somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নতুন শহর,ঘাস ফড়িং আর প্রথম মেস

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঢাকায় বড় হয়েছি।স্কুল, কলেজ সবই ঢাকায়। তাই ইউনিভার্সিটিটা যখন হলো ঢাকার বাইরে, তখন তো খারাপ লাগবেই। বিশাল ফ্রেন্ড সার্কেল, বাবা-মা-বোন সব ছেড়ে কিনা যেতে হবে অন্য একটা শহরে?।ভর্তি পরীক্ষার সময় দুইদিনের জন্য সিলেট শহরটা ঘুরে ভালোই লেগেছে। পাহাড় টাহাড় আছে।তাই বলে চার বছর! কেন যে ঢাকায় কোথাও ভর্তি হলাম না ।কি আর করা-‘ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না’ জ্ঞানী গুনীরা তো আর এমনি এমনি বলে যান নি।আমি জ্ঞানীও না, গুনীও না। ছোট বেলা থেকেই গবেট টাইপ। আমিতো ভুল করবই।তাই ভুলের মাশুল দিতে ওরিয়েন্টশনের আগের দিন বাক্স প্যাটরা, খাতা বালিশ নিয়া ট্রেনে করে রওনা দিলাম সিলেট।

আগে থেকেই মেস ঠিক করা ছিল। একটা মাত্র ছাত্র হল (২০০১ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা মাত্র ছাত্র হল আর অর্ধেকটা ছাত্রী হল ছিলো)।হলে জায়গা হয় না নতুন ভর্তি হওয়া ছাত্রদের। তাই শহরের নানান জায়গায় মেস করে থাকতে হয়।মেস মানে কয়েকজন মিলে একটা বাসা ভাড়া করে থাকা আর কি।খাওয়া দাওয়ার ব্যাবস্থা নিজেদের। আমার ক্লাশেরই কয়েকজন আমার মেস মেট। আগে একবার দুইবার দু একটা কথা টথা হয়েছে, এটুকুই পরিচয়।একা নতুন শহরে নতুন জায়গায় কিভাবে থাকবো এ নিয়ে একটা ভয় ছিলো, তার ওপর আমি সহজে নতুন কারো সাথে মিশতে পারি না।খুব সুন্দর একটা ওরিয়েন্টশন সব শঙ্কা কাটিয়ে দিল।অদ্ভুত সুন্দর একটা ক্যাম্পাস। সুন্দর মনের এখানকার মানুষ গুলো। র‌্যাগ বলে একটা জিনিস শুনেছিলাম। সব ক্যাম্পাসেই নাকি নতুনদের এই জিনিসটা দেয়া হয়। স্পেশালি আমার মত গবেটদের জন্য তো সেটা নাকি মাস্ট। কিন্তু সেরকম কিছুই হলো না।মুহম্মদ জাফর ইকবাল, যেই মানুষটার লেখা বইই কেবল পড়েছি, প্রথমবার চোখে দেখলাম।তিনি আমাদের ডিপার্টমেন্টের হেড।এই ছাত্র ছাত্রীরা একদিন কম্পিউটার প্রকৌশলী হবে, তাই ম্যাথ, লজিক টাইপের কিছু মজার অংশ ছিলো ওরিয়েন্টশনে।একটা প্রতিযোগিতা মত হলো, লজিক রিলেটেড।টুকটাক প্রগ্রামিং করতাম, লজিকের সাথে পরিচয় ছিলো, একটা পুরস্কারও জুটে গেল ভাগ্যে। আমিতো মহাখুশি।

রাতে মেসে ফিরে চুলা লাগানোর কথা ছিলো। কিন্তু দেখা গেল আমরা যে চুলা কিনেছি সেটা লাগছে না। আর একটা কিনতে হবে? আমাদের মেস মেটদের একজন ছিলো মহা কিপটা।তখন বুঝিনি, পরে বুঝেছি। সে বললো আর একটা চুলা কিনবো কেন শুধু শুধু, তার চেয়ে কয়েকদিন পর মেসটাই বদলে ফেলবো! ততদিন না হয় হোটেলে খাব।ব্যাপারটা সবারই পছন্দ হলো, কারন চুলা লাগালেই নানান দায়িত্ব নিতে হবে, বাজার করা, বুয়া ঠিক করা, আরো কত কি কে জানে। হাড়ি পাতিল কিছুই নাই, আছে একটা চুলা। আবার হাড়ি পাতিলো কিনতে হবে।সেগুলো কিভাবে কিনতে হয় তাও কেউ জানি না।তাই সেই বয়সের বুদ্ধিতে এটাই ভালো সিদ্ধান্ত মনে হলো সবার। বের হলাম হোটেলের খোজে।

রাস্তায় বের হয়ে অবাক হয়ে গেলাম। একটু আগে রাস্তা দেখে গেলাম, এখন সেখানে ঘাসের আবরন?পুরো রাস্তা সবুজ হয়ে আছে। ব্যাপারটা কি? ব্যাপার আর কিছুই না, কোথা থেকে জানি হাজার হাজার ঘাস ফড়িং এসে ঢেকে ফেলেছে পুরো শহর। কেউ কল্পনাও করতে পারবে না, পুরো রাস্তা এমন সবুজ হতে পারে। তার মাঝে বিশাল এক মোটর সাইকেল বাহিনী আমাদের সামনে দিয়ে নির্বাচনী(২০০১ সালের কথা) সো ডাউন করে চলে গেল, আর ঘাস ফড়িঙ বাহিনীকে রাস্তার সাথে মিশিয়ে দিয়ে গেল। ।আমি বরাবরই ভীতু টাইপের। মোটর সাইকেল মিছিল দেখে অনেক আগে দেখা হিন্দি গুলাম ছবির কথা মনে পড়ে গেল।মনে মনে ভাবলাম এ কোথায় এসে পড়লাম রে।কিপটে সেই মেস মেটের কারনে ভাত খাওয়া গেল না। ভাত, মাছ, মাংস সবকিছুর দাম অনেক বেশী। সে নাকি পরটা সবজি খাবে, আমরা ভাবলাম বেচারা একা কষ্ট করবে, আমরাও খাই। মেসে ফিরে আর এক কান্ড। আমাদের এক মেস মেট কঠিন ধার্মিক। একটা মোটে বাথরুম। সে একবার ঢুকলে আর বের হয় না। তার নাকি খুলুক(শব্দটা ঠিক লিখেছি কিনা জানি না) নিতে হয়।বোঝো ঠেলা।সবাই আড় চোখে খেয়াল করি কখন সে বের হয় বাথরুম থেকে।পরের দিনও কিপটা মেসমেটের কারনে তিনবেলা পরটা-সবজি।তার পরের দিনও।তার পরের দিনও।আর বাথরুমের সামনে লাইন। তিন দিনের দিন সপ্তাহটা শেষ হলেই ট্রেনে উঠে বসি।আমি একা না আমার মত আরও কয়েকজন, যারা কখনোই বাসার বাইরে থাকে নি। ট্রেন ছাড়লে হাফ ছেড়ে বলি ‘হায় এ কোথায় এলাম’।

পরিশেষ: এরপর পাঁচ বছর ছিলাম সিলেটে। অসাধারন একটা সময় কেটেছে সেখানে। একটা সময় এমন হলো যে, লম্বা ছুটিতেও ঢাকা আসতাম না।আর, এরপর কোনদিনই ঘাসফড়িংদের সেই মিছিল দেখিনি।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১০:৫৩
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×