somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সালোয়ারের সাগুদানা থেরাপি আর খানিক ভ্রম কাহিনী ( সূফীর বিতলামি রম্য )

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ডিসক্লেইমার :এই গল্পের সাথে ব্লগার সারওয়ার চৌধুরীর লেখার কোন মিল কেউ পাইলে সেটা কাকতাল । এজন্য লেখক দায়ী নহে । এটা একটা মৌলিক রচনা । অনেক মন্তব্যের সাথে মিলে যাওয়া নিছক দৈব দুর্বিপাক ।বিশ্বাস না হইলে পাঠকবৃন্দ সারওয়ার চৌধুরীর এই লেখাটি পড়ে দেখতে পারেন :
Click This Link

----------------------------

এক .
ওয়ান্স আপ অন এ টাইম , এক বিরাট বিজ্ঞানী কাম দার্শনিক ছিল । উহার নাম সালোয়ার । তার সব লেখা শুধু ওয়েস্টার্ন বিজ্ঞান সাময়িকীতে ছাপা হইতো ।

উনি ক্রমাগত আরবী বলতে পারতো , আরবী বলতে বলতে হয়রান হইয়া গেলে উনি বৃটিশ একসেন্টে ইংরেজী বলতো ।
তো এতো ভাষার মাঝে প্যাচগুচ খাইয়া প্রায়ই উনি কি বলতে কী বলতো , তার ঠিক থাকতো না । এতে অবশ্য উনারে দোষ দেয়া যায় না , মাত্র ২৩ বছর বয়েসে তিনি ধোপাদিঘীর
পারে দাড়াইয়া যে পত্রিকা সম্পাদনা করছিলেন ,তখনই তার ভাষাজ্ঞানের ব্যাপক ক্ষতি হইছিলো ।
ক্ষতি হইলো তো এমন হইলো , সালোয়ার ভাই ক্রমাগত উল্টপাল্টা কথা বইলা লোক হাসাইতে লাগলো । উনি যতোই নিজেরে জ্ঞানী হিসাবে পরিচয় দিতে চায় ,লোকজন ততোই হাইসা গড়ায়া পড়ে । উনি মাত্র ১৫ বছর বয়েসেই কবি নজরুলরে স্বপ্নে দেখছিলেন ।

যাহা হউক , উনার আসল ঘটনায় আসি ।
উনার উল্টপাল্টা আচরন দেইখা লোকজন তাকে বিশিষ্ঠ মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানী ডাক্তার আঈজুদ্দিনের কাছে নিয়া গেল ।

আঈজুদ্দিন তারে খুব পরীক্ষা টরীক্ষা কইরা দেখলেন । তারপর ব্যবস্থাপত্র লিখলেন , যে রোগী মোটামুটি ঠিক আছে । তবে বেশি বেশি জ্ঞানের কথা পইড়া মাথা গেছে আউলাইয়া । তাই তার কমপ্লিট বিশ্রাম দরকার । আর হালকা খাবার খাওয়া উচিত । গুরুপাক নিদ্রার ব্যাঘাত ঘটায় ।

লোকজন জিগাইল , ডাক্তার সাহেব ,লগুপাক পথ্য কী হইতে পারে ?
ডাক্তার জবাব দিলেন , এই যেমন সাগু দানা । একটা উত্তম পথ্য । রোগীকে বেশি করিয়া খাওয়াইবেন ।
রোগী ভালো হইয়াছে কি না কিভাবে বুঝবো ?
যখন উনি জ্ঞানের কথা কম বলবেন । এক কাজ করেন , উনারে বলবেন , উনি একমাস পরে কেমন বোধ করছে , সেটা নিয়ে একটা লেখা নিয়ে আসতে । এতে করে তার লেখালেখির সাধটাও জারি থাকবে , আর হালকা লেখালেখি করে তার মনটাও হালকা থাকবে ।


এই ঘটনার পরে কয়েকমাস গতো হইয়াছে ।
এক সন্ধ্যায় আঈজুদ্দিন তার চেম্বারে বইসা রুগি দেখিতেছেন ।
হঠাৎ করিয়া একটা বোটকা গন্ধ তার নাকে আইলো ।
চাইয়া দেখেন বিজ্ঞানী সালোয়ারকে ধইরা বাইন্ধা নিয়া আইসাছে কয়েকজন লোক ।


তারা আইসাই খেইপা গেল ডাক্তারের উপ্রে । ডাক্তার সাহেব , আপনার এতো সুনাম শুনলাম , কিন্তু আমাদের রোগী তো ভালো হইলো না ।

শুইনা ডাক্তার কিঞ্চিত ভুরু কুচকাইয়া নড়েচড়ে বসিলেন । তার রুগী ভালো না হইয়া যায় না । এর কী সমস্যা ।
উনি সালোয়াররে লগে কথা শুরু করিলেন ।

: কেমন আচুইন ?
: ভালো আচি । আমি ক্রমাগত পরিশীল ও পরিবর্তন বিবর্তনে পথ চলি। ৬ মাস আগের আমি আর এখনকার ব্লগার আমিতে তফাত আছে ।

:কেমন তফাত ?
: আকলমন্দ কে লিয়ে ইশারা কাফি । আমি তো আপনার মতো কারো নাম বিকৃত করে বা নামোল্লেখ করে গুতা মারি না।


: বালাই ষাট । গুতা মারার কথা বলছেন কেন ? আপনি কি ছাগল নাকি যে গুতা মারবেন !

সালোয়ার ভাই কিছু না বইলা চুপ কইরা বইসা থাকেন ।
ডাক্তার চিন্তায় পড়েন , সমস্যাটা কী ধরা যাইতেছে না । এই লোক গুতাগুতির কথা কইতেছে কেন ?

ডাক্তার পুনরায় জিজ্ঞাসিলেন ,
: আপনারে কইছিলাম আপনার অবস্থা নিয়ে একটা লেখা লেখতে , লেখচেন নি ?
: লিখচি । এই নেন ।

ডাক্তার হাত বাড়াইয়া কাগজ নেন । কাগজে আকিবুজি , দলামচা করা নোংরা কাগজ । অনেক কষ্টে পাঠোদ্ধার কইরা ডাক্তার চিক্কুর দিয়া উঠেন ,

:ওয়াক থু ! এইটা কি লিখছেন ।
: সালোয়ার চৌধুরীও যে রম্য করিতে চাহিলে পারিবেন ইহা তাহাই ।

: কিন্তু আপনি আর ভালো রম্য খুজে পাননি মিয়া ? বললাম , আপনার দৈনন্দিন জীবন নিয়া লিখতে ।
: তাইতো লিখছি । লাদি খাইতেছি , লাদি নিয়া লিখবো । গোবর নিয়া লিখলে তো কইবেন মিছা কথা লিখছি ।



ডাক্তারের চোখ কপালে উঠে যায় । অবাক হইয়া জানতে চান ,
: লাদি খাইতেছেন ? বলেন কী ? কেন ?
: আপনিই তো কইছেন ?

: আমি লাদি খাইতে কইছি ? কখন ?
: কইলেন না , লঘুপাচ্য ছাগুদানা খাইতে ? তাই খাইয়াই তো সেইটা নিয়া লিখছি ।

ডাক্তার আঈজুদ্দিন হাসবেন না কাদবেন বুঝতে পারেন না । এতো থেরাপির পরও রোগী ভালো হয় না কেন উনি বুঝতে পেরেছেন । উনি বলছিলেন সাগুদানা, আর এরা রোগীরে খাওয়াইতেছে ছাগুদানা!

ছাগল আর কারে বলে !
২০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×