somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দ্বীপের নাম পুলাউ বেরাস বাসা

০৫ ই এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ১১:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


যেহেতু আমরা পানিতে ভেজার প্রস্ততি নিয়ে এসেছি তাই তেমন কোন সমস্যা হয়নি । প্রায় বিশ মিনিট তুমুল বৃষ্টি ও বাতাস । আমরা পাহাড়ের কোলে মাঝেমাঝে তবুও বাতাসের ধাক্কা টের পাচ্ছি । বৃষ্টি থামার পর আবার নিচের দিকে চললাম । তারপর জেটি, হালকা বৃষ্টি ছিল । কেউ আর এখন এখানে থাকতে চায়না । গাইড বোট ডেড়ালো জেটিতে । সবাই লংকাউই দ্বীপে ফিরে যেতে চায় কিছুই ভাল লাগছে না । আমি সিদ্ধান্ত নিলাম বের যখন হয়েছি দেখা যাক কতটুকু দেখা যায় ।


এরপর ঈগল ফিডিং দেখতে পালাউ শিংগা বাসাহ দ্বীপের কাছে গেলাম । এখানে হালকা বৃষ্টি ও ঢেউ উপেক্ষা করে অনেকে জেট স্কী করছে । আমরা ছাড়াও আরো পাঁচ ছয়টা বোটে যাত্রী বোঝাই হয়ে ঈগল ফিডিং দেখতে এসেছে । সূর্যালোকিত দিন হলে এই দৃশ্য অপূর্ব । অনেক ঈগল পাখি দ্বীপের বাসা থেকে বেড়িয়ে সাগরে আসে । আবহাওয়া মেঘাচ্ছন্ন হওয়াতে ঈগলের সংখ্যা কম । বোটে মুরগীর মাংশ টুকরা করে রাখা আছে এগুলো ছুড়ে দিলে এবং পানিতে ফেললে ঈগলগুলো ডাইভ দিয়ে মাংশ তুলে নেয় । দুটো দ্বীপ যেহেতু দেখা হয়ে গেল তাই তৃতীয় দ্বীপে যেতে বললাম গাইডকে ।

দ্বীপের নাম পুলাউ বেরাস বাসা । এই দ্বীপের সামনের সাগরের পানি স্বচ্ছ । তলার বালু দেখা যায় । দ্বীপে স্কুবা ডাইডিং এবং প্যারাগ্লাইডিং এর ব্যবস্থা আছে । পর্যটকরা এখানে শ্নোরকলিং করছে । সাঁতার কাটছে । আবহাওয়া ভাল না । বাতাস বেশী, বৃষ্টিও আবার পড়া শুরু করেছে । তবুও সাঁতারুরা সাঁতার কাটছে । দ্বীপের জেটিতে বোট লাগানো যায়নি স্রোত বেশী । পিলারে ধাক্কা খাবার সম্ভাবনা ছিল । তাই দ্বীপের বেলাডুবিতে বোট থামালো।


আমরা পানিতে নেমে হেঁটে দ্বীপে গেলাম । অপূর্ব সুন্দর সাদা বালুর দ্বীপ । না এলে মিস করতাম । দুটো শপ আছে প্যারাগ্লাইডিং এবং স্কুবা ডাইডিং এর । আজ আবহাওয়ার কারণে সব বন্ধ । দ্বীপের নামের একটা বোউ গাছের সাথে লাগানো আছে । বেশ কিছু সুন্দর ছবি তুললাম এই দ্বীপে । এতক্ষণে সবার মুখে একটু হাসি দেখলাম । এখন সবাই বলছে না আসলে মিস করতাম । যাক ফিরব বলে প্রস্তুত হচ্ছি ঠিক তখনই ঝমঝম বৃষ্টি । আবার সেডের নীচে অপেক্ষা বৃষ্টি থামার পর বোটে উঠলাম । গন্তব্য লংকাউই দ্বীপের জেটিতে নেমে সাগরের দৃশ্য অপূর্ব লাগছিল, মনে হচ্ছিল আরো যদি কিছুক্ষণ থাকা যেত সাগরে । যাক এখন এসব ভেবে লাভ নেই । দুপুর দুটোর মত বাজে । জেটিতে সবার ছবি গুলো ম্যালামাইনের প্লেটে প্রিন্ট করে সাজিয়ে রেখেছে । যে ছবি নেব না বলে ভাল করে তুলিনি তাই স্মৃতি হিসেবে রাখার জন্য কিনলাম। ২৫ রিংগিত একটা প্লেট ।

