সামহোয়ারইন ব্লগকে নিয়ে ভাবনা এখনো কোন অবয়ব পায়নি। নিজের মতো করে একে সংজ্ঞায়িত কারাটা দুষ্কর। এটাই স্বাভাবিক-সমাজ ব্যবস্থাকেতো আর একটা ব্লগ রাতরাতি অস্বীকার করতে পারে না-উদ্দেশ্য হিসেবেও তা স্বীকার করার বাধ্যতা নেই কোন ব্লগের। আমরা কোথাও লিখার সুযেগ পাই, এমন মধ্যবিত্তীয় প্রাপ্তি এবং আনন্দ পাওয়ার জায়গা ব্লগ বা ব্লগ হতাশ করছে, লেখালেখি-রাজনীতি-সাহিত্য নিয়েও কিছু মানুষ হতাশ হচ্ছে এটাকে প্রাপ্তি বলাই যায়।
কিন্তু ব্লগ যেমনভাবে স্বাধীনতার বিরোধীদের বিচারের প্রশ্নে কোন রাখঢাক রাখে না অন্তত তার চেহারায়। তেমনি ব্লগের কাছে এটাই প্রত্যাশা, আমাদের দেশে শিক্ষা-সংস্কৃতি-সাহিত্য-নারী-আদিবাসী ইস্যুগুলোতেও ব্লগ আপোষহীন থাকবে। এসবের নামে কোন প্রকার বাণিজ্য বা নিছক অনুষ্ঠান পালনের বিষয়গুলোর বিরোধীতা না হোক উপেক্ষা করবে। এইটুকু না করলে ব্লগ মানে তবে অন্যকিছু।
সম্প্রতি "এই পথ আমাদেরও" পদ যাত্রায় যোগদানের আহবান নামক পোষ্টিটিকে স্টিকি করা হয়েছে। বিষয় নারী। লিখাটির প্রথমেই বলা হয়েছে-রাজপথে নারীদের হয়রানির কথা আমরা সবাই জানি।হ্যাঁ জনি-কিন্তু কারণ কি। পোষ্টে কোন ব্যাখ্যা নেই। কারণ পোষ্টটি একটি পদযাত্রায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে প্রচারিত। যে রাজ পথে নারী ইভটিজিং এর শিকার হয়-সেই রাজপথে একদল নারী পুরুষ পায়ে হাঁটবে। ইভটিজিঙের প্রতিবাদ এটা। এরপর কি-সঙ্গীতানুষ্ঠান। সন্ধা ৭ ঘটিকায় রবীন্দ্র সরোবরে সকলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে গানের আসর। সঙ্গীত পরিবেশনা করবেন: আনুশেহ ও কৃষ্ণকলি। কিন্তু তারপর। তারর কিছুই না। তারপর রাত নেমে আসবে এবং সবাই বাসায় ফিরে যাবে। সূর্য উঠবে, তারিখ হবে-১২ এপ্রিল ২০০৯।
এ ছাড়া কর্মজীবী নারীদের বাসে উঠার সময় ও বাসের
ভীড়ে দাড়ানো অবস্থায় অনাকাংখিত শারীরিক হয়রানীর সম্মুখীন হতে হয়। দীর্ঘ দিন ধরে চলমান এ অবস্থার অবসান হওয়া উচিত। এ দাবী কে সামনে সামনে রেখে মানবাধিকার সংগঠন দৃষ্টিপাত এর উদ্যোগে রাজপথে নারীর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা প্রতিরোধে এবং মানুষ হিসেবে নিরাপদে রাজপথে চলার অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আগামী ১১ এপ্রিল ২০০৯ শনিবার বিকেল ৪ ঘটিকায় জাতীয় যাদুঘরের সামনে থেকে রবীন্দ্র সরোবর পর্যন্ত এই পথ আমাদেরও শীর্ষক পদ যাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এই হচ্ছে পোষ্টের মুল বক্তব্য। দৃষ্টিপাত বিষয়ে আমার কখনোই দৃষ্টি দেয়া হয়নি। তবে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞাপনের বা পোষ্টারের নীচের দিকে যাদের নাম আছে-তাদের কিছুটা চিনি। এরা সবাই মিলে নারীর যে রাজপথ তৈরি করতে চায়-সেই রাজপথ কেমন হবে-পোষ্টের লেখক কি মনে করেন-কি মনে করেন যারা পোষ্টটিকে স্টিকি করেছেন তারা। এটা প্রচন্ড বেদনার-কিছু মানুষের কাছে নারী কেবলই অবলা-তাদের কোন বোধ নেই। কিছু মানুষ, প্রতিষ্ঠানই কেবল মনে করে তাদের অবহেলার কথা আর একদিনের পদযাত্রায় তারা নারী মুক্তির কান্ডারি হয়ে যান।
নারীকে উপস্থাপনের ঢংটা খেয়াল করুন-
১-নারীকে উপস্থাপনের ঢংটা খেয়াল করুন-ইভ টিজিং এর কারনেই অকালে বন্ধ হয়ে গিয়েছে অনেক মেধাবী মেয়ের পড়াশোনা
২-ব্যস্ততম শপিং মলগুলোতে বিশেষ করে ঈদ, পুজো সহ বিভিন্ন উৎসবের কেনাকাটার ভীড়ে নারীদের গাঁয়ে হাত দেওয়া,
৩-রাজপথে বসবাস করা ছিন্নমুল মানুষদের মধ্যে নারীরাই বিভিন্ন সহিংসতার শিকার হয়ে থাকেন।
