আমার প্রিয় পোস্ট

estobdhota@gmail.com (এতোদিন দৌড়রে উপর ছিলাম, এখন দৌড়ের ভাব ধরছি।

দি ডেইলী ষ্টারে জেনারেল শফিউল্লাহর সক্ষাতকারের বঙ্গানুবাদ: এবং কিছু প্রশ্ন।

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:১১

শেয়ারঃ
0 4 0

জানুয়ারী ৩১, রোববার, ২০১০ ইং তারিখে দি ডেইলী ষ্টার এর সাথে এই সাক্ষাতকারটিতে লিন্ক ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট এর আগে ও পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ঘটতে থাকা ঘটনাবলী নিয়ে বলেছেন তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল (অবঃ)কে এম শফিউল্লাহ, বীর উত্তম।সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন ইনাম আহমেদ এবং জুলফিকার আলী মানিক। ব্লগারদের আলোচনার সুবিধার্তে সাক্ষাৎকারটি অনুবাদ করে দিলাম।সযতন পাঠ শেষে আমার কয়েকটি সযতন প্রশ্ন আছে। অনুবাদ: স্তবদ্ধতা।
----------------------------------------------------------
সেনাবাহিনীর আর্টিলারী এবং আর্মার্ড ডিভিশন তখন নিয়ম মাফিক রাত্রিকালীন প্রশিক্ষনে ছিলো।প্রশিক্ষণ হতো মাসে দুইবার বৃহস্পতি ও শুক্রবারে। ঘটনাক্রমে ১৫ই আগষ্ট ছিলো এই দুটো দিনেরই একটি।

সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী সেনাবাহিনীর ইন্টেলিজেন্স উইং গুলো ফোর্সের উন্নয়নের সাথে সাথেই পরিণতি লাভ করে। শফিউল্লাহ বলেন, ‘সেই সময়কার একটা বড় সমস্যা ছিলো সেনাবাহিনীর কোন সুসংগঠিত ইন্টেলিজেন্স উইং ছিলোনা’।আর্মি দিয়ে গঠিত ডিএফআই (দি ডিরেক্টরেট অফ ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স)এর সরাসরি তিনবাহিনীর প্রধানদের কাছে রিপোর্ট করার নিয়ম ছিলো।কিন্তু ১৯৭৪ সালে হঠ্যাৎ করে এই নিয়ম পরিবর্তন করে ডিএফআই কে সরাসরি প্রেসিডেন্ট এর সচিবালয়ের অধীনে রিপোর্ট করতে বলা হয়।এতে আর্মি প্রধানের সাথে ডিএফআই এর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান এর ব্যাপারে একটি শূন্যতার সৃষ্টি হয়। শফিউল্লাহ তখন সেনাবাহিনীকে সুসংগঠিত করার একটি পরিপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করেন যাতে সেনা বাহিনীর পাঁচটি ডিভিশন এবং ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টরেট এর কথা বলা হয় এবং এই অর্গানোগ্রাম এখনো সেনাবাহিনীতে বিদ্যমান।তবে সেই সময় প্রস্তাবটি তখনও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে আটকে ছিলো এবং প্রস্তাবটি পাস হতে অনেক সময় নিচ্ছিলো।
শফিউল্লাহর ভাষায়, ঠিক সেই সময় দূর্ঘটনাক্রমে একটি আশ্চর্যজনক তথ্যের প্রকাশ ঘটে।১৯৭৫ এর ১৫ই আগষ্টের আগে কোন এক সময় ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে একজন এনসিও (নন কমিশনড অফিসার)সেনাবাহিনীতে বিদ্রোহের লিফলেট সহ ধরা পড়ে।লিফলেটগুলিতে রক্ষীবাহিনী সম্পর্কিত বিষেদাগার করা হয়েছে এবং আরো বলা হয়েছে যে, সেনাবাহিনীর বিকল্প হিসেবে এই প্যারামিলিটারী তৈরী করা হয়েছে এবং এর ফলে সেনাবাহিনীতে কর্মরত বহু সংখ্যক সেনা কর্মচারী চাকুরী হারাবেন।
‘তখন আমি তখনকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী প্রোফেসর নুরুল ইসলামকে লিফলেটটি সম্পকে অবগত করার জন্য লিফলেট সহ তার কাছে যাই এবং তারপর আমরা প্রেসিডেন্টের সাথে সাক্ষাৎ করি।প্রেসিডেন্টকে আমরা অনুরোধ করি, সেনাবাহিনীর ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টরেট গঠনের প্রস্তাবটা তিনি যেনো যত দ্রুত সম্ভব পাস করেন এবং যত দ্রুত এটা করা যাবে তত দ্রুতই এর জন্য প্রয়োজনীয় লোকবলকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে লাগানো যাবে’। আর প্রস্তাবটি পাস হওয়ার আগপর্যন্ত প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ডিএফআই কে আর্মি হেডকোয়ার্টারের অধীনে দেয়ার জন্যও প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ করেন।কিছুক্ষণ নীরবতার পর শেখ মুজিব শফিউল্লাহকে জিজ্ঞেস করেন, ‘ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রউফ কি তোমাদের ইন্টেলিজেন্স অ্যাফেয়ার্স সম্পর্কে অবহিত করেননা?’ রউফ তখন ছিলেন ডিএফআই এর ডিরেক্টর জেনারেল।শফিউল্লাহ তখন বঙ্গবন্ধুকে এনসিও এর কাছ থেকে উদ্ধারকৃত লিফলেটটি দেখান এবং বলেন যে তিনি নিশ্চিত নন যে বঙ্গবন্ধুকে রউফ এই লিফলেটটির সম্পর্কে অবগত করেছেন কি না।
শফিউল্লাহ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কোন উত্তর করেননি এবং তার নীরবতাকে আমি ধরে নেই যে তিনি এব্যাপারে অবগত আছেন।আমি খুব বিস্মিত হয়েছিলাম এই ভেবে যে এখানে ইন্টেলিজেন্স শাখার সাথে যোগাযোগের মধ্যে একটি ফাঁক রয়ে গেছে।লিফলেটের ব্যাপারটি এমন একটি ব্যাপার যা প্রেসিডেন্ট জানেন কিন্তু আমি জানতামনা-অথচ আমারই বিষয়টি আগে জানা উচিত ছিলো।’
শফিউল্লাহ বঙ্গবন্ধুকে বলেন যে নতুন ইন্টেলিজেন্স এর পরিকল্পনাটা এখনও পাস হয়নি।তিনি আরও বলেন যে, সম্পূর্ণ অর্গানোগ্রামটা যদি পাস করতে সময় লাগে, প্রেসিডেন্ট অন্তন পক্ষে মিলিটারী ইন্টেলিজেন্স সেট আপের প্রস্তাবটা পাস করতে পারেন।
ইন্টেলিজেন্স ইউনিটটা প্রায় বাস্তবায়ন হয়ে গিয়েছিলো কিন্তু সেটি পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়েছিলো বঙ্গবন্ধুর হত্যার পরে ‘৭৫ এর সেপ্টেম্বর এর কোন এক সময়ে।
’৭৫ এর আগষ্টের ১৫ তারিখে বঙ্গবন্ধুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগদানের কথা ছিলো।উনি যেখানে তিনি সার্টিফিকেট বিতরণ করবেন, সেখানে ১৪ তারিখ বিকেলে কয়েকটি বোমের বিস্ফোরণ ঘটে।যেহেতু পুলিশের কোন বোমা বিশেষজ্ঞ ছিলোনা তাই তৎকালীন আইজিপি নুরুল ইসলাম শফিউল্লাহকে ফোন করে আর্মির সহায়তা চান।
শফিউল্লাহ বলেন, ‘আমি অনেকগুলি দল পাঠাই পুরো এলাকাটিতে বোমা আছে কি না তা ভালো করে অনুসন্ধান করার জন্য।’ সেই একই দিনে একটি ভারতীয় হেলিকপ্টার ফেনীতে শকুনের সাথে সংঘর্ষে বিধ্বস্ত হয় এবং কপ্টারটিতে অবস্থানরত সব ক’জন ভারতীয় সৈন্য নিহত হন।হেলিকপ্টারটি চট্রগ্রামের পাহাড়ী এলাকায় সদ্য মাথা চাড়া দেয়া শান্তিবাহিনীর কার্যক্রমের উপর নজর রাখার জন্য বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিলো এবং সেনারা তখন ভারতের স্বাধীনতা দিবসে যোগদানের জন্য দেশে যাচ্ছিলেন।‘আমি মৃতদেহগুলো ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি।’
একটি লম্বা এবং ক্লান্তিকর দিন শেষে শফিউল্লাহ যখন বিছানায় যান তখন রাত প্রায় দেড়টা।প্রায় ফজরের নামাজের সময় তার ভৃত্য তাকে জাগিয়ে তোলে এবং তিনি দেখতে পান যে তখনকার মিলিটারী ইন্টেলিজেন্স এর ডিরেক্টর কর্ণেল সালাউদ্দিন তার কক্ষের দরজার বাইরে দাড়িয়ে আছেন।তিনি শফিউল্লাহকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তুমি কি আর্মার্ড এবং আর্টিলারী ডিভিশনকে শহরের দিকে পাঠিয়েছো’?শফিউল্লাহ টের পান তার মেরদন্ড বেয়ে একটি ঠান্ডা হিমস্রোত বেয়ে যাচ্ছে।তিনি উত্তর দেন ‘না তো। কেনো?’
সালাউদ্দিন উত্তর দেন, ‘আর্মার্ড ডিভিশন এবং আর্টিলারী ডিভিশন রেডিও ষ্টেশন, গণভবন এবং বঙ্গবন্ধুর ধনামন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ীর দিকে এগুচ্ছে।’
শফিউল্লাহ জিজ্ঞেস করেন, "ঢাকা ব্রিগেড কমান্ডার এব্যাপারটি জানে’? সে সময ঢাকা ব্রিগেড কমান্ডার ছিলেন কর্ণেল শাফায়াত জামিল।
শাফায়াত জামিল বলেন,‌‌‌‌‍‍‍‘আমি জানিনা।আমি আপনার কাছেই প্রথম এসেছি।’
‘যাও শাফায়াত জামিলকে বলো এক, দুই এবং চার নম্বর ব্যাটালিয়নকে পাঠিয়ে আর্টিলারী এবং আর্মার্ড বাহিনীর অগ্রসর হওয়া বন্ধ করতে।’ এ নির্দেশ এর সাথে শফিউল্লাহ এও বলেন যে তিনি নিজেও দ্রুত শাফায়াত জামিলকে ফোন করতে যাচ্ছেন।এখানে বলে রাখা ভালো যে, আর্মিতে চীফ অফ ষ্টাফ সমগ্র আর্মিকে পরিচালিত করে আর ট্রুপগুলো পরিচালিত হয় ব্রিগেড কমান্ডারদের নির্দেশে ।
শফিউল্লাহ তখন লাল টেলিফোনটি তুলেন শেখ মুজিবকে সতর্ক করার জন্য।কিন্তু ফোন লাইনটি ব্যস্ত ছিলো।তখন তিনি শাফায়াত জামিলকে ফোন করেন এবং এ লাইনটিও ব্যস্ত পান।এরপর তিনি কর্ণেল জামিলউদ্দিন আহমেদকে ফোন করেন।কর্ণেল জামিল তখন সদ্য প্রেসিডেন্টের মিলিটারী সেক্রেটারী পদ থেকে ডিএফআইতে বদলী হয়েছেন।ফোনে শফিউল্লাহকে জামিল বলেন যে, বঙ্গবন্ধু তাকে ফোন করেছিলেন এবং তাকে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে যেতে বলেছেন কারন সেখানে কিছু লোক বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করছে।শফিউল্লাহ জামিলকে বলেন বঙ্গবন্ধুকে অন্য কোথাও স্থানান্তর করার জন্য।জামিল পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে যাওয়ার পথে সোবাহানবাগ মসজিদের সামনে বিদ্রোহী আর্মি অফিসারদের হাতে নিহত হন।
শফিউল্লাহ যখন কর্ণেল শাফায়াত জামিলকে ফোনে পান তখন প্রায় ভোর সাড়ে পাঁচটা।‘তুমি কি জানো, আর্টিলারী এবং আর্মার্ড সেনারা কেনো শহরের দিকে যাচ্ছে?’ তিনি শাফায়াতকে জিজ্ঞেস করেন।
‘না’।
‘আমি তাকে বলি যে, সালাউদ্দিন আমাকে এ ব্যাপারে জানিয়েছে, এবং তাকে আমি তৎক্ষনাত তার অধীনস্থ এক, দুই ও চার নম্বর বেঙ্গল রেজিমেন্টকে পাঠিয়ে অগ্রসররত সেনাদের থামানোর ও ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেই।’
শফিউল্লাহ এয়ার ফোর্স এবং নৌবাহিনীর প্রধানদের সাথেও এ ব্যাপারে কথা বলেন এবং তারাও তাকে অবহিত করেন যে এ ব্যাপারে তারা কিছু জানেননা।এর কিছুক্ষণ পরে তিনি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ এবং মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের সাথে কথা বলেন এবং তারাও এব্যাপারে তাদের অজ্ঞতার কথা জানান।
তিনি যখন জিয়াকে সেনাদের শহরের দিকে অগ্রসরতার কথা জানান, জিয়া প্রতিউত্তরে বলেছিলেন, ‘তাই না কি?’ এর থেকেই তিনি ধরে নেন জিয়া ব্যাপারটি সম্পর্কে কিছু জানতেননা। এরপর তিনি খালেদ মোশাররফ এবং জিয়া উভয়কেই যতদ্রুত সম্ভব তার বাসভবনে আসতে বলেন।
তারা দু’জনেই ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে উপস্থিত হন। খালেদ তার নিজস্ব গাড়ি চালিয়ে আসেন, পরনে ছিলো স্লিপিং গাউন। জিয়া এসেছিলেন তার অফিসের গাড়ি করে, শেভ করা এবং সেই সাত সকালেও ইউনিফর্ম পরিহিত।
খালেদ এবং জিয়া তার বাড়ী পেৌঁছানোর আগে তিনি আরেকবার প্রেসিডেন্ট এর বাড়ীতে ফোন করেন এবং এবার তিনি বঙ্গবন্ধুকে ফোনে পান।
শফিউল্লাহ বলেন, ‘যখন ডিএমআই (সম্ভবত ডিএফআই হবে, মূল অংশে ডিএমআই আছে) আমাকে সেনাদের শহরের দিকে অগ্রসর হওয়া সম্পর্কে অবহিত করে সেটা ছিলো সোয়া পাঁচটা থেকে সাড়ে পাঁচটার মধ্যে এবং শাফায়াত জামিলের সঙ্গে আমি কথা বলি সাড়ে পাঁচটা থেকে পাঁচটা পঁয়ত্রিশ এর মধ্যে।আমি যখন বঙ্গবন্ধুকে প্রথমবার ফোন করি তার বিশ থেকে পচিঁশ মিনিট পর আমি তাকে ফোনে পাই।সময়টা আমার ঠিক মনে নেই তবে তা অবশ্যই সকাল ছয়টার আগে।’
‘তোমার বাহিনী আমার বাসায় আক্রমণ করেছে।তারা হয়তো কামালকে [বঙ্গবন্ধুর ছেলে] হত্যা করতে পারে।এক্ষুনি তোমার বাহিনী পাঠাও’। বঙ্গবন্ধু রাগত কন্ঠে বলেন শফিউল্লাহকে।
শফিউল্লাহ বলেন, ‘স্যার আমি কিছু একটা করার চেষ্টা করছি।আপনি কি কোন ভাবে বাড়ী থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করতে পারেন?’
