খোয়াজ খিজিরকে খুব বেশি পাওয়া যায় সেলিম আল-দীনে। তার হাতহদাই খোয়াজ খিজির নবীর ভক্ত মানুষদের জীবন-নবীর সাথে তাদের দ্বন্দ এক মহা আখ্যান তৈরি করেছে। নিমজ্জনেও খোয়াজ খিজিরকে পাই। কিন্তু এই লিখায় খোয়াজ খিজিরকে উদ্ধার বা তার সম্পর্কিত আলোচনার কোন প্রয়াস নেই। বরঞ্চ একটি আলাচনার ক্ষীণ ধারায় প্রবাহিত বিষয়গুলোর একটি খোয়াজ খিজির কিংবা বলা যায় বিষয়ের অংশ। বিষয়টি হচ্ছে রাজনীতি এবং ধর্ম। রাজনীতিতে এখানে বামের কথাই বলা হয়েছে আর খোয়াজ খিজির এসেছেন রাজনীতিতে ধর্মের অবস্থান সম্পর্কিত আলোচনায়। নিমজ্জনে আছে-
খোয়াজ খিজিরের গান
হঠাৎ সে খোল করতাল বাঁশির শব্দ এবং গায়কের গান শোনে*
: কী ব্যপার।
: খোয়াজ খিজিরের গান।
: গান কেন।
তাতে সে ব্যক্তি গান শুরু করে*
পানির ভেতরে যার আত্মা
মন্দভালোর খবর জানেন তিনি।
আবে হায়াতের ভান্ড যার দন্তমুবারক
এ শহরের মুখে কয় ফোঁটা অমৃত দিবেন তিনি।
হায় খোদা নদীর ভিতর দূষিত জলে
জল নবীর গায়ে ঘা হল কি না।
তাতে তিনি জলের অজগর নিয়ে উঠবেন
তাতে তিনি ঝড় বইয়ে দেবেন।
এ শহরের হৃৎপিন্ডটা তারই হাতের মুঠায়*
খুনাখুনি বন্ধ করো খোয়াজ খিজির।
আগন্তুক ভাবে* কীসের খুনাখুনির কথা বলছে এই বৃদ্ধ লোকটা।
তার বন্ধু চিঠিতে এসব কিছু তো লেখে নাই।
এক যুদ্ধমৃত্যুরক্তের শহরে দাঁড়িয়ে জলজীবি এই মানুষগুলোর যে আহ্বান তাদের বিশ্বাসের প্রতি তাতে কি ক্রোধ নেই-বিদ্রোহ নেই। এই গানটিতে কি প্রতিবাদের স্ফুলিঙ্গ ঝলসে ওঠে না। ফুটে ওঠেনা মানুষের বেঁচে থাকার আকুতি। এবং তা মানবিক ভাবেই ফুটে ওঠে-করতাল আর খোলে-বাঁশির সুর আর গলার গানে। এই গানের সুরে সঙ্গীতে যে ক্ষোভ বিক্ষোভ প্রজন্মে জমা হয় তাতো মহা বিস্ফোরণেরই অপেক্ষায় থাকে। এই খোয়াজ খিজির যে তাদের বসত ভিটার বাতি ঘর। চরাচরের নেমে আসা অন্ধকারে প্রজ্জ্বলিত সন্ধ্যাতারা খোয়াজ খিজিরইতো ফুটিয়ে তুলেছেন চিত্রল রাতের আকাশে তাদের জন্য। তাদের বাড়ি ফেরার পথ দেখিয়ে দিতে। নোনা জল আর মিঠা জলের সোঁতে জমা আছে কত কাহিনী আর তার নীচে পাখনা দিয়ে কানকোয় পানি কেটে সাঁতার কাটে যে প্রাণীকুল খোয়াজ খিজিরের মন্ত্রণা না থাকলেতো তাদের জালে বন্দী করা যাবে না। কখনো হঠাৎ হিংস্র হয়ে আসা জলরাশির মুখে যে ক্রোধের ফেনা বলকে ওঠে আর তার ক্রোধের আগুণে বাতাস ছুটে যায় যখন মহাকালের হাহাকার নিয়ে তখন কে তাদের রক্ষা করে ওই খোয়াজ খিজির নবীই তো।
যাদের সাথে আলোচনা হচ্ছিল-ভেবে দেখুন এই বিশ্বাস ওদের শক্তি-ওদের প্রকৃতিকে বসে আনার কৌশল মাত্র-ওদের অবলম্বন। এই অবলম্বন গড়ে উঠেছে হাজার বছরে। আজ খোয়াজ খিজিরকে খুঁজে পাওয়া যাবে না-কারণ মৌলবাদ পুঁজিবাদ ওই ঝড়ের চাইতেও সর্বগ্রাসী। যাদের বসত ভিটা নেই-সম্পদ নেই-ওই জলে ভাসা মাছ আর জালে জীবন বাঁধা তাদের একমাত্র অবলম্বনইতো বিশ্বাস। তা নিশ্চিহ্ন করতে হলে চালাতে হবে আগ্রাসন। এটাই স্বাভাবিক। সেই বিশ্বাসের জায়গা পরিবর্তন করে সেখানে মার্ক্সবাদ প্রতিষ্ঠা করবেন। অসম্ভব। পঞ্চাশ বছরেও পারবেন না এদেশের জেলেদের মার্ক্সবাদ বোঝাতে। আর যদি সে চেষ্টা করেন তবে তা হবে ইতিহাসকে কবর দেয়ার আয়োজন।
তাদের জীবন যাপনই আলাদা-চিন্তা বিশ্বাস-উৎসব। কোন মিল নেই শহুরে জীবনের সাথে। তাদের রাজনীতি বোঝানোর কিছু নেই-তারা রাজনীতির সবচেয়ে বড় শিকার-তাকে বোঝাতে হবে আন্দোলনের কথা-সেখানেই সে রাজনীতি শিখবে। কিন্তু তাদের বিশ্বাসকে দূরে রেখে আন্দোলন করতে চান-তবে সেটি হবে একটি সংস্কৃতির মৃত্যু।
রাজনীতিতে ধর্মের অবস্থান সম্পর্কে একটি ভালো উদাহরণ হতে পারে সাম্প্রতিক সময়ের ফুলবাড়ি আন্দোলন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



