somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

:::: এবং হিমালয়... ::::

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১২:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্টোক কাংড়ির এই ছবিটা কার তোলা কে জানি। উইকিপিডিয়া’তে এটাই পেলাম।

স্টোক কাংড়ি পর্বত চুড়াটাকে আসলে কারাকোরাম রেঞ্জের অংশ বলে থাকে একদল। আরেকদল দাবী করে স্টোক নিজেই একটা আলাদা পার্বত্য রেঞ্জ। তাহলে হিমালয়ের কোল ঘেষে লাদাখ এর স্টোক রেঞ্জের সর্বচ্চ চুড়া হয় স্টোক কাংড়ি। উচ্চতা দৈত্যাকার বিশ হাজার একশ সাইত্রিশ ফুট ( ছয় হাজার একশ পয়ত্রিশ মিটার)। শুনেছি স্টোক ক্লাইম্বিং এর সময় কারাকোরাম রেঞ্জের সর্বোচ্চ চুড়া কেটু বা গডউইন অস্টিন (মাউন্ট এভারেস্টের পড়ে কেটুই পৃথিবীর সর্বোচ্চ চুড়া, এভারেস্টের চেয়ে মাত্র ৭৫২ ফুট ছোট হলেও ক্লাইম্বিং এর দিক দিয়ে পৃথিবীর টাফেস্ট মাউন্টেনের একটা এই কে-টু) চুড়াটার খুব চমৎকার সব ছবি তোলা যায়।
স্টোক কাংড়ির অবস্থানঃ 33°59′11″N 77°26′32″E33.98639°N 77.44222°E তে। স্টোক কাংড়ির সামিট রিপোর্ট গুলোতে ক্লাইম্বিং এর পরিবেশ লেখা থাকে খুব মজার করে- মডারেটেড ডিউরিং সামার, অলমোস্ট ইম্পোসিবল ডিউরিং উইন্টার। তাই জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম পর্যন্তই স্টোক কাংড়ি ক্লাইম্বিং এর সময়। যদিও বেস্ট সিজন অগাস্ট। সেপ্টেম্বর থেকেই তুষার পাত শুরু হয়ে যায়। সে হিসাবে আমার সময় বেছে নেয়াটা সামান্য দেরীই হয়ে গেল।
স্টোক কাংড়ি একটা নন টেকনিক্যাল পিক। কিন্তু সমস্যা একটাই এর ২০ হাজারী ফুটের উচ্চতা। শরীর বিজ্ঞানের ভাষায় মানুষের জন্যে এই উচ্চতাটা চরমভাবাপন্ন। ১০ হাজার ফুটের উপরে উচ্চতাকে বলে হাই অল্টিচিউড, ১৫ হাজারের উপরে ভেরি হাই অল্টিচিউড আর ১৮ হাজার ফুটের উপরে গেলে সেটা হয়ে যায় এক্সট্রিম হাই অল্টিচিউড। এক্সট্রিম হাই অল্টিচিউড এমন উচ্চতা যেখানে বাতাসের চাপ খুবই কম, অক্সিজেনের অভাব, তীব্র শীত আর ভয়ঙ্কর ঝরো হাওয়ার সাথে মানুষকে লড়তে হয়। বাতাসের চাপ আর অক্সিজেনের অভাবে মানুষ পর্যাপ্তভাবে একমাটালাইজ (উচু আবহাওয়ার সাথে অভিযোজিত হওয়া) না হলে সহজেই হাই অল্টিচিউড সিকনেসে পড়ে। সাধারনভাবে হাই অল্টিচিউড সিকনেসের লক্ষন, তীব্র মাথা ব্যাথা, খেতে না পারা, না ঘুমানো এসব। আর এক্সট্রিম পর্যায়ে হয়ে যায় লাংসে এবং ব্রেনে পানি চলে আসা, শরীরের থেকে প্রয়োজনীয় লিকুইড লিক করা, হেলুসিনেশান (সম্ভবত একারনেই ইয়েতিদের দেখা মেলে হিমালয়ের উচু জায়গাগুলোতেই) খারাপ পরিস্থিতী মৃত্যু। এছাড়া বৈরি পরিস্থিতি তো থাকেই। এভেলাঞ্চ (তুষার ধ্বস), তুষার ঝর, আর টেম্পারেচার শুন্যের অনেক নিচে।
আগেই বলেছি এই পিকটা নন টেকনিক্যাল। শুধু মাত্র উচ্চতার সাথে লড়াই করতে হয়। একটা গ্লেসিয়ারের নদী পেরুতে হবে, তাও শুধু শেষ দিনে। আর এর পরেই একটা স্ক্রি ফিল্ড (ছোট ছোট আলগা পাথরে ভর্তি ঢালু এলাকা)। চুড়া সামিটের আগে এদুটোকেই কঠিন জায়গা হিসাবে বলা হয়। গ্লেসিয়ারটার সমস্যা হলো এটাকে পেরিয়ে সামিট শেষ করে আবার দিনের শুরুতেই ক্রস করে ফিরতে হয়। একটু বেলা বাড়লেই সেটা গলতে শুরু করে।

অনেক ভারি ভারি আর কঠিন কঠিন নিরস কথা বার্তা দিয়ে পোষ্ট ভর্তি করে দিলাম। এই কথা গুলোর মোদ্দা কথা, দির্ঘদিন ধরে দেখা স্বপ্নটাকে সফল করার চেষ্টায় নামছি। আগামী কাল রওনা হচ্ছি ভারতের উদ্দেশ্যে। কলকাতা হয়ে দিল্লী, সেখানে একদিন কাটিয়ে চলে যাব তিব্বতের কাছা কাছি সেই চুড়াটার কাছে। বাকীটা হবে স্বপ্নপুরনের যাত্রা। এটা মুলত দোয়া চাই টাইপ পোষ্ট। দোয়া করবেন যাতে নিরাপদে ফিরে আসতে পারি প্রিয় ঢাকা শহরে।


ইউটিউবে স্টোক কাংড়ি সামিটের নিয়ে (শেষ দিন অর্থাৎ সামিট পুশের উপরে) এই ভিডিওটা পেলাম।
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×