somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেঘের রাজ্যে

১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের ছাঁস সাকা হাফলং (জীন ফুলেন, ন্যাচার এডভেঞ্চার ক্লাব এই নামে ডাকছে, স্থানীয় বম এবং ম্রোরাও এই নামে ডাকে, আর বিএমটিসির সজল খালেদ তার লিখার এর নাম দিয়েছেন স্বপ্ন চুড়া) এর গঠন মায়ানমারের ওদিকে থেকে। বাংলাদেশের প্রান্ত থেকে ধিরে ধিরে উঠে গেছে সীমান্ত রেখা বরাবর একদম দেয়ালের মতো খাড়া নেমে গেছে

বাংলাদেশের সীমান্তের ভিতরে সর্বোচ্চ কয়েকটি জায়গার অবস্থান আর পরিচয় নিয়ে এই লিখা। প্রথমত বলে রাখি লেখাটায় হাজারটা তথ্যগত ভুল থাকতে পরে। কিন্তু সর্বোচ্চ চেষ্টা ছিল জানামতে শুদ্ধ তথ্যটুকু রাখার। আর পর্বতচুড়া গুলোকে উচ্চতার ক্রমানুসারে এবং অক্ষাংশ দ্রাঘিমাংশ একদম সঠিক ভাবলে ভুল হবে, কিংবা এর বাইরে কিছু নেই সেটাও সঠিক নয়।

১। সাকা হাফলং ঃ মদক পর্বত রেঞ্জের এই চুড়াটা বাংলাদেশ এবং মায়ানমার সীমান্তের শেষ মাথায়। বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চুড়া (৩৪৪৪ ফিট জিপিএস রিডিং নেচার ক্লাব, বাংলাদেশ ট্রেকিং এন্ড মাউন্টেনিয়ারিং ক্লাবএর সজল খালেদ এবং ব্রিটিশ এক্সপ্লোরার জিন ফুলেন সবার সাথেই যোগাযোগ করে প্রায় একই রকম রিডিং এর কথা শুনেছি)। গুগল আর্থে অবশ্য ৩৪১৫ ফুট দেখায়। ১৫% এরর একসেপ্ট করলে এটাকে ভুল ধরা যায় না। ৩৪০০ফুট + উচ্চতার এই পর্বত চুড়া বান্দারবান জেলার থানছির অন্তর্গত। রেমাক্রি মদকে। এই চুড়াটার আরো দুটো পিক আছে। একটাকে সাবসিডিয়ারি পিক ধরা গেলেও অবশ্যই এটি একটি ইন্ডিপেন্ডেন্ট পিক। পিক দুটো
21°44'35.84"N, 92°36'18.44"E এর উচ্চতা ৩০২৬ ফিট এবং 21°45'42.65"N , 92°36'3.62"E এর উচ্চতা ৩০০৫ ফিট।

২। রাং তলাং চুড়া (অভ্র দিয়ে সঠিক বাংলা বানান টা লিখতে পারলাম না, উচ্চারন Rang-tlang ) বিখ্যাত রাইখাং লেক এর পুর্ব দিকে ভারত সীমান্তের কাছে। অবস্থানঃ 22° 5'27.05"N and 92°34'44.53"E) এটি রাং তলাং এর ৪র্থ চুড়া। ৩২২০ ফিট উচ্চতা ধরলে এটা বাংলাদেশের দ্বীতিয় সর্বোচ্চ স্থান। এই চুড়ার আশে পাশে কয়েক কিলো মিটারের মধ্যে আরো কয়েকটি চুড়া আছে ৩০০০+ উচ্চতার। কিন্তু সেগুলো গঠন গত দিক থেকে ইন্ডিপেন্ডেন্ট পিক নয়।

৩। কেওকারাডং পর্বত রেঞ্জের বিখ্যাত কেওকারাডং চুড়াঃ কিংবা কেওকারাডং এর এই চুড়াটার অবস্থান 21°56'58.37"N 92°30'51.57"E বান্দারবানের রুমা উপজেলার মধ্যে। কেওকারাডং রেঞ্জে আরেকটি জায়গা আছে ৩০০০+ উচ্চতার। বাংলাদেশী ট্রেকারেরা একে মার্টিনস রক বলে ডাকে। কেও২ নামেও পরিচিত। ৩০০০+ আরেকটি জায়গা মুল চুড়া থেকে ৩/৫ কিলোমিটার দক্ষিনে। এখানে ভুমিতে কোন বলার মতো উচু নিচু নেই। তাজিন ডং এর উত্তরে এবং থাইকং পাড়ার পুর্ব দিকে।

