somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাঁঠাল সমগ্র

১৯ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ১০:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রত্যেক বছর গরমকালে আমি একটা না একটা বিষয় উপলব্ধি করি। স্কুলে থাকতে কোন এক গ্রীষ্মে উপলব্ধি করেছিলাম যে দুপুর বেলা গোসল কইরা মাথার চুল আঁচরায়া ঘুমাইতে ব্যাপক আরাম। গত বছর গরমে উপলব্ধি করেছিলাম যে ...... থাক সেই কাহিনী আরেকদিন বলব। আজকে এই গরমকালে মানে ২০১১ সালের গরমকালে কী উপলব্ধি করলাম সেই গল্প বলি। আমি উপলব্ধি করতে পারলাম বাংলাদেশের জাতীয় ফল কেন কাঁঠাল। বাংলাদেশে আমের মত একটা অসাধারণ স্বর্গীয় ফল যখন এত বিপুল পরিমানে হয় তখন কোত্থেকে কাঁঠাল জাতীয় ফল হয়? এই প্রশ্ন বাল্যকাল থেকেই আমার মাথায় ঘুরপাক খেত। (আরেকটা প্রশ্ন আমার মাথায় ঘুরপাক খেত। সেটা হল আমাদের দেশে ডাইনে বাঁয়ে এত গরু থাকতে রয়েল বেঙ্গল টাইগার কেন জাতীয় পশু? এখন বুঝি গরুরে জাতীয় পশু বানাইলে ইজ্জত থাকত না) এবারের গ্রীষ্মকাল আমার চোখ খুলে দিল। গরমের যে সময়ে রাস্তাঘাটে কাঁঠাল উঁকিঝুকি দিতে শুরু করে সেই সময় থেকে চোখের সামনে কাঁঠাল ব্যতীত কিছু দেখি নাই। রাস্তাঘাটে সুন্দরী তরুণী হেঁটে গেলেও কাঁঠালের চোটে তাকে দেখা যায় না। কোন না কোন চিপা থেকে কাঁঠালের স্তুপ এসে হাজির হয়ে তরুণীকে ঢেকে দেয় (চরম রাগের ইমো হবে)। একটু খোলাসা করেই বলি তাহলে। কাঁঠালের মৌসুমে এত কাঁঠাল আমি আগে দেখি নাই। সকালে কাঁঠাল, বিকালে কাঁঠাল, সন্ধ্যায় কাঁঠাল, রাইতে কাঁঠাল। কাঁঠালময় দিবস-রজনী। আব্বা বাসায় ফেরে কাঁঠাল নিয়ে, আম্মা ফেরে কাঁঠাল নিয়ে, ভাই চাকরি করে সেও দেখি কাঁঠাল নিয়ে ফেরে। কাঁচা কাঠাল এবং পাকা কাঁঠাল উভয়েই প্যারালালি সার্ভিস দিয়ে যায়। দুপুরের খাবারে কাঁঠালের তরকারি, রাতের খাবারে কাঁঠালের তরকারি এবং খাওয়ার পরে ডেজার্ট হিসেবে পাকা কাঁঠাল। সকালের রুটি দেখি কাঁঠালের ফ্লেভারযুক্ত। কাঁঠালের রস দিয়ে তৈরিকৃত রুটি। ভালই। ও হ্যাঁ আত্মীয়-স্বজন বাদ পড়েছে। মামার বাড়ি থেকে কাঁঠাল আসে, ভাইয়ের শ্বশুর বাড়ি থেকে কাঁঠাল আসে। একটা করে পাঠালেই কিন্তু হয়, তা না একাধিক পাঠাতে হবে। আমাদের বাসা থেকেও দেখি কাঁঠাল-টাঠাল যায়। এক্সিলেন্ট। সকালে বের হলাম দেখি বাসার সামনে কাঁঠালওয়ালা। বিকালে বাসায় ফিরি দেখি সেইখানে আরেকজন কাঁঠালওয়ালা দাঁত বের করে হাসতেসে। মুরুব্বিরা দেদারসে সেই কাঁঠাল কিনছেন। সেই কাঁঠাল বহন করছে তাদের এসিস্ট্যান্ট জোয়ানরা। যাওয়া আসার পথে ফুঁটপাতে কাঁঠালওয়ালা, রাস্তায় কাঁঠালের গাড়ি, সামনে থেকে একজন কাঁঠাল নিয়ে আসছেন, পেছন থেকে আরেকজন কাঁঠাল হাতে নিয়ে আমাকে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে। ডাইনে-বাঁয়ে কাঁঠাল গাছে দেখি গর্বের সাথে কাঁঠাল ঝুলতেসে। আক্ষরিক অর্থেই উপরে কাঁঠাল, নিচে কাঁঠাল, ডানে এবং বাঁয়ে কাঁঠাল। ঢাকা শহরের যেই এলাকাতেই যাই না কেন আবালবৃদ্ধবণিতার হাতে এক বা একাধিক কাঁঠাল। কেউ কাঁঠাল নিয়েছেন কাঁধে, কেউ কোলে, কেউ প্যাকেটে করে ঝুলিয়ে। মানুষের হাতে যখন কাঁঠাল থাকবে তখন বুঝতে হবে রাস্তা ওপরেও প্রচুর কাঁঠালের উচ্ছিষ্ট অংশ পড়ে থাকবে এবং হয়েছেও তাই। ঢাকা শহরে জ্যান্ত গরু-ছাগলের ক্রাইসিস আছে সে কারণেই দিনের পর দিন রাস্তায় পড়ে থাকা কাঁঠাল বহাল তবিয়তেই সেখানে থেকে যাচ্ছে। ভাগ্য ভাল যে পড়ে থাকা কাঁঠালের উচ্ছিষ্টে আছাড় খাই নাই। ভাল কথা, গাজীপুরের ঐদিকে এর মধ্যে যাই নাই। ওখানে গেলে যে কী দেখতাম আল্লাহ জানেন। ওখানে বোধহয় কাঁঠাল দিয়ে ঘরবাড়ি তৈরি করা হচ্ছে।

