আমার প্রিয় পোস্ট

বিশ্ব সাইকিং দিবস ঘোষণার জন্য একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান

২৬ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:০১

শেয়ারঃ
0 0 0


স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, পরিবেশের উন্নয়ন এবং সর্বোপরি শহরকে প্রাণবন্ত ও বসবাসযোগ্য করতে সাইকেলে চলাচল উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টির জন্য পৃথক লেন ও সাইকেল স্ট্যান্ড তৈরি করা জরুরী। আজ সকাল ১০:৩০টায় ঢাকা সাইকিং কাব এবং ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট এর যৌথ আয়োজনে
‘‘সাইকেলে চলাচল উপযোগী পরিবেশের জন্য” সাইকেল র‌্যালীতে এই অভিমত ব্যক্ত করা হয়।

র‌্যালীটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে প্রেসকাবে গিয়ে শেষ হয়। সাইকেল র‌্যালী উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী। র‌্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এর মাননীয় প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট এর প্রকল্প কর্মকর্তা মারুফ রহমান এর পরিচালনায় র‌্যালী শুরুর পূর্বে এবং পরে সংপ্তি আলোচনা পর্বে বক্তব্য রাখেন এস্ট্রোনমিকাল এসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক এ আর খান, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন এর চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, বাপা’র কামরুল আহসান খান এবং মিহির বিশ্বাস, ঢাকা নাগরিক এর সভাপতি আব্দুল মতিন, খিলগাঁও সামাজিক সংস্থা’র সাধারণ নম্পাদক হাফিজুর রহমান ময়না, বাইসাইকেল মার্চেন্ট-আসেম্বলিং এন্ড ইম্পোর্টার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নূরুল হক, এনডিএফ এর নির্বাহী পরিচালক ইবনুল সাঈদ রানা এবং ঢাকা সাইকিং কাবের সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মাসুম।

বক্তারা বলেন সাইকেলকে জনপ্রিয় করার ল্েয বিশ্বের অনেক দেশেই নানা কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত “বিশ্ব সাইকিং দিবস” ঘোষিত হয়নি। সেেেত্র বাংলাদেশ এই দিবসটির স্বীকৃতি প্রাপ্তির জন্য অগ্রগামী ভূমিকা পালন করে বিশ্ব দরবারে নিজেদের অবস্থান আরো একধাপ এগিয়ে নিতে সম হবে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ থেকে ঢাকা সাইকিং কাব আন্তর্জাতিক সাইকিস্ট ইউনিয়ন এবং এশিয়ান সাইকিং ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন। আসুন, নিজেদের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সাইকেলে চলাচল উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি এবং “বিশ্ব সাইকিং দিবস” এর স্বীকৃতি প্রাপ্তির ল্েয সকলে একযোগে কাজ করি।

বক্তারা বলেন, ঢাকা শহরে যানজটে মানুষের মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক তি ও উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে। রাস্তায় যানজটে বসে মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করতে হচ্ছে। পুড়ছে বৈদেশিক মূদ্রায় আমদানীকৃত মূল্যবান জ্বালানী বাড়ছে দূষণ। দূষণের কারণে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে নানা জটিল রোগে। ঢাকা শহরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রাইভেট কারের বৃদ্ধি এর অন্যতম কারণ। ঢাকা শহরকে যানজটমুক্ত আদর্শ বসবাসযোগ্য নগরীতে রূপ দিতে অবিলম্বে সাইকেলে চলাচলের সুবিধা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পাবলিক বাস, পথচারী ও রিকশা’র উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ করা জরুরী।

