somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঃঃঃঃআর্থ আওয়ার ২০১০ঃঃঃঃ

২৬ শে মার্চ, ২০১০ রাত ১১:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

wwf এর ফ্লিকার লিঙ্ক থেকে আর্থ আওয়ার ২০১০

গত ক-দিন আগে ব্লগে সুমিন শাওন খুব আশঙ্কার একটা পোস্ট দিছিলেন। বাংলাদেশ আর ভারতের দীর্ঘ দিনের দ্বন্দ্ব ‘দক্ষিন তালপট্টি’ দ্বীপ নিয়ে, এই দ্বন্দ্বের অবসান হয়েছে। কারন পৃথিবীতে দক্ষিন তালপট্টি দ্বীপটার আর কোন অস্তিত্ব নেই। গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর ফলে জলভাগের উচ্চতা বৃদ্ধিতে দ্বীপটি তলিয়ে গেল সাগর তলে। স্যাটালাইট ইমেজ দেখে ভারতের বিজ্ঞানীরা অফিশিয়ালী ভাবে দক্ষিন তালপট্টির মৃত্যুর ঘোষনা করেন। সুমিন শাওন ভারতের এক বিজ্ঞানীর খুবই মর্মস্পর্শী একটা কথা কোট করছেন, What these two countries could not achieve from years of talking, has been resolved by global warming।

বৈশ্বয়িক উষ্ণতা পৃথিবীর জন্যে নতুন নয়। আইস এজ শেষে বিশ্বের তাপমাত্রা বেড়ে স্থলভাগে চেহারা বারবার চেঞ্জ হইছে। তখনকার প্রাণীকুল ধ্বংস হয়ে গেছে। পৃথিবীর শুরুতে মানুষ ছিলোনা। হয়তো শেষেও মানুষ থাকবে না। কিন্তু মানুষের ধ্বংসের কারন কি হবে? গ্লোবাল ওয়ার্মিং। ৭০সালে হার্ভার্ডের এক ছাত্র ওজন স্তরের ফুটো আবিষ্কারের পরপরেই এই নিয়ে হই চই শুরু, কিন্তু ধনি দেশ গুলো নির্বিকার। যদিও গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর মুল দোষী তারাই, বিশ্বের শিল্প বিপ্লব আমাদের দিচ্ছে টাকা কিন্তু কেড়ে নিচ্ছে প্রান। মেরু অঞ্চলের বরফ গলছে, হিমালয়ের গ্লেসিয়ার গলছে, ধেয়ে আসছে সাগর।

বঙ্গোপসাগরের উচ্চতা বাড়ছে দিন দিন। আজকে তালপট্টি গেছে, এর পরে যাবে সেন্টমার্টিন, সোয়ার্জ অফ নো গ্রাউন্ড (অতলস্পর্ষী) বা সমগ্র সুন্দরবন চলে যাবে সাগরের অতলে, আমাদের গর্বের হয়তো কিছুই রবে না বাকী। কিছুদিন আগে টিভিতে দেখলাম মালদ্বীপের প্রধানমন্ত্রি তাঁর ক্যাবিনেট নিয়ে মিটিং করলেন সাগর তলে, স্কুবা ইকুপমেন্ট পড়ে, অস্ট্রেলিয়া সরকার বাস্তুচ্যুত মালদ্বীপবাসীদের সহজ শর্তে তাদের দেশে জমি কেনার সুযোগ দিচ্ছে বলে শুনেছি। কিন্তু বাংলাদেশের কি হবে? সাগরের উচ্চতা আর ১মিটার বাড়লে বাংলাদেশের ১৭% এলাকা চলে যাবে সমুদ্রের তলদেশে?

গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর একটা বড় কারন এনার্জির চাহিদা। প্রতিদিন শতশত পাওয়ার হাউজ কয়লা, গ্যাস, ডিজেল, এটোমিক শক্তি ব্যাবহার করছে। কিন্তু এত শক্তি সব কিছুই কি ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল ইউজে যাচ্ছে? ঘরের লাইট, ফ্যান, টিভি, দোকান পাটের সাজ সজ্জার লাইট এদের পেছনেও কম শক্তি যাচ্ছে না। আর এই শক্তির একটা বিশাল অংশ জাস্ট অপচয় হয়। এজন্যে ২০০৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনী শহরে আর্থ আওয়ার এর শুরু WWF বা world wildlife fund এর ক্যাম্পেইন থেকে। সিডনীতে সাধারন মানুষজন থেকে সরকার সবাই অতিরিক্ত আর অপ্রয়জনীয় বাতি নেভানোর মাধ্যমে এই সচেতনতার শুরু করে। ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার পাশা পাশি আরো ব্যাপক ভাবে বিশ্বের অন্যান্যদেশও শুরু করে। ২০০৯ সালে জাতিসংঘ পাশে এসে দাড়ালে আরো ব্যাপক হয় আয়োজন। যতোটা মনে পড়ে গতবছর ফেসবুকের কল্যানে অনেকেই আর্থ আওয়ার পালন করে বাংলাদেশে। সরকারী ভাবে অবশ্য আমরা আর্থ আওয়ার পালন করছি না এবারো।
আর্থ আওয়ার হয় প্রতিবছর মার্চের শেষ শনিবার। এবছর যেটা হচ্ছে আগামীকাল ২৭ তারিখে। সবদেশের মতো বাংলাদেশেও স্থানীয় সময় রাত সাড়ে আটটা থেকে সাড়ে নয়টা পর্যন্ত একঘন্টা আমরা অতিরিক্ত বাতি নিভিয়ে রাখতে পারি (যদি না লোডশেডিং থাকে)। আর্থ আওয়ারের ব্যাপারটা জানলাম একটা ব্যাতিক্রমী উৎস থেকে। আমেরিকান হোটেল কোম্পানী স্টারউড বিশ্বব্যাপি তাদের সব হোটেল আর রিসোর্টে আর্থ আওয়ার পালন করবে। আগামীকাল তাদের বাংলাদেশে দুটো হোটেল শেরাটন আর ওয়েস্টিন তাই রাত সাড়ে আটটা থেকে সাড়ে ন’টা তাদের লবির অতিরিক্ত আলোকস্বজ্জা নিভিয়ে দিয়ে মোমবাতি জ্বালাবে।

বৈষয়িক উষ্ণতার বড় শিকার আমরা কি আর্থ আওয়ার পালন করে বিশ্বসচেতনতায় অংশ নেবনা? যদি কালকে ঐ সময়ে যাদের যাদের বাসায় কারেন্ট থাকবে তারা অতিরিক্ত লাইট ফ্যান অর্থাৎ পাওয়ার সোর্স অফ রেখে অংশ নিতে পারি আর্থ আওয়ার ২০১০এ।


আর্থ আওয়ার ২০১০ এর অফিশিয়াল সাইটঃ http://www.earthhour.org/

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:১৬
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×