উতসঃ ওয়াইল্ডলাইফ টাইমস।
ছবির এদেরকে বাংলায় আমরা বলি গয়াল। বনগরু, পাহাড়ি গরুও বলে। ইংরেজীতে বলে গাউর (GAUR)।
১৮৪০সালে জেমস টেলর কোম্পানী আমলের ঢাকা নামের যেই বইটা লিখেছিলেন সেখানে ঢাকার ইতিহাস, জনগনের লাইফস্টাইল, রাজনীতি, সমাজনীতি, যোগাযোগ সব কিছুর সাথে প্রানীবৈচিত্রের কথাও বলেছেন। সেখানে জানা যায় বাংলায় (সমতলে) কখনো গয়াল ছিল না। তবে মগদের রাজ্য (পার্বত্যচট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম) এবং ত্রিপুরা থেকে গয়ালের পাল বরিশাল পর্যন্ত মাঝে মধ্যে দেখা যেত। তবে যাই হোক গয়ালকে ধরে পোষ মানানো কিংবা বানিজ্যিক উতপাদন এদেশের ইতিহাসে তেমন দেখা যায়না।
গয়াল দেশী গরুর আদি পিতা। যদিও শুদ্ধ প্রজাতীর দেশি গরু আজ আর আছে কি না সন্দেহ আছে। ভারতীয় গরু, অস্ট্রেলিয়ান গরু, শাহিওয়াল গরু বিভিন্ন উন্নত প্রজাতির গরুর সাথে শঙ্কর করে আজকে শুদ্ধ দেশী প্রজাতীর গরু আর দেখা যায় না। তবে যে কোন প্রজাতীর গরুর চেয়ে গয়াল আকৃতি কিংবা অন্যান্য দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ। চেহারাগত সামঞ্জের ছুতোয় টুরিস্ট আকর্ষনের জন্যে অনেক ট্যুরিজম ওয়েব সাইটে এই প্রানীটাকে ইন্ডিয়ান বাইসন বললেও আসলে এর সাথে বাইসনের কোন সম্পর্ক নেই। চেহারায় সামঞ্জস্যের কারনে অনেকে আবার একে ইয়াক বা চমড়ি গাইএর খালাতো ভাই ভাবে।এর বৈজ্ঞানিক নাম Bos gaurus readei
বাংলাদেশে গয়াল খুবই বিপন্ন প্রানী। বই পত্রে আছে পার্বত্য চট্টগ্রামের অরন্যে গয়াল পাওয়া যায়। কিন্তু আসলে শুধু বান্দারবানের দুর্গম পাহাড়ী বন ছাড়া আর কোথাও গয়ালের দেখা পাওয়া যায় না।
বান্দারবানে অবশ্য অনেক পাহাড়ি গ্রামবাসীরা গয়ালকে পোষ মানান। কোরবানীর সময় এই সব দুর্গম এলাকা পাড় হয়ে ঢাকায় আসতে না পারলেও চিটাগাং এর বাজারেও দুর্লভ গয়াল চলে আসে। এজন্যে শিকারীরা লবনের ফাঁদ পাতে। শুনেছি চিটাগাং এ কুরবানীর সময় ৫ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত একটা গয়ালের দাম উঠে। সাধারনত পাহাড়িরা সকাল বেলা তাদের গয়ালগুলোকে ছেড়ে দেয়। কয়েকদিন বনে জঙ্গলে ঘুরে এরা ঠিকই মালিকের কাছে ফিরে আসে। পাহাড়েই একেকটা গয়ালের দাম কম পক্ষে ৫০ হাজার টাকা পড়ে। সাধারনত গয়াল পালনে কোন রাখাল দরকার হয় না। কারন দৈত্যাকার চেহারার এই প্রানীটির কোন শত্রু নেই যে তাকে শিকার করতে পারে। নেপালের জঙ্গলে রয়েল বেঙ্গল টাইগার গয়ালকে আক্রমন করলে যুদ্ধে বাঘটি পরাজিত হয়েছিল এরকম একটা ফিচার দেখেছিলাম। নাইখং ছড়িতে সরকারী ভাবে একটা গয়াল প্রজনন কেন্দ্র করলেও, আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সেটা চলে নি।
নর্মালি গয়াল অত্যন্ত ভালোমানুষের মতো একটা প্রানী। শান্ত শিষ্ট স্বভাবের। চেহারা দেখে যে কেউ ভয় পায়। তবে একে ঘাটালে প্রচন্ড হিংস্র
অল্প বয়েসী এই গয়ালটি কেওকারাডং ট্রেক করার রাস্তায় বিখ্যাত ঝর্নারটার সামনে পথ আটকে ছিল। ক্যামেরার ফ্ল্যাস দিয়ে সাবধানে তাড়াতে চাইলে সে আলগা পাথরের গায়ে লাফিয়ে লাফিয়ে নিমিষেই উপরে উঠে গেল। পাহাড়ি ছাগলের মতো। কিন্তু বয়স অল্প হলেও ইনার বডিও মাশাল্লাহ।
রাজকীয় শিং।
নিরিহ দর্শন হলেও গয়ালকে ঘাটালে এমন হতে পারে। কারন size does matter.
এছাড়াও গয়ালের সাথে দেশি গরুর শঙ্করের ফলে আরেক প্রজাতির আধা বন্য গরু পাওয়া যায় জঙ্গলে। এদের মুখ মহিষের মত, দেহ গয়ালের মত দৈত্যাকার না হলেও দেশী গরুর তুলনায় দানব বলা চলে। এদেরকে টং গরু বলে। বানিজ্যিক ভাবে চাষ করলে গয়াল কিংবা টং গরু যে কেউ অস্ট্রেলিয়ান উন্নতজাতের গরুকে টেক্কা দিতে পারে সহজেই।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে আগস্ট, ২০১০ সকাল ১০:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



