইউপিএস ওয়ার্ল্ডে ফাট্টাফাট্টি বেস্ট।
পড়ের প্রশ্ন এই ইউপিএস কোথায় থেকে আমদানী করা হয়।
ব্যানারের নিচের ছোট ছোট অক্ষর গুলো পড়া একটু কষ্ট। তার পরেও চোখ ভালো। হাসি মুখে জানালাম এই কোম্পানীর ইউপিএস লুক্সেমবার্গ থেকে আমদানী হয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ২:০৯
৯টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×