‘ও পাশ থেকে কোন উত্তর না পেয়ে আমি হ্যালো বলতে থাকি এবং এক মিনিট পরেই আমি গুলির শব্দ পাই এবং তার কয়েক মিনিট পরেই ফোন লাইনটি ডেড হয়ে যায়।’
এরপর খালেদ মোশাররফ এবং জিয়াকে সহ শফিউল্লাহ তার অফিসের উদ্দেশ্যে বাড়ী থেকে বের হন।এর মধ্যে দশ থেকে পনেরো মিনিট হয়ে গিয়েছে শফিউল্লাহ কথা বলেছেন কর্ণেল শাফায়াত জামিলের সাথে কিন্তু তখন পর্যন্ত সেনাদের অগ্রসরতা থামেনি।
শফিউল্লাহ ছেচল্লিশ নম্বর ব্রিগেডকে পরিচালিত করার জন্য খালেদ মোশাররফকে নির্দেশ দেন এবং তাকে রিপোর্ট করতে বলেন।
নাসিম, জিয়া এবং খালেদ মোশাররফ সহ শফিউল্লাহ তার অফিসে বসে ছিলেন এবং তাদের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে একটি ট্যাংক তাদের অফিসের কাছে অবস্থান নিয়েছে।
এর কিছুক্ষণ পরেই দু’তিনটি গাড়ি তার অফিস চত্বরে আসে এবং মেজর শরীফুল হক ডালিম পনেরো-ষোল জন সৈন্য সহ তার অফিসে প্রবেশ করে।ডালিম তার কিছুদিন আগে চাকুরীচ্যুত হন।
‘চীফ কোথায়?’ শফিউল্লাহর কক্ষে প্রবেশ করতে করতে ডালিম জিজ্ঞাসা করেন।
ডালিম এবং তার সৈন্যদের অস্ত্র শফিউল্লাহর দিকে তাক্ করা ছিলো।
শফিউল্লাহ ডালিমকে বলেন, ‘অস্ত্র দেখে এবং ব্যবহার করে আমি অভ্যস্ত।যদি তোমরা অস্ত্র ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এসে থাকো তবে ব্যবহার করো।আর যদি কথা বলতে চাও তবে অস্ত্র বাহিরে রেখে এসো।’
ডালিম অস্ত্র নীচু করে বললেন, ‘প্রেসিডেন্ট আপনাকে এক্ষণি রেডিও ষ্টেশনে যেতে বলেছেন।’
উত্তেজনাকর কিছু মুহুর্ত পার হওয়ার পর শফিউল্লাহ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট? আমি যতদূর জানি প্রেসিডেন্ট মারা গিয়েছেন।’ যখন শফিউল্লাহ তার অফিসে পৌছান, তার এডিসি ক্যাপ্টেন কবির তাকে জানান যে প্রেসিডেন্ট মারা গিয়েছেন।
ডালিম গর্জে উঠে বলেন, ‘আপনার জানা উচিত যে খন্দকার মোশতাক এখন প্রেসিডেন্ট।’
শফিউল্লাহ বলেন ‘খন্দকার মোশতাক আপনার প্রেসিডেন্ট হতে পারে, আমার নয়’।
ডালিম বললেন, ‘আমাকে এমন কিছু করতে বাধ্য করবেননা যা আমি এখানে করতে আসিনি।‘
শফিউল্লাহ উত্তর দেন, ‘তোমার যা ইচ্ছা তুমি করতে পারো, আমি তোমার সাথে কোথাও যাচ্ছিনা।‘
শফিউল্লাহ এরপর তার চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ান এবং ডালিম্ ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের ভেতর দিয়ে সোজা ছেচল্লিশ নম্বর ব্রিগেডে যান।কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে তিনি দেখতে পান ব্রিগেডের সকল সৈন্য এবং তাদের সকল অফিসারেরা চক্রান্তকারীদের সাথে যোগ দিয়েছে।সেখানে তিনি মেজর খন্দকার আব্দুর রশীদ এবং ৪৬ নম্বর ব্রিগেডের তৎকালীন মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এর দেখা পান।তারা তাকে বারংবার রেডিও ষ্টেশনে যাবার তাগিদ দিচ্ছিলো।শফিউল্লাহ তাদের বলেন যে তিনি একা রেডিও ষ্টেশনে যাবেননা।
পুরো সময়টা ধরে শফিউল্লাহ ভাবছিলেন।এটা তার কাছে পরিষ্কার ছিলো যে, সেনাবহিনীর বড় অংশটিই বিদ্রোহীদের সাথে যোগ দিয়েছে।যেহেতু কেউ তার নির্দেশ মানছিলোনা সেহেতু সে সময় কিছু করার চেষ্টা করতে যাওয়াটা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতো।শফিউল্লাহ স্বগোক্তি করেন, ‘আমাকে আগে আমার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে’।
পরে বিদ্রোহীরা নৌবাহিনীর প্রধান রিয়ার এ্যাডমিরাল এমএইচ খান এবং বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল একে খন্দকার সহ তিন প্রধানদের নিয়ে রেডিও ষ্টেশনে যায়।সেখানে শফিউল্লাহ দেখতে পান খন্দকার মোশ্তাক একটি কক্ষে বসে আছেন সাথে তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাহের উদ্দিন ঠাকুর।
শফিউল্লাহকে দেখার সাথে সাথে মুশতাক আন্দোলিত কন্ঠে বলেন, ‘শফিউল্লাহ, অভিনন্দন!তোমার সেনারা খুব ভালো কাজ করেছে। এখন বাকীটা সেরে ফেলো।’
‘সেটা কি?’ শফিউল্লাহ প্রশ্ন করেন।
‘সেটা আমার থেকে তুমি ভালো জানো’, মুশতাক উত্তর দেন।
‘সে ক্ষেত্রে এটা আমার উপর ছেড়ে দিন’।শফিউল্লাহ দ্রুত উত্তর দেন এবং কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন।
তখন তাহেরউদ্দিন ঠাকুর মুশতাককে বলেন, ‘ওনাকে যেতে দেবেননা।ওনার সঙ্গে আমাদের এখনও কিছু কাজ বাকী আছে’।
শফিউল্লাহ যখন বেরিয়ে আসছিলেন তখন তিনি দেখতে পান ডালিম এবং রশীদ সৈন্য নিয়ে দাড়িয়ে আছে এবং তারা তিন বাহিনীর প্রধানদের আর একটি কক্ষে নিয়ে আসে।
এর কিছুক্ষণ পর তাহেরউদ্দিন ঠাকুর কক্ষটিতে প্রবেশ করে এবং শফিউল্লাহকে খন্দকার মুশতাক এর সমর্থনে একটি লিখিত বক্তব্য জোরে পাঠ করতে বলে।কথামতো শফিউল্লাহ তাই করেন এবং বক্তব্যটি রেকর্ড করা হয়।রেকর্ড শেষ হয়ে গেলে মুশতাক ঘোষণা করেন, ‘আমি তিন বাহিনীর প্রধানদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত দেখতে চাই’।
এরপর বঙ্গভবনের ঘটনাগুলো ঘটতে থাকে খুব দ্রুত।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেলে শফিউল্লাহ ক্যান্টনমেন্টে ফিরে যেতে চান কিন্তু মোশতাক তাতে বাধা দেন এবং বলেন যে, শিগগীরই নতুন ক্যাবিনেট গঠন করা হবে।
১৫ই আগষ্টে নতুন ক্যাবিনেট গঠন হবার পর যখন শফিউল্লাহ বাড়ী যাবার কথা ভাবছিলেন তখন তাহের উদ্দিন ঠাকুর তাকে যেতে নিষেধ করেন এবং বলেন যে রাতে একটি কনফারেন্স আছে।
১৮ই আগষ্ট পর্যন্ত শফিউল্লাহকে বঙ্গভবনে অবস্থান করতে হয়।সেই সময়ে সেখানে অনেকগুলি সভা হয় যার আলোচনার মূল বিষয় বস্তু ছিলো মার্শাল ল’ জারি করা হবে কি না সে বিষয়ে।
সভায় শফিউল্লাহ বলেন যে, আলাদা করে মার্শাল ল’ জারি করার কিছু নেই কারন তা আগেই রেডিওতে জারি করা হয়েছে।মার্শাল ল’ কে জারি করেছে, মুশতাকের এরকম একটি প্রশ্নের জবাবে শফিউল্লাহ বলেন, ‘ডালিম করেছে’।তখন মুশতাক তাকে বলেন, ‘ডালিমতো তোমারই লোক [ফোর্স]।শফিউল্লাহ উত্তর দেন, ‘ডালিম যদি আমারই লোক হতো তবে মার্শাল ল’ ঘোষনার সময় সে আমার নাম বলতো, কিন্তু সে বলেছে আপনার নাম’।তখন শফিউল্লাহ বিষয়টির আইনগত দিকগুলির দিকে নজর দেয়ার অনুরোধ করেন।
মোশতাক তখন বলেন, ‘সব কাজ শেষ।এখন শুধু মার্শাল ল’ জারির গেজেটটা প্রকাশ করা বাকী’।
১৫ থেকে ১৮ই আগষ্টের সেই সময়টার সভার কোন একসময়ে মুশতাক সভায় বলেছিলেন যে, তিনি মার্শাল ল’ জারির ঘোষণা পত্রটি ড্রাফট করবেন এবং সবাইকে তা দেখাবেন।পরদিন, তিন বাহিনীর প্রধানেরা যখন একসঙ্গে বসে ছিলেন, মুশতাক পকেট থেকে একটি কাগজ বের করেন এবং শফিউল্লাহর হাতে দিতে দিতে বলেন, ‘এটিই সেই ঘোষণা পত্র’।
শফিউল্লাহ তাকে বলেন যে তারা এটি ভালো করে দেখবেন যে এতে কোন ভুলভ্রান্তি আছে কি না।
মুশতাক তাকে বলেন ‘জেনারেল শফিউল্লাহ, আমি আজ তিন মাস ধরে এর উপর কাজ করছি’।
শফিউল্লাহ তখন বলেন, ‘সেক্ষেত্রেতো এটা অবশ্যই নিখুঁত হবে’।
১৫ই আগষ্ট শফিউল্লাহ মুশতাককে জিজ্ঞেস করেন বঙ্গবন্ধুকে কোথায় কবর দেয়া হবে সে বিষয়ে, মুশতাক তিক্ততার সাথে তাকে উত্তর দেন ‘যেখানে খুশী সেখানে কবর দাও কিন্তু ঢাকায় নয়’।
১৮ই আগষ্ট শফিউল্লাহ ক্যান্টনমেন্টে ফিরে আসেন এবং তার পরদিন তিনি একটি সভার আয়োজন করেন কীভাবে সৈন্যদের নিয়ন্ত্রণে আনা যায় সে ব্যাপারে।
সে সময় জিয়া তাকে বারবার করে বলেন যে, ভারতীয় সেনাবাহিনী আমাদের আক্রমন করতে পারে। শফিউল্লাহ বলেন, ‘জিয়া চাইছিলো আমি যাতে সৈন্যদের ক্যান্টনমেন্টে না এনে তাদেরকে বর্ডারের দিকে নিয়োজিত করি’।সে অনুযায়ী শফিউল্লাহ সভায় আর সবার সাথে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দিক থেকে আক্রমনের সম্ভাবনাটার কথা সবার সঙ্গে আলোচনা করেন এবং সকল সৈন্যদের বঙ্গভবন থেকে ব্যারাকে ফিরে যাবার নির্দেশ প্রদান করেন।সভায় বঙ্গবন্ধুর দুই খুনী আব্দুর রশীদ এবং ফারুক রহমানও উপস্থিত ছিলো।সভার এক পর্যায়ে শাফায়াত জামিল উঠে দাঁড়ান এবং রশীদ এবং ফারুক রহমানদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এদের জন্যই আজ এ অবস্থা।এরাই সব পরিস্থিতির জন্য দায়ী।এদের মার্শাল কোর্টে বিচার হওয়া উচিত’।
সভা শেষে দুই খুনী বঙ্গভবনে ফিরে যায় যেখানে তাদের অন্যান্য বিদ্রোহীরা অবস্থান করছিলো।
আগষ্টের ২২ তারিকে শফিউল্লাহ সকল সৈন্যদের বঙ্গভবন থেকে ফেরত পাঠানোর জন্য মুশতাককে বলেন ।কিন্তু মুশতাক তাকে বলেন যে সৈ্ন্যদের মধ্যে এখনও ভীতি কাজ করছে, তাদেরকে আর একটু সময় দেয়া দরকার।
আগষ্টের ২৪ তারিখে শফিউল্লাহ রেডিওর বুলেটিনের ঘোষণায় শুনতে পান যে জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীকে প্রেসিডেন্টের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।ঘোষণাটির একটু পরেই মুশতাক শফিউল্লাহকে ফোন করে জিজ্ঞেস করেন, ‘তোমার পছন্দ হয়েছে’?
জবাবে শফিউল্লাহ বলেন, ‘হ্যাঁ এটা ভালোই হয়েছে’।
মুশতাক বলেন, ‘আমি তোমার সঙ্গে সাড়ে পাঁচটার সময় দেখা করতে চাই’।
বিকেলে বঙ্গভবনে পোঁছানোর পর একজন আর্মি অফিসার তাকে প্রথমে ওসমানীর সাথে দেখা করতে বলে।
শফিউল্লাহ দেখেই ওসমানী সেনাবহিনীতে ও যুদ্ধক্ষেত্রে তার কর্মকান্ডের জন্য তাকে প্রশংসিত করেন এবং বলেন ‘এখন আমাদের আপনাকে বিদেশে প্রয়োজন’।
শফিউল্লাহ বুঝতে পারেন যে এটি তার সাথে একটি বিদায়ী সম্ভাষণ।তারপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মুশতাকের কাছে।মুশতাও তাকে একইরকম প্রশংসাবাণী শোনায় এবং বলে যে দেশ সেবার জন্য তার এখন বিদেশে যাওয়া উচিৎ।
শফিউল্লাহ উত্তর দেন ‘আমি দেশের বাইরে যাবার জন্য প্রস্তুত নই’।
মুশতাক রাগত: কন্ঠে বলেন, ‘তুমি কি জানোনা শেখ মুজিব এবং তার পরিবারের কি দশা হয়েছে’?
শফিউল্লাহ উত্তর দেন, ‘আমি যুদ্ধের সময় আমার পরিবারকে আল্লাহর জিম্মায় রেখে গিয়েছি’ এবং তারপর তিনি বাসার উদ্দেশে রওয়ানা হন।
কিন্তু বাসায় পৌঁছানোর আগেই শফিউল্লাহ জানতে পারেন যে জিয়াউর রহমানকে সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অনুমতি ছাড়া তাকে তার বাড়ীর বাহিরে যাবার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
আগষ্টের ২৪ তারিখে তিনি একটি চিঠি পান যাতে বলা আছে যে তাকে সেনাবাহিনীর প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।

