পূর্ব প্রকাশের পর.....
সূচনার লিংক
Click This Link
ছোটবেলায় একেবারে নিজের চেনা গন্ডির মধ্যে বেড়ে ওঠার করনে ক্যাডেট কলেজের প্রথম দিন গুলি অনেক দীর্ঘ মনে হত।সারা দিন ড্রিলের গুতানি আর হাউসে সিনিয়রদের যন্ত্রনা সব মিলে আমি হাপিয়ে উঠছিলাম।
আমার সবচেয়ে ভালো সময় কাটত গেমস টাইম।হৈহৈ করে ফুটবল খেলতাম সবাই।তা আমার আগে খেলার অভিজ্ঞতা না থাকায় ফুটবল খেলায় আমার জায়গা হলো ডিফেন্সে।গ্রাম্য ভাষায় বলতে বেগী।তা আমার পার্টনার হলো আলম।তার বিশাল দেহের কারনে তাকে সবাই চীনের প্রাচীর তুল্য জ্ঞান করত।সে হলো মেইন বেগী।আর আমি তার সহবেগী।সেই শুরু।এরপর একে একে পাচটি ফুটবল কম্পিটিশন আমরা কলেজ লাইফে খেলে ফেললাম সহবেগী হিসাবে।শেষ কম্পিটিশনে আমি ছিলাম ক্যাপ্টেন।আমরা ম্যাচে চার দুই গোলে এগিয়ে।সে উঠে যাচ্ছে বাড় বাড় কর্নারের সময়।আমি মানা করছিলাম।সে শেষবারের জন্য অনুমতি চাইল।বলল,এবার না হলে আর যাব না।অদ্ভুতভাবে ষেই কর্নারকে গোলে পরিনত করল সে।একেবারে স্বপ্নের মত।আমাদের ফুটবল কম্পিটিশনের শেষ গোল।
ফুটবলের কথাই যখন আসল তাকে নিয়ে আরেকটি মজার ঘটনা বলার লোভ সামলাতে পারলাম না।তখন ১৯৯৮ সাল।বিশ্বকাপ শেষ।টার্ম শুরু হবে হবে।তআ প্রথম দিন কোন কাজ নেই।তো তখনকার ক্লাশ সেভেনের মধ্যে হঠাৎ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল।হাউসে ভূমিকম্প হচ্ছে।ছাদ ভেঙ্গে পড়ল বলে।হাউস কাপছে।হাউস মাস্টার ডাকাডাকি সিরিয়াস অবস্থা।তা হাউস মাস্টার উপরের রুমে এসে দেখতে পেলেন আমাদের।পাউডারের কৌটা দিয়ে টাইব্রেকার খেলছিলাম আমরা বেডের মাঝের জায়গা গোল পোস্ট ধরে।তা আলম গোল রক্ষক হয়ে তিন চারবার চিলাভার্ট ডাইভ দেয়াতে এই বিপত্তি।আলমের এই বিশাল শরীর তিনচারবার জোড়ে আছড়ে পড়লে তা যে ভুমিকম্পের মত লাগবে তা আর বিচিত্র কী।হাউস মাস্টার পুরো ব্যাপারটিতে মজা পেলেন তাই তেমন কিছু না বলে হালকা ঝাড়ি দিয়ে আমাদের বিদায় দিলেন।
যা হোক ফিরে যাই ক্লাশ সেভেনের জীবনে।ক্যাডেট কলেজ আমার জীবনে অনেক প্রাপ্তি ঘটিয়েছে।তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি বলতে আমার অকৃত্রিম বন্ধুরা।ক্যাডেট কলেজ এমন জায়গা যেখানে আমাকে আমাদেরকে লড়তে হয়েছে অস্তিত্বের জন্য।আর একে টিকিয়ে রাখতে সহযোদ্ধা সব সময় ক্লাশমেটরা।আর তাই ক্যাডেট কলেজে আমাদের বন্ধুত্ব অনেকটাই আরোপিত।কিন্তু আমি নিঃসংকোচে এই দাবি করতে পারি আমাদের এই আরোপিত বন্ধুত্বের গভীরতা অনেক দিক ছাড়িয়ে গেছে অনেক স্বতঃস্ফুর্ত বন্ধুত্বকে।আমাদের এই বন্ধুত্বের সেতু বন্ধন আমাদের একত্রে সংগ্রামের ইতিহাস যেটাকে আমি অনেক বড় বলে মানি ,জানি অনেক বোদ্ধাই একে অমানবিক বলবেন।কিন্তু ক্যাডেট কলেজে যে না থেকেছে তার পক্ষে এই সময় কে অনুভব করা অসম্ভব।
এমনি এক ঘটনা ঘটল ক্লাশ সেভেনে।ক্লাশ এইটের ভাইরা আমাদের শাসনে ব্যস্ত সবসময়।আর তাদের কিছু করত বাড়াবাড়ি।ঐ বয়সে যা হয় আমরা অচিরেই সেই ভাইদের বিভিন্ন টিস নাম বের করে ফেললাম।আর তা চলতে লাগল মুখে মুখে।বেশিদিন লাগল না ধরা খেতে।আমার একবন্ধু বেখেয়ালের বশে সিনিয়রের সামনে বলে ফেলল একটি নাম।আর যায় কোথায়।শুরু হল আমাদের উপর জেরা - উদ্দেশ্য নাটের গুরু বের করা।ক্লাশমেট ফিলিংস নামক জিনিসটা আমরা ততোদিনে আমাদের মধ্যে ভালোভাবে বাসা গেড়ে ফেলেছে তাই অস্বীকার করতে লাগলাম।সবাই মার খেলাম গনহারে।আর বেশি পড়ল তার উপর যে মুখ ফসকে বলে ফেলেছিল।তার উপর অত্যাচার এই মাত্রায় উঠল নাটের গুরুরা নিজে থেকে দায়িত্ব স্বীকার করল।আর প্রধান নাটের গুরু আলম ছিল কিনা জানি না,কিন্তু সিনিয়রদের রাগ তার উপর বেশি থাকায় তাকে ধরা হলো নাটের গুড়ো।তার পর তার উপর ঝাপিয়ে পড়ল ওরা।সে কী মার।হ্যাংগারের পর হ্যাংগার ভাঙল ওর উপর।একপর্যায়ে যখন থামল তখন ওর ফর্সা শরীর লালে লাল হয়ে গেছে।
সিনিয়রগুলোকে তখন ঘৃণা করেছিলাম কিন্তু এখন তারা সবাই আমার খুব কাছের, মানুষ বন্ধুপ্রতিম।এটাই ক্যাডেট কলেজের সৌন্দর্য।
.......চলবে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


