somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাস্তিকতার বাস্তবতা কতটুকু?

১৪ ই জুলাই, ২০১০ রাত ৯:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যে স্রষ্টাকে মানে বা বিশ্বাস করে সেই আস্তিক।যে স্রষ্টাকে বিশ্বাস করে না সে নাস্তিক। বিস্তারিত ভাবে বলতে গেলে আস্তিক তারা যারা এই ভূ-মন্ডল নভো-মন্ডল কেউ সৃষ্টি করেছে বলে বিশ্বাস করে।নাস্তিক তারা যারা আস্তিকের বিপরীত মতবাদ অর্থাৎ এই সব কেউ সৃষ্টি করেনি সব কিছু এমনি এমনি হয়েছে বলে বিশ্বাস করে।নাস্তিকরা কোন প্রমান ছাড়া স্রষ্টাকে বিশ্বাস করতে রাজি নয়।কারন তারা যুক্তিতে বিশ্বাসী।আর অবশ্যই যুক্তির সূতিকাগার হল প্রমান।এই নাস্তিকতার ব্যাপারে হযরত ঈমাম আবু হানিফার (রহঃ)একটি বিখ্যাত ঘটনা আছে ।একবার এক নাস্তিক ঈমাম সাহেবকে এসে চ্যালেন্জ করল এই মহাজগতের কোন স্রষ্টা নাই।যদি থাকে তাহলে প্রমান করুন।ঈমাম সাহেব বললেন ঠিক আছে আগামী কাল সকাল এতটা বাজে আমি আপনাকে জনসম্মুখে প্রমান করে দেব এই মহাজগতের স্রষ্টা আছে।পরদিন নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট জায়গায় নাস্তিক লোকটি এসে হাজির হল। লোকে লোকারণ্য।সবাই অধীর আগ্রহে অপেখ্খা করছে কখন ঈমাম সাহেব আসবেন। নাষ্তিকের প্রশ্ণের কি উত্তর দিবেন?কিন্তু ঈমাম সাহেবের দেখা নাই।নির্দিষ্ট সময়ের অনেক পড়ে তিনি আসলেন।নাস্তিক লোকটি খানিকটা রেগে বললঃকি ব্যাপার আপনি এত দেরী করে এলেন। কি ভয় পেয়েছেন?
ঈমাম সাহেব বলেলনঃনা, আসার পথে এক আশ্চর্য জনক ঘটনা দেখতে গি্যে এতটা দেরী হয়ে গেল।
নাস্তিক লোকটি কৌতুহলী হয়ে বললঃকি সেই ঘটনা?
ঃআসার পথে এক বনের মধ্যে দিয়ে আসছিলাম।বনের কিছুটা ভিতরে ঢোকার পর হঠাৎ দেখি একটা বড় গাছ নিজে নিজে কেটে গেল।তারপর নিজে নিজে শত টুকরা হয়ে একটা নৌকার হয়ে গেল।তারপর নৌকাটা নিজে নিজে নদীতে নেমে, নিজে নিজে চলতে লাগল।
নাস্তিক ঈমাম সাহেবের কথা শুনে হো হো করে হেসে উঠলঃঈমাম সাহেব আপনার মাথা কি ঠিক আছে? একটি গাছ নিজে নিজে নৌকা হয়ে নিজে নিজে নদীতে নেমে গেল। কোন কারিগর ছাড়া এটা কি সম্ভব?এই অবাস্তব গল্প কোথ্থেকে যোগাড় করলেন।
নাস্তিকের কথা শুনে ঈমাম সাহেব বললেন কেন ভাই এই এত বড় মহাজগত যদি নিজে নিজে তৈরী হতে পারে তাহলে একটি নৌকা কেন তৈরী হতে পারে না।
ঈমাম সাহেবের উত্তর শুনে নাস্তিক থ হয়ে গেল।
প্রখ্যাত বৃটিশ গানিতিক ও দার্শনিক(স্বঘোষিত নাস্তিক) বাট্রান্ড রাসেল প্রভূর পিতৃ পরিচয় খুজে পাননি বলে ,বলেছিলেন স্রষ্টা একটি অলিক ধারনা। পিতা হতে পুত্র,গাছ হতে ফল ,জলীয় বাষ্প হতে বৃষ্টি এই ভাবে জগত সংসারের নিয়ম দেখে তিনি প্রশ্ন করেছিলেন প্রভূর পিতা কে?অথবা তাকে কে সৃষ্টি করেছে?কিন্তু তিনি এই প্রশ্নের কোন জবাব বের করতে পারেননি ।না পেরে বলে ফেললেন এই বিশ্বের সব কিছু কারনের ফলাফল।এই নাস্তিকতার প্রথম প্রবক্তা ছিলেন খ্রীষ্টপূর্ব ৬০০ অব্দে প্রাচীন মনিষী থেলাস,একজিমান্ডার,একজিমেনিস প্রমুখ।তারা প্রচার করতেন এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি একটি প্রাকৃতিক কারন।এখানে কোন প্রভূ বা স্রষ্টা নাই।পীথাগোরাস সর্বপ্রথম গানিতিক ব্যাখ্যার অবতারনা করে এই মতবাদের সায় দেয়ার চেষ্টা করেন।