পূবের পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে ক্রি অদ্ভুত মহাকাশযানটির দিকে তাকিয়ে ছিলো। কি মসৃন সেটার বাইরের দিকটা। সকালের লালচে আলো সেটার গায়ে প্রতিফলিত হয়ে অদ্ভুত দৃশ্য তৈরী করেছে। ক্রি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। এতো সুন্দর মহাকাশযানটি যারা বানিয়েছে, তারা নিশ্চয়ই অনেক বুদ্ধিমান। কতদিন ধরে ক্রি রা অপেক্ষা করছে, এই মহাবিশ্বের কোন একটি বুদ্ধিমান প্রাণীর অস্তিত্ব খুঁজে বের করতে। তারা তাদের অগ্রসরমান প্রযুক্তি দিয়ে প্রায় আটশ বছরে ধরে মহাবিশ্বের এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে সংকেত পাঠাচ্ছে যদি কোনদিন একটা বুদ্ধিমান প্রাণী সেটা পায় আর সেটার মর্ম উদ্ধার করতে পারে। বুদ্ধিমান প্রাণীর বৈশিষ্ট্যই হলো নিজেদের মাঝে ভাব বিনিময় করা। তাই তারা মহাবিশ্বের সব প্রান্তে বার্তা পাঠিয়ে গিয়েছে এতোদিন ধরে। সব বার্তাতেই ছিলো বন্ধুত্বের আহ্বান, ভালোবাসার আহ্বান। আর তার সাথে ছিলো কিছু বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষনের তথ্য। প্রাইম নাম্বারের কিছু সমস্যা আর পাইয়ের মান নির্ণয় সঙ্ক্রান্ত কিছু সমস্যা।
অবশেষে তাদের দীর্ঘ অপেক্ষার পালা শেষ হয়। ক্রি তাদের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের একজন কর্মী। ক্রি এর কাজ হলো বর্হিবিশ্ব থেকে যদি কোন উত্তর আসে, তা মনিটর করা। ক্রি সেদিনও প্রতিদিনের মতো গবেষণা কেন্দ্রে এসে মনিটর টা খুলে দেখছিলো, কোন সিগনাল পাওয়া যায় কিনা। কখনোই পাওয়া যায় না। হয়তো এই মহাবিশ্বে তারাই একমাত্র প্রাণী, হয়তো এটাই একমাত্র গ্রহ যেখানে বুদ্ধিমান প্রাণের আবির্ভাব হয়েছে। তাই প্রতিদিনের মতো সেদিনও সে অলস ভাবেই মনিটর টা খুলে দেখছিলো।
ক্রি খুবই অবাক হলো, যখন সেখানে একটা সিগনাল দেখতে পেলো। বোঝাই যাচ্ছে, খুব বুদ্ধিমান কোন প্রাণী।তাদের তৈরী সাত মাত্রার এনক্রিপশন কোডেরও কি সুন্দর সমাধান করেছে প্রাণীগুলো। ক্রি নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলো না। সে আবারো কমিউনিকেশন মনিটরটা দেখলো। নাহ, কোন ভুল নেই। সাথে সাথে সে তার রিসার্চ কো অর্ডিনেটরকে ব্যাপারটা জানালো। পুরো গবেষনাগারে হুলস্থুল পড়ে গেলো। অবশেষে একটা বুদ্ধিমান প্রাণীর সন্ধান পাওয়া গেছে, যারা প্রাইম নাম্বার যানে, যারা পাইয়ের মান দশমিকের পর অনেকদূর পর্যন্ত বলতে পারে।
পরের কয়েকদিন চললো সেই বুদ্ধমান প্রাণীগুলোর সাথে যোগাযোগ করার পর্ব। অনেকবার তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলো।তারা বন্ধুত্বের আবেদন গ্রহন করে এখানে আসতে চাইলো। তাদের জ্ঞান বিজ্ঞানের সাথে ক্রি দের জ্ঞান বিজ্ঞান বিনিময় করতে চাইলো।
আজ সেই দিন। বুদ্ধিমান প্রাণীগুলো এই গ্রহে এসেছে। ক্রি সহকর্মীদের সাথে পাহাড়ের উপর দাড়িয়ে আছে। মহাকাশ যানটি ছোট্ট উপত্যকায় নামছে। কেমন হবে জীব গুলো। এতো বুদ্ধিমান প্রাণী। নিশ্চয়ই তাদের বুক ভরা থাকবে ভালোবাসা। বন্ধুত্ব হবে তাদের সাথে। তাদের জ্ঞান বিজ্ঞানের সাথে বিনিময়ে সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে এই গ্রহের জ্ঞান বিজ্ঞান। তাদের কাছে কি ওয়ার্মহোল তৈরীর প্রযুক্তি আছে। তাহলে নিশ্চয়ই তারা সেই প্রযুক্তি দিয়ে সাহায্য করবে ক্রিদের। ভালোবাসা আর বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিব।
মহাকাশ যানটির যেখানে নামার কথা, সেখানে না নেমে সেটা ক্রিদের মাথার উপর দিয়ে এক চক্কর ঘুরে এলো। তার পর ছোট্ট কি একটা নামিয়ে দিলো। ক্রি আর তার সহকর্মীরা অবাক হয়ে দেখলো সেই ছোট্ট জিনিসটা মাটিতে পরামাত্রই মাশরুমের মতো একটা ধোঁয়ার কুন্ডলী উপরে উঠে গেলো। ক্রিরা তখনো জানতো না, সেটা ছিলো অতিশক্তিশালী একটা পারমানবিক বোমা। এর ঠিক দশ মিনিটের মাঝে গ্রহটির সব প্রাণী নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলো।
এর বেশকিছু পরে সেখানে মহাকাশযানটি অবতরন করলো। মহাকাশযানটির ছোট্ট দরজা দিয়ে নিরাপত্তা পোষাক পরা অবস্থায় বেরিয়ে এলো কিছু প্রাণী। প্রাণী গুলো কিছুক্ষন ঘুরে ঘুরে কিছু নমুনা সংগ্রহ করলো গ্রহটি থেকে। নমুনা গুলো তাৎক্ষনিক পরীক্ষা করে তারা নিশ্চিত হলো, যে এই গ্রহটি আসলেই তেল, গ্যাস আর ইউরেনিয়ামের এক আস্ত গুদাম। প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ন। গ্রহটার আবহাওয়াও অনেকটা তাদের গ্রহের মতোই। এখানে একটা নিম্নস্তরের বুদ্ধিমত্তার প্রাণীর উদ্ভব হয়েছিলো।যারা একধরনের সভ্যতারও জন্ম দিয়েছিলো। কিছুক্ষণ আগে প্রাণী গুলোকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়েছে।মহাকাশযান থেকে নেমে আসা প্রাণী গুলো একজন আর একজনের দিকে তাকিয়ে কি যেন বললো।
মহাকাশযান থেকে নেমে আসা প্রাণীগুলো ছিলো একদল মানুষ।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


