গোলাম মোস্তফা ফারুক, লন্ডন থেকে
ভালোবাসার মানুষটিকে পানিতে পড়ে যেতে দেখে তাকে উদ্ধার করার জন্য প্রেমিকাও পানিতে ঝাঁপ দেয়। এতে দু’জনেরই সলিল সমাধি ঘটে। ইংল্যান্ডের বার্মিংহাম শহরে এ হূদয়বিদারক ঘটনায় এক বাঙালি পরিবার ও শ্বেতাঙ্গ পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম। ফয়েজ উদ্দিন (১৮) ও সারা লেনসি (১৭)।
একে অপরকে ভালোবাসতেন। আর সেই ভালোবাসার মানুষটি যখন পানিতে পড়ে গেল জীবন বাজি রেখে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন সারা। বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় ফয়েজ উদ্দিন মাকে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। সন্ধ্যা ৭টায় মা তাকে মোবাইলে ফোন করে ঘরে ফিরতে বলেন। জবাবে মাকে আর অল্প কিছুক্ষণ পরই বাসায় ফেরার কথা জানায় ফয়েজ। বাসার অদূরে স্মেথ উইক খালের পাশ দিয়ে ফয়েজ তখন হাঁটছিল। মুহূর্তেই সে ২০ ফুট গভীর খালে পড়ে যায়। সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। ফয়েজকে পানিতে পড়ে যেতে দেখে তার প্রেমিকা সারা তাকে উদ্ধার করতে কিছু না ভেবেই পানিতে ঝাঁপ দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জরুরি বিভাগে ফোন করলে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। এ প্রেমিকযুগলকে উদ্ধার করতে পারলেও তাদের আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বার্মিংহামের একটি হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তাররা দু’জনকেই মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় বার্মিংহামে বাঙালি ও শ্বেতাঙ্গ পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। মা-বাবা ছেলের এই অকালমৃত্যুতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। প্রতিবেশীরা তাদের সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন। এমন মেধাবী তরুণ ছেলের মৃত্যুতে সবাই শোকাহত। ফয়েজ বাবা-মার সঙ্গে থাকত স্মেথ উইকের ৭ নম্বর হেনসন হাউসে। সে পড়াশোনা করত স্থানীয় হেলসওয়েন কলেজে। তার দেশের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মাত্তিউড়া গ্রামে। বুধবার রাত ১০টায় পুলিশ ফয়েজ উদ্দিনের বাসায় ফোন করে তার মৃত্যুর খবর জানায়। ফয়েজ ও সারার সম্পর্ক বেশিদিন আগের নয়। তারা একে অপরকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন। তবে তা পরিবারের কাউকে জানতে দেয়নি। দু’জন দুটি জাতিগোষ্ঠীর এবং আলাদা ধর্মীয় বিশ্বাসের হওয়ায় সম্পর্কের কথাটি কয়েকজন বন্ধু-বান্ধব ছাড়া পরিবারের কাউকে জানায়নি। সারার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ইয়াজমিন এবং চেরা লুইস তাদের সম্পর্কের কথা জানত। চেরা লুইস বলে, কিছুদিন আগে ফয়েজকে ফেসবুকের মাধ্যমে সারা তার ভালোবাসার কথা জানায়।
পুলিশ তাদের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনও কিছু বলেনি। ঘটনাটি তদন্তে একটি টিম কাজ করছে। ফয়েজ ও সারার ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে কথা বলছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পশ্চিম বার্মিংহামের ব্রেসহাউস রোডের স্মেথ উইক ক্যানেলের যে স্থানে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে পুলিশ তদন্তের স্বার্থে তা জনসাধারণের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


