somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্যাডেট নম্বর ১৮৬২- অসময়ে হারিয়ে যাওয়া অতি আপনজন(পর্ব -১)

২২ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ১০:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পূর্ব প্রকাশের পর.....
সূচনার লিংক
Click This Link

ছোটবেলায় একেবারে নিজের চেনা গন্ডির মধ্যে বেড়ে ওঠার করনে ক্যাডেট কলেজের প্রথম দিন গুলি অনেক দীর্ঘ মনে হত।সারা দিন ড্রিলের গুতানি আর হাউসে সিনিয়রদের যন্ত্রনা সব মিলে আমি হাপিয়ে উঠছিলাম।
আমার সবচেয়ে ভালো সময় কাটত গেমস টাইম।হৈহৈ করে ফুটবল খেলতাম সবাই।তা আমার আগে খেলার অভিজ্ঞতা না থাকায় ফুটবল খেলায় আমার জায়গা হলো ডিফেন্সে।গ্রাম্য ভাষায় বলতে বেগী।তা আমার পার্টনার হলো আলম।তার বিশাল দেহের কারনে তাকে সবাই চীনের প্রাচীর তুল্য জ্ঞান করত।সে হলো মেইন বেগী।আর আমি তার সহবেগী।সেই শুরু।এরপর একে একে পাচটি ফুটবল কম্পিটিশন আমরা কলেজ লাইফে খেলে ফেললাম সহবেগী হিসাবে।শেষ কম্পিটিশনে আমি ছিলাম ক্যাপ্টেন।আমরা ম্যাচে চার দুই গোলে এগিয়ে।সে উঠে যাচ্ছে বাড় বাড় কর্নারের সময়।আমি মানা করছিলাম।সে শেষবারের জন্য অনুমতি চাইল।বলল,এবার না হলে আর যাব না।অদ্ভুতভাবে ষেই কর্নারকে গোলে পরিনত করল সে।একেবারে স্বপ্নের মত।আমাদের ফুটবল কম্পিটিশনের শেষ গোল।

ফুটবলের কথাই যখন আসল তাকে নিয়ে আরেকটি মজার ঘটনা বলার লোভ সামলাতে পারলাম না।তখন ১৯৯৮ সাল।বিশ্বকাপ শেষ।টার্ম শুরু হবে হবে।তআ প্রথম দিন কোন কাজ নেই।তো তখনকার ক্লাশ সেভেনের মধ্যে হঠাৎ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল।হাউসে ভূমিকম্প হচ্ছে।ছাদ ভেঙ্গে পড়ল বলে।হাউস কাপছে।হাউস মাস্টার ডাকাডাকি সিরিয়াস অবস্থা।তা হাউস মাস্টার উপরের রুমে এসে দেখতে পেলেন আমাদের।পাউডারের কৌটা দিয়ে টাইব্রেকার খেলছিলাম আমরা বেডের মাঝের জায়গা গোল পোস্ট ধরে।তা আলম গোল রক্ষক হয়ে তিন চারবার চিলাভার্ট ডাইভ দেয়াতে এই বিপত্তি।আলমের এই বিশাল শরীর তিনচারবার জোড়ে আছড়ে পড়লে তা যে ভুমিকম্পের মত লাগবে তা আর বিচিত্র কী।হাউস মাস্টার পুরো ব্যাপারটিতে মজা পেলেন তাই তেমন কিছু না বলে হালকা ঝাড়ি দিয়ে আমাদের বিদায় দিলেন।

যা হোক ফিরে যাই ক্লাশ সেভেনের জীবনে।ক্যাডেট কলেজ আমার জীবনে অনেক প্রাপ্তি ঘটিয়েছে।তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি বলতে আমার অকৃত্রিম বন্ধুরা।ক্যাডেট কলেজ এমন জায়গা যেখানে আমাকে আমাদেরকে লড়তে হয়েছে অস্তিত্বের জন্য।আর একে টিকিয়ে রাখতে সহযোদ্ধা সব সময় ক্লাশমেটরা।আর তাই ক্যাডেট কলেজে আমাদের বন্ধুত্ব অনেকটাই আরোপিত।কিন্তু আমি নিঃসংকোচে এই দাবি করতে পারি আমাদের এই আরোপিত বন্ধুত্বের গভীরতা অনেক দিক ছাড়িয়ে গেছে অনেক স্বতঃস্ফুর্ত বন্ধুত্বকে।আমাদের এই বন্ধুত্বের সেতু বন্ধন আমাদের একত্রে সংগ্রামের ইতিহাস যেটাকে আমি অনেক বড় বলে মানি ,জানি অনেক বোদ্ধাই একে অমানবিক বলবেন।কিন্তু ক্যাডেট কলেজে যে না থেকেছে তার পক্ষে এই সময় কে অনুভব করা অসম্ভব।

এমনি এক ঘটনা ঘটল ক্লাশ সেভেনে।ক্লাশ এইটের ভাইরা আমাদের শাসনে ব্যস্ত সবসময়।আর তাদের কিছু করত বাড়াবাড়ি।ঐ বয়সে যা হয় আমরা অচিরেই সেই ভাইদের বিভিন্ন টিস নাম বের করে ফেললাম।আর তা চলতে লাগল মুখে মুখে।বেশিদিন লাগল না ধরা খেতে।আমার একবন্ধু বেখেয়ালের বশে সিনিয়রের সামনে বলে ফেলল একটি নাম।আর যায় কোথায়।শুরু হল আমাদের উপর জেরা - উদ্দেশ্য নাটের গুরু বের করা।ক্লাশমেট ফিলিংস নামক জিনিসটা আমরা ততোদিনে আমাদের মধ্যে ভালোভাবে বাসা গেড়ে ফেলেছে তাই অস্বীকার করতে লাগলাম।সবাই মার খেলাম গনহারে।আর বেশি পড়ল তার উপর যে মুখ ফসকে বলে ফেলেছিল।তার উপর অত্যাচার এই মাত্রায় উঠল নাটের গুরুরা নিজে থেকে দায়িত্ব স্বীকার করল।আর প্রধান নাটের গুরু আলম ছিল কিনা জানি না,কিন্তু সিনিয়রদের রাগ তার উপর বেশি থাকায় তাকে ধরা হলো নাটের গুড়ো।তার পর তার উপর ঝাপিয়ে পড়ল ওরা।সে কী মার।হ্যাংগারের পর হ্যাংগার ভাঙল ওর উপর।একপর্যায়ে যখন থামল তখন ওর ফর্সা শরীর লালে লাল হয়ে গেছে।

সিনিয়রগুলোকে তখন ঘৃণা করেছিলাম কিন্তু এখন তারা সবাই আমার খুব কাছের, মানুষ বন্ধুপ্রতিম।এটাই ক্যাডেট কলেজের সৌন্দর্য।


.......চলবে
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×