বক্তারা আরো বলেন, বাংলাদেশে ঢাকা শহরে তুলনামূলকভাবে প্রতিরোধযোগ্য অসংক্রামক রোগ (ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ব্লাড প্রেসার ও মুটিয়ে যাওয়া) এর কারণে দিন দিন মৃত্যুহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ৩০মিনিট অথবা বছরে ২১০০কিমি সাইকিং করলে ৫০ভাগ মুটিয়ে যাওয়া, ৩০ভাগ ব্লাড প্রেসার, ৫০ভাগ হৃদরোগ, ৫০ভাগ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি হ্রাস পায়। সুতরাং ঢাকা শহরে অফিসে, স্কুলে সর্বত্র সাইকেলে নিরাপদে চলাচল করা যায় সেরকম পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। আর ঢাকা শহরে ৭৬ ভাগ যাতায়াত ৫ কিমি এর মধ্যে। উপযুক্ত পরিবেশ পেলে এই দূরত্বে স্বচ্ছন্দে যাতায়াত করা যাবে। সাইকেলে চলাচলের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ করা হলে চিকিৎসা ব্যয় হ্রাসের পাশাপাশি অনেক পরিবারের ভোগান্তি কমাতে সাহায্য করবে।

বক্তারা বলেন, অতিরিক্ত যান্ত্রিক যানবাহনের নির্ভরতার কারণে বৃদ্ধি পাচ্ছে পরিবেশ দূষণ। বিশ্বে পরিবহণ খাতে জীবাশ্ম জ্বালানী ব্যবহারজনিত কারণে ২৫শতাংশ কার্বন নির্গমণ হয়, যা জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কারণ। পরিবহণ ব্যবস্থায় সাইকেলের ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে কার্বন নির্গমণ হ্রাস করা সম্ভব। তাছাড়া ঢাকা শহরে প্রাইভেট কার বৃদ্ধির মাধ্যমে যানজট, রাস্তাঘাটের নির্মাণ ব্যয়, দূষণ, জ্বালানীর ব্যবহার ও দূর্ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া বিনোদনের জন্য উন্মূক্ত স্থান ও শিশুদের খেলাধূলার জায়গা কমে আসছে। সাইকেলে চলাচলের মাধ্যমে জায়গার পরিমিত ব্যবহার সম্ভব।

বক্তারা আরো বলেন, সারা পৃথিবীতে সাইকেল খুবই জনপ্রিয় বাহন। রাষ্ট্রীয়ভাবে অনেক দেশেই সাইকেল ব্যবহার জন্য ব্যাপক সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের দেশে পরিবহন ব্যবস্থায় সাইকেলের জন্য কোন সুযোগ-সুবিধা আজও তৈরি হয়নি। বরং মাত্রারিক্ত কর আরোপ, বিভিন্ন সড়কে অযান্ত্রিক যান নিয়ন্ত্রণের নামে কার্যকর এই বাহনটি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে। তারা বলেন, সাইকেলের উপর অধিক কর বড় ধরনের অন্তরায়। সর্বসাধারণ বিশেষ করে ছাত্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের সুলভে সাইকেল প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সাইকেলের উপর আরোপিত কর হ্রাস করা প্রয়োজন।

বক্তারা সাইকেল র‌্যালী থেকে শহরের সর্বত্র সাইকেলে চলাচলের জন্য পৃথক লেন ও পথ তৈরি করা; স্ট্যান্ড তৈরি করা, কর কমানো; “বাইক এন্ড রাইড সিস্টেম” এবং ফ্রি সাইকেল সার্ভিস চালু; শিার্থীদের সুলভে সাইকেল সরবরাহ করা; পথচারী, রিকশা ও পাবলিক বাসে চলাচলের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করা; একদিন বেজোড় সংখ্যা ও অন্যদিন জোড় সংখ্যার লাইসেন্স অনুযায়ী প্রাইভেট কার চলাচলের ব্যবস্থা করা; জায়গা ও সময়ের মূল্যানুসারে পার্কিং চার্জ আদায় করা; পিক আওয়ারে নগরের কেন্দ্র কারমুক্ত করা এবং ব্যস্ত এলাকায় প্রাইভেট কার প্রবেশের জন্য কনজেশন চার্জ গ্রহণের ব্যবস্থা করার সুপারিশ করেন।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: পরিবহণ  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:০৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৯১৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
এই ব্লগের কোন প্রকার অনুমতি ছাড়াই ব্যবহার করা যাবে ।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