ডিসক্লেইমার :এই গল্পের সাথে ব্লগার সারওয়ার চৌধুরীর লেখার কোন মিল কেউ পাইলে সেটা কাকতাল । এজন্য লেখক দায়ী নহে । এটা একটা মৌলিক রচনা । অনেক মন্তব্যের সাথে মিলে যাওয়া নিছক দৈব দুর্বিপাক ।বিশ্বাস না হইলে পাঠকবৃন্দ সারওয়ার চৌধুরীর এই লেখাটি পড়ে দেখতে পারেন :
Click This Link
----------------------------
এক .
ওয়ান্স আপ অন এ টাইম , এক বিরাট বিজ্ঞানী কাম দার্শনিক ছিল । উহার নাম সালোয়ার । তার সব লেখা শুধু ওয়েস্টার্ন বিজ্ঞান সাময়িকীতে ছাপা হইতো ।
উনি ক্রমাগত আরবী বলতে পারতো , আরবী বলতে বলতে হয়রান হইয়া গেলে উনি বৃটিশ একসেন্টে ইংরেজী বলতো ।
তো এতো ভাষার মাঝে প্যাচগুচ খাইয়া প্রায়ই উনি কি বলতে কী বলতো , তার ঠিক থাকতো না । এতে অবশ্য উনারে দোষ দেয়া যায় না , মাত্র ২৩ বছর বয়েসে তিনি ধোপাদিঘীর
পারে দাড়াইয়া যে পত্রিকা সম্পাদনা করছিলেন ,তখনই তার ভাষাজ্ঞানের ব্যাপক ক্ষতি হইছিলো ।
ক্ষতি হইলো তো এমন হইলো , সালোয়ার ভাই ক্রমাগত উল্টপাল্টা কথা বইলা লোক হাসাইতে লাগলো । উনি যতোই নিজেরে জ্ঞানী হিসাবে পরিচয় দিতে চায় ,লোকজন ততোই হাইসা গড়ায়া পড়ে । উনি মাত্র ১৫ বছর বয়েসেই কবি নজরুলরে স্বপ্নে দেখছিলেন ।
যাহা হউক , উনার আসল ঘটনায় আসি ।
উনার উল্টপাল্টা আচরন দেইখা লোকজন তাকে বিশিষ্ঠ মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানী ডাক্তার আঈজুদ্দিনের কাছে নিয়া গেল ।
আঈজুদ্দিন তারে খুব পরীক্ষা টরীক্ষা কইরা দেখলেন । তারপর ব্যবস্থাপত্র লিখলেন , যে রোগী মোটামুটি ঠিক আছে । তবে বেশি বেশি জ্ঞানের কথা পইড়া মাথা গেছে আউলাইয়া । তাই তার কমপ্লিট বিশ্রাম দরকার । আর হালকা খাবার খাওয়া উচিত । গুরুপাক নিদ্রার ব্যাঘাত ঘটায় ।
লোকজন জিগাইল , ডাক্তার সাহেব ,লগুপাক পথ্য কী হইতে পারে ?
ডাক্তার জবাব দিলেন , এই যেমন সাগু দানা । একটা উত্তম পথ্য । রোগীকে বেশি করিয়া খাওয়াইবেন ।
রোগী ভালো হইয়াছে কি না কিভাবে বুঝবো ?
যখন উনি জ্ঞানের কথা কম বলবেন । এক কাজ করেন , উনারে বলবেন , উনি একমাস পরে কেমন বোধ করছে , সেটা নিয়ে একটা লেখা নিয়ে আসতে । এতে করে তার লেখালেখির সাধটাও জারি থাকবে , আর হালকা লেখালেখি করে তার মনটাও হালকা থাকবে ।
এই ঘটনার পরে কয়েকমাস গতো হইয়াছে ।
এক সন্ধ্যায় আঈজুদ্দিন তার চেম্বারে বইসা রুগি দেখিতেছেন ।
হঠাৎ করিয়া একটা বোটকা গন্ধ তার নাকে আইলো ।
চাইয়া দেখেন বিজ্ঞানী সালোয়ারকে ধইরা বাইন্ধা নিয়া আইসাছে কয়েকজন লোক ।
তারা আইসাই খেইপা গেল ডাক্তারের উপ্রে । ডাক্তার সাহেব , আপনার এতো সুনাম শুনলাম , কিন্তু আমাদের রোগী তো ভালো হইলো না ।
শুইনা ডাক্তার কিঞ্চিত ভুরু কুচকাইয়া নড়েচড়ে বসিলেন । তার রুগী ভালো না হইয়া যায় না । এর কী সমস্যা ।
উনি সালোয়াররে লগে কথা শুরু করিলেন ।
: কেমন আচুইন ?
: ভালো আচি । আমি ক্রমাগত পরিশীল ও পরিবর্তন বিবর্তনে পথ চলি। ৬ মাস আগের আমি আর এখনকার ব্লগার আমিতে তফাত আছে ।
:কেমন তফাত ?
: আকলমন্দ কে লিয়ে ইশারা কাফি । আমি তো আপনার মতো কারো নাম বিকৃত করে বা নামোল্লেখ করে গুতা মারি না।
: বালাই ষাট । গুতা মারার কথা বলছেন কেন ? আপনি কি ছাগল নাকি যে গুতা মারবেন !
সালোয়ার ভাই কিছু না বইলা চুপ কইরা বইসা থাকেন ।
ডাক্তার চিন্তায় পড়েন , সমস্যাটা কী ধরা যাইতেছে না । এই লোক গুতাগুতির কথা কইতেছে কেন ?
ডাক্তার পুনরায় জিজ্ঞাসিলেন ,
: আপনারে কইছিলাম আপনার অবস্থা নিয়ে একটা লেখা লেখতে , লেখচেন নি ?
: লিখচি । এই নেন ।
ডাক্তার হাত বাড়াইয়া কাগজ নেন । কাগজে আকিবুজি , দলামচা করা নোংরা কাগজ । অনেক কষ্টে পাঠোদ্ধার কইরা ডাক্তার চিক্কুর দিয়া উঠেন ,
:ওয়াক থু ! এইটা কি লিখছেন ।
: সালোয়ার চৌধুরীও যে রম্য করিতে চাহিলে পারিবেন ইহা তাহাই ।
: কিন্তু আপনি আর ভালো রম্য খুজে পাননি মিয়া ? বললাম , আপনার দৈনন্দিন জীবন নিয়া লিখতে ।
: তাইতো লিখছি । লাদি খাইতেছি , লাদি নিয়া লিখবো । গোবর নিয়া লিখলে তো কইবেন মিছা কথা লিখছি ।
ডাক্তারের চোখ কপালে উঠে যায় । অবাক হইয়া জানতে চান ,
: লাদি খাইতেছেন ? বলেন কী ? কেন ?
: আপনিই তো কইছেন ?
: আমি লাদি খাইতে কইছি ? কখন ?
: কইলেন না , লঘুপাচ্য ছাগুদানা খাইতে ? তাই খাইয়াই তো সেইটা নিয়া লিখছি ।
ডাক্তার আঈজুদ্দিন হাসবেন না কাদবেন বুঝতে পারেন না । এতো থেরাপির পরও রোগী ভালো হয় না কেন উনি বুঝতে পেরেছেন । উনি বলছিলেন সাগুদানা, আর এরা রোগীরে খাওয়াইতেছে ছাগুদানা!
ছাগল আর কারে বলে !

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


