যমুনা সেতুতে ফাটল - ডিজাইন ও নিমার্ণ ক্রুটি ? কিভাবে এ ক্ষতি পুষানো হবে?
অনেক স্বপ্ন অনেক সম্ভাবনা এবং অনেক আশা নিয়ে বিপুল অর্থ ব্যয়ে যমুনা বহুমুখী সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। ১৯৯৯ সালে সেতুটির কাজ সম্পন্ন হলে বাংলাদেশের মানুষের কাছে অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনার দ্বার উদঘাটিত হয়। যমুনা সেতু উত্তরাঞ্চলে সাথে যোগাযোগের একটি স্বপ্ন। অনেক চেষ্টা ও প্রচেষ্টার প্রেক্ষিতে এদেশের প্রতিটি জনসাধারণের সহযোগিতায় এই সেতু নির্মিত হয়েছে। উত্তর অঞ্চলের সাথে রেল যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ঢাকা হতে ডাবল কার্ড লাইন স্থাপনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে দেখা যায় উক্ত অঞ্চলে সমপ্রতি যাত্রী পরিবহন বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে রেল উন্নয়ন, যাত্রী সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এই সময় যমুনা সেতুতে ফাটলের প্রেক্ষিতে রেল চলাচল বন্ধ, পরিবহনের মালামালের ওজন হ্রাস এবং আর একটি নতুন সেতু তৈরি প্রস্তাব করা হয়েছে। যমুনা সেতু তৈরির লক্ষ্যে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে, অনেক টাকা ঋণ নেয়া হয়েছে, অনেক ফসলি জমি ভরাট করা হয়েছে, বাঁধ দেয়ার ফলে অনেক গ্রাম বিলীন হয়ে গেছে। এত অর্থ ব্যয় ও কষ্টের উদ্দেশ্য ছিল উত্তর অঞ্চলের সাথে যোগাযোগ আরো উন্নত হবে, রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে। কিন্তু সর্বশেষে দেখা যাচ্ছে এ অর্থ ও কষ্টের কাঙ্খিত ফলাফল পাবার পূর্বেই আবার একটি ব্রিজ করার সুপারিশ করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে এ ব্রিজ উপযোগী নয়।
যমুনা সেতুতে ফাটলের বিষয়টি কোনভাবেই হালকাভাবে গ্রহণ করা উচিত নয়। কারণ অনেক সময় দেখা গেছে, এ ধরনের বিভ্রান্তকর তথ্য দিয়ে অনেক রাষ্ট্রীয় সম্পদ অকার্যকর করা হচ্ছে। অপর সঠিকভাবে যাচ্ছাই বাছাইয়ের পরবর্তীতে যদি দেখা যায় ফাটলের কারণে এ ব্রিজ কাঙ্খিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ তবে শুধুমাত্র নিমার্ণ কোম্পানি, পরামর্শ প্রতিষ্ঠান জড়িত ছিল তাদের দায়িত্ব অবহেলা, দেশীয় সম্পদের ক্ষতির জন্য আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। পাশাপাশি এ সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব অবহেলার কারণে আগামী দিনের রাষ্ট্রীয় যে কোন ধরনের পরিকল্পনা বা প্রকল্প বাস্তবায়নে হতে বিরত রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করার আহবান করছি।
নতুন একটি ব্রিজ জাতির জন্য ঋণের বোঝা চাপাবে, বর্তমান যমুনা সেতুতে রেল চলাচল সীমিত/ নিষিদ্ধ করা এবং গাড়িতে মালামাল পরিবহনের ওজন হ্রাস করা হলে অর্থনৈতিকসহ বিভিন্নভাবে মানুষ ও রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই যমুনা সেতুতে ফাটলে দায়ীদের শাস্তি দাবীর পাশাপাশি, দক্ষ ও দেশীপ্রেমী প্রকৌশলীদের দ্বারা কমিটি গঠনকে এই সেতুত ফাটল বন্ধ এবং ব্যবহারের উপযোগী করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। যে কোন উপায়ে যমুনা সেতুতে রেল যোগাযোগ অব্যাহত রাখা, ক্ষতিপুরনের লক্ষ্যে দ্রুত ও নিখুতভাবে মামলা দায়ের করা এবং যে কোম্পানিকে যমুনা সেতুর ফাটল নিরূপনের জন্য দাযিত্ব প্রদান করা হয়েছে তার দায়িত্ব এবং কার্যক্রমের ফলাফল নিয়মিত জনসাধারণকে অবহিত করার জন্য সরকারকে আহবান জানাই।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




