খুব চমতকার একজন মানুষ সাঈদ ভাই। ছোটবেলায় জুলভার্নএর বই পড়ে মাথার ভেতরে পোকা ঢুকেছিল সারা বিশ্ব ঘোরার। পোকাটা বের হয়নি। বিশ্বভ্রমনের উদ্দেশ্য নিয়ে শুর করেছিলেন বাইসাইকেলে বাংলাদেশ ভ্রমন। বাই সাইকেলে দেশের ৬৪টা জেলা ঘোরার ফল তার ওয়েব সাইটটা। সব গুলো জেলা বাই সাইকেলে ঘুরলে সব কিছু খুটিয়ে খুটিয়ে দেখা হয়ে যায়। আর তার ওয়েব সাইটটা এখনো লঞ্চ করে নি। সন্দেহ নেই লঞ্চ করলে দুর্দান্ত হবে।
এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এই বছরেই উনি শুরু করবেন বাই সাইকেলে বাংলাদেশের সবগুলো উপজেলা ভ্রমন। ওয়েব সাইটের ডাটা এন্ট্রির দায়িত্ব কয়েকজন কে দিয়ে ল্যাপটম আর ডিজি ক্যাম নিয়ে বের হবেন। সঙ্গি সেই বাই-সাইকেল। প্রতিটি থানার পর্ব শুরু করার আগে ঢাকার আশ পাশের জায়গা গুলো দেখার কাজ এগিয়ে রাখছেন। এই জন্যেই ঠিক হয়েছিল। গত কাল আমরা যাব বিক্রমপুরের বজ্রযোগিনী গ্রাম দেখতে। হাজার বছরের এই পুরাতন গ্রামটা সম্পর্কে কিছুই বলার নাই। একটা পরিচয়ই যথেষ্ট এই মাটিতে জন্ম নিয়েছিলেন প্রায় একহাজার বছর আগে কিংবদন্তী অতীশ দিপঙ্কর। পায়ে হেটে হিমালয় টপকে গিয়েছিলেন চৈনিক রাজ্যে। শুনেছি চিন রাজার সামনে কেউ নাকি দিপঙ্কর শব্দটা উচ্চারন করলেই উনি লাফ দিয়ে চেয়ার থেক উঠে দাড়াতেন (মীথ হয়তো)। তিব্বতীরা তাকে দেখতো প্রফেটের চোখে। অতীশ দিপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের মৃত্যুর এক হাজার বছর পরে তার দেহ ভস্ম চিন সরকার ফেরত দেয়। এবং তা এই গ্রামে ফিরে আসে।
ব্লগে আমি নোমান ভাইয়ের লিখা পড়ে বজ্রযোগীনি গ্রাম দেখতে বেড়িয়েছিলাম আমি আর সাঈদ ভাই। পোস্তাগোলা পর্যন্ত গিয়ে শুনলাম আজকে (গত কাল) ইলেকশান। বিক্রমপুর যাবার সব বাস, সিএনজি যন্ত্রচালীত যানবাহন বন্ধ। সাঈদ ভাই, তার ঐতিহাসিক বাইসাইকেল আনেননি। বাধ্য হয়ে আমরা ফেরত গেলাম পুরান ঢাকায়। দিনটা একদম মাঠে মারা যায় নি। ঐতিহাসিক নারিন্দা আর্মেনিয়ান গোরস্তানে আমি আগে অনেক কবার গেছি। সাঈদ ভাই যান নি। জায়গাটা দেখে এলাম। প্রায় ৪০৯ বছর পুরোনো এই গোরস্তানে ঐতিহাসিক কিছু কবর আছে (ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর প্রথম গভর্নর, সীপাহী বিপ্লবে নিহত ব্রিটিশ আর্মি অফিসারদের কবর, এছাড়া রয়েছে বেলুনে আটলান্টিক পাড়ি দেয়া প্রথম এস্ট্রোনট মার্কিন অভিযাত্রি ভ্যান ট্যাসেলের কবর যেটা এখনো অনাবৃষ্কৃত) ঢুকেই মনটা খারাপ হয়ে গেল। গত বছর একটা মন্দির স্টাইলের কবরের ভেতর থেকে দুর্দান্ত কিছু ছবি তুলেছিলাম। ঐ কবরটা ভেঙ্গে চুড়মার। যতোদুর মনে পড়ে কবরটা পলাশীর যুদ্ধের কয়েকবছর আগের। অনেক বয়শ। ইমারতটা ভেঙ্গে পড়াই স্বাভাবিক। কিন্তু খুব খারাপ লাগলো।
এর পরে গেলাম বলধা গার্ডেনে। বলধা গার্ডেনের দু অংশ। সাইকি আর সিবিলী। গ্রীক মিথোলজীর দুই বোনের নামে নাম। টিকেট কেটে সবাই সিবিলীতে ঢোকে। সাইকিতে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত। গবেষক কিংবা গন্যমান্য ব্যাক্তিরাই প্রবেশাধিকার পায়। সাঈদ ভাই এর আগে তার ক্যামেরা সাইকেল নিয়ে গণভবনেও ঢুকে গেছিলেন। এখানে তাই সমস্যা হলো না। অনেক দিন পর বিরাট বিরাট কলা বাদুর পেলাম।
গতকালকে তোলা ছবি গুলোর ফ্লিকারে http://www.flickr.com/photos/34455289@N02/
নীলপদ্ম
গাছ থেকে পড়ে যাওয়া এই মুনিয়া পাখিটিকে কাকের দল ঠুকরে আহত করে। আমরা উদ্ধার করে একটা গ্রীনহাউজে ঢুকিয়ে দিলাম। যাতে সে নিজে ঢুকতে আর বেরুতে পারে কিন্তু কাক ঢুকতে না পারে।
বিশ্বাস হয়, প্রানহীন পাথরের মুর্তি!
কবরের এপিটাফ অনুযায়ী, হয়তো এই মুর্তিটা কবরে শায়ীতা মহিলার অনুরুপ। মহিলার নাম এলিজাবেথ। ১৮৭৪সালে মারা যান। ঢাকার একউচ্চপদস্থ ব্রিটিশ সিভিলিয়ানের স্ত্রী।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ২:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