প্রথম পরিচয় নারী পড়াশোনা করে-এবং দেখুন, মেধাবী বিশেষণ উল্লেখের মানসিকতা কোন সংস্কৃতিকে নির্দেশ করে। হ্যাঁ, আমরা জানি ইভটিজিং এর কারণে অনেকেই পড়া শেষ করতে পারেনি। কিন্তু এও জানি সেই নারীর নিজস্ব প্রতিরোধের সাহস আর স্পৃহাও আছে। তাই জাগিয়ে তুলেন না কেন। যারা আসবে না, যারা জানবে না, কিংবা যারা পড়তেই জানে না-তাদের কি ব্যবস্থা করবেন। নাকি আপনাদের কাজ শুধু এটুকুই। তাও বলুন-পরিষ্কার করুন। একদিনের পদযাত্রাই আমাদের উদ্দেশ্য-আর কিছু না। অথবা আরো পরিকল্পনা আছে তাদের-লেখক হয়তো জানেন। কিন্তু আমাদের ব্লগ কর্তৃপক্ষ, তারাও কি জানেন। নইলে কি আর এটাকে স্টিকি করা হয়।
দ্বিতীয়ত দেখুন, নারী শপিংমলে যায়। খেয়াল করুন বাজার নয়, কাজ করতে নয়-শপিংমলে। ঢাকায় আমার দেখা সমস্ত শপিংমলই রাজপথের পাশে। তা সেই শপিংমলের পাশের রাজপথ যদি নারীর জন্যে উন্মুক্ত না হয় তাহলে শপিংমল চলবে কিভাবে। এখানে শপিংমল শব্দটার ব্যবহার ইচ্ছাকৃত না হলেও তা একটা মানসিকতা-অভ্যস্ততা-সংস্কৃতিকেই হাজির করে। কোন নারীই গ্রামে থাকে না-গরু চরায় না-উত্তাল নদীতে মাছ ধরে না। নারী কেবল বাসে উঠলেই কনুইয়ের গুঁতো খায়।
তৃতীয়ত, রাজপথে বসবাসকারী নারীরা। আমার মনে হয়েছে এটা বলতেই হত। না হলে একপেশে হয়ে যায় সবকিছু। কিন্তু সেই রাজপথ থেকে যে নারীকে তার পিরবারকে পুর্নবাসন প্রয়োজন তা ভুলেও উল্লেখ করলেন না। তারা যেন রাজপথেই শান্তিতে বাস করতে পারেন-তার জন্যে আয়োজন এই পদযাত্রা।
এটা বিষয় নয় যে তারা কি করছেন-তাদের উদ্দেশ্য যাই হোক। আমার আপত্তি নারীকে উপস্থাপনের ঢঙে, বক্তব্যে- এবং এই অনুষ্ঠানের প্রচার কেন ব্লগ করবে, যেখানে তার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। রাজপথে নারীর অধিকার মানে কি। কোন পরিষ্কার বক্তব্য কি পোষ্টটিতে আছে। তাহলে ব্লগ কেন দায়িত্ব নিচ্ছেন ওই অনুষ্ঠানের। লেখক বলছেন-আপনার সক্রিয় অংশগ্রহণ নিরাপদে রাজপথে চলার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে। আসুন আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় রাজপথে নারীর নিরাপদে চলার পথকে সুগম করি। ব্লগ কি সামিল হল সেই কার্যক্রমে-তাহলে আমরা যারা ব্লগে লিখি তাদের মতামত অন্তত এক্ষেত্রে গুরুত্বহীনই মনে হল কর্তৃপক্ষে কাছে। ইভটিজিং মুক্ত নারীর পথ কোথায় গিয়ে মিলবে। কার জন্যে সুগম হবে।
পোষ্টটি প্রথমে পোষ্ট করা হয়েছে ৭ তারিখে তার দুদিন পর ৯ তারিখ এটি স্টিকি করা হয়। পোষ্টিটির মন্তব্য থেকেই তা জানেতে পারি। কাউকেই দেখিনি এটা স্টিকি করার দাবি তুলতে। দাবি তুললেই যে শুনতে হবে এমন সংকীর্ণতা কর্তৃপক্ষের নেই তার নজির অনেক আছে। কিন্তু কেন তারা এটিকে স্টিকি করলেন তা বোঝা গেল না কিছুতেই।
আমি যে বিষয়টি না মানতে পেরে এই লিখাটি তৈরি করেছি, তা হল- কর্তৃপক্ষীয় সিদ্ধান্তে যে অস্বচ্ছতা আছে তার পুঁজি নারী, আমরা পুরুষতান্ত্রিক নই একদিনের জন্যে তা প্রমাণের পুঁজি হচ্ছে নারী। অনেকগুলো বড়ো বড়ো প্রতিষ্ঠান একসাথে হওয়ার উপলক্ষ্য নারী। প্রচন্ড একটা ক্ষোভ কোথায় সম্বরণ করি-আরে, রাষ্ট্রের বিরোধীতা যে কখনোই করেনি, অসংখ্য মৃত্যু যাদের কাছে কেবলই সংবাদ, নারী যাদের একদিনের আয়োজনের খোরাকি, তাদের দায় কেন নিবে আমার খেরোখাতা। ইভটিজিং কি একান্তই বিচ্ছিন্ন একটা বিষয় আমাদের সমাজে।
আমি প্রত্যাখ্যান করলাম-এই পোষ্টের স্টিকি হওয়াকে।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


