somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

এস এম ইসমাঈল
নতুনভাবে নিজের চিন্তার শক্তি আর ভাবনার বিশ্লেষণ করার সামর্থ অর্জনের জায়গা হল ব্লগ। বিচিত্র ভাবনারাশির আলোয় নিজেকে আলোড়িত আর আলোকিত করার উদ্দেশেই আমরা ব্লগে আসি। অবসর সময়টাকে ভালোভাবে কাটানোর জন্য এর চেয়ে মোক্ষম উপায় আর নেই। তদুপরি বিনোদন এখানে উপরি পাওনা

ইমাম জাফর সাদেক রহমাতুল্লাহি আলাইহি

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ বিকাল ৩:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইমাম জাফর আস সাদিক (রহঃ)
বর্তমান বিশ্বে যত তরীকতপন্থী লোক রয়েছেন, তাঁদের সকলেরই তরীকার প্রধানগণ হয় হযরত সৈয়্যদিনা মাওলা আলী কাররামুল্লাহি ওয়াজহাহু’র দ্বারা নয়তোবা ইসলামের প্রথম খলীফা হযরত সৈয়্যদিনা আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু’র দ্বারা খেলাফত প্রাপ্ত হয়েছেন। তরীকতসমুহের উত্সমূল অনুসরণ করলে দেখা যায় যে, পৃথিবীর সর্বপ্রথম মুসলিম হিসেবে হযরত সৈয়্যদিনা মাওলা আলী কাররামুল্লাহি ওয়াজহাহু এবং ইসলামের প্রথম খলীফা হযরত সৈয়্যদিনা আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু সর্বপ্রথম সরদারে দোজাঁহা হযরত নাবীয়ে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র পবিত্র হাতে বাইয়াত গ্রহন করে তাঁর নিকট তরীকতের তালীম নেন। পরবর্তীতে দুই মহান সাহাবী’র (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) কাছ থেকে সারা বিশ্বের মুসলমানেরা তরীকতের তালীম নেন। হযরত সৈয়্যদিনা ইমাম জাফর আস সাদিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি, এ উভয় সিলসিলার ফয়েজ ও বরকত হাসিল করেছেন।হযরত সৈয়্যদিনা মাওলা আলী কাররামুল্লাহিওয়াজহাহু’র পবিত্র নিসবত থেকে উত্সারিত কাদেরীয়া তরীকার নিসবত তিনি পেয়েছিলেন বংশানুক্রমে। আর চিশতিয়া তরীকার নিসবত তিনি হাসিল করেছিলেন কিবারে তাবিঈন হযরত কাসেম ইবনে হযরত সৈয়্যদিনা আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু’র কাছ থেকে। উপরন্তু হযরত সৈয়্যদিনা ইমাম জাফর আস সাদিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি হযরত কাসেম’র (রহঃ)কাছ থেকে খিলাফত ও তাওয়াজ্জুহ হাসিল করেছিলেন। হযরত কাসেম (রহঃ) হযরত সুলায়মান ফারসী রাদিয়াল্লাহু আনহু’র কাছ থেকে খিলাফত প্রাপ্ত হয়েছিলেন। হযরত সুলায়মান ফারসী রাদিয়াল্লাহু আনহু খিলাফত প্রাপ্ত হয়েছিলেন হযরত সৈয়্যদিনা আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছ থেকে। এভাবে ইমাম জাফর আস সাদিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি’র মাধ্যমে হযরত সৈয়্যদিনা মাওলা আলী কাররামুল্লাহি ওয়াজহাহু এবং হযরত সৈয়্যদিনা আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু’র তরীকাদ্বয়ের সংমিশ্রণ ঘটে। উল্লেখ্য যে, ইমাম জাফর আস সাদিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি সে যুগের সকল তরীকতপন্থী ইমামগণের কাছ থেকে তাওয়াজ্জুহ, ফুয়ুজাত ও বরকত লাভ করে ধন্য হয়েছিলেন। সে কারণে ইমাম জাফর আস সাদিক (রহঃ) কে বলা হয় সকল ইমামগণের ইমাম তথা ইমামে শরীয়ত, তরীকত, হাকিকত, মারেফত ও রুহানিয়াত। তাঁর পবিত্র সাহচার্যে ধন্য হয়ে কুফার সুবিখ্যাত ধর্মতত্ত্ববিদ হযরত নুমান বিন সাবিত ওরফে ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) ইমামে আজম হিসাবে বিশ্ব মুসলিমের কাছে স্মরণীয় ও বরণীয় হয়েছেন।

ইমাম জাফর আস সাদিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি’র পবিত্র বংশধারা হচ্ছে নিম্নরুপ ঃ-

