somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের ইতিহাস আমাদের আনু মুহাম্মদ।

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অপরূপ শক্তির বলে প্রাণ জেগে ওঠে
ছলকে ছলকে নেচে ওঠে প্রাণবন্ত যৌবনের প্রদীপ্ত প্রবাহ।
নিসর্গের প্রাণে বাজে মুক্তির গর্জন
জেগে ওঠে প্রাণ।
তবে তাই হোক-
দিলাম তোমার হাতে আমার শক্তি
বাজাও তোমার ডমরু, বাজাও বজ্রের মত শব্দ করে
প্রলয় আসুক ধেয়ে
ধ্বংস হোক সকল অশুভ শক্তি
তোমার বিজয় মন্ত্র
পৌঁছে যাক কৈবর্তের প্রতি ঘরে ঘরে
হে অগ্নিপুত্র, হে কৈবর্তাধিপতি ক্ষেত্রপ
তোমার পবিত্র পদ যুগলে দেই বিজয় অর্ঘ্য।

কৈবর্ত বিদ্রোহের নেতা দিব্যক। আজ থেকে কয়েকশ বছর আগে এক শেষ রাতের ভোরে এই বঙ্গের পথে পা ফেলেছিল ফসল ভূমি আর সম্পদের হিসাব বুঝে নিতে। কপালে লাল মাটির টীকা আর ধান দুর্বার আর্শিবাদে গৌড়মুখী দিব্যক হেঁটে চলে-একে একে তার পেছনে জড়ো হয় শত শত কৈবর্ত। সেই হাঁটার পথ কাল পারায়ে আজ রোদ ফাটা ঢাকায় এসে মিশেছে। সেই একই দাবি একই একই ক্ষোভ ভিন্ন শরীরে আর কন্ঠে ফেটে পড়ে। বারবরই কেঁপে ওঠে শাসকের মসনদ-তাঁতিয়ে ওঠে রক্ষীবাহীনি। বেদম হয়ে ওঠে তাদের অন্ধ লোভাতুর ক্রোধ। ইতিহাসে তবু জনতার কন্ঠ স্তব্ধ হয় না কখনোই।

তারা হয়তো ভেবেছিলো বুটের পেষায় তার দুপা ভেঙ্গে গেলে আর মিছিল করতে পারবে না-বেধড়ক পিটুনিতে তার কোমর ভেঙ্গে গেলে আর দাঁড়াতে পারবে না-মাটিতে ফেলে তাকে থেঁতলে দিলে সে বুঝবে রাষ্ট্র কতো ভয়ানক আর অমানবিক। এরপর তার গোঙানির স্বরে কেবল কাতরতা ফুটে উঠবে-দাবি দাওয়া নয়। তাদের মগজের হিংস্রতা হাতের লাঠি হয়ে ওঠে সবসময়। তবুও ক্ষোভ জমা হয় শার্টের আস্তিনে, বুক পকেটে, মগজের কোষে কোষে, ওড়নার ভাঁজে।

শহুরে শিক্ষা পেটে পাছায় পাঁচড়া চুলকানোর আতংকে রাত ভোর করে দেয়। কারুর হাঁচি থেকে বেরিয়ে আসা ফ্লু আমাদের শংকিত করে তোলে-কর মর্দনে আমরা এখন অনেক সতর্ক। আমাদের চামড়ায় ধোঁয়া ধুলি আর কাম কাম আভরণ অনুভূতিকে বিকৃত করে দেয়। কেবল সুখবোধেই আমরা নড়চড়ে উঠি। অথচ ঘামে রক্তে মিছিল করা তরুণি কেবলই আমাদের খবরের পাতার ছবি। ছয় দেয়ালের মানচিত্র হয়ে ওঠে আমদের দেশ-কন্টেইনারে রাখা তেলের হিসাব করি ষোলআনা। পেটে জমা গ্যাস কোন এক ফাঁকে ছেড়ে দেই-স্বস্তির ঢেকুর ওঠে তখন। আর শরীর হয়ে ওঠে আমাদের একমাত্র সম্পদ। আমাদের জিইয়ে রাখে যে রাষ্ট্র সে মিথ্যার বেসাতি করে-তাদের অসংখ্য মুখ অজস্র বুলি কেবল জঞ্জালই তৈরি করে। লোভের লালায় সেই রাষ্ট্র মরে গিয়ে মৃত্যুহীন হয়ে ওঠে, হয়ে যায় টেরিসিয়াস, রক্তে মাংসের আস্বাদনেই সেই রাষ্ট্র বেঁচে থাকে।

তবুও একজন আনু মুহাম্মদ জেগে থাকেন। জলজমির হিসাব বুঝে নিতে-তবুও একজন তানিয়ার চিৎকার সম্পদ রক্ষায় ফেটে পড়ে ভাদ্রের বাতাসে-একজন বিপ্লব মন্ডলের ভাঙ্গা দাঁত বিদ্রোহ বীজ হয়ে জমা থাকে-একজন রাহাত অজস্র আঘাত জমা রাখেন নিজের চামড়ায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নৈতিকতা আর সম্মান বাঁচিয়ে রেখেছেন যিনি, অনেক নিগ্রহের মাঝেও, যার পাঠদানে সমৃদ্ধ হয়েছে অনেক শিক্ষার্থী, ফুলবাড়ির মানুষের কাছে আমাদের সময়ের দিব্যক হয়ে ওঠা মানুষটা, জনতার কাতারে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটা, আজ কেমন পড়ে পড়ে মার খেলো আমাদের শহরের রাস্তায়। কয়টা লাথি-কয়টা আঘাত একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের জন্য উপযুক্ত প্রাপ্তি- জবাব চাই রাষ্ট্র। ইতিহাসে এর জবাব নেই-কারণ আঘাতে আঘাতে বহুগুণ হয়ে উঠে জনতার রোষ-ইতিহাস তাই বলে।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৫
২৬টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×