somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Ballads of the Agonized Souls

২০ শে মে, ২০০৯ দুপুর ২:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ফেসবুকে একটা ইভেন্টের দাওয়াত পেলাম বাংলাদেশ সাইকেল ভ্রমণকারী ওরফে তার ছাড়া সাঈদ ভাইএর কাছ থেকে (এই লোক বাইসাইকেলে বাংলাদেশের ৬৪টা জেলা ঘুরে দেখা শেষ করে বর্তমানে সবগুলো উপজেলা ট্যুরের প্ল্যান করতেছে। সবাই বলে মানুষের তার ছিড়া থাকে, কিন্তু ইনি তার ছাড়া)। ফটোগ্রাফিক একজিবিশান। যাবার ইচ্ছে ছিল না তাই ডিক্লাইন করছিলাম। সাঈদ ভাই ক্রমাগত বলছিলেন কিছুদিন ধরে গিয়া দেখে আসতে, আগ্রহ পাই নাই।

গতকাল সন্ধ্যায় ছবির হাটে আড্ডা দিচ্ছিলাম। সাঈদ ভাই ফোন করে জানালো উনি জয়নুল গ্যালারীতে। বাধ্যহয়েই গেলাম। জয়নুল গ্যালারীর গেটে সাঈদ ভাই আর ফটোগ্রাফার বসে ছিলেন। নাম নুর আলম অর্ণব। ভদ্রলোকের সাথে কথা হলো। হাসিখুশি লোক। ভিতরে ম্লান আলো একজিবিশানে যেমন হয়। কিন্তু ভিতরের ছবিগুলো দেখে স্তব্ধ হয়ে গেলাম।

থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে আমার জ্ঞান খুব ছিল। জানতাম বাচ্চাদের অসুখ এটা। ব্লাড ক্যান্সারের মতো। আমাদের দেশে কি ভয়াবহ মাত্রায় হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ ফুল ফোটার আগে অঙ্কুরে ঝরে যাচ্ছে তার একটা বড় ডকুমেন্টারী সেটা। থালাসেলমিয়া বংশগত রোগ। বাবা-মা সম্পুর্ন সুস্থ কিন্তু তাদের জীন থেকে বাচ্চাদের শরীরে মৃত্যু বাসা বাধে। একটু সচেতনতা বিয়ের আগে কিছু পরীক্ষা এই ভয়ঙ্কর ভবিষ্যত থেকে তাদের দূরে রাখতে পারে। থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশুর দেহে নতুন ব্লাড সেল জন্মাতে পারে না। প্রতিমাসে দু০ব্যাগ রক্ত নিতে হয়। আর ইনজেকশান। প্রচন্ড ব্যায়বহুল। অনেক পরিবারই একসময় নিঃস্ব হয়ে হাল ছেড়ে দেয়। চোখের সামনে সন্তানকে মরে বাঁচার সুযোগ করে দেয়।

প্রতিটা ছবির নিচে টাইটেলগুলো প্রচন্ড মর্মান্তিক। এক মা মফস্বল থেকে তার বাচ্চা ছেলেকে নিয়ে প্রতি মাসে ঢাকায় আসে। ছোট্ট শিশুটার জন্যে প্রতিমাসে ঢাকায় আসা মানসিক চাপ। মাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখতো হারিয়ে যাবার ভয়ে। আজকে সেই বাচ্চাটা চিরতরে হারিয়ে গেছে।



"when i brought shabjal to dhaka from manikganj for his treatment, he didn’t want to let go of my hands because he was afraid of getting lost. my sweetheart is lost forever … now wherever i go i carry this picture. i feel he is with me."

shahida begum, shabjal's mother
shabjal died of thalassaemia
on shraban 7, 1414
at the age of 14




“what didn’t i do for my lovely daughter to be cured! i tried with several specialist doctors. even took refuge to pir-fakirs. but i know this disease is not to be cured. at last i left her fate on the hands of allah.”

anjuman ara khan, anika’s mother
anika, age 9
affected by beta major thalassaemia
mohammadpur, dhaka





“sometimes i get very angry when i see the number of patients affected by this disease increasing very rapidly throughout the country. but the government and media are paying no attention to this. only giving speeches and participating in seminars on thalassaemia day and forgetting about it the next day.”

shamsun nahar, shampurna’s mother
shampurna, age 2
affected by e-beta thalassaemia
goran, dhaka

ইডেন কলেজে পড়ুয়া একছাত্রির ঘর। অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়তো। পড়ার বইয়ের পাশে হুমায়ুন আহমেদ, জাফর ইকবালের গাদা করা বই। বইগুলো সরিয়ে ফেলতে পারছে না বাবা মা।

ওরা দুই ভাই একসাথে খেলে এক সাথে ঘুরে। ওরা দুজন নিজেরাই নিজেদের বন্ধু। দুজনেই থ্যালাসেমিয়াতে আক্রান্ত।

দিবা নামের একটা ছোট্ট মেয়ে মৃত্যুর প্রস্তুতী নিচ্ছে। তার খাতায় রঙ বেড়ঙ্গের ছবি। ছোট্ট একটা মেয়ে কাদছে। খাতায় লেখা রোল নাম্বার শুন্য।

ছেলেটা তার মৃত্যুর আগে শেষ জন্মদিনটা ঘটা করে পালন করতে চেয়েছিল। সব আত্মীয় স্বজনরা জমায়েত ছিল। সবাই জানতো ওর শেষ জন্মদিন। কিন্তু উৎসবটা হয়নি ,ও অনেক অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।

বোনটা ভাইয়ের খুব প্রিয় ছিল। দুজনে গান শিখতো। বোনটা হারমোনিয়াম বাজাতো। আর ছোট ভাই তবলা। আজ হারমোনিয়ামটা শুন্য পড়ে আছে।

থাক আর বলতে ইচ্ছে হচ্ছেনা। প্রচন্ড ভাবে আবেগে ধাক্কা মারে। যারা দেখেননি, তারা জয়নুল গ্যালারীতে গিয়ে দেখে আসতে পারেন। ১৬তারিখে শুরু হয়েছিল ২২তারিখে শেষ হবে। প্রতিদিন বেলা ৫টা থেকে রাত ৮টা। যারা দেখেননি, অনুরোধ করবো যেন অবশ্যই দেখেন।

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:৪৫
৯টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×