দুর্গাপুজা দেখতে যাব, প্রতিদিনই ভাবছি। একদিনও যাওয়া হয়ে উঠছে না। হঠাত কালকে মনে পড়লো আজ শেষদিন। সকালবেলা কলাবাগান মন্ডপে পৌছেছি এগারোটার দিকে। আলম ভাই (জিপিএস)কে ফোন দিয়ে খুব ভোড়ে (এগারোটায়) উঠিয়ে আমরা দুজনে গেলাম ঢাকেশ্বরী মন্দিরে।
আলম ভাইয়ের ডিএসএলআর, হেভী ঝাকা নাকা ক্যামেরা। গেটের র্যাব ভাইয়েরা তাকে সহজেই ছেড়ে দিল, কিন্তু আমার চেহারায় মনে হয় কোন আত্মঘাতি আতঙ্কবাদী ভাব আছে। আমার ব্যাগ খুলে, মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পরে একজন পকেটে হাত ঢুকিয়ে চেক করেও কেমন যেন ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে থাকলো, আমি র্যাব ভাইয়ের দৃষ্টি নরম করতে মধুর হাসি দেবার চেষ্টা করলাম, কিন্তু সেটা দেখে তার কুচকানো ভুরুতে আরো কয়েকটা প্যাচ পড়লো। আড় চোখে তাকিয়ে দেখি লম্বা দাড়ি ওয়ালা পাঞ্জাবী পরা অরন্য আনাম, দাড়ি ওয়ালা ধার্মিক মনা ভাই, সবাই ঢুকে পড়লো কোন চেকিং ছাড়াই।
প্রতিমা দেখলাম, আবির মাখা মাখি দেখলাম, ঘুরলাম ফিরলাম। ঢাকেশ্বরীর মুল মন্দিরের থেকে বেরুবার সময় এই পিচ্চি সুন্দরীর উপরে চোখ আটকে গেল। বাবা আর বড় ভাই (!) কে নিয়ে আসছে। বাবা প্রতিমাকে নমষ্কার করছে দেখে সেও ছোট ছোট হাত জড়ো করে নমষ্কার করলো। শিশুদের প্রার্থনা সবসময় অসাধারন পবিত্র লাগে, ভালো করে না দেখেই ছবি তুললাম, প্রিভিউটা পছন্দ হলো না। পিচ্চির সামনে গিয়ে অনেকবার শাটার টিপলাম কিন্তু পিচ্চিও দেখি র্যাবের মতো। কয়েকবার আমার দিকে ভুরু কুচকে তাঁকানো ছাড়া আর কিছুতে উতসাহ নাই। ওর বাবা কয়েকবার অনুরোধ করলো, ওর বড় ভাইও তার ছোট ছোট হাত দিয়ে হাতে কলমে ডেমোনেষ্ট্রশন করে দেখালো। কিন্তু সুন্দরী আমাকে মোটেও পাত্তা দিলো না। বার বার অনুরোধ করায় কয়েকবার জিব বের করে ভেংচি কেটে দিল। শেষে ছোট ছোট হাতে বাবার গলা জড়িয়ে চলে গেল।
এই সেই ছবি।
আমার আবেদন-নিবেদনে সাড়া নেই
বড় ভাই হাতে কলমে শিক্ষাদানে আগ্রহী
পিচ্চিরে পোজ দিতে বার বার রিকোয়েস্ট করায় আমাকে জিহবা বের করে ভেংচি কেটে দিলো কয়েকবার।
~*~*~*~*এবারে অন্যান্য ছবিঃ~*~*~*~*
তাকদুম তাকদুম বাজে... সব ভুলে যাই তাও ভুলি না বাংলাদেশের ঢোল।
কথিত আছে, বিক্রমপুরের নির্বাসিত কিশোর রাজকুমার বল্লাল সেন গভীর অরন্যের ভিতরে জঙ্গলে ঢাকা ঈশ্বরীর মুর্তী পেয়ে একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। নাম জঙ্গলে ঢাকা ঈশ্বরীর মন্দির, কালক্রমে ঢাকেশ্বরী মন্দির। আরো অনেক বছর পরে মন্দিরের পাশের গ্রামটা মন্দিরের নামানুসারে নাম পায় ঢাকা।
কলাবাগান মাঠের প্রতিমা।
ফ্লিকার একাউন্টে ক্লিকাইলে আরো কিছু ছবি দেখতে পারেন।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


