আজকে বিশ্বধুমপান নিধন দিবস।
দুপুরে ভাত খাওয়ার পরে মহাসারম্বরে সিগারেট নিধনে বের হলাম। বের হবার সময় একটু দুঃশ্চিন্তা ছিল। ভাত খেয়ে আমার বাবাও তারাহুরো করে বাইরে গেছেন। নির্ঘাত সিগারেট খেতে। কিছুতেই তাকে কন্ট্রোল করা যাচ্ছে না। এত চিল্লা চিল্লি করা হয়, সব মুখ বুজে সয় আর বলে আর খাবো না। কিন্তু বাড়ি থেকে বেড়ুলেই সিগারেট হাতে আমার হাতে ধরা খায়। আমার সন্দেহ ঠিক ছিল। গলীর মুখে সিগারেট সহ আমার হাতে কট খেল। তার কাচুমাচু চেহারা দেখে মায়া লাগছিলো, কিন্তু মাতৃভক্ত ছেলের মতো আমি মোবাইলে ছবি তুলে ফেলেছি ততোক্ষনে। এই ছবি দেখে আম্মু আজকে সিরিয়াসলি ধরবে।
সন্ধ্যায় সিগারেট খাবার এলাকা আমাদের ভাগ করা আছে। আমার বাবা যায় তাজমহল রোডের পূর্ব দিকে, ওদিকটা আমি যাই না এজন্যে যেন আমার হাতে কট না খান। আর আমি যাই পশ্চিম দিকে রিং রোড এরিয়াতে যেন আমি তার হাতে ধরা না খাই। কয়েকবছর আগে স্ট্রোকের পরে তার সিগারেট খাওয়ার উপরে বাড়ি থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। আমার দায়িত্ব তাকে সিগারেট খাওয়া অবস্থায় দেখলেই হই চই করা। এটা আমি নিষ্ঠার সাথে করি। তো একবার কোরবানীর ঈদে আব্বু আর চাচা গেছেন গাবতলী। আমি ভাবলাম আজকে তাজমহল রোডের আমার বাবার এরিয়াটা খালি। ওখানে নিশ্চিন্তে আমি সিগারেট খেতে পারবো।
আয়েশ করে সিগারেট ধরিয়ে যাচ্ছিলাম, হঠাত আমার বাবার গলা, সৌম্য সৌম্য। এদিকে এদিকে।
তাকায় দেখি আমার বাবা, একটা চায়ের দোকানে বসে। সম্ভবত হাতে সিগারেট ছিল আমাকে দেখে চান্সে সিগারেট ফেলে দিয়েছেন কোন চিপায়। আমি পারি নাই। হাত দিয়ে কায়দা করে আরাল করে রাখছি। আব্বু ডেকেই যাচ্ছেন, সৌম্য এদিক আস, চা খেয়ে যাও। (আমার বাবা সারাজীবন চা কোম্পানীতে চাকরী করায় অতিরিক্ত চায়ের নেশা। তাই বাসাতে তার চা খাওয়ায় কন্ট্রোল করেন আমার মা। বাইরের চায়ের দোকানে গিয়ে অতিরিক্ত তেষ্টা মেটানতে অবশ্য মানা নেই)।
আমি কইলাম, না চা খাব না। আমি চা খাই না।
আব্বু নাছোড়বান্দার মতো পিছে লেগে থাকলো। না না আস। আমাকে চা খাওয়ানোর জন্যে জোড়াজুড়ি শুরু করলো।
আমার হাতের তালু সিগারেটের ছ্যাকা লেগে পুড়ছে। আর থাকতে না পেরে মাত্র দু-টান দেয়া সিগারেটটা ফেলে দিলাম। আব্বুর কাছে যেতেই বললো, তোমার হাত থেকে কি জানি পড়ে গেছে।
আমি বললাম না না। পড়ে নাই।
আব্বু ভালোমানুষের মতো চেহারা করে বললো না না পড়ছে, ভালো করে দেখ। ইম্পর্টেন কিছু হইতে পারে। ঐ যে ওদিকে, সাদা রঙের যেটা পড়ে আছে।
না না। আমার হাত থেকে ঐটা পড়ে নাই।
আরে দেখ না, দরকারী কিছু হইতে পারে।
চোরের মায়ের বড় গলা। আমিও গলার রগ ফুলায় বললাম, না হইতেই পাড়েনা। আমার হাত থেকে পড়লে টের পাইতাম।
আব্বু আরো কিছু বলতে যাচ্ছিলো। তার আগেই চায়ের দোকানের বজ্জাত জামাল (পিচ্চি ভালো গান গায়) এসে আব্বুকে বলে, ছার, নেন আপনার তিননাম্বার সিগারেট।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



