কর্মসুত্রে চাঁটগাঁ অবস্থান করছি আজ প্রায় দুই বছর। অফিস-ঘর করেই কাটে সপ্তাহের পাঁচটা দিন। সপ্তাহান্তে ঢাকা আর শুরুতে চাঁটগাঁ…এই চলছে গত দুই বছর। সমবয়সি- সমমনা কয়েকজন আছি একটা বাসা ভাড়া করে। দিন শেষে ঘরে ফিরে ঢাকা ফিরার হা-পিত্যেস করেই প্রতিদিন জোয়ান রাত টা পার করে দেই সবাই। যা হোক, থাকি এম, এম, আলী রো্ডে। চট্টগ্রাম শিল্পকলা এই রোডেই। শিল্পকলার বিপরীতে ‘টি,এম,টি’ বলে একটা রেস্তোরাঁ আছে। সাধারন থেকে বড়ো ঘরের ছেলে মেয়ে রা এখানে খেতে আসে। নতুন আমদানীকৃত গাড়ী তে সড়ক ভরে যায়। ছেলেরা ফুটপাতে বসে-দাঁড়িয়ে চা-সিগারেট খায় আর আড্ডা মারে। বন্দরনগরী হলেও চট্টগ্রাম শহরটা বেশ কঞ্জারভেটিভ।
কিছুদিন আগে অফিস থেকে বাড়ি ফিরার পথে শিল্পকলার চত্বরে আলোর বন্যা দেখে একটা প্লাস্টিকের গ্লাসে চা নিয়ে খেতে খেতে ঢুকে পড়লাম ভিতরে। “থিয়েটার ওয়ার্কশপ চট্টগ্রাম” নাম্মী এক সাংস্কৃতিক সংগঠনের রজত জয়ন্তী উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপি অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিলো শিল্পকলাতে। মুক্তমঞ্চে চলছে শিশুদের সাংস্কৃতিক আয়োজন...আর তা শেষ হলে অডিটোরিয়ামে চলছে মঞ্চনাটক। মঞ্চনাটকে আগ্রহ আছে বলে খোঁজ নিতে জানলাম ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের খোয়াই থেকে “কালচারাল ক্যাম্পেন” নামে এক নাট্যদল এসেছে উদ্দোক্তাদের আমন্ত্রনে। সেদিন ছিলো “কোর্ট মার্শাল” এর মঞ্চায়ন। আমি এই নাটকটির বেশ নাম শুনেছি। তাই লোভ সামলাতে না পেরে টিকিট কেটে ঢুকে পড়লাম।
“কোর্ট মার্শাল” নাটক টি মুল বিষয় হল আধুনিক সমাজ ব্যাবস্থায় জ়াতী/শ্রেনীভেদের নগ্ন লালন কে কেন্দ্র করে। সেনাবাহিনীতে এক খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোর্ট মার্শাল বসে। যেখানে এক জোয়ান গার্ড একজন উচ্চপদস্থ অফিসারকে গুলি করে হত্যা করে এবং অপর একজন অফিসার কে আহত করে। জ়োয়ান হত্যার দায় স্বিকার করে কিন্তু কারন বলতে চায় না। আসামী পক্ষের উকিল জ়েরার পর জ়েরা করে বাদী-বিবাদী পক্ষের মুখ থেকে বের করে আনেন সুশিল সমাজের কদর্য রুপ-নিষ্ঠুর সত্য...সমাজ আজো শ্রেনীভেদ লালন করে ঞ্জানে-অঞ্জানে যা সমাজের মাঝে ডেকে আনে অস্থিতীশিলতা।
কালচারাল ক্যাম্পেন এর কলা-কূশলীগন নারী চরীত্র বিহীন নাটকটি মুনষীয়ানার সাথে মঞ্চায়ন করেন। যদিও ভয়েস থ্রয়িং এর বিষয়ে আরো কাজ করার প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয়েছে। আলোর কাজেও উন্নতীর সুযোগ ছিলো বলে মনে হয়েছে। আসামী পক্ষের উকিল চরিত্রে যিনি ছিলেন তিনি বেশ পরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছেন...তিনি সংগঠনটির দলনেতাও বটে।
এদিকে নাটকের লোভ আমায় পেয়ে বসছে। তাই পরের দিন সন্ধায় গন্তব্য আবার শিল্পকলা। আজকের নাটক কালচারাল ক্যাম্পেন এর “সে আর এক লঙমার্চ”। নাট্যকার সুভাষ দাস এবং নির্দেশনা ইন্দুমাধব চক্রবর্তী। এটি ছিলো নাটকটির ৩য় মঞ্চায়ন। বলাযায় আতুড় ঘরেই আছে নাটকটি। চা বাগানে মালিক পক্ষের শোষন-রাজনীতি-শ্রমিক সংগ্রাম-জীবন যুদ্ধ-পরাজয় থেকে জেগে ওঠা আর নতুন দিনের আলো পথে আঁধারে পথ খুঁজে নেয়াই এই নাটকের মূল সুর। চা বাগানে পাহাড়ী-বাঙ্গালী শ্রমিকদের জীবন যুদ্ধ, প্রেম-ভালোবাসা, আশা এই নাটকে সুন্দর ভাবে উঠে এসেছে। কিছু সিম্বোলিক উপস্থাপনা নাটকটিকে উপভোগ্য করে তুলেছে। তবে আগেই বলেছি...এটি আতুড় ঘরের উপস্থাপনা। তাই নির্দেশক নাটক শেষে স্বিকার করে নিলেন যে নাটকটি এখনও গবেষনা পর্যায়ে আছে। তবে বোধকরি কিছু ফাইন টিউন করলে নাটকটির মূল সুর আরো খোলতাই হবে।
“সে আর এক লঙমার্চ” ছিলো আমন্ত্রীতদের শেষ নাটক। নাটক শেষে সকল কলা-কুশলীরা এক হলেন। নাট্যকার-নির্দেশক-দলনেতা সকলে শুভেচ্ছা বক্তব্য দিলেন। শুভেচ্ছা উপহার আদান-প্রদান হল। লেখক বললেন, ‘দেশ ভাগে আমরা বিভক্ত, আমাদের মাঝে আজ কাঁটা তারের বেড়া, কিন্তু হৃদয় কি ভাগ করা যায় কখনো? না, তাই হৃদয়ের টানে ফিরে ফিরে আসব।’
অনুষ্ঠান শেষে বের হয়ে এলাম বাইরে...ঠান্ডা পড়েছে বেশ। কান বন্ধ হয়ে আসছে...রাজনৈতিক নেতাদের মত...
*ভি জি এ ক্যামেরায় তোলা বলে ছবি খুবই নিম্ন মানের
আলোচিত ব্লগ
১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে
আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন
নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন
শৃঙ্খল মুক্তি আমার
শৃঙ্খল মুক্তি আমার

ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন
=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন
রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।