ঘড়িতে আলার্ম দিয়ে রাখছিলাম ভোড় ৫টায়। বাড়তি সাবধানতা হিসাবে আর্লি রাইজার একবন্ধুকে বলে রেখেছি ঠিক ৫টা ১৫তে ফোন দিয়ে যেন জাগায়। মানুষের শরীরের বায়ো-ঘড়ির সাথে মোবাইলের আলার্মের তুলনাই হয় না। ঠিক সময়ে এমনিতেই জেগে গেলাম। হুরমুর করে বাসা থেকে বেড়িয়ে দেখি বাইরে ঘুটঘুইট্যা অন্ধকার। রিক্সা টিক্সা কিছুই নাই। তাড়াহুড়ো করে সংসদ ভবনের দক্ষিন প্লাজায় উপস্থিত
আগে এই জায়গাটায় পাবলিক ঢুকতে দিত। বেশ অনেক বছর ধরে বন্ধ। স্কুল লাইফের শেষের দিকটা পুরোটাই এখানে আড্ডা দিয়ে গেছি। অনেকদিন পরে এই অংশে আসলাম। সিড়িতে পুলিশের দল উতসাহি দৃষ্টিতে তাকিয়ে। হাজার হাজার লোকে লোকারন্য। সবাই এক দৃষ্টিতে আকাশের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। যদিও ৬টা ৫৯বাজতে অনেক দেরী।
সে এক দারুন দৃশ্য হাজার হাজার লোক। সবাই এক দৃষ্টিতে শুন্য আকাশে তাকিয়ে। আকাশ জোড়া মেঘ। সবাই হতাশ। চোখে বিষন্ন দৃষ্টি। অতি উতসাহি ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চারা, হাতে এক্স-রে ফিল্ম নিয়ে সেই ভোড় রাত থেকে বসে আছে। সবাই মোটা মুটি সাজু গুজু করে আসছে। ঈদ ঈদ ভাব। তাদের হতাশার দৃষ্টি দেখে খুব খারাপ লাগলো।
বাংলাদেশ সাইক্লিং ক্লাবের মনা ভাই বলে রেখেছিলেন উনি ৫টা থেকে থাকবেন। ফোন করে দেখি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। ভার্সিটির ফ্রেন্ড চাপাবাজ মিশুর সাথে দেখা। সে টাই টুই লাগায়া অফিস ফাকি দিয়া বসে আছে। ফটোগ্রাফার আরিফ ভুইয়াকে দেখি ইয়া বড় বড় বন্দুকের লেন্সের মতো দুই ক্যামেরা দু কান্ধে নিয়ে ঘুরতেছে। শিল্পি হাসেম খানও খামোখাই চোখে গ্লাস লাগিয়ে পোজ দিলেন।
মেঘে ঢাকা সূর্য। হতাশ পিচ্চিরা।
মেঘ দেখে হতাশ চ্যানেল আই।
আয়োজকরা ফ্রিতে চশমা বিতরন শুরু করেছিল। সেটা নিয়ে এক দঙ্গল লাফা লাফি কামড়া কামড়ি শুরু করলো। সাতটা দশ বাজে। ঘন মেঘ কাটে না। হতাশ হয়ে বেড়িয়ে এলাম সংসদ চত্বর থেকে। গেটে ফুটপাথে অনেকক্ষন ধরে বসে আছি এসময় সংসদ এরিয়া থেকে মানুষের উল্লাস ধ্বনি ভেসে উঠলো। মনে হলো ক্রিকেট ম্যাচে ছক্কা পিটিয়ে বাংলাদেশ এইমাত্র যেন অস্ট্রেলিয়া টাইপ কাউকে হারালে যেরকম আন্দোল্লাস আসে সেধরনের। আমার কাছে গ্লাস নাই। একজন ছেলে পাশে গভীর মনোযোগে দেখছে (মানিক মিয়া এভিন্যুতে)। তার কাছ থেকে গ্লাস চেয়ে নিয়ে ছবি তুলছি। একেতো ট্রাইপড নাই। চিকন সুর্যের তিব্র আলো সহজেই সামান্য হাত কাঁপাতে বিশ্রি রকমের হয়ে যাচ্ছে। কে ধার ধারে টপাটপ শাটার টিপছে। আবার মেঘে সূর্য ডুবে গেলে প্রিভিউতে গিয়ে বিচিত্র কিছু ছবি পেলাম। হার্ট শেপ, ডায়মন্ড শেপ, কমা শেপ সুর্য। একটাতে দেখি বিচিত্র কারনে দুইটা সূর্য আসছে। চলে আসছিলাম। মাঝামাঝি উরাধুরা চটপটি স্টলের সামনে আবার দেখি পাতলা মেঘের মধ্যে অটো ফিল্টার হচ্ছে। এইবার আর সূযোগ ছাড়ে কে?
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


