অন্য আনন একদিন কথা প্রসঙ্গে মেইনস্ট্রিম ও আন্ডারগ্রাউন্ড শব্দ দুটির ব্যবহার নিয়ে আমার সাথে কথা বলছিলো। বাংলা ভাষায় ও বাংলাদেশে এই শব্দ দুটি বেশ ব্যবহৃত হচ্ছে। কথা হচ্ছিলো শব্দ দুটি ব্যবহারের উপযুক্ততা নিয়ে। ওর সাথে কথা বলে বুঝতে পারছিলাম ও বেশ ঘাঁটা-ঘাঁটি করছে এই নিয়ে। অচিরেই আনন হয়ত এ নিয়ে বিষদ ভাবে লিখবে। আমি তারই আঁচে লাল হয়ে কিছু লেখার দুঃসাহস করছি...
মেইনস্ট্রিম বলতে মূলত বোঝায়... যা সাধারণ, সাভাবিক, বৃহৎ জনগোষ্ঠির কাছে পরিচিত এবং সহজলভ্য কোন বিষয়। অর্থাৎ সার্বিক ভাবে সকলের গ্রহনযোগ্য কোন বিষয় বা মতাদর্শ কে বলা হয় মেইনস্ট্রিম। মেইনস্ট্রিমবাদীরা সমাজে যা গ্রহনযোগ্য তা তার মত করে নিজের মতাদর্শ উপস্থাপন করে। মেইনস্ট্রিমবাদীদের মতাদর্শ তুলনামুলক সহজেই সামাজিক ভাবে গ্রহনযোগ্য হয়, কারন তার মতাদর্শ চলমান সমাজ ব্যবস্থার নিরিখেই উন্নয়ন বা তৈরী করা হয়ে থাকে।
আর আন্ডারগ্রাউন্ড হচ্ছে মেইনস্ট্রিমের বিপরিত। যা সাধারন ও সাভাবিকত্তের বাইরে, জনগোষ্ঠির কাছে তুলনামুলক ভাবে অপরিচিত এবং সীমিত ভাবে সরবরাহ/প্রচারকৃত বিষয় বা মতাদর্শ। আন্ডারগ্রাউন্ডবাদীরা কিছুটা প্রথাবিরধী, অর্ন্তমূখী, দ্রুত পরিবর্তনকামী, আনেক সময় আগ্রাসী। ফল সরুপ তাদের মতাদর্শ সহজে সমাজের কাছে পৌছায় না এবং গ্রহনযোগ্যও হয়না। আন্ডারগ্রাউন্ডবাদীরা সংগ্রামে আস্থা রাখে। যদিও অর্ন্তমূখীতার কারনে তাদের সংগ্রাম দানা বেধে উঠতে সময় নেয়। ফলে তাদের মতাদর্শ সাধারনের গ্রহণযোগ্য হতে আনেক সময় নেয়।
পৃথিবী ব্যাপী আন্ডারগ্রাউন্ড মুভমেন্ট জোয়ার প্রথম প্রতিয়মান হয় ১৯৬০-এর দশকে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপিও দেশ গুলোতে। পরে তা জাপান ও অন্যান্ন দেশ গুলতে ছড়িয়ে পড়ে। তখন একে কাউন্টারকালচারাল মুভমেন্ট আখ্যা দেয়া হয়। অনেকে একে অল্টারনেটিভ কালচার বলে থাকেন। এই মুভমেন্টে সংস্কৃতির সকল শাখায় আন্ডারগ্রাউন্ড মতাদর্শ প্রতিফলিত হয়।
ফিল্ম, মিউজিক, প্রেস, কমিক্স ইত্যাদী ক্ষেত্র আন্ডারগ্রাউন্ড মতাদর্শের প্রভাব দেখা যায় এবং এই ক্ষেত্র সমুহ আন্ডারগ্রাউন্ড মতাদর্শের প্রতক্ষ ও পরোক্ষ প্রচারক হিসেবে কাজ করে।
যে কোন সংগ্রাম লম্বা সময় জীইয়ে রাখা খুব কঠিন। যেহেতু আন্ডারগ্রাউন্ড মতাদর্শবাদীরা প্রচার বিমুখ তাই ‘৭০ দশকের শেষের দিকে তা ঝিমিয়ে পড়ে। তবে আন্ডারগ্রাউন্ডবাদীরা মেইনস্ট্রিমবাদীদের মতই চিরন্তন। যুগে যুগে এরা নিরবে নিভৃতে তাদের সংগ্রাম চালিয়ে যায়।
কিন্তু বর্তমানে আন্ডারগ্রাউন্ড শব্দটি অতীব্যবহৃত হয়ে চলেছে। মূলত আন্ডারগ্রাউন্ড শব্দটির শাব্দিক অর্থেই আজকাল বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। যে সকল সংস্কৃতিমনা ব্যাক্তি বা দল নিজেদেরকে আন্ডারগ্রাউন্ড হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন তাদের বড় অংশই মনে করেন যে তারা যেহেতু লাইম-লাইটে নেই তাই তারা আন্ডারগ্রাউন্ড। কিন্তু সংগ্রাম, মতাদর্শের বিষয়টি তাদের কাছে পরিষ্কার নয়। অনেকের কাছে তা নেইও। বিশেষ করে তরুণ সমাজ খুব বেশি আন্ডারগ্রাউন্ড শব্দটি ব্যাবহার করলেও তারা এর মূল ভাব সম্পর্কে সতর্ক নয়। তাই তারা অবলীলায় পরিচয় দেয় আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যান্ড, আন্ডারগ্রাউন্ড লেখক, আন্ডারগ্রাউন্ড কবি, আন্ডারগ্রাউন্ড গায়ক ইত্যাদী। কিন্তু তাদের মধ্যে কোন বিশেষ চেতনা- মতাদর্শ নেই, তাই কোন সংগ্রামও নেই। তাই তাদের সম্ভাবনা বিপথে পরিচালিত হয়ে অসময়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে। সমাজ ব্যাবস্থা পাচ্ছেনা নতুন কোন কনসেপ্ট।
বোধ করি অন্য আনন এ বিষয়ে আরো আলোকপাত করবে।
সমালোচনা চিন্তা বিকাশে সহায়তা করে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