হযরত সৈয়্যদিনা মাওলা আলী কাররামুল্লাহি ওয়াজ হাহু

হযরত সৈয়্যদিনা ইমাম হুসাঈন রাদিয়াল্লাহু আনহু

হযরত সৈয়্যদিনা ইমাম জয়নুল আবেদীন রহমাতুল্লাহি আলাইহি

হযরত সৈয়্যদিনা ইমাম বাকের রহমাতুল্লাহি আলাইহি

হযরত সৈয়্যদিনা ইমাম জাফর আস সাদিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি


শুধু তাই নয়, হযরত সৈয়্যদিনা ইমাম জাফর আস সাদিক রহমাতুল্লাহি আলাইহির কনিষ্ট পুত্র ইমাম মুসা আল কাজিম (রহঃ) ও জেষ্ট্য পুত্র ইসমাঈল (রহঃ) শিয়া-সুন্নী নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের কাছে সমানভাবে সম্মানিত।

কাদেরিয়া তরীকার সিলসিলা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ তরীকার নিসবত পরম্পরা নিম্নরুপ –

সরদারে দোজাঁহা হযরত নাবীয়ে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

হযরত সৈয়্যদিনা মাওলা আলী কাররামুল্লাহি ওয়াজহাহু

হযরত সৈয়্যদিনা ইমাম হুসাঈন রাদিয়াল্লাহু আনহু

হযরত সৈয়্যদিনা ইমাম জয়নুল আবেদীন রহমাতুল্লাহি আলাইহি

হযরত সৈয়্যদিনা ইমাম বাকের রহমাতুল্লাহি আলাইহি

হযরত সৈয়্যদিনা ইমাম জাফর আস সাদিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি


চিশতিয়া তরীকার সাজরায় দেখা যায়, হযরত সৈয়্যদিনা মাওলা আলী কাররামুল্লাহি ওয়াজহাহু’র কাছ থেকে খিলাফত প্রাপ্ত হয়েছিলেন ইমাম হাসান বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। ভারতবর্ষে ইসলাম ধর্মের অন্যতম প্রচারক হযরত খাজা মুঈনুদ্দিন চিশতি রহমাতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন একজন হুসায়নী সৈয়্যদ। তিনি ছিলেন হযরত সৈয়্যদিনা ইমাম জাফর আস সাদিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি’র অধঃস্তন বংশধর।

একইভাবে নক্সবান্দীয়া/মোজাদ্দেদীয়া তরীকার সাজরা বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেদুটাও হযরত সৈয়্যদিনা ইমাম জাফর আস সাদিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি’র সাথে সম্পকিত।

হযরত সৈয়্যদিনা ইমাম জাফর আস সাদিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি’র বাণীসমুহঃ

১। বুদ্ধিমান শত্রুও এক ধরনের সৌভাগ্যের বিষয়।
২। অহংকারী অনুগত হলেও পাপী হয়ে থাকে।
৩। তাওবা করা সহজ হলেও পাপের অভ্যাস ছাড়া কিন্তু খুবই কঠিন ব্যাপার।
৪। প্রকাশ্য শত্রু কপট বন্ধুর তুলনায় অনেক ভাল।
৫। তোষামুদি ধরণের লোককে কাছে আসতে দিও না। কারণ তোমার অজান্তেই সে তোমার মনের মধ্যে অহঙ্কারের বীজ বপণ করে দেবে।

হযরত আলীর বাণীসমুহঃ
১। সব কিছুরই স্বাভাবিক পরিবর্তন আছে। কিন্তু স্বভাবের কোন পরিবর্তন হয় না।
২। ভদ্র সন্তান এলেম শিক্ষা করে বিনয়ী হয়। ইতর এলেম শিখলে উদ্ধত হয়ে পড়ে।
৩। বৃ্দ্ধদের অভিমত যুবকের শক্তিমত্তার চাইতে অনেক বেশী মূল্যবান।
৪। সর্বোত্তম বক্তব্য তাই যা শ্রোতার মনে বিরক্তি উত্পাদন করে না।
৫। স্বল্পভাষী লোকেরাই সাধারণতঃ ঠিক কথা বলে।
৬। ধন-সম্পদ ফেরাউন-কারুনদের উত্তরাধিকার এবং এলেম হলো নবী-রাসুলদের উত্তরাধিকার।
৭। আত্মম্ভরিতা এবং অহংকার মানুষের দ্বীনদারী ধংশ করে দেয়।
৮। স্ত্রীলোকের সর্বাপেক্ষা বড় গুন হচ্ছে ‘তাকে পর পূরুষে দেখবে না এবং সেও কোন পর পুরুষের দিকে দৃষ্টিপাত করবেনা। বিবি ফাতিমা (রাদিআল্লাহু আনহা)

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০১১ সকাল ১১:৩৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×