আমাদের রফিকের হাইট সাকুল্যে ৪ফিট ১০ ইঞ্চি। কিন্তু কলিজাটা বিশাল। তখন পড়ি নটর ডেম কলেজে। দুরন্ত যৌবন।
নটর ডেমের সিস্টেম ছিল ক্লাসের পাশাপাশি ক্লাব না করলে ইজ্জত থাকতো না। সায়েন্স ক্লাব, ডিবেটিং ক্লাব এমন অনেক ক্লাব ছিল। একদল ছিল বনে বাদারে ঘুরে বেড়াত, তাদের ক্লাবের নাম ছিল নেচার স্টাডি ক্লাব। আমাদের রফিক জুটে গেল সায়েন্স ক্লাবে।
প্রতি বছর সায়েন্স ফেয়ার হয়। কোনোবার হলিক্রসের সঙ্গে, কোনোবার ভিকিদের (মানে ভিকারুননিসা) সঙ্গে। এখন যৌবন যার সায়েন্স ফেয়ারে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়- বলে রফিক ঝাপিয়ে পড়ল। তাকে ফেয়ার কমিটিতে রাখতে হবে। কারণ কি? কারণ সুইট সুইট মেয়েরা নাকি এবারের ভিকি কমিটিতে আছে।
আমরা মোটামুটি মেনে নিলাম। সাধারণত কমিটিতে থাকে তিন জন, সেবারে আমাদের চার জনের কমিটি হল।
ছোট মরিচের ঝাল বেশি, রফিক ফেয়ারের তিন দিনের দিন তার প্রতিভার পরিচয় দিল। একজনকে তার হেব্বি মনে ধরছে। আর সেই মেয়ে ভিকির কমিটিতে আছে। রফিক বললো বালিকাও নাকি রাজী। আমরা মাশাল্লা বলে রফিকের টাকায় ডিম চপ আর কোক খাইলাম।
বামন হয়ে চাদে হাত বলে একটা কথা আছে, সেই মেয়েকে দেখে আমাদের মনে হলো রফিক সৌরজগতের বাইরে হাত দিয়া বসে আছে। মেয়ের হাইট পাচ ফিট পাচ।
ফেয়ারের শেষ দিন। গ্রুপ ফটো তোলা হবে। গ্রুপ ফটো মানে আমরা চারজন আর ভিকি তিন জন। যৌথ আয়োজনের ফেয়ার দুই কলেজ মিলে হয়েছিল। এখন ফটো তোলার সময় রফিককে অবশ্যই তার কলিজার টুকরার পাশে দাড়াতে হবে।
এখন সমস্যা হলো প্রেয়সীর পাশে রফিককে মনে হলো বাংলাদেশের আমদানী-রপ্তানীর বার গ্রাফ।
বন্ধু আরিফ বললো, দোস্ত, তাই দুইটা ১০ ইঞ্চি ইটার উপরে দাড়া। ফটো ভালো হইবো। রফিক প্রথমে রাজী হয়নি। পরে তাকে বুঝানো হলো ব্যাটা ফটো সারাজীবনের বিষয়, এর জন্য দুই মিনিট ইটার উপরে দাড়াইতে পারবি না?
রফিক আমতা আমতা করে রাজী।
ফটো তোলা হলো। ফটোগ্রাফার কিবরিয়া। ফটো একদিন পরে প্রিন্ট করে আনা হলো। আমরা সবাই সেখানে হাসিমুখে দাড়ানো
এবং রফিকের পায়ের নিচে দুইটা ইট বহাল তবিয়তে দৃশ্যমান। ব্যাটা কিবরিয়া ইচ্ছা করে ইটা তো ইটা, তারও নীচে দুই হাত বাড়তি রেখে ফটো তুলেছিল।
এরপর দুইমাস কিবরিয়া কলেজে আসতে সাহস পায়নি। এদিকে কলেজে রফিকের নাম হয়ে গেছে ইটা রফিক।
শেষ কথা : সেই ফটো আমরা রফিকের বিয়েতে চামে গিফট দিয়েছিলাম। চামে মানে হলো, একটা প্রাইমারি গিফট তো ছিলই, সঙ্গে ফটো হলো এটাচমেন্ট ফাইল। বোনাস।
রফিক সেই বালিকার সঙ্গে আজও সুখের সংসার করছে। রফিক দোন্ত, মাফ কইরা দিস। সবাই তো ষড়যন্ত্রে ছিলাম।
পুনশ্চ : এই লেখা প্রকাশের পর রফিকের হাতে খুন হয়া না গেলে আরো দুই একটা কাহিনী বর্ণনার খায়েশ রখি।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০০৭ দুপুর ১:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