৪। সিপ্পিঃ সিপ্পি পর্বত বান্দারবানের রোয়াংছড়িতে। রোয়াং ছড়ি থেকে দু দিনের রাস্তা। পুরো পর্বতটাতে ৩০০০+ চুড়া একটাই। এর নাম আরসুয়াং। গুগল আর্থে এর উচ্চতা দেখাচ্ছে ২৯২৮ফিট। বাংলাদেশ আর্মির এক সার্ভেতে পাওয়া গেছে ৩০১৬। গত নভেম্বরে আমি পেয়েছিলাম ৩০২৭ফিট (যদিও ওটা জিপিএস ছিল না) গুগল ম্যাপে অবস্থান ট্রেক করার একটা সফটওয়ার)। সিপ্পির একনম্বর চুড়ার উচ্চতা গুগল আর্থে ২৮০০ফিট দেখালেও জিপিএস এ এর উচ্চতা ৩০০০এর খুব কাছা কাছি পাওয়া গেছে। গঠনগত দিক থেকে আরসুয়াং এবং পিক নাম্বার ১ দুটোই অসাধারন। এবং দুটোর উপর থেকেই অসাধারন ভিউ পাওয়া যায় (আশে পাশে উচু পর্বত নাই বললেই চলে)। গঠনগত কারন আর দুর্ভেদ্য জঙ্গলের কারনে ওঠা কেওকারাডংএর চেয়ে দুর্গম কিন্তু অনেক বেশী রোমাঞ্চকর।

৫। পুকুর পাড়া আর্মি ক্যাম্পের পুর্ব দিক থেকে শুরু হয়ে সাকা হাফলং পর্যন্ত আরেকটি রেঞ্জ। স্থানীয় ভাবে কোন নাম থাকতে পারে। কিন্তু আর কোন নাম এই মুহুর্তে জানাতে পারছি না। এই রেঞ্জে একটা চুড়ার উচ্চতা গুগল আর্থে ৩০৭৫ ফিট দেখাচ্ছে। প্রাক্টিক্যালি জিপিএস এ এর রিডিং ৩১০০ফিটের মত পাওয়া যাবার সম্ভবনা আছে। অজানা এই চুড়াটা থাইকাং পাড়ার পশ্চিমে।

৬। চিম্বুক রেঞ্জের অনেক গুলো চুড়ার মধ্যে একটা চুড়ার উচ্চতা গুগল আর্থে ২৯০০+। এটার উচ্চতা জিপিএস এ ৩০০০ হতে পারে (সম্ভবনা কম)। রেমাক্রির পশ্চিমে, তিন্ডু থেকে দক্ষিন পশ্চিমে।

৭। চিম্বুক রেঞ্জের আরেকট পয়েন্টে গুগল আর্থ অবস্থানে দেখায় ২৯০০ফুট। থানছি থেকে ৬ কিলোমিটার পশ্চিমে।

৮। তাজিং ডংঃ সম্ভবত বাংলাদেশের সবচেয়ে বিতর্কিত চুড়া। সরকারী হিসাবে এর উচ্চতা অনেক বাড়িয়ে দেখানো হলেও আধুনিক কালে স্যাটেলাইট ইমেজ খুব সহজলভ্য। গুগল আর্থ কিংবা জিপিএস রিডিং এ এর উচ্চতা ২৮০০এর কাছাকাছি পাওয়া যায়।

এই লিখাটা মুলত লিখেছিলেন এডভেঞ্চার বিডি এর রাতুল ভাই। বাংলাদেশের পাহাড় সম্পর্কে অসাধারন থিওরেটিক্যাল নলেজ আছে উনার। কিছু কারনে আইটি এক্সপার্ট এই ভদ্রলোক ফেসবুক কিংবা বাংলা ব্লগ কোথাও আসেন না। উনার অনুমতিতে সবার সাথে শেয়ার করার জন্যে এই লিখাটা। লিখাটায় যেসব এলাকা সম্পর্কে আমার নিজের ফার্স্ট হ্যান্ড অভিজ্ঞতা আছে তা মিশিয়ে দিয়েছি। এটা একটা ড্রাফট। কারো যদি কোন অবস্থান কিংবা উচ্চতা নিয়ে দ্বিমত থাকে, ধরিয়ে দিলে খুব ভালো হবে।


কেও কারাডং পর্বত রেঞ্জের কিছু সর্বোচ্চ অবস্থান


সর্বোচ্চ কয়েকটি চুড়ার অবস্থানের স্যাটেলাইট ইমেজ।


দক্ষিন জোনের সর্বোচ্চ (৩০০০+কয়েকটি চুড়া)