কাঁঠালের মৌসুম আস্তে আস্তে শেষ হয়ে আসছে। রান্না ঘরে অর্ধেক ভাঙ্গা কাঁঠালের গড়াগড়ি করার দিনও ফুরিয়ে আসছে। আমার এই লেখা দেখে ভাববেন না আমি একজন কাঁঠাল বিদ্বেষী। এই ধরণীতে পাওয়া যায় এবং হালাল এমন সব খাবারই আমার অত্যাধিক প্রিয়। যদিও এবার ঢেঁকুরের ভয়ে কাঁঠাল বেশি খাওয়া হয়নি। তবে আমার নয়ন এবার কাঁঠাল দর্শন করেছে একেবারে মন ভরে। সবাইকে কানে কানে একটা কথা বলে রাখি। আমি যদি সামনে নতুন রাজনৈতিক দল খুলে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হয় তবে আমার মার্কা হবে নিঃসন্দেহে কাঁঠাল। আমার কাঁঠালের চোটে নৌকা আর ধানের শীষ যে কই পগাড় পার হবে। তাদেরকে আর হারিকেন দিয়ে খুঁজেও পাওয়া যাবে না (কুটিল মার্কা হাসির ইমো হবে)।

বিঃদ্রঃ একটা বিঃদ্রঃ না দিলে একেবারেই ভাল লাগে না। তাই দিই। কাঁঠালের মৌসুম তো শেষ হল। সগৌরবে আবারও ২০১২ সালে আরেকটি কাঁঠালের মৌসুম আসবে। বাংলাদেশে কাঁঠালের বাম্পার ফলন হবে। চেয়ারময়ান, এমপি সাহেব এবং ক্ষমতাশালী সরকারি কর্মকর্তাদের বাসায় তদবির নিয়ে যাওয়ার সময় মানুষ নিজের আম গাছের কাঁঠাল নিয়ে হাজির হবে। তবে একটাই অনুরোধ। অফ সিজনে কাঁঠালের জুস খাওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করবেন না।

[পূর্বে আমার ফেসবুক নোটে প্রকাশিত]
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪০




সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×