পীথাগোরাসের এই মতবাদের উপর ভিক্তি করে লুসসিপাস ও ডেমোক্রিটাস আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করেন।যুক্তিগত ভাবে নাস্তিকতা টিকে গেলেও তা সাময়িক।কেননা অনুবিক্ষন যন্ত্র আবিষ্কারের আগে কেউ জানত না ব্যাকটেরিয়া , ভাইরাস বলে কোন জীবানু পৃথিবীতে আছে।অনুবিক্ষন যন্ত্র আবিষ্কারের পর জানা গেছে ওদের অস্তিত্বের কথা।তাই বলে যন্ত্র আবিষ্কারের আগে জীবানু গুলো কি ছিল না?সবাই এক বাক্য বলবেন অবশ্যই ছিল।
এ মহা বিশ্ব স্রষ্টাবিহীন নিজে নিজে সৃষ্টি হয়েছে এবিষয়ে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রনক্লিন বলেনঃপদার্থের সংযোজনে স্বতঃফূর্ত ভাবে নিজ থেকেই হঠাৎ করে জীবনের স্পন্দন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা ততটুকু, যতটুকু সম্ভাবনা আছে একটি ছাপাখানায হটাৎ করে বিস্ফোরন ঘটার ফলে একটি পূর্ণাংগ অভিধান সংকলিত ,সম্পাদিত ও মুদ্রিত হয়ে বেরিয়ে আসার।স্রষ্টার সৃষ্টি বিশাল।বর্তমানের সবচেয়ে উন্নত টেলিষ্কোপ দিয়ে এই বিশাল মহাশূন্যর যতটুকু দেখা গেছে বৈগ্গানিকগনের ধারনা অনুযায়ি একশ ভাগের দশ ভাগ(আনুমানিক )।এই দশ ভাগের বিস্তৃতি প্রায় ১৩,০০০ মিলিয়ন আলোক বর্ষ(আনুমানিক)।আরোও কত ভাগ ত বাকি রয়ে গেছে।আমাদের এই সৌর জগত এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত মহাজগতের তুলনায় প্রায় অস্তিত্বহীন।মহাজগতের দশ ভাগের একভাগ(আনুমানিক)শুধু মাত্র চোখে দেখে আমরা হয়রান হয়ে যাছ্ছি কোনা কুলকিনারা পাছ্ছিনা।এতেই আমরা কত সহজে স্রষ্টার অস্তিত্বকে অস্বিকার করে ফেলছি।বেশি কিছুনা একটা লবনের পরিপুর্ন এনাটমি আমাদের মস্তিস্কে ধারন করার ক্ষমতা আমাদের আছে কিনা দেখি।
লবনের ছোট্ট একটি কনায় সোডিয়াম ও ক্লোরিনের এটম সংখ্যা হল ১০০০০০০০০০০০০০০০০ ।(একের পরে ১৬টি শূন্য)
মানুষের ব্রেইনের নিউরনের সংখ্যা হল ১০০০০০০০০০০০(একের পর ১১টি শূন্য)।নিউরনের কোষের সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছে প্রায় ১০০টি ডেন্‌ডরাইস আছে যা মষ্তিস্কের ধারন ক্ষমতা নিউরনের সংখ্যার হাজার গুন বৃদ্ধি করে।এখন যে ধারন ক্ষমতা হল তাও ১০০০০০০০০০০০০০০(একের পর ১৪টি শুন্য)।
তাহলে ভাবুন মহাজগতের এনাটমিটা কেমন হবে?
মানুষ্য সমাজের বড় বড় বুদ্ধিজীবির মাথায় কি সম্ভব স্রষ্টার সম্পর্কে ধারনা করা যেখানে স্রষ্টার সৃষ্টির ক্ষুদ্র লবন সম্পর্কে ধারনা মষ্তিস্কে ধারন করতে পারছে না।তাই বলব নিজের অযোগ্যতার কারনে কিছু ধারনা করতে না পারলেই কি তাকে অষ্বিকার করে ফেলব?
হযরত আলী(রাঃ) সাথে এক নাস্তিক এভাবে তর্ক করতে করতে যখন হার মানছেই না।তখন আলী(রাঃ)বললেন ঃআছ্ছা আপনার ধারনা আনুযায়ি আল্লাহ যদি না থাকে তাহলে বেহেশত নাই দোজখও আজাবও নাই।তাহলে মৃত্যর পর আপনিও বেচে গেলেন আমিও বেচে গেলাম।আর যদি আল্লাহ থাকে তাহলে বেহেশত থাকবে দোজখ থাকবে আর আজাবও থাকবে তখনত আমি বেচে যাব আপনার কি উপায় হবে?
(বিঃদ্রঃ-নাস্তিকেরা অনুগ্রহ করে "আল-কোরান দা চ্যালেন্জ" লেখক কাজি জাহান মিয়া।মদিনা প্রিন্টাস থেকে প্রকাশিত বই খানা অবশ্যই পড়বেন ।)
২০টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×