গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চলে যেখানটায় প্রাচীনকালে একটি সভ্যতা ছিলো বলে ধারনা করা হয়, সেখানে এক অতি পুরোনো প্রজাতির আদি স্তন্যপায়ী প্রাণীর ফসিল পাওয়া গেছে। সাড়ে চার লক্ষ বছর পূর্বে এই প্রজাতিটি বিলু্প্ত হয়ে যায়। এ প্রজাতি দুটি স্তম্ভের মতো জিনিসের উপর ভর দিয়ে চলাফেরা করতো বলে ধারনা করা হয়। প্রাণীটির ভেতর নিম্নস্তরের বুদ্ধিমত্তারও বিকাশ ছিলো বলে প্রমান পাওয়া গেছে। এই প্রজাতির কাছাকাছি প্রজাতির আরো কিছু প্রাণীর ফসিল নিকট অতীতে পৃথিবীর আরো কয়েকটি জায়গায় পাওয়া গেছে। ঠিক কি কারনে এই প্রজাতিটি বিলুপ্ত হয়ে যায় তা এখনো জানা যায় নি। একদল বিজ্ঞানী বলেছেন বিশাল এক উল্কাপাতের ফলে পৃথিবীতে মহাবিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়। যার ফলে এই প্রজাতি ধ্বংস হয়ে যায়। ফসিলের আশেপাশে পাওয়া ব্যাপক মাত্রার রেডিয়েশনই তার প্রমান রাথে। অন্য একদল বিজ্ঞানী অবশ্য বলেছেন এই প্রজাতিটি সভ্যতার উন্নতির এক পর্যায়ে নিজেদের মাঝে যুদ্ধ বিগ্রহ করে নিজেরাই নিজেদের ধ্বংস করে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটির দিকে তাকিয়ে বিজ্ঞান একাডেমির প্রধান ব্রুটান ভ্রু কুঁচকালেন। ন্যাশনাল সায়েন্স ম্যাগাজিনের প্রথম পাতার খবর। বিজ্ঞান একাডেমির একদল বিজ্ঞানী আর স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ব বিভাগের ছাত্র শিক্ষক মিলে একটা দল যায়গাটিতে খোড়াখুড়ি করছে গত একমাস ধরে। দীর্ঘ একমাসের চেষ্টার পর একটা ভালো নমুনা পাওয়া গেছে। জায়গাটিতে একবার গিয়ে সরেজমিনে দেখে আসলে নেহাত খারাপ হতো না। তিনি তার উপদেষ্টাকে ফোন করে একটা উভচর যান ঠিক করতে বললেন।
ব্রুটান যখন সাইটটিতে এসে হাজির হলেন, তখন সূর্য দীগন্তে হেলে পড়েছে। অস্তমান সূর্যের রক্তিম আভা পুরো আকাশ টাকে লাল করে রেখেছে। ব্রুটান সরাসরি ফসিলটিকে দেখতে চলে গেলেন।
একটা কাঁচের ঘরে রাখা আছে ফসিলটি। আদিম প্রাণীটি দৈর্ঘে প্রায় ছয়ফুট।ঠিক উপরে একটা অর্ধবৃত্তাকার অংশ আর নীচের দিকে দুটো লম্বা অংশ আছে প্রাণীটির। ফসিল হওয়ার কারনে কালচে রঙ ধরে আছে। ফসিলটিকে পর্যবেক্ষন শেষে ব্রুটান সাইটটির দায়িত্বে থাকা পরিচালক কিহিনের সাথে দেখো করতে গেলেন। সম্ভাষন শেষে তারা সদ্য প্রাপ্ত ফসিলটি নিয়ে আলোচনা শুরু করলেন।
-মহামান্য ব্রুটান, এ যাবত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এই প্রানীদের ভেতর এক প্রকার মধ্যম প্রজাতীর বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটেছিলো।এমনকি তারা পৃথিবীব্যাপী এক ধরনের সভ্যতারও সূত্রপাত করেছিলো। প্রাণীটির ফসিল যেখানে পাওয়া গেছে সেখানে সে সভ্যতারও কিছু নিদর্শন পাওয়া গেছে।
-প্রাণীটি কিভাবে বিলুপ্ত হলো তা তা সম্পর্কে কিছু জানতে পারা গেছে?
ভ্রু কুচকেঁ ব্রুটান জানতে চাইলো।
-প্রাণীটির ফসিল যেখানে পাওয়া গেছে সেখানে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় রেডিয়েশনের সন্ধান পাওয়া গেছে। এ থেকে আমরা ধারনা করছি যে কোন প্রকার উল্কা পাত বা পারমানবিক বিস্ফোরনই প্রজাতিটির বিলুপ্তির কারন।
ব্রুটান কি যেন চিন্তা করলেন। তারপর জানতে চাইলেন, ‘আর কোন কিছু কি জানা গেছে, প্রাণীটি সম্পর্কে?’
-জ্বী মহামান্য ব্রুটান। প্রাণীটি নিজেদেরকে ‘মানুষ’ বলে অভিহিত করতো। প্রাণীটির কাছে প্রাপ্ত একটি ক্রীষ্টাল ডিস্কে রাখা কিছু তথ্য থেকে আমরা এটা জানতে পেরেছি।
-হুমম, তাহলে অতি শীঘ্রই বের করার চেষ্টা করুন, এই বুদ্ধিমান প্রাণীটি ঠিক কি কারনে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেলো। আর এ সম্পর্কে একটা রিপোর্ট আমাকে জানান।
এই বলে ব্রুটান সেদিনের মতো গবেষনাগার থেকে বের হয়ে এলেন।
তিন মাস পর ব্রুটান যে রিপোর্ট টি পেলেন, তা দেখে তিনি বেশ অবাক হলেন। রিপোর্ট অনুযায়ী ‘মানুষ’ নামের এই বুদ্ধিমান প্রাণীটা নাকি নিজেরাই নিজেদের সাথে যুদ্ধ করে ধ্বংস হয়ে গেছে।সাড়ে চার লক্ষ বছর পূর্বে নিজেদের মাঝে এক পারমানবিক যুদ্ধে প্রজাতিটি নাকি সম্পূর্ণ ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায় আর একই সাথে পৃথিবীকেও ফেলে দেয় হুমকীর মুখে।যার ফলে তাদের সাথে সাথে আরো অনেক প্রাণীই বিলুপ্ত হয়ে যায় পৃথিবী থেকে।
রিপোর্টটি পড়ে ব্রুটান খুবই আশ্চর্য হলেন। কিভাবে একটা বুদ্ধিমান প্রজাতি নিজেরাই নেজেদের ধ্বংস করতে পারে। আদতেই কি প্রজাতিটি বুদ্ধিমান ছিলো!একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ব্রুটান তার আটটি পা মেলে অফিস থেকে বের হয়ে আসেন।
আদি পৃথিবীর মাকড়শা প্রজাতীটির বিবর্তিত রুপের বুদ্ধিমান প্রজাতিটি তখন পৃথিবীব্যাপী একটা নতুন অতি উন্নত সভ্যতার জন্ম দিয়েছে।ব্রুটান তাদেরই একজন।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৭:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



