somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা বড় অসহায়

০৯ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথমেই বলে রাখছি, আমার এই পোষ্টটি অনেকেরই পছন্দ নাও হতে পারে।সে জন্য আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।যা লিখছি তা একান্তই আমার ব্যক্তিগত চিন্তা।ফিলিস্তিনের গাজায় গত দুই সপ্তাহ ধরে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল।মিডিয়ার কল্যানে আমরা সবাই সেখানকার নৃসংসতা দেখছি।আমরা পুরো মুসলিম জাতি হা করে তাকিয়ে আছি।মোটামুটি সবাই দোষ দিচ্ছি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে।এই পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিসদ কি করে তার নানা রকম সমালোচনা করছি।চীন বা ভারত কি করে, কোন পক্ষে যায় সেটা নিয়েও অনেক সমালোচনা।দুঃখের ব্যাপার মুসলিম দেশগুলোর এই সমালোচনা করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই।অথচ বিশ্বের প্রায় অর্ধেকেরও বেশি(আমার হিসাব ভুলও হতে পারে) মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে এই দেশগুলো।অথচ বিশ্ব রাজনিতীতে মুসলিম দেশগুলোর উল্লেখ করার মতো কোন অবস্থান নেই।তেলের দাম বাড়ানো কমানো ছাড়া বিশ্ব অর্থনিতীতেও এই দেশগুলোর ভূমিকা নেই বললেই চলে।একটা মুসলিম দেশও স্থায়ী জায়গা পায়নি নিরাপত্তা পরিসদে।অথচ ভারত,ব্রাজিলের মতো দেশ সেখানে স্থায়ি সদস্যপদ দাবি করছে।একটা মুসলিম দেশেরও যোগ্যতা নেই সেখানে স্থায়ী সদস্যপদ দাবি করার।আমরা জানি একটা দেশ অর্থনৈতিক ভাবে কতটা শক্ত, প্রযুক্তিতে কতটা অগ্রসর,সামরিক ভাবে কতটা শক্তিশালী তার উপর নির্ভর করে দেশটি বিশ্ব রাজনিতীতে কতটা প্রভাব ফেলবে তা।অথচ পুরো বিশ্বের তেল সম্পদের যোগানদার হয়েও মুসলিম দেশগুলো সেখানে যেতে পারেনি।তেল বেচা টাকায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে গড়ে উঠেনি তেমন শিল্প অবকাঠামো যা কিনা বিশ্ব বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে।গড়ে উঠেনি আই.টি. শিল্প যা কিনা হতে পারে তেলের চেয়েও বড় অর্থ আমদানি কারী।আমরা সবাই জানি ভারত শ্রেফ প্রবাসী জনশক্তি আর আই.টি. শিল্প দিয়ে কোথায় চলে গেছে।আজ বিশ্বের সব জায়গায় প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই ভারতীয় প্রবাসীদের দখলে।ভারতের সিলিকন ভ্যালিগুলো একদিন বন্ধ থাকলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নাড়া লাগে।শেয়ার পতন হয় সারা বিশ্বে।একশকোটির বেশি জনসংখ্যার চাপ মাথায় নিয়ে চীন দখল করে নেয় ইউরোপ,আমেরিকার বাজার।আর তেল বেচা টাকায় মধ্যপ্রাচ্যে গড়ে উঠে সাত তারা হোটেল, কৃত্রিম দ্বীপরাজ্য, শেখদের হারেম কিংবা চোখ ধাঁধানো স্টেডিয়াম।এই দেশগুলো সরাসরি যুক্তরাস্ট্রকে ভয় দেখনোর মতো প্রযুক্তি বা শক্তি ধারন করে না, তাই গোপনে অর্থনৈতিক মদদ দিয়ে যায় আফগানিস্তান, পাকিস্তানের জঙ্গিদের।