পানি। ভারী পানি দেখতে সাধারন পানির মত।তবে সাধারন পানির চেয়ে ভারী।এটি যৌগিক পদার্থ।এতে দুটি হাইড্রোজেন ও একটি অক্সিজেন আছে।
প্রকৃতিতে ভারী পানি একক ভাবে বিরাজ করে না ।সাধারন পানির সাথে মিশে থাকে।বৃষ্টির পানি ,পুকুর, নদী,খাল,নলকূপ,কূয়া, সমুদ্রের পানির সাথে মিশে থাকে।তবে নদী বা সমুদ্রের শূন্য দশমিক শূন্য পনের শতাংশ পানিই ভারী পানি।নলকূপ কুয়া পুকুরের পানিতে প্রতিটনে থাকে দুইশ গ্রাম হতে আড়াইশ গ্রাম।ভারী পানি সাধারন পানির মতই গন্ধহীন বর্ণহীন সচ্ছ ।এর পৃথক প্রণালী খুব সহজ।স্বাভাবিক তড়িৎ বিশ্লেষণ ও পাতন প্রক্রিয়ায় আলাদা করা যায়।বার বার পাতন করে প্রায় ৯৯% ভারী পানি পাওয়া যায়।
বিগ্গানী উড়ে(Urey) ১৯৩৩ সালে সর্ব প্রথম সাধারন পানি থেকে ভারী পানি পৃথক করতে সমর্থ হন।ভারতীয় বিগ্গানী স্যার জে জে ভাবার( j.j.vabar)বলেছিলেন যে ভারত মহাসাগরে যে অফুরন্ত ভারী পানির ভান্ডার আছে , তা একদিন অফুরন্ত শক্তির উৎস হয়ে দেখা দিবে।তার এ মূল্যবান ভবিষ্যৎ বানীটির গুরুত্ব ততদিন পর্যন্ত বোঝা যায়নি যতদিন পর্যন্ত নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া আবিষ্কার হয়নি। কারন নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া ঘটানোর জন্য যে টার্গেট পরমানুর প্রয়োজন তার একমাত্র উৎস হল সমূদ্রের ভারী পানি থেকে আহরিত ডিউটেরিয়াম বা ভারী হাইড্রোজেন।সমুদ্রের পানি থেকে আহরিত দশ লিটার ভারী পানিতে যে পরিমান ভারী হাইড্রোজেন পাওয়া যায় তা দ্বারা ফিউশন বিক্রিয়া ঘটানো হলে যে পরিমান শক্তি উৎপাদন করা যায় তা অন্য ভাবে উৎপাদন করতে গেলে তিন হাজার লিটার পেট্রল খরচ করতে হবে।
ভারী পানির ব্যাবহার
-----------------
ক/ ভারী হাইড্রোজেনের একমাত্র উৎস এই ভারী পানি।
খ/সরাসরি নিউক্লিয়ার রিয়েক্টরে কুলেন্ট হিসেবে ভারী পানি ব্যাবহার হয়।
গ/চুল্লি থেকে গামা রশ্নি র বহির্গমন রোধ করতে ভারী পানি ব্যাবহার হয়।
ঘ/আনবিক বোমা তৈরীতে প্রয়োজনীয় ডিউটোরিয়ামের লিথিয়াম যৌগ ভারী পানি হতে পাওয়া যায়।ভারী পানি হতে উদগিরীত আনবিক শক্তি ইউরেনিয়াম থেকে অনেক বেশি ।সাধারন ভাবে প্রতি টন ইউরেনিয়াম ২৩৫ নামক মৌল থেকে যেইখানে ২০ মেগা টন শক্তি পাওয়া যায় সেখানে ভারী পানি থেকে উৎপাদিত লিথিয়াম-ডয়-টেরাইড যৌগ থেকে পাইয়া যায় প্র্য ৬০ মেগা টনের মত।
তাই এনার্জি সেক্টরে ভারী পানির গুরুত্ব অপরিসীম।কেননা এই ভারী পানিই একদিন পৃথিবীর মহাশক্তির উৎস হবে।ভারী পানিতে ভরপুর আমাদের এই বংগোপসাগর দেশের অভ্যন্তরে প্রচুর নদী খাল বিল । যা আমাদের অফুরন্ত শক্তির আধার।অদূর ভবিষ্যতে এই ভারী পানি ব্যাবহার করে আমরা পারমানবিক চুল্লি তৈরী করে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পুরন করতে পারব।সেই সাথে হয়ে যাব পারমানবিক শক্তির অধিকারি।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০১০ দুপুর ২:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