মুসা এগিয়ে এলো । বললাম খাওয়া দাওয়া করব । তার আগে ইদা মনসুরীতে চল । এটা হলো এখানকার সিরামিকস কারখানা । এখানে খুব সুন্দর সিরামিকের জিনিষের পাশাপাশি ক্রোকারিজ পাওয়া যায় । খুব সুন্দর নকশাদার হয় সেগুলো । দামও বেশ সস্তা । ছুটির দিন থাকাতে ফ্যাক্টরী বন্ধ ছিল । আমরা তার পাশের একটা বড় ডিপার্টমেন্টাল ষ্টোরে ঢুকলাম । প্রায় সব জিনিষই এখানে পাওয়া যায় । কাপড় চোপড় ও আছে । দুটো গেঞ্জি কেনা হলো সুভ্যেনিয়র হিসেবে । চকলেটের দাম বেশ কমা এখানে তাই অনেক চকলেট কিনলাম ক্যাডবেরী বার, মাস ও দ্বিবখ¡ষঢ় পানি কিনলাম ছয় লিটার খাওয়ার জন্য । হোটেলের পানি খাওয়া যায় না । বৃষ্টি তখনো থামেনি, প্রায় তিনটা ত্রিশ বাজে, খেতে হবে । পাশেই মালয়ী খাবার হোটেল, সেখানে নাসি আইয়াম অর্ডার দিলাম, ভাত ও মুরগীর মাংশ সাথে সব্জীর অর্ডার ও দিলাম ।

পানি কিনে সুন্দর করে ঝোল, মুরগী, ভাত, প্যাক করে দিল সবার জন্য । একটা ব্যাগে সবগুলো ভরে গাড়ীতে ফিরে এলাম । লংকাউইতে আজ শেষ দিন ও শেষ রাত্রি । বিকেলে কোথাও যেতে পারব কিনা জানিনা । হোটেলে এসে ফ্রেশ হয়ে খেলাম । ভালই লাগল স্থানীয় খাবার । বিকেলে শুয়ে বসে কাটালাম । বৃষ্টি থামেনি আমাদের ও আর বেড়াতে বেড় হওয়া হলো না । মুসাকে পরদিন সকালে আসতে বলে দিলাম ।

সন্ধায় বৃষ্টি থেমে গেল । সবাই হোটেলের আশপাশের এলাকা দেখতে বের হলাম । হোটেলের পাশেই একটু এগিয়ে গেলে ছোট্র দোকান । এখানে ড্রিংকস, বিস্কিট, সাবান ও অন্যান্য ছোট খাট জিনিষ পাওয়া যায় । বাচ্চাদের জন্য ড্রিংকস ও জুস নিলাম দাম বেশ রিজনেবল । একটা মহিলা দোকান চালায়, তার ছোট্র মেয়ে তারই সাথে দোকানে থাকে ।

দোকানের পাশে একটা খাবারের রেষ্টুরেন্ট দেখে পরিচ্ছন্ন লাগেনি, এখানে বার্গার, চা, ভাত সবই আছে কিন্তু খেতে ইচ্ছে করেনি । কিছুক্ষণ ঘোরাফেরা করে হোটেলে ফিরে এলাম ।

ডিনার হোটেলেই করলাম । আজ ফিস এন্ড চিপস নেই তাই চিকেন, রাইস, ব্রেড, ডিম অমলেট ইত্যাদি দিয়ে হেভি ডিনার হলো । রাতে জিনিষপত্র গোছানো এবং পরদিনের ফেরার প্রস্তুতি শেষ করে ঘুম দিলাম ।
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হযরত আলী (রা.) ও হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) যুদ্ধের দায় হযরত আলীর (রা.) হলে আমরা হযরত মুয়াবিয়াকে (রা.) কেন দোষ দেব?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৪৪



সূরাঃ ৯ তাওবা, ৬০ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬০। সদকা বা যাকাত ফকির, মিসকিন, এর কর্মচারী, মোয়াল্লাফাতে কুলুব (অন্তর আকৃষ্ট),দাসমুক্তি, ঋণ পরিশোধ, আল্লাহর পথে ও মুসাফিরের জন্য। এটা আল্লাহর বিধান।... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমাকে ভালোবাসি I love you

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৩:০২

তোমাকে ভালোবাসি বাতাসের মতো,
যেমন শিশুর কাছে বালি একটা খেলনা,
অথবা ঝড়ের মতো, যাকে কেউ বোঝে না।

I love you like the wind,
Playing like a child in the sands,
Or a storm that no... ...বাকিটুকু পড়ুন

গর্ব (অণু গল্প)

লিখেছেন আবু সিদ, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৪০

একটা সরকারি প্রাইমারি স্কুল। ক্লাস শুরু হয়েছে বেশ আগে। স্কুলের মাঠে জন মানুষ নেই। কয়েকটা গাছ, দু'একটা পাখি আর চিরসবুজ ঘাস তাদের নিজের মতো আছে। একান্ত চুপচাপ একজন মানুষ শিক্ষক-রুমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায় নেওয়ার কেউ নেই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫


বাংলাদেশের ব্যাংকিং সংকট নিয়ে যত আলোচনা হচ্ছে, যত টকশো হচ্ছে, যত বিশেষজ্ঞ মতামত দিচ্ছেন, তার কিছুই ব্যাংকের সামনে লাইনে দাঁড়ানো মানুষটার কাজে লাগছে না। তিনি জানতে চান একটাই কথা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্য ধর্মের মানুষদের মাঝেও 'উত্তম মানুষ' আছেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৪৭



পবিত্র কোরআনে অসম্ভব সুন্দর একটি আয়াত আছে। মহামহিম খোদাতায়ালা পুরো বিশ্বের মানুষদের দিকে একটি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে পবিত্র কোরআনে জিজ্ঞাসা করেছেন - "আর ঐ ব্যক্তি থেকে কে বেশি উত্তম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×