somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিজ্ঞান দর্শন ধর্ম এবং কিছু খোলা প্রশ্ন

০২ রা মে, ২০১১ রাত ২:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

উপক্রমণিকাঃ কবে জন্মেছিলাম মনে নেই । নিজের জন্মের কথা মনে আছে এমন মানুষের সংখ্যা হয়ত শূন্যই হবে । তাই তা নিয়ে দুঃখবোধ নেই । তবে আক্ষেপ আছে । তীব্র কৌতূহল আছে । খুব জানতে ইচ্ছা করে কোথা থেকে, কীভাবে এসে পৌছালাম পৃথিবী নামক এই গ্রহের বুকে । আমরা অনেকেই হয়ত এই প্রশ্নের উত্তর জানি । তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা শুধুই বিশ্বাস ,প্রকৃত জ্ঞান নয় ।অথচ আমরা মহাবিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রানী । তাই মেনে নিতে কষ্ট হয় আমাদের অতীত- বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ এর অজ্ঞানতার কথা । এই পৃথিবী মহাবিশ্বের তুলনায় অনেক ছোট ।প্রায় নেই বললেই চলে । কিন্তু এই পৃথিবীতে যত প্রাণী আছে, যত বিশ্বাস আছে, যত জ্ঞান আছে, যত ধর্ম কিংবা কর্ম আছে তা বিশাল মহাবিশ্বের আর কোথাও আছে বলে আজ অবধি কোন হাদিস পাওয়া যায় নি । তাহলে পৃথিবীকে বিশ্ব ব্রক্ষান্ডের কেন্দ্রবিন্দু বলে ধরে নেওয়া যায় । কিন্তু এই পৃথিবীর যারা কর্ণধার অর্থাৎ মানুষ এর সমস্ত বিশ্বাস, জ্ঞান, সুখ, দুঃখ, ভালবাসা , বিরহ, অভিমান, অহংকার সবকিছুই ভিন্ন ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত । কিন্তু সত্য তো আর একাধিক হতে পারে না । সত্য সর্বদা তার পথেই প্রবাহিত । তাহলে ধারনা করা যায় কিছু মানুষ হয়ত সঠিক পথে চলছে, সত্য দর্শন মেনে নিয়েছে কিংবা দেখা পেয়েছে । কিন্তু অন্যদের বেলায় ধরণী এত বিদ্বেষ ভাব পোষণ করেছে কেন? তারা কি এমন পাপ করেছে যার জন্য তারা প্রকৃতির শুদ্ধতার স্বাদ থেকে বঞ্চিত ।

তবে আমরা জানি না সেই সৌভাগ্যবান মানুষেরা কারা । তাই এটা ভেবে বসে থাকলে তো হবে না যে আমরাই আসল পথে আছি । আমাদের হাতে এমন প্রমাণ কিংবা তথ্য কি আছে যার দ্বারা আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি , আমরাই বুদ্ধিমান অন্য মানুষেরা সব বোকা ।আমি জানি আমরা অনেকেই এরকম ধারনা পোষণ করে বেঁচে আছি ।সেটা হয়ত আজকের জন্য ভাল তবে আগামীর জন্য তা ভাল নাও হতে পারে । আমাদের এই ভিন্নতার বা বৈষম্যের কারন মূলত নির্ভর করে আমাদের বিশ্বাসের ধরনের উপর নির্ভর করে । আমরা আসলে তিনটি ভিন্ন পথে ধাবমান । আর সেগুলো হল –বিজ্ঞান, দর্শন এবং ধর্ম । আমাদের কেউ ধর্মভীরু, কেউ দর্শন বা যুক্তি নির্ভর আবার কেউ বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি ছাড়া কিছুই মানি না । সব ক্ষেত্রেই কিছু না কিছু মিল থাকবে, সত্য থাকবে, স্বাভাবিকতা থাকবে এটাই নিয়ম । কিন্তু তাই বলে সব তো আর সত্য হতে পারে না । কেননা সবইতো মানুষের প্রচেষ্টার ফসল । সেখানে ভুল –ভ্রান্তি হওয়াটাই স্বাভাবিক । আমরা যদি পৃথিবীর সব বর্ণের – গোত্রের – ধর্মের মানুষ যদি নতুন একটা স্বপ্ন দেখি , নতুন ভাবে বেঁচে থাকার চেষ্টা করি , বিজ্ঞান- দর্শন- ধর্মের গণ্ডীর বাইরে চলে আসি , পৃথিবী তন্ন –তন্ন করে সত্যকে খুঁজে এনে মুক্ত মন ( Open Heart) কে গড়ে তুলতে পারি ; তাহলেই দেখতে পারব আমাদের পৃথিবীটা কত সুন্দর, আমাদের জীবনটা কত সুখের ।

ব্লগটির শিরোনাম “বিজ্ঞান দর্শন ধর্ম এবং কিছু খোলা প্রশ্ন” । আশা করি নামে কোন বিভ্রান্তি নেই । তবু বলি, এই ব্লগে আমদের জগত এবং জীবনের নানান রকম জানা-অজানা, রহস্যময় কিংবা অসংজ্ঞায়িত বিষয়কে একই সাথে বিজ্ঞান দর্শন এবং ধর্মের আলোকে আলোচনা করবো । পরবর্তীতে সবদিক বিচার – বিশ্লেষণ করে আমরা প্রকৃত সত্যকে , সঠিক তথ্য কিংবা তত্ত্বকে আবিষ্কার করে গড়ে তুলব আমাদের মুক্ত মন বা Open Heart . আর তাই আমরা সবাই এতে অংশ নিয়ে আমাদের নিজেদেরকে মুক্ত মনের মানুষ করে গড়ে তুলব । এই প্রত্যাশা রেখেই আমরা যাত্রা শুরু করলাম । আগামী পর্ব গুলতে আমরা এক একটা বিষয় নিয়ে বিজ্ঞান দর্শন এবং ধর্মের আলোকে আলোচনা করব । আমরা সবাই যেন আমাদের জানা তথ্য, তত্ত্ব নিয়ে এগিয়ে আসি এবং নিজেদের যুক্তিকে প্রমাণ করার জন্য চেষ্টা করে যাই ।

নমুনা প্রশ্নঃ
১। মানুষের পৃথিবীতে আগমন ঘটেছে কখন?
২। মানুষ স্বপ্ন দেখে কেন?
৩।পৃথিবীর অবস্থান মহাবিশ্বের কোথায়?
৪।পৃথিবির বাইরে কোন প্রাণের অস্তিত্ব আছে কি?
৫। মানুষের জন্ম পূর্ব অবস্থা কেমন ছিল?
৬। মৃত্যুর পর মানুষের কি হবে?
৭। মানুষের সাথে অন্য প্রাণীর পার্থক্য কোথায়?
৮।মহাবিশের আকার- আকৃতি কেমন?
৯। পৃথিবীর বা মহাবিশ্বের জন্ম কেমন করে হল?
১০। ???????

উৎসর্গ ঃ আমার আনুজ কবিরকে । আমার ভাই, বন্ধু , ভাললাগার মানুষ ।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×