৩০০০+কয়েকটি পয়েন্ট উত্তর জোন

এলোমেলো কিছু চুড়ার অবস্থান উচ্চতার তালিকাঃ গুগল আর্থ অনুযায়ী।

# সিপ্পি আরসুয়াং
22`11`5.54n, 92'29'01.03e
2928
#Rang Tlang 1st
(on Rang Tlang Range)
22° 2'31.32"N,,92°35'36.41"E,
3244
#Rangs tlang,2nd peak(B)
22° 2'3.63"N, 92°35'36.17"E
3182
#Rangs tlang,3rd peak(c)
22° 0'45.13"N, 92°35'51.26"E
3135
#Near Teen Mukh
21°58'53.69"N, 92°36'11.05"E
3070
#fn siip (fon thu sip)
22° 4'5.19"N, 92°31'14.04"E
2830
#Saka Haflong
21°47'18.68"N, 92°36'33.31"E
3415
#s1( on the saka haflong range or modok mowal)
21°42'16.81"N, 92°36'6.26"E
3120
#s2( on the saka haflong range or modok mowal)
21°40'26.25"N, 92°36'16.05"E
3208
#ch r1 (on Chimbuk Rang)
21°39'34.01"N, 92°28'16.90"E
2900
#view point (on the chimbuk range)
92°28'16.90"E, 92°22'47.42"E
2866
12
Tajing dong
92°22'47.42"E,, 92°32'23.65"E
2696
#keo4 ( keokaradong range)
21°52'35.36"N 92°31'39.13"E
2988
#keo3 ( keokaradong range)
21°54'8.44"N 92°31'26.71"E
3015
#keo 2 ( keokaradong range)
21°56'58.63"N 92°30'8.80"E
3000
#Keo ( keokaradong range)
21°56'58.37"N 92°30'51.57"E
3152
#uk r2 ( unknown range)
21°55'35.99"N 92°34'49.40"E
3008
#uk r1 (unknown range)
21°54'39.07"N 92°35'21.60"E
3070
এখানে যেগুলোর নাম উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি সেগুলোর স্থানীয় নামকেই প্রাধিকার দেওয়া হয়। রীতি অনুযায়ী, প্রথমে স্থানীয় আদিবাসীদের দেয়া নামকেই অফিশিয়াল নাম হিসাবে ধরা হয়।
পুরো লিখাটা আদৌ কেউ মন দিয়ে পড়বে কি না জানি না। যে পড়বে নিঃসন্দেহে সে যাযাবর গোত্রের এবং রক্তে এডভেঞ্চারের রগ রগে নেশা আছে। একসাথে অনেকগুলো আকর্ষনীয় ট্রেকিং ডেস্টিনেশন। ব্যাগ পেক রেডি করেন এবং বেরিয়ে পড়ুন মেঘের দেশের উদ্দেশ্যে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ২:২২
১৩টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডায়োজেনিস সিন্ড্রম

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১২:০১



ডায়োজেনিস সিন্ড্রমে আক্রান্ত মানুষের ঘর

আমার একজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের কিছু অদ্ভুত আচরণ দেখে বুঝতে চাচ্ছিলাম যে তার এমন আচরণ কোনো মানসিক সমস্যা কিনা। তার আচরণের বর্ণনা দেই ইন্টারনেটে, আর তখন জানতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-৩০)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১:০৩



সূরাঃ ৩০ রূম, ৩২ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। যারা নিজেদের দীনে মতভেদ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে।প্রত্যেক দল নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে উৎফুল্ল।

সূরাঃ ৩০ রূম, ২৯ নং... ...বাকিটুকু পড়ুন

হামে শিশুদের মৃত্যুর দায় ডঃ ইউনুস গভার্নমেন্টের

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১:০৪

ইউনিসেফ হামের টিকা কেনার জন্যে গত তত্তবধায়ক সরকার প্রধান ড' ইউনুসকে বারবার অনুরোধ করেছিলো। আমরা এখনো ইউনুস স্যারের উত্তর পাই নাই। কিন্তু, প্রশ্ন হচ্ছে, ইউনিসেফকে প্রধান উপদেষ্টা পর্যন্ত যেতে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাশূন্যের অন্তহীন দিগন্তে: আগামীর মহাকাশ গবেষণা, মানবসভ্যতা এবং আল কুরআনের বিস্ময়কর দিকনির্দেশনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৫৫

মহাশূন্যের অন্তহীন দিগন্তে: আগামীর মহাকাশ গবেষণা, মানবসভ্যতা এবং আল কুরআনের বিস্ময়কর দিকনির্দেশনা

ছবি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

ভূমিকা:

মানুষ যখন প্রথম আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকিয়েছিল তখন সেই বিশাল নীলিমা তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুগে যুগে সারদা দেবী

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯



নদীর নাম রুপসা।
জীবনানন্দ দাশ তার কবিতায়ও রূপসা নদীর কথা বলেছেন। এই নদীতে স্নান করেছেন- রবীন্দ্রনাথের মা এবং স্ত্রী। বর্ষাকালে রুপসা নদী যেন যৌবনে ফিরে যায়। কি তেজ! কি জলের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×