আত্মঘাতি হামলায় যুক্তরাস্ট্র কিংবা ভারতের সরকারের কোন ক্ষতি হয় না, মারা যায় হাজার হাজার নিরীহ মানুষ।মুসলমানদের ইতিহাস আমি যেটুকু জানি সেটা বিরত্বের।মুহম্মদ (সঃ) থেকে শুরু করে খোলাফায় রাশেদিন কিংবা বীর যোদ্ধা সালাউদ্দিন সবাই ছিলেন বীর। বুকে বোমা বেধে গোপনে পেছন থেকে মানুষের উপর ঝাপিয়ে পরার নাম জেহাদ কিনা তা আমি জানি না তবে এর মাঝে বীরত্বের আমি কিছু দেখি না।আমরা মুসলমানরা পারিনি আমাদের নবীর সম্মানকে রক্ষা করতে। নামের সাথে ‘মুহম্মদ’ যুক্ত হলে তাই আমরা হয়ে যাই জঙ্গী, মানুষ হত্যাকারী।একটা মুসলিম দেশ কি আছে, যেখানে নিজস্ব একটা প্রযুক্তি অবকাঠামো আছে? আরব বিশ্বের বেশীর ভাগ দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলো কোন না কোন পশ্চিমা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা।নেই নিজস্ব কোন শক্তিশালী শিক্ষা অবকাঠামো।এর মাঝ থেকে যে দেশটিই জেগে উঠতে চায় তাকেই বসিয়ে দেয়া হয়।আমরা ইরাককে দেখেছি।আর এক্ষেত্রে মুসলিম দেশগুলোই সাহায্য করে যুক্তরাষ্ট্রকে।ইরাকযুদ্ধে সোদি আরবের মার্কিন বেসের কথা আমরা জানি।সৌদি আরবের এতটুকু সাহস নেই যুক্তরাষ্ট্রকে ‘না’ বলবার।কারন তেল বেচা টাকায় তারা কেবল কাপুরুষতাই কিনেছে।ইরানের সাথে সুম্পর্ক কয়টা মুসলিম দেশের আছে?যে লেবানন দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনকে সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে, তাদের সাথে মুসলিম দেশগুলোর কি সম্পর্ক তাও সবাই জানি।পাকিস্তান তো সম্ভবত পরবর্তী ইরাক হতে যাচ্ছে (পাকিস্তানের এটাই হওয়া উচিৎ, ইতিহাস ফিরে ফিরে আসে, ইতিহাস তার বদলা ঠিকই নিয়ে নেয়)।আমাদের বাংলাদেশ ব্যাস্ত অভ্যস্তরীন দুই দলের সমস্যা মিটাতে।একই ব্যাপার ইন্দোনেশিয়ায়।

একটা কম্পিউটার গেম খেলতাম কিছুদিন আগেও।এম্পায়ার আর্থ।প্রত্যেক দলের কিছু ন্যাচারাল রিসোর্স থাকে। তাই দিয়ে সভ্যতা গড়তে হয়।এক পর্যায়ে নিজের এলাকার ন্যাচারাল রিসোর্স শেষ হয়ে যায়। তখন হানা দেই অন্যদলের এলাকায়।এর আগেই নিজের রিসোর্স দিয়ে নিজের একটা শক্তিশালী সেনাবাহিনী,নৌবাহিনী আর বিমান বাহিনী বানিয়ে নেই। অন্যদলের এলাকায় হামলা করি সেই বাহিনী নিয়ে।অন্যদলটি আমার চেয়ে প্রযুক্তিতে আর ক্ষমতায় কম শক্তিশালী হলে হেরে যায় আমার কাছে।আমি তাকে নিশ্চিন্হ করে তার এলাকার ন্যাচারাল রিসোর্সের দখল নেই।আর যদি সে শক্তিশালী হয় তা হলে লেজগুটিয়ে পালিয়ে আসি।জগৎটাই এরকম।যোগ্যরা টিকে থাকে।আমরা মুসলমানরা বর্তমানে টিকে থাকার চেষ্টা করছি। কিন্তু আমাদের সেই শক্তি নেই।নেই, কারন আমাদের কোন যোগ্য নেতা ।তাই ইসরায়েল যখন তার সব শক্তি নিয়ে গাজায় ঝাপিয়ে পড়ে, আমরা লুকিয়ে কাদিঁ আর অপেক্ষা করি যুক্তরাষ্ট্র,চীন কিংবা নিরাপত্তা পরিসদ এসে সব সমস্যার সমাধান করে দিবে।আমরা বড় অসহায় খোদা।বড়ই অসহায়।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:০৩
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×