এই গল্প একজন জারজ সন্তানের গল্প।কিংবা শুধু একজন নয় তার ন্যায় হাজার হাজার জারজের গল্প।অন্য সব জারজের মতই এই সব জারজদের জীবনজুড়ে আছে দীর্ঘশ্বাস।কিন্তু এর রূপ যেন অন্য দশটা সাধারণ জারজের চেয়ে আলাদা।জারজ সন্তানেরা বেশিরভাগ সময়েই তাদের মায়ের মুখচ্ছবি দেখার সৌভাগ্য পায় না।এই জারজেরাও পায়নি।কিংবা পেয়েছে।পেয়েছে প্রতীকি ভাবে এই দেশের সকল জননীর মুখপ্রতিমার মাঝে।কিংবা পেয়েছে এই দেশমাতৃকার মাতৃছবিতে।তাদের কাছে অন্য সবার চেয়ে এই দেশটাই যেন বড় আপন।
আমরা তার কথায় আসি সে ও এমনি একজন জারজ।যার মার স্বামীর নাম সে জানতে পারেনি।জানতে পারে তার বীরত্বগাথা।তেমনি সে জানতে পারেনি তার জন্মদাতা পিতার পরিচয় যে তার জন্মের মাঝে বপন করে গেছে তার প্রতি সমাজের অভেলার বীজ।ঘৃণা করে সে তার সেই অজানা পিতাকে যে তার মাকে শারীরিক সম্ভোগের পর হত্যা করেছে।তার মা মৃত্যুর আগে হারিয়েছে তার ইজ্জত ঐ পশুদের হাতে।তার মনে সদাই ঘৃনা জমে থাকে ঐসব পাষন্ডদের প্রতি।তেমনি তার ঘৃনা জমে থাকে তারও বেশি সেইসব সুবিধাবাদী দালালদের প্রতি যারা পথ দেখিয়েছিল ঐ সব নরপশুদের।
তার যোদ্ধা পিতার(মায়ের স্বামী) বীরগাথা সে শুনেনি, শুনতে পারেনি।মৃত্যুর মাঝে তিনি যেন হারিয়ে গেছেন।কিংবা যাদের হৃদয়পট থেকে হারাননি তাদের গলা চেপে রেখেছে ঐ দালালরা।কেননা ঐ দালালরা আজ সমাজপতি।তারা অনেক দেশপ্রেমিক সেজে গেছে।আর সব সম্ভব এই দেশের মানুষ ও যেন তাদের মেনে নিয়েছে।তারা সব ভুলে যার।তাই তো ঐ দালালরা দেশের পতাকা গাড়িতে লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায়।আর এক শহীদ মুক্তিযোদ্ধার ধর্ষিতা স্ত্রীর জারজ সন্তান হয়ে সে আজ শুধুই জারজ।তার বুকে আজ শুধুই হাহাকার।সামাজের থেকে তার জুটে শুধুই অপমান আর লাঞ্ছনা।
সত্যিই সেলুকাস কী বিচিত্র এই দেশ।
****এই লেখার মধ্য দিয়ে দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা সকল যুদ্ধসন্তান(war baby)দের কে অন্তরের অন্তস্থল থেকে জানাই শ্রদ্ধার্ঘ্য।আসুন আমরা সকলে মিলে দুঃখ বয়ে বেড়ানো জাতির সম্পদ এসব বীরাঙ্গনাদের সন্তারদের জীবন থেকে দুঃখ মুছে ফেলার শপথ গ্রহণ
করি।আর ধিক্কার সেই সব পাকিস্তানি দোসরদের আর সেইসব লোকদের যারা ভোট দিয়ে এদের সুযোগ করে দেয় জাতীয় পতাকা গাড়িতে লাগানোর।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