[নোট: নভেম্বরের তিন তারিখে জেল হত্যার পর শফিউল্লাহ তার মত পরিবর্তন করেন এবং মালয়শিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগদান করেন।]

------- সমাপ্ত --------------------

প্রথম প্রশ্ন: শফিউল্লাহ সাহেব, ১৪ তারিখে কয়েকজন সাধারন ভারতীয় সৈন্যের দেহভষ্ম পাঠানোর কাজে আপনার মতো একজন সর্বচ্চ পদাধিকারী ব্যক্তিকে কেনো এতো ব্যস্ত থাকতে হবে?

দ্বিতীয় প্রশ্ন: ১৪ তারিখ রাতে আপনি যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, বঙ্গবন্ধু সেনা বাহিনীর অগ্রসর হওয়া নিয়ে আপনাকে ফোন না করে (আপনিতো চীফ অব আর্মি ষ্টাফ, না কি?)ডিএফআইতে সদ্য বদলী হওয়া কর্ণেল জামিলকে (যিনি ডিএফআইএর ডিরেক্টর পদেরও কেউ নন) কেনো ফোন করলেন? ফোনটা কি বন্ধ করে রেখেছিলেন না কি বেজেছে ধরেননি? শাক দিয়ে মাছ ঢাকছেন নাতো?

তৃতীয় প্রশ্ন: আপনার সাক্ষা্ৎকারে (বঙ্গবন্ধুর সাথে শেষ ফোনালাপে) বোঝা যায় আপনি তাকে সাহায্য করার জন্য মরিয়া (ভরং?) হয়তো ছিলেন যদি সময় পেতেন (আপনি তাকে বলেছেন 'আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব আমি চেষ্টা করছি'), অথচ পাঁচদিন পরের দি ডেইলী টাইমস পত্রিকা বলে আপনি ওই সময় বিদ্রোহীদের দ্বারা 'সারাউন্ডেড' ছিলেন এবং আপনি সাহায্য করতে আপনার অপারগতা প্রকাশ করেছেন, (আপনি বলেছেন,' Sorry Sir, I am helpless', source: The Daily Times, 21 August, 1971) মেলাতে পারছিনা সত্যিই ।

চতুর্থ প্রশ্ন: যুদ্ধ শেষ হয়েছে ৭১ সালে।৭৫ সালেও ভারতীয় সৈন্যরা কেনো হেলিকপ্টারে করে পার্বত্যচট্রগ্রামে টহল দিচ্ছিলো?নিহত সব কজনই ভারতীয় সেনা, এমনকি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোন রিপ্রেজেন্টেটিভও সেই পঙ্খীরাজে উপস্থিত ছিলোনা।বাংলাদেশ আর্মির কেউ কি কপ্টার চালাতে জানতোনা নাকি? অনেক আর্মি অফিসারদের মনে যে ভারতীয় আগ্রাসনের ভয় ছিলো, সেটা তাহলে একেবারেই অমূলক ছিলোনা, কি বলেন?

পঞ্চম প্রশ্ন: আপনি সাক্ষাতকারের এক পর্যায়ে বলেছেন, আর্মি এবং এর একটি বিরাট অংশই এই বিদ্রোহের সাথে জড়িত।তার মানে কি এই না যে, হত্যাকান্ডটি একটি সেনা বিদ্রোহের ফসল? আর তাই যদি হয়, সদ্য ফাঁসীতে ঝোলানো পাঁচ নরাধম যখন সেনা অ্যাক্ট অনুযায়ী মার্শাল কোর্ট আইনে বিচার চেয়েছিলেন, তাদেরকে সে সুযোগ দেয়া হলোনা কেনো?

জাষ্টিস ওয়াজ লেট ইয়েট জাষ্টিস ওয়াজ নট ডিনাইড, বাট ওয়াজ জাষ্টিস ইটসেল্ফ ডিফাইন্ড ?

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): জেনারেল শফিউল্লাহফাঁসীসাক্ষাতকার ;
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:২৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:২২
জাতীয়তাবাদী শুভ বলেছেন: আমার ভয় হচ্ছে যে জেনারেল শফিউল্লাহ তার এই সাক্ষাতকারে জিয়াকে সরাসরি দোষী না বানানোর কারনে তাকে আওয়ামী লীগ গুম না করে ফেলে!!
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:২৯

লেখক বলেছেন: সরাসরি বানায়নি কিন্তু আঙ্গুল তুলেছে খুব সাবধানে।পুরো ব্যাপারটিতে যে সেনাবাহিনী সহ সব বাহিনীর প্রধানরা সহ সব উচ্চ পদস্থ কর্মচারীরা জড়িত এতে কোন সন্দেহ নেই।বঙ্গবন্ধু ডিএফআই এর ডিরেক্টরদেও কাউক্ওে ফোন করলেননা, করলেন সদ্য বদলী হওয়া নতুন কর্নেল জামিলকে? নাকি অন্যরা কেউ ফোন ধরেননি?

২. ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৩৭
জাতীয়তাবাদী শুভ বলেছেন: আরেকটি ব্যাপার আমি লক্ষ্য করলাম সেটা হল 'বংগবন্ধু হত্যার বিচার' চলাকালে বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়াতে ১৫ আগস্টের যে ঘটনা বর্ননা করা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে বংগবন্ধুই নাকি শফিউল্লাহ সাহেবকে ফোন করে ‘তোমার বাহিনী আমার বাসায় আক্রমণ করেছে।তারা হয়তো কামালকে [বঙ্গবন্ধুর ছেলে] হত্যা করতে পারে।এক্ষুনি তোমার বাহিনী পাঠাও’ এ কথাটি বলেছিলেন কিন্তু এখানে দেখলাম ফোনটি শফিউল্লাহ সাহেবই করেছেন। দুঃখজনক ভাবে উনি 'সেভ করা বা ভারতীয় বাহিনীর আক্রমনের কথা' টাইপের অগুরূত্বপূর্ন জিনিসগুলোকে সাক্ষাতকারে এমনভাবে বলেছেন যাতে পাঠকরা জিয়াকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখেন। অবশ্য এটা ডেইলী স্টারের কারসাজীও হতে পারে।
৩. ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৩৭
জাতীয়তাবাদী শুভ বলেছেন: আরেকটি ব্যাপার আমি লক্ষ্য করলাম সেটা হল 'বংগবন্ধু হত্যার বিচার' চলাকালে বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়াতে ১৫ আগস্টের যে ঘটনা বর্ননা করা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে বংগবন্ধুই নাকি শফিউল্লাহ সাহেবকে ফোন করে ‘তোমার বাহিনী আমার বাসায় আক্রমণ করেছে।তারা হয়তো কামালকে [বঙ্গবন্ধুর ছেলে] হত্যা করতে পারে।এক্ষুনি তোমার বাহিনী পাঠাও’ এ কথাটি বলেছিলেন কিন্তু এখানে দেখলাম ফোনটি শফিউল্লাহ সাহেবই করেছেন। দুঃখজনক ভাবে উনি 'সেভ করা বা ভারতীয় বাহিনীর আক্রমনের কথা' টাইপের অগুরূত্বপূর্ন জিনিসগুলোকে সাক্ষাতকারে এমনভাবে বলেছেন যাতে পাঠকরা জিয়াকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখেন। অবশ্য এটা ডেইলী স্টারের কারসাজীও হতে পারে।
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৪৪

লেখক বলেছেন: শফিউল্লাহকে স্যু করা উচিত।অবশ্য তাতে রাজ্জাক, তোফায়েল সবাইকেই শুলে চড়তে হবে।আর নাসিমতো অলরেডি 'গন' কেস।

৪. ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৩৭
নষ্ট ছেলে বলেছেন: তখন বঙ্গবন্ধুর রক্ষী বাহিনী কই আছিল?
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৪৫

লেখক বলেছেন: কে জানেরে ভাই।নাসিম যখন শফিউল্লাহদের সাথে বসে মিটিং করছিলো, ১৫ই আগষ্টে তারা কোথায় ছিলো?

৫. ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৩৮
ফারযানা বলেছেন: অনুবাদ সুন্দর লাগল। আশা করি কোন একদিন জাতি এই প্রশ্ন গুলোর উত্তর জানতে পারবে। সেই দিনের অপেক্ষায় থাকলাম।
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৪৮

লেখক বলেছেন: কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।অনেক বড় হয়ে গিয়েছে বুঝতে পারছি।কিছু করার নেই, সাক্ষাতকারটিই বড়।আর প্রশ্নের উত্তর লিখা হয় মিডিয়া দ্বারা।আদৌ আমরা সত্যিটা কখন্ও জানতে পারবো কি না এ ব্যাপারে কারো সন্দেহ থাকলে তাকে দোষ দেয়া যায়না।

৬. ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৪২
জাতীয়তাবাদী শুভ বলেছেন: আরেকটি ব্যাপার আমি লক্ষ্য করলাম সেটা হল 'বংগবন্ধু হত্যার বিচার' চলাকালে বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়াতে ১৫ আগস্টের যে ঘটনা বর্ননা করা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে বংগবন্ধুই নাকি শফিউল্লাহ সাহেবকে ফোন করে ‘তোমার বাহিনী আমার বাসায় আক্রমণ করেছে।তারা হয়তো কামালকে [বঙ্গবন্ধুর ছেলে] হত্যা করতে পারে।এক্ষুনি তোমার বাহিনী পাঠাও’ এ কথাটি বলেছিলেন কিন্তু এখানে দেখলাম ফোনটি শফিউল্লাহ সাহেবই করেছেন। দুঃখজনক ভাবে উনি 'সেভ করা বা ভারতীয় বাহিনীর আক্রমনের কথা' টাইপের অগুরূত্বপূর্ন জিনিসগুলোকে সাক্ষাতকারে এমনভাবে বলেছেন যাতে পাঠকরা জিয়াকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখেন। অবশ্য এটা ডেইলী স্টারের কারসাজীও হতে পারে।
৭. ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৪৩
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: সেনা বাহিনীর সবাই মিলে করেছে....., সিনিয়ররা বসে থেকেছে, জুনিয়ররা কাজটা করেছে|

যেমন হাসিনা নিজে করে না, কাজ করে নানক-আজম-তাপস-শেখ সেলিমরা......।
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:০০

লেখক বলেছেন: আমি বিশ্বাস করিনা শেখ হাসিনা তার সাঙ্গপাঙ্গদের কুকীর্তির কথা জানেনা।যেমন আমি বিশ্বাস করিনা খালেদা তার সোনার সন্তানদের (তারেক, কোকো, মামুন, পাবন আরো কতো ) কুকীর্তির কথা জানেনা।আর এতো উচ্চ পর্যায়ে বসে এসব জানতে না পারাটা্ও একটা ব্যর্থতা বৈকি।ধন্যবাদ।

৮. ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৪৪
জাতীয়তাবাদী শুভ বলেছেন: আন্তরিকভাবে দুঃখিত- টেকনিক্যাল প্রবলেমের কারনে একই পোস্ট ৩বার হয়ে গেছে।
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:০০

লেখক বলেছেন: কোন সমস্যা নেই।আপনি না বললেও বুঝে নিয়েছি।ধন্যবাদ।

৯. ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৪৬
মোহাম্মদ মজিবর রহমান বলেছেন: সত্য ধামাচাপা দিয়ে রাখা যাবে না।
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫৬

লেখক বলেছেন: এটা বোধকরি এখন শুধুই প্রবাদ বাক্য।ট্রুথ ইজ ভেইলড ইন কালারড মাস্কস।

১০. ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫১
মুহিব ইরম বলেছেন: জেনারেল শফিউল্লাহ বক্তব্যে সরকারীদলের কারো মাথাব্যথা সৃষ্টি যেন না হয়!
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:০৫

লেখক বলেছেন: অন্যের মাথা ব্যথা করলে কেটে ফেলা যায়, নিজের মাথা ব্যথা করলে কি করা যায় বলুনতো?চেপে যান।

১১. ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫২
তায়েফ আহমাদ বলেছেন: মূল লেখাটা কাল পুরো পড়ে শেষ করতে পারি নি। এখন পড়লাম। প্রশ্নগুলো যৌক্তিক।
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:০৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।আসলে প্রশ্ন আরো আছে।কিন্তু কি লাভ প্রশ্ন করে? নিরপেক্ষ উত্তর কে দেবে?

১২. ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫৫
রেফিন বলেছেন: আমার জন্য এই তথ্যগুলো জানা খুব দরকার ছিলো। অনুবাদ টা বেশ ভালো হয়েছে।
থেঙ্কস।
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:০৭

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

১৩. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:০০
সিষ্টেম ইন্জিনিয়ার বলেছেন: ব্যাপারটা একেক জনের মুখ থেকে শুনলে একেক রকম মনে হয়। শফিউল্লাহ যদি চীফ অব আর্মি ষ্টাফ হিসেবে একটু সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারতেন তাহলে মনে হয় ১৫ই আগষ্টের মত কলঙ্কজনক অধ্যায় এদেশে ঘটতো না।
ঐ দিকে মেজর ডালিমের জবানবন্দী দ্যাখেন...

Click This Link

এখানে আমাকে জেনারেল শফিউল্লাকে ভীতু এবং কাপুরুষ মনে হয়েছে এবং জেনারেল জিয়াকেও ঘটনার সাথে জড়িত মনে হয়েছে।
১৪. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:১২
স্তব্ধতা' বলেছেন: আপনার লিঙ্কটির বিষয় বস্তু ভিন্ন।ওটা আগেই পড়েছি।শফিউল্লাহ যে একটা ভীতু তেলাপোকা এতে কোন সন্দেহ নাই।আর শুধু জিয়ার নাম বলছেন কেনো, শফিউল্লাহ নিজেই বলেছে ৪৬নং ব্রিগেডে গিয়ে দেখেন যে সেনাবাহিনীর বড় অংশটি এবং অফিসারেরা যোগ দিয়েছে বিদ্রোহে।তবে কি এটা সেনা বিদ্রোহ ছিলো? যদি এটা সেনা বিদ্রোহ হয় তাহলে বিদ্রোহীদের সেনা আইনে কেনো বিচার হলোনা? কর্ণেল তাহেরকে রাষ্ট্রদ্রোহীতার দায়ে জিয়া জেলহাজতে সেনা আইনে ফাঁসি দিলো।তাহলে ১৫ই আগষ্টের ওদের বিচার সেনা আইনে হলোনা কেনো?
১৫. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:১৯
সিষ্টেম ইন্জিনিয়ার বলেছেন: আপনার লিঙ্কটির বিষয় বস্তু ভিন্ন হলে মন্তব্যে ব্লগারদের অংশগ্রহনে বিষয়বস্তু অন্য দিকে মোড় নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ন তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
আশা করি এখানে আমরা আরও কিছু জানতে পারব।

আর অসাধারন অনুবাদ হয়েছে, আপনার পোষ্ট না পেলে তো এই গুরুত্বপূর্ন সাক্ষাৎকারটা অগোচোরেই থেকে যেত। অনেক ধন্যবাদ।
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৩৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।আসলে এর আগেই কয়েকজন ইংরেজী সাক্ষাতকারটার লিঙ্ক দিয়েছিলো।কিন্তু দেখলাম ইংরেজী হওয়ায় খুব একটা সাড়া পায়নি।তাই সবার সুবিধার জন্য অনুবাদ করলাম।সাক্ষাতকারটি গুরুত্বপূর্ন।

একটি ব্যাপার সবাই এড়িয়ে যাচ্ছেন।শফিউল্লাহ বলেছেন যে খন্দকার মুশতাক মার্শাল ল' জারি করার ঘোষণা পত্রটি তিনমাস ধরে তৈরী করছেন।তারমানে হত্যাকান্ডের এই মাষ্টার প্ল্যানটি অনেক আগে থেকেই করা।সেক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর সর্বচ্চ পদে থেকে এতদিন ধরে একটি ক্যু এর পরিকল্পনার কথা জানতে না পারার কারনে এদের সকলকে এবং রক্ষী বাহিনীর সকলকে কি শুরে চড়ানো উচিত নয়? এটা কি বিশ্বাস যোগ্য যে এতদিন ধরে একটি পরিকল্পনা হচ্ছে আর উচ্চ পদস্থ কেউ তা জানতোনা?

১৬. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:২০
লিবিব বলেছেন: সহমত@ সিষ্টেম ইন্জিনিয়ার
http://www.majordalimbangla.net/09Heading.html
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৩৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১৭. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:১০
সিষ্টেম ইন্জিনিয়ার বলেছেন: আমার পোষ্ট এবং আপনার পোষ্ট মিলিয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কি হয়েছিলো তার মোটামুটি একটা ধারনা পাওয়া যায়।
তারপরেও অনেক অনেক প্রশ্ন আছে
১। বঙ্গবন্ধু মোটামুটি আগে থেকেই জানতো সেনা বাহিনীর অসোন্তোসের কথা (মেজর ডালিমের ভাষ্য অনুযায়ী) এবং তিনি নাকি ভারতীয় বাহিনীর সাহায্য চেয়েছিলেন এবং বাহীনিও নাকি সাড় দিয়েছিলো এবং সেই সাথে তার রক্ষী বাহীনিও ছিলো তাহলে ঘটানার দিন তাহলে সেনাবাহীনি বিন্দুমাত্র প্রতিরোধ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে ডুকলো কিভাবে??

২।যাচ্ছেন।শফিউল্লাহ বলেছেন যে খন্দকার মুশতাক মার্শাল ল' জারি করার ঘোষণা পত্রটি তিনমাস ধরে তৈরী করছেন।তারমানে হত্যাকান্ডের এই মাষ্টার প্ল্যানটি অনেক আগে থেকেই করা।সেক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর সর্বচ্চ পদে থেকে এতদিন ধরে একটি ক্যু এর পরিকল্পনার কথা জানতে পারলো না কেন??"

৩। সেই সময় দেখি পান থেকে চুন খসলেই তার বিচার বঙ্গবন্ধুকে করতে হত। গাজী গোলাম মোস্তফা ডালিম এবং তার বউকে কিডন্যাপ করে বঙ্গবন্ধুর ওখানে নিয়ে যায়। ক্যানো??
ডালিম এবং তার বউকে অপমানের বিচারও বঙ্গবন্ধুকে করতে হবে, কেনো?
সবাই দেখলাম ইচ্ছে হলেই হুটহাট করে প্রধানমন্ত্রীর বেডরুমে ঢুকে যায়,
একটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান কি এতই সহজলভ্য/তার খেয়ে কোন কাজ নেই যে কেউ কাউকে ভ্যাংগাইলেও তার বিচার তাকে করতে হবে???
এবং রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে দেখা করতে নূন্যতম ফরমালিটিজও তো থাকা উচিত??
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৪০

লেখক বলেছেন: ''সেই সময় দেখি পান থেকে চুন খসলেই তার বিচার বঙ্গবন্ধুকে করতে হত। গাজী গোলাম মোস্তফা ডালিম এবং তার বউকে কিডন্যাপ করে বঙ্গবন্ধুর ওখানে নিয়ে যায়। ক্যানো??''.....

একজন নেতা এবং একজন রাষ্ট্রপ্রধানের বিভাজন রেখাটা বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অনেক দিক থেকেই খুব ‍অস্পষ্ট।এবং এই অস্পষ্টতাটি তার ব্যক্তি চরিত্র কেন্দ্রিক যার দায়ভার অন্য কারও উপর বর্তায়না।ধন্যবাদ আপনার বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্যের জন্য।








১৮. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৬:৪৩
ও.জামান বলেছেন: প্রশ্নগুলো যৌক্তিক।
১৯. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৬:৪৩
ও.জামান বলেছেন: প্রশ্নগুলো যৌক্তিক।
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:২৩

লেখক বলেছেন: যৌক্তিক কি না জানিনা, তবে সাক্ষাতকারটা গুরুত্বপূর্ণ।এ সাক্ষাতকারটাকে ভিত্তি করেই মামলাটাকে আবার পূর্নজ্জীবিত করা যায় এবং বর্তমান আলীগ এর অনেকেই যে এতে জড়িত ছিলো তার রূপরেখা এই সাক্ষাতকারে স্পষ্ট।ধন্যবাদ।

২০. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:১৮
াহো বলেছেন: বঙ্গবন্ধুর সামরিক সচিব কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ।
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৩১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ অন্তত একবারের জন্য হলেও আপাত:দৃষ্টিতে নিজের একটি বক্তব্য আপনি দিতে পেরেছেন।নীচে দেখছি বিশাল কপি পেষ্ট।দয়া করে আমার ব্লগে এসব কপি পেষ্ট করবেননা।নিজস্ব বক্তব্য থাকলে আসুন আলোচনা করি।

আপনি বলেছেন, সামরিক সচিব জামিলউদ্দিন।কি বোঝাতে চাইছেন? একজন প্রধানমন্ত্রী/রাষ্ট্রপতিকে কেনো সচিবের সাহায্য চাইতে হলো? পরিচালক কোথায় ছিলো? সেনাপ্রধান কোথায় ছিলেন? রক্ষীবাহীনীর প্রধান কোথায় ছিলেন? শুনুন, হত্যাকান্ডের বিচার হোক সেটা আমরা সবাই চাই কিন্তু মাছ ধরতে হলে পানিতে নেমেই ধরা উচিত।তাতে যদি নিজেদের ভেজার সম্ভাবনা থাকে তবুও।

২১. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:৩৬
াহো বলেছেন: ঢাকা, নভেম্বর ১৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বঙ্গবন্ধু মামলার আপিলের চুড়ান্ত রায়ের পর্যবেক্ষণে আপিল বিভাগ বলেছে, রাষ্ট্রপক্ষ দণ্ডিতদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছ। এটি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার মামলা, বিদ্রোহের মামলা নয়। তাই সাধারণ আইনে এ মামলার বিচারে কোনো বাধা ছিল না।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. তাফাজ্জাল ইসলামের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ বঙ্গবন্ধু মামলার রায়ের সংক্ষিপ্ত আদেশে এই অভিমত ব্যক্ত করেছে।

পর্যবেক্ষণে আরো বলা হয়, মৃত্যুদণ্ড কমানোর পক্ষে আপিলকারীরা তাদের যথাযথ যুক্তি তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই আপিলকারীদের মৃত্যুদণ্ডের হাইকোর্টের রায়ে হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।

আপিল বিভাগ চূড়ান্ত রায়ের সংক্ষিপ্ত আদেশে বলেছে, "এ রায় দেওয়ার যুক্তি পরে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। আমরা আদেশ দিচ্ছি যে, আপিলকারী মেজর মো. বজলুল হুদা, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, লে. কর্নেল মহিউদ্দিন (আর্টিলারি) এবং মেজর এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ (ল্যান্সার) হাইকোর্টের ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল এবং ২০০১ সালের ১৪ ডিসেম্বরের রায়ের বিরুদ্ধে পাঁচটি লিভ আবেদন দায়ের করে।"

আদালত বলেন, "নিচের যুক্তিগুলো বিবেচনার জন্য আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ (লিভ মঞ্জুর) করা হয়েছিল। এগুলো হচ্ছে: ১. হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চের দুই বিচারক দুটি আলাদা এবং বিভক্ত রায় দিয়েছেন, তৃতীয় বিচারপতি দণ্ডপ্রাপ্ত সব আসামির বিষয় এবং পুরো রায়টি বিবেচনা না করে কেবল দণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামির মামলা বিবেচনা করে আইনগতভাবে মৌলিক ভুল করেছেন।

"২. মামলা দায়েরে ২১ বছরের অস্বাভাবিক বিলম্ব হয়েছে। এই অযৌক্তিক বিলম্ব আপিলকারীদের মিথ্যাভাবে জড়ানোর অসৎ উদ্দেশ্য এবং পরিকল্পনার বানোয়াট গল্পের কথাই বলে। হাইকোর্ট বিভাগ এই বিষয়টি বিবেচনা না করে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে আইনগতভাবে ভুল করেছে।

"৩. সাক্ষ্য-প্রমাণে দেখা গেছে, এটি বিদ্রোহের পরিণতিতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার মামলা, এটি সাধারণ হত্যাকাণ্ডের মামলা নয়। তাই আপিলকারীদের সাধারণ ফৌজদারি আদালতে যে বিচার হয়েছে তা বাতিলযোগ্য।

"৪. সাক্ষ্য-প্রমাণে একথা বলা যায় না যে এটি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা সংঘটনের মামলা। কিন্তু এটি তৎকালীন মুজিব সরকারকে পরিবর্তনের জন্য বিদ্রোহ সংঘটনের ষড়যন্ত্রের মামলা। তাই আসামিদের দণ্ড বেআইনি।"

"৫. রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে আপিলকারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারার হত্যা ও অভিন্ন উদ্দেশ্যে হত্যার অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। তাই গুরুতরভাবে ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে।"

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, "উপরের যুক্তিগুলোতে আমাদের মতামত হলো:
১. ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৮ ও ৪৩৯ ধারার বিধান মতে তৃতীয় বিচারপতির একক এখতিয়ার হলো তিনি কোন কোন পয়েন্টে যুক্তিতর্ক শুনানি গ্রহণ করবেন। এতে বলা যায়, তিনি (তৃতীয় বিচারপতি) মতভিন্নতার অংশটুকু নিষ্পত্তি করতে সম্পূর্ণ স্বাধীন। হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চের দুই বিচারপতির ছয় আসামির বিষয়ে মতভিন্নতার বিষয়টি নিষ্পত্তি করার ক্ষমতা রয়েছে তৃতীয় বিচারপতির। দ্বৈত বেঞ্চের দুই বিচারপতি যে ৯ আসামির বিষয়ে কোনো দ্বিমত পোষণ করেননি, সে সিদ্ধান্তের বিষয়ে তৃতীয় বিচারপতি একমত ছিলেন।

"২. মামলা দায়েরের বিলম্বের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের ব্যাখ্যা সাক্ষ্য-প্রমাণের বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট বিভাগ বিশ্বাস করেছেন। এই বিষয়ে দুই আদালতের (বিচারিক ও হাইকোর্ট) অভিমত একই হওয়ায় এতে আমাদের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।

"৩. হত্যার অপরাধ সেনা আইনের ৫৯ (২) ধারায় বিচারের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হলো অপরাধী দায়িত্বরত (অ্যাকটিভ সার্ভিসে) অবস্থায় অপরাধ করলে এ ধারা প্রযোজ্য হবে। কিন্তু আপিলকারীরা সেনা আইনের ৮(১) ধারায় অ্যাকটিভ সার্ভিসে ছিলেন না, তাই সাধারণ ফৌজদারি আদালতে তাদের বিচারে বাধা নেই। এমনকি সেনা আইনের ৮(২) ধারার সংজ্ঞায় এটিকে বেসামরিক অপরাধ ধরে নেওয়া হলেও ওই আইনের ৯৪ ধারা মতে ওই অপরাধের বিচারে আইনগত কোনো বাধা নেই।

"৪. এমন কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ নেই যে বিদ্রোহের ফলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার পরিবারের অন্য সদস্য ও তিন নিরাপত্তা কর্মীর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। আমাদের মতে, এটি ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিদ্রোহ সংঘটনের মামলা নয়। বরং এটি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার মামলা।

"৫. হাইকোর্ট বিভাগ বিশ্বাস করেছে যে রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে আপিলকারী এবং অন্য দণ্ডিতদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আসামিপক্ষ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে যে হাইকোর্ট বিভাগ সাক্ষ্য-প্রমাণের যথাযথ মূল্যায়ন না করে আপিলকারীদের ডেথ রেফারেন্স গ্রহণ করে কার্যত অবিচার করেছে। তাই আমরা হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে হস্তক্ষেপ করার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখতে পাই না।

"৬. বিশেষ অবস্থায় মৃত্যুদণ্ড কমানোর পক্ষে আপিলকারীরা তাদের যথাযথ যুক্তি তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই আমরা হাইকোর্টের বহাল রাখা আপিলকারীদের মৃত্যুদণ্ডের বিচারিক আদালতের রায়ে হস্তক্ষেপ করতে চাই না। এই পরিপ্রেক্ষিতে আপিলকারীদের আপিল, জেল আপিল ও ফৌজদারি রিভিউ আবেদন খারিজ করা হলো। রায় কার্যকর স্থগিতের এই আদালতের আদেশ খারিজ করা হলো। এই সংক্ষিপ্ত আদেশ রায়ের অংশ হিসেবে গণ্য হবে।"

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এটি/পিবি/এসএম/আরবি/আরএ/এমআই/জিএনএ/এইচএ/১৯৪৭ ঘ.

Click This Link
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৪৩

লেখক বলেছেন: সে জন্যইতো লেখার একদম শেষে বলেছি, 'ওয়াজ জাষ্টিস ইটসেল্ফ ডিফাইন্ড'? ঘটনার ২১ বছর পর মামলা দায়ের হয়েছে।এবং সবদিক চিন্তা করেই সেটা যাতে সেনা আইনের আওতায় না পড়ে তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।অথচ শফিউল্লাহর বক্তব্য দেখুন, এটি ছিলো পরিষ্কার সেনা বিদ্রোহ।এবং সেনা বিদ্রোহের বিচার সেনা আইন অনুযায়ীই হওয়ার কথা ছিলো।সুবিচারের সংজ্ঞা পরিবর্তন করে মনমতো সংজ্ঞা তৈরী করলে সুবিচার নিশ্চিত হয়েছে বৈকি।বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা এবং সুবিচার দুটি যে চরম বৈরী দুটি সত্ত্বা এই রায় তার একটি জ্বলজ্যান্ত প্রমান।

২২. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:৪৩
বিডি আইডল বলেছেন: কপি-পেষ্ট ছাগলটা আসছে...

পোষ্টটা প্রিয়তে রাখলাম...রেফারেন্স হিসাবে কাজে লাগবে
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৪৫

লেখক বলেছেন: এটা আসলেই খুব বিরক্তিকর। উনি সবার পোষ্টে গিয়ে বিশাল বিশাল সব কপি পেষ্ট করে আসেন।ওনাকে খুব কমই দেখেছি নিজস্ব কোন বক্তব্য প্রদান করতে।আজব লোক!!!!

২৩. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৪৬
হৃদয়৭১ বলেছেন: লেখক ভাই, ষড়যন্ত্রকারীরা কি তাদের ষড়যন্ত্রের কথা সবাইকে বলে বেড়ায়?
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৪৭

লেখক বলেছেন: মাইক দিয়ে অবশ্যই বলে বেরায়না।তবে ফিস্ ফাস্ করে না যে তা কিন্তু না।এতোগুলি বাহিনীর প্রধানের (সেনা, ডিএফআই,রক্ষী ইত্যাদি) সেই তিন মাস বা তারও বেশী সময় ধরে চলতে থাকা এই ফিস্ ফাস্ শুনতে পেলেননা, এটা আশ্চর্যের বৈকি।

২৪. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:০০
একজন আমি বলেছেন: কপি পেস্ট ছাগলটা আসলে কি চায়??...এতদিন শুনতাম ছাগুরাই নাকি একাধিক নিক নিয়ে আসে...মনে হয় সোনার পুতেরা এই ব্যাপারেও কম যায়না
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:২৫

লেখক বলেছেন: আসলে আমি ওনাকে আক্রমন করতে চাইনি।একটা পোষ্টে সবাই আলোচনা করা এক কথা আর সম্পূর্ণ একটি পত্রিকার রিপোর্ট তুলে দেয়া ভিন্ন জিনিস।উনি নিজস্ব বক্তব্যের সাথে রিপোর্টের লিংক দিলেই পারেন।বড় একটা রিপোর্ট যদি মন্তব্যের ঘরে দেয়া হয়, অন্য ব্লগাররা মন্তব্যটি পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন (আমার ধারনা)।তাই তার এরকম সুবিশাল রিপোর্ট কমেন্টের ঘরে কতটুকু কার্যকর সে ব্যাপারটা তার একটু ভাবা উচিত।

২৫. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:২৬
স্বপ্নকথক বলেছেন: হোসাইন১৯৫০ ভালো আছে, এই মাত্র কথা হলো।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:২৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ স্বপ্নকথক।জেনেছি।আর একটি পোষ্টে আপনি দিয়েছেন মনে হয়।আমি তখন ওই পোষ্টে মন্তব্য করেছি।ভালো থাকুন।হোসাইন১৯৫০ ভালো আছে জেনে খুশী লাগছে।

২৬. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:১৩
মাহমুদহাসান বলেছেন: আমার মতো যাদের জন্ম এইসব ইতিহাসের অনেক পরে, তাদের বোধহয় সত্য জানার কোন সুযোগ নেই। মাত্র গত বছর ঘটে যাওয়া বিডিআর হত্যাযজ্ঞই রহস্যাবৃত রয়ে গেল আর এইসব কী করে জানব। লেখককে ধন্যবাদ সামান্য হলেও তুলে ধরার জন্যে।
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:৫৮

লেখক বলেছেন: সত্যিই তাই।নিরপেক্ষ একটা দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কেউই সত্যটা তুলে ধরেনি।জাতি হিসেবে এখানে আমরা বিশাল ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছি।আমি কিছু তুলে ধরিনি, আমি শুধু অনুবাদ করেছি পাঠকদের জন্য আর আমার কিছু প্রশ্ন তুলে ধরেছি।কিন্তু যাদের এসব নিয়ে চিন্তা করার কথা তারা কেউ জিনিসটা পড়েছেন কি না বা পড়লেও কতটুকু হৃদয়ঙ্গম করতে পেরেছেন সেটা তারাই ভালো বলতে পারবেন।হয়তো তারা স্বেচ্ছায় নীরব কারন তাদেরও লেজে আগুন লাগার সম্ভাবনা আছে।ধন্যবাদ পড়ার জন্য।

২৭. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৩৬
সুবিদ্ বলেছেন: আপনার চতুর্থ প্রশ্নের ব্যাপারে আপিল বিভাগের রায়ে বিশদ ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে বলে শুনছি.....সেটা জেনেই মন্তব্য করা উচিত হবে

আমি একটা প্রশ্ন যোগ করতে চাই

পঞ্চমঃ উনার কথা মেনেই ধরে নিলাম জে. শফিউল্লাহ না হয় ঐসময় প্রতিবাদ বা আরো সাহসী ভূমিকা রাখতে পারেননি (পুরাই ভূঁয়া কথা, সে একটা আপাদমস্তক ব্যর্থ সেনাপ্রধান), কিন্তু মালয়েশিয়ার কূটনীতিক জীবনে বা অন্য সময়ে এর প্রতিবাদ করেননি কেন??? এখন উনার যে রণমূর্তি দেখি বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তা আরো আগে কেন দেখা যায়নি......

আমার সংশয়ের কথাগুলো নিয়ে কিছুদিন আগে একটা লেখা দিয়েছিলাম.....সময় পেলে ঢুঁ মারতে পারেন

Click This Link
১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৪৯

লেখক বলেছেন: আপিল বিভাগের রায়ের যে কথা আপনি বলেছেন, তার জবাব কিন্তু আপনিই দিয়েছেন খুব সুন্দর করে আপনার লিঙ্কের ৬ নম্বর এর উত্তরে।পলিটিক্যালি মোটিভেটেড এবং আমি আমার পোষ্টে শুধু একটি বাক্যে আপনার কথারই পূণরাবৃত্তি করেছি ''জাষ্টিস ওয়াজ লেট ইয়েট জাষ্টিস ওয়াজ নট ডিনাইড, বাট ওয়াজ জাষ্টিস ইটসেল্ফ ডিফাইন্ড ?'' ....জাষ্টিস ওয়াজ মোডিফাইড টু সার্ভ দ্যা পলিটিক্যাল মোটিভেশনাল পারপাজ।

শফিউল্লাহর অসঙ্গতি দেখুন: সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন,

''‘তোমার বাহিনী আমার বাসায় আক্রমণ করেছে।তারা হয়তো কামালকে [বঙ্গবন্ধুর ছেলে] হত্যা করতে পারে।এক্ষুনি তোমার বাহিনী পাঠাও’। বঙ্গবন্ধু রাগত কন্ঠে বলেন শফিউল্লাহকে।শফিউল্লাহ বলেন, ‘স্যার আমি কিছু একটা করার চেষ্টা করছি।আপনি কি কোন ভাবে বাড়ী থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করতে পারেন?’ ‘ও পাশ থেকে কোন উত্তর না পেয়ে আমি হ্যালো বলতে থাকি এবং এক মিনিট পরেই আমি গুলির শব্দ পাই এবং তার কয়েক মিনিট পরেই ফোন লাইনটি ডেড হয়ে যায়।’

আর ১৯৭৫ সালের ২১শে আগষ্ট দ্যা টাইমসে প্রকাশিত পিটার হেজেলহার্ষ্ট কি বলেছে দেখুন:

Sheikh Mujibur telephoned the army commander, Major General KM Shafiullah demanding help. It was his last call but the army chief was already surrounded and said ‘Sorry sir, I’m helpless’.

ওর সাক্ষাতকারে কি মনে হয়েছে ওই সময়টাতে ও সারাউন্ডেড ছিলো? হত্যার আসল বিচার হয়েছে কি?


২৮. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:০০
জাতি জানতে চায় বলেছেন: ফাঁসি পরবর্তী সাক্ষাৎকারটি পড়ে মনে হইল মূলত দুইটা কারনে এখন এই সাক্ষাৎকার,

১। আলীগে তার হৃত অবস্থান ফিরিয়ে আনা, যেটা উনি করেছেন পরোক্ষভাবে জিয়ার দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে। উনি ঘটনার সময় নিজেকে সাহসী দেখাতে চেয়েছেন অথচ ঠিকই নির্দেশ পালন করে রেডিও ষ্টেশনে গিয়েছেন। মোশতাক ৩ মাস ধরে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত (দলবল সহ) অথচ সেনা প্রধান, প্রেসিডেন্ট কেউই টের পেলনা, কত বড় ধরনের ব্যর্থতা হতে পারে এটা?! যতদূর জানি এই বিচার প্রক্রিয়ায় আদালত তাকে মিথ্যুক ও পশ্চাদপর মানসিকতার অধিকারী বলে তিরস্কার করে।

২। যাতে ফাঁসির পূর্বে দন্ডের বৈধতা নিয়ে কোন প্রশ্ন তৈরি করতে না পারে!!

তিনি খুব ফালতুভাবে জিয়ার প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ করেছেন, যে ভোর রাতে শেভড ও ইউনিফর্ম অবস্থায় তাকে পাওয়া আর ভারতীয় বাহিনীর আক্রমনের সম্ভাবনার কথা বলা। অথচ একজন কে দোষী করতে এগুলো কোন কারনই হতে পারে না। উনি নিজের উপর দোষ না টেনে উনার অধিনস্তদের উপর দোষ দিচ্ছেন, এরকমের ব্যর্থ সেনাপ্রধানের তো নিজ থেকেই পদত্যাগ করা উচিৎ ছিলো।

আর আপনার প্রশ্ন গুলো আসলে উত্তর বহন করছে।
১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।আসলেই তাই।হারামজাদা একটা সাক্ষাত শয়তান ভাব ধরে আছে।আর আলীগ ও ভাবতেছে, ম্যাংগো পাবলিক কিছু বোঝেনা।সুবিদ কে দেয়া আমার উপরের উত্তরটা একটু দেখবেন? দেখুন শালার অসঙ্গতি।শেখ হাসিনা একটা ভন্ড।ও ফাঁসী দিয়েছে যারা লীগ করেনা তাদের।যারা হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ছিলো তাদের নয়।

২৯. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৩০
সুবিদ্ বলেছেন: না না......আমি যেটা বোঝাতে চেয়েছি যে আসামি পক্ষ সেনা বিদ্রোহের কথা বলেছিলেন যার পরিপ্রেক্ষিতে রায়ে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে......আমি ঐ বিষয়টা নিয়ে কথা বলছি

আর শফিউল্লাহর উচিত ছিল কপালে পিস্তল ঠেকিয়ে মরে যাওয়া......

আবার দেখছি ঊর্ধ্বতনদের মধ্যে শুধু শফি.-কে জড়ানোর কথা বলছেন কেউ কেউ, জে. জিয়াকে বাঁচিয়ে দিয়ে.....আসলে আমার সন্দেহ ব্যাপারটা উনারা অনেকেই আগে থেকে জানতেন......সেটা উনি হন, জিয়া হন বা খালেদ বা শাফায়াত জামিল
১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৫৫

লেখক বলেছেন: আমি উত্তরটা বোধ হয় আপনাকে বোঝাতে পারিনি।একটু ব্যাখ্যা করি।আপিল বিভাগের রায়ে বলা হয়েছে যেহেতু হত্যাকান্ডে নিহতরা সবাই রাজনৈতিক এবং বেসামরিক, এটা সম্পূর্ণ ভাবে একটি রাজনৈতিক হত্যাকান্ড এবং হত্যাকান্ডটি কোন ভাবেই একটি সেনা বিদ্রোহের ফসল নয়।

অথচ শফিউল্লাহর সাক্ষাতকারে এটা স্পষ্ট যে এটা ছিলো একটা টোটাল আর্মি ক্যু এর ফসল।সে ক্ষেত্রে আসামীদের মার্শাল আইনে বিচারের দাবীটা উপেক্ষা করা হয়েছে বৈ কি।

আমাদের দেশের বিচার ব্যবস্থা হচ্ছে শাসক গোষ্ঠীর তাঁবেদার।শাসক গোষ্ঠীর তাঁবেদারী অনুযায়ী বিচার বিভাগ তার লেবাস পরিবর্তন করে।তাই বলেছি 'সুবিচার দেরীতে হলেও অস্বীকৃত হয়নি, কিন্তু সুবিচার এর সংজ্ঞাটা নির্ধারণ করা হয়েছে কি?'

''আবার দেখছি ঊর্ধ্বতনদের মধ্যে শুধু শফি.-কে জড়ানোর কথা বলছেন কেউ কেউ, জে. জিয়াকে বাঁচিয়ে দিয়ে.....আসলে আমার সন্দেহ ব্যাপারটা উনারা অনেকেই আগে থেকে জানতেন......সেটা উনি হন, জিয়া হন বা খালেদ বা শাফায়াত জামিল''----------

একটা ঘটনার পরিকল্পনা তিন মাসেরও বেশী সময় ধরে চলছিলো (মোশতাকের স্বীকারোক্তি), কেউ জানবেনা এটা হতে পারেনা।শুধু শফিউল্লাহ নয়, খালেদ মোশাররফ এর উইং ছাড়া সব জড়িত ছিলো। কেউ প্রত্যক্ষ, কেউ পরোক্ষ।কেউ মৌন, কেউ সরব।কোন পরিস্থিতিতে সবার মধ্যে এই মোটিভেশন কাজ করেছে সেটি এখানে প্রশ্ন নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, একই কাজ করে কেউ ফাঁসীতে ঝুলবে আর কেউ গুলিস্তানের বিরিয়ানী খেতে খেতে গলাবাজী করবে, এ কোন সুবিচার?

৩০. ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:৪৩
দ্বীপবালক বলেছেন: আগে মিস করেছিলাম। এখন পড়লাম।
ভাল হয়েছে অনুবাদ।
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:১১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ দ্বীপবালক, অনুবাদ আমার কম্ম না, এই ব্লগে ইংরেজীর বেইল নাই, তাই সবার জন্য বাংলা করে দিয়েছিলাম।

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:০৬

লেখক বলেছেন: The answer my friend is blowing in the wind, the answer is blowing in the wind..............Bob Dylan.

৩২. ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৫০
সামিউর বলেছেন: আগে মিস করেছিলাম। এখন পড়লাম।
ভাল হয়েছে অনুবাদ। +++

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:০৭

লেখক বলেছেন: লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সামিউর, অনুবাদ আমার কম্ম না, এই ব্লগে সংগত কারনেই ইংরেজীর বেইল নাই, তাই সবার জন্য বাংলা করে দিয়েছিলাম।

৩৩. ০৫ ই মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:০১
অর্থহীণ বলেছেন: If zia was involved in this incident than i think we should thnak him. Don't you guyz know what happened between 72 to 75.
০৬ ই মার্চ, ২০১০ ভোর ৪:৩০

লেখক বলেছেন: If you know what happened between 72 to 75 you must know then what happened between 83 to 90. But Ershad is still grazing with his flock. A massacre killing never is a solution, they are always preplanned to subdivide the nation and that is what happened what was intended to do.

৩৪. ১২ ই মার্চ, ২০১০ রাত ২:৩৪
দাসত্ব বলেছেন: শেখ মুজিব এর উৎখাত সবাই চেয়েছে ।

অনেকেই বলেন এই ম্যাসাকার সমর্থন করিনা।
তাহলে বিকল্প বলুন ?
১৩ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১২:২৪

লেখক বলেছেন: ৯০ এতো ম্যাসাকার কিলিং এর প্রয়োজন পড়েনি।বিকল্প চিন্তা করতে হলে আগে চিন্তার ধারায় গনতান্ত্রিক পরিবর্তন আনতে হবে।ম্যাস কিলিং পরিহার যোগ্য।যারা বাহাবা দেয় তারা কেউ না বুঝে আর কেউ হুজুগে আর কেউ উদ্দেশ্যমূলক ভাবে।শেষের দলটা ভীষণ ধূর্ত।

৩৫. ১২ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ২:২৪
মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন: ৩৩. নম্বরের মন্তব্যটা আসলেই অর্থহীন। অর্থহীনের তো গর্ভবতী বউ কিংবা বাচ্চা কাচ্চা মরে নাই। সে তো জিয়াকে ধন্যবাদ জানাতেই পারে। স্বাধীনতার পর জিয়া আর খালেদার সংসার তো ভেঙ্গে (খালেদা জিয়ার ৯ মাস সেনানিবাসে পাকিস্তানীদের হেফাজতে ছিলেন) পড়ার মত অবস্থা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর হস্তক্ষেপে কোনমতে তা টিকে গিয়েছিল। আসলে জিয়া বঙ্গবন্ধুর সাথে নিমক হারামী করেছেন ।
০৫ ই জুলাই, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩৫

লেখক বলেছেন: ক্রেডিট টু ডেইলী ষ্টার।ধন্যবাদ।

৩৭. ০৯ ই নভেম্বর, ২০১০ রাত ২:২৯
ল্যাটিচুড বলেছেন: শফিউল্লা হালা পুরাই ফাউল - সেনা প্রধান হইয়া হালায় ব্ঙ্গবন্ধুরে বাচাইতে পারে নাই, ঘুম থ্যাইক্যা উটঠ্যা হালা বোকার মত চাইয়া চাইয়া বঙ্গ বন্ধুর হত্যা দেখছে আর হুনছে।



যে হালা সেনাপতি ঘুমাইয়া থাকে আর তার প্রেসিডেন্ট তারই সেনাদের হাতে গুলিখেয়ে মরে এমন একজনরে ১৫ আগষ্ট থেকে ২৪ শে আগষ্ট পর্যন্ত সেনা প্রধান না রাইখা পাছায় লাথি দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া উচিত আছিল।

পোষ্টের শেষে নোটটি সংশোধন করা হল :

নভেম্বরের তিন তারিখে জেল হত্যার পর অবসর প্রাপ্ত মেজর জেনারেল শফিউল্লাহকে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের সহয়তার জন্য পুরস্কার স্বরুপ মালয়শিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দান করা হয় ।
১১ ই নভেম্বর, ২০১০ রাত ৯:০৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।সংশোধন বিনা দ্বিধায় মেনে নিলাম, প্রয়োজনীয় প্রমাণাদির অভাবে পোস্টে সংযুক্তি দেয়া গেলো না।

 

মোট সময় লেগেছে ১.১১৯৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
ভালবাসায় মুখোমুখি
নিরবতা শ্রেষ্ঠ সময়

আড়াল জানালায় কবিতা ছড়িয়ে
শূণ্যতার ফিরতি ট্রামে
রোমন্থন হবে কোলাহলময়...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই