*****এই ব্লগে এসে অনেক গুনী ব্যক্তির জ্ঞান সম্বৃদ্ধ লেখা পড়ার সৌভাগ্য হলো।যার অনেকগুলোই ধর্ম আর রাজনীতি নিয়ে।তো এই বিষয়ে আমার জ্ঞানের গভীরতা তাদের জ্ঞান সমুদ্রের কাছে অগভীর পুকুরের মতই।তার পরও লিখতে বসলাম।আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানের এই লেখার ভুল ত্রুটি সবাই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন আশা করি।
কেউ আমাকে যদি হুট করে প্রশ্ন করে বসে যে আমি নাস্তিক না ধার্মিক আমি দ্বিধায় পড়ে যাই।আবার কেউ আমাকে জিজ্ঞেস যদি করে আমি ডানপন্থী না বামপন্থী তাহলেও আমি দ্বিধায় পড়ে যাই।উভয় ক্ষেত্রে আমি নিজেকে মোশতাক পন্থী বলে দাবী করি।উহু,আমাকে ভুল বুঝবেন না।বঙ্গবন্ধুর খুনিদের তালিকায় উপরের দিকে থাকা খন্দকার মোশতাকের কথা বলছি না।মোশতাক মানে মধ্যম।ইসলামে সালাতুল মোশতাক অর্থাৎ মধ্যবর্তী সালাত কায়েমের কথা বলা হয়েছে।আরো বলা হয়েছে মধ্যম পন্থা উত্তম ।তা আমি মনে করি মধ্যম পন্থা সুবিধাবাদী পন্থা।তা এরপরও আমি কেন সুবিধাবাদী?কারণ আমি তথা আমরা যারা সাধারণ মানুষ তারা সবাই প্রকারান্তরে অসুবিধাবাদী।মনিকের লাইনকে একালের সংস্করণে বলা যায়, ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে সবাই বড় অধর্ম লালন করি।সে হলো শোষন।
রাজনীতি কথাটা শুনলে সবার মতো আমি রাজা রাজরাদের কাহিনী বুঝি না।বরং বুঝি সাধারণ মানুষের দিনাতিপাতের গল্প।তাই মুক্তিযুদ্ধের ৩৮ বছর পেরিয়ে গেলেও আমাদের রাজনৈতিক অবস্থার বিশেষ পরিবর্তন হয়নি।রাজনীতিকে পুজি করে কিছু স্বার্থপর লোক নিজেদের আখের গুছিয়ে নিচ্ছে এবং তারা সাধারণ মানুষকে তারা এমন মগজ ধোলাই দিচ্ছে যে তারা কে এসে আমাদের উপর অত্যাচার চালাবে এই চিন্তায় আমদের চিন্তাশীল লোকেরা ব্যস্ত।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক যারা হওয়ার কথা জাতির মাথা তারা আজ কে সাদা কে নীল তাই নিয়ে বেশি চিন্তিত।চলছে রাজনীতির নামে কিছু মূর্খ তস্কর ব্যক্তির লেজুরবৃত্তি।আমরা সাধারণ মানুষও এর বাইরে না।কে খোদা হাফেজ বলে আর কে আল্লাহ হাফেজ বলে এই নিয়ে চলছে মানুষকে ভাগ করে ফেলার প্রক্রিয়া।সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে করা হচ্ছে ক্যাডারবৃত্তি আর সন্ত্রাসের অভয়ারন্য।শিক্ষাকে পরিনত করা হচ্ছে পন্যে।আর পরের প্রজন্মকে সুস্থ ভাবে গড়ে তোলার পরিবর্তে তাদেরকে মানসিকভাবে বিকৃত আর পঙ্গুভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে বিভিন্ন শিক্ষাব্যবস্থার গিনিপিগ হিসাবে।শহর গ্রামের আনাচে কানাচে মাদকের বীজ ছড়িয়ে দিয়ে যুব সমাজকে করা হচ্ছে ধ্বংস।রিক্সা মালিক আর সিএনজি মালিকদের দালালিতে পরিবহণ ভাড়ার এই অবস্থা মাঝে মাঝে মনে হয় সব ছেড়ে ছুড়ে রিক্সা চালাই।
বাজারের দ্রব্যমুল্য উধ্বগতি।সাধারণ মানুষের হাসফাস অবস্থা। লোডশেডিং এর যন্ত্রনায় আজ নির্বাক।কারেন্ট গেলে অবাক হইনা বরং আসলেই অবাক হই।এ সবের মাঝে ও উচ্চশ্রেনীর বিকার নেই।
আমরা আসলে কেমন আছি?আমরা কি সবচেয়ে কষ্টে নেই।আমাদের মত গরীব দেশে জন্মানো কি শুধুই অভিশাপ না?অনেকে হয়তো বলবেন আমাদের চেয়ে মাথাপিছু আয় কম এমন দেশ ও তো আছে।আমি বলি তারা আমাদের চেয়ে ভালো আছে।কেননা ঐসব দেশে আমাদের মত বহুতল ভবন নেই।ঐসব দেশে একবারে ২০ কোটি টাকা ঘুষ দেনেওয়ালা নেই কিংবা তা গ্রহন করে খুনিকে মুক্তি দেয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নেই।সেইসব দেশে সাধারনের টাকা শোষনকারী রাজপুত্র নেইদেশদ্রোহী রাজাকার মন্ত্রী আর তার পালিত শিবির নেই।অনেক দেশে যুদ্ধ হয় বটে কিন্তু আমাদের দেশের মত হরহামেশা বোম ফাটানো জংগি আছে কয়টা দেশে।এদেশে জানের নিশ্চয়তা নেই।মুখ বুজে শোষন সহ্য করা ছাড়া আর কোন উপায় খোলা পাই না।বানিজ্যিক বুদ্ধিজীবিরা নিজেদের সুবিধামত প্রতিবাদ করেন।দেশের মুক্তির চেয়ে নিজেদের খ্যাতি যশ তাদের বেশি প্রার্থিত।
ধনিক শ্রেনির নাগপাশ ছিড়তে না পেরে আমি আস্তিক হয়ে যাই। পরকালের বেহেশত দোজখ কেমন জানি না।শুনেছি পাপীদের সাজা ভোগ করে বেহেশত দেয়া হবে।তা আমরা এদেশে জন্ম নিয়ে যে শাস্তি পাচ্ছি তার সমান পাপ বোধ হয় একজীবনে করা হবে না।তাইতো এদেশে জন্মানোর জন্য খোদা আমাদের সমস্ত অপরাধ মাফ করে আমাদের বেহেশত নসিব করবেন। (আমিন)
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ১০:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


