somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি নিষ্ঠুর প্রেমের গল্প

০৩ রা আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক দিন আগের কথা। এক রাজার খুব সুন্দরী এক মেয়ে ছিল। রুপে গুনে অনন্যা। ফলে যা হবার তাই হল অনেকেই তাকে পছন্দ করত। সমস্যা ছিল একটাই। সে ছিল রাজার মেয়ে তাই তাকে যে পছন্দ করে, একথা কেউ বলারও সাহস পেত না। যারা এই রাজকন্যাকে ভালোবাসত, সেই ছেলেদের দলে এক দরিদ্র ছেলে ছিল। ছেলেটির বাবা মারা গিয়েছিল তার জন্মের কয়েকদিন পরই। তার মা-ই তাকে অনেক কষ্টে লালন পালন করে বড় করে তুলছিল। ছেলেটি জন্মের পর তার বাবাকে দেখেনি, সে কেবল তার মাকে-ই দেখে এসেছে। সে আরও দেখেছে তার মা তাকে লালন পালন করতে গিয়ে কতটা কষ্ট করেছে। যার ফলে সে তার মাকে ভালোবাসত সবচেয়ে সবচেয়ে বেশি। যাই হোক, একদিন রাজকন্যাকে দেখার পর সেই ছেলেটি তার প্রেমে পড়ে যায়। কিন্তু সমস্যা একটাই সেই মেয়েটি রাজকন্যা। আর তাই মন চাইলেও সে তার মনের কথাটা প্রকাশ করতে পারছিল না। ছেলেটির কথা বলার স্টাইল ছিল অত্যন্ত চমৎকার, সবচেয়ে সুন্দর ছিল তার চোখ দুটি। গ্রামের বেশিরভাগ মেয়েই ওর প্রেমে মত্ত ছিল। কিন্তু ও কেবল রাজকন্যাকেই ভালোবাসত। অন্যদিকে আর সব মেয়ের মত রাজকন্যাও সাহসী ছেলে পছন্দ করত। রাজকন্যার কথা ভেবে ভেবেই ছেলেটির দিন কাটে। নাওয়া নেই, খাওয়া নেই, কি করবে কিছুই বুঝতে পারছিল না। এমন অবস্থায় একদিন সে স্বীদ্ধান্ত নিল যা হয় হবে মেয়েটিকে তার মনের কথা বলতেই হবে। চিন্তা করতে লাগল কেমন করে তার মনের কথা বলা যায়। হঠাৎ বুদ্ধি পেয়ে গেল। তার মনের কথা সে তার মাকে জানালো। তার মা তো আকাশ থেকে পড়ল ছেলের এমন কথা শুনে। শত মানা করল ছেলেকে যেন এ কাজ না করে। কিন্তু কে শুনে কার কথা। সে করল কি, মেয়েটি যেখানে গোসল করে বহু কষ্টে সেখানে গিয়ে লুকিয়ে রইল। মেয়েটি যখন গোসল করতে আসল সে তখন সাথে সাথে বের হয়ে তাকে তার ভালোবাসার কথা বলে বসল। মেয়েটিতো ছেলেটিকে দেখেই আশ্চর্য হয়ে গেল। তার উপর ছেলেটির এমন সরাসরি কথা বলার ভংগি, বিশেষ করে মায়াভরা চোখ দুটি দেখে ছেলটিকেও মেয়েটির ভালো লেগে গেল। সব ভুলে মেয়েটিও তার সাথে গল্প করতে লাগল। তার মা তাকে কিভাবে মানুষ করেছে, কিভাবে সে রজকন্যাকে দেখেছে, কেমন করে এখানে আসার বুদ্ধি করেছে, কেমন করে সে তার মায়ের কথা না শুনে এখানে এসেছে, ছেলেটি সব বলে যেতে লাগল। রাজকন্যা সব শুনে আশ্চর্য হয়ে গেল। বিশেষ করে তার মায়রে কথা অমান্য করে এখানে এসেছে শুনে অবাক হয়ে গেল। সে তাকে জিগেস করল-

রাজকন্যা: যে মাকে তুমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাস, তুমি তার কথা অমান্য করে আমাকে দেখতে এসেছ?

ছেলেটি:
হ্যা।

রাজকন্যা: আামাকে তুমি এত ভালোবাস?

ছেলেটি: হ্যা, আমি তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