somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গ্রামের বাধ্যতামূলক পাগল সমাচার

০৩ রা অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

০১.
একটা গল্পে বেশ নাড়া খেয়েছিলাম অনেক আগে।

গল্পটা এইরকম...

বেশ অনেক আগে দেশের প্রত্যন্ত একটি এলাকার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল, প্রতি বছর সেখানকার কোনো না কোনো গ্রামের অন্তত একজন পগল হয়ে যেত। ঘটনাটি সবসময় ঘটত ভাদ্র মাসের তালপাকা গরমে।

এনজিও আর গ্রাম্য টাউট তেমন একটা না থাকাতে সে এলাকার খবর শহুরে খবরের কাগজে পাত্তাও পেত না। বিষয়টি তাই অজানাই থেকে গিয়েছিল।

বছরওয়ারি পাগলের ঘটনা সেখানে অনেকটা প্রাকৃতিক রেওয়াজ হয়ে গিয়েছিল। ফলে যখন কোনো বছর খবর পাওয়া যেত "রসুলপুরের আলাতাফ মুন্সির বড় পোলাডা কেমুন জানি করতাছে..." তখন এলাকার লোকজন ভাবত, এই তো। ঘটনা ঘইটা গেছে। এরপর চায়ের দোকানে, জমির আইলে গ্রাম্য আড্ডার বিষয় হয়ে যেত আলাতাফ মুন্সির বড় পোলা।

এর পাশাপাশি দুই একজন হয়তো মনে মনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলত। যাক, আমার মাইঝ্যা মাইয়াডার জ্বর হইছিল তিন দিন আগে। তবুও ডর নাই, এইবার আলাতাফ মুন্সির পোলার উপর দিয়া গেছে।

সেই গ্রামে একদিন আমদানী হল ফজল নামের এক লোক। গ্রামে তো আর বাসা ভাড়া নেয়ার সিস্টেম নেই। গ্রামে স্থায়ী বাসিন্দা এক উপায়েই হওয়া যায়, সেটা হলো ঘরজামাই সিস্টেম। ফজলও সে গ্রামে গিয়ে "কালু শেখের জামাই" নামটি পেয়ে গেল। ক্রমে তার ফজল নামটি হারিয়ে গেল নতুন পরিচিতির আড়ালে।

"কালু শেখের জামাই" এখন এলাকার নতুন জামাই, গ্রামের সবাই আদর যত্ন করে। সেও সবার সাথে মিশে গেল। বিয়ে হয়েছে শীত কালে। ক্রমে সে শীত পার হয়ে আম কাঁঠালেও দিনও যখন যায় যায়, তখন আবার পুরোনো সে আশঙ্কা দেখা দিল গ্রামের লোকদের মাঝে। এ ঘটনা এক সময় কালু শেখের জামাইয়ের কানেও গেল। বেচারা সাধাসিধে টাইপের লোক। (নইলে কি আর ঘরজামাই থাকে!) সে বেশ ভয় পেয়ে গেল।

গ্রামের পুরোনো লোকের জন্য যে বিষয়টি অস্বস্তির সেটিই কালু শেখের জামাইয়ের জন্য হয়ে গেল আতঙ্কের। ইতিমধ্যে আশপাশের গ্রামের পরিচিত লোকদের সে জিজ্ঞেস করল তাদের গ্রামে কেউ পগল হয়েছে কি না। কোনো খোঁজ পাওয়া গেল না। এবার সে স্বল্প পরিচিতদের জিজ্ঞেস করতে শুরু করল। সেখানেও ফল পাওয়া গেল না, নতুন কোনো পাগলের কথা কেউ বলতে পারে না।

এবার তার মাথায় নতুন একটি বুদ্ধি আসল। এভাবে তো আর হবে না। ভ্রদ্র মাস এলো বলে। আশপাশের দশ গ্রামের সব বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিলেও অনেক সময় চলে যায়। সে সোজা বুদ্ধি বের করল। হাটবারে গিয়ে হাটের লোকদের জিজ্ঞেস করতে শুরু করল, তারা কোনো নতুন পগলের খোঁজ দিতে পারে কি না।

হাটের লোকজন প্রথম দিকে তার কথার উত্তর দিলেও কয়েকদিন পর তাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করল। এবার তার দরকার পড়ল দৃষ্টি আকর্ষণ করা, নইলে লোকজন তার কথা শোনে না। সে পরনের লুঙ্গি মাথায় পেচিয়ে হাটের মাঝখানের বটতলায় দাঁড়িয়ে গেল। "ভাইসব, ভাইসব, আপনাদের গ্রামে নতুন কোনো পগলের খবর পেলে আমাকে জানায়েন। অন্যদের চিন্তামুক্ত রাখা আমাদের দায়িত্ব... ভাইসব, ভাইসব..."

কথাটি প্রথম তুলল জমির মিয়া। শুক্রবার জুম্মাঘরে নামাজ শেষে সে পাশের জনকে বলল, হাটের মধ্যে দেইখা আসলাম, কালু শেখের জামাইটা পড়নের লুঙ্গি নিশানের মতো উড়াইতাছে। এই বছর মনে হয় কালু শেখের জামাইয়ের উপর দিয়া গেল।

গল্পটা এখানেই শেষ। অনেক দিন আগে শুনেছিলাম বা পড়েছিলাম।

০২
ওপরের গল্পটি আজ আবার মনে করিয়ে দিলেন ব্লগার রহমান হেনরী।

ব্যান খেয়ে তিনি সব ব্লগাররে সাবধান করছেন


বিশ্বাস না হয়, নিচের লিঙ্কগুলায় দেখুন

অসময়ের হাইকুরা লিখেছেন নীরব
Click This Link

হাতুড়ি ব্লগ এবং একটি হাতুড়িয় ইতিবৃত্ত লিখেছেন জটিল Click This Link

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে ইউনূস খান লিখেছেন লোকটিকে বাঁচানো গেলোনা
Click This Link

স্বাধীন ০৮ লিখেছেন ধর্মীয় পোস্ট নিষিদ্ধ করে দিলে কেমন হয়? Click This Link

আশ্চর্য্য! প্রিয় নবীরে কে কি কইছিল!! লিখেছেন লাল দরজা Click This Link

কনসার্ট ফর বাংলাদেশ নিয়ে লিখেছেন অসমাপ্ত
Click This Link

ব্লগার মিলটন লিখেছেন তার দুই বেলার ঈদ নিয়ে
Click This Link

বৃষ্টির কমনসেন্স নিয়ে লিখেছেন কৌশিক
Click This Link

হোসেইন লিখেছেন আগের বছরের পাগল মহাকবি মেহেদী কে নিয়ে
Click This Link

এরকম আরো কতো পোস্টে উনি পায়ের ধূলা রাখছেন এক মাবুদে এলাহী জানেন। ব্লগে আসতে না আসতেই "পেলাডা আউলা হইয়া গেল গা"।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:০১
১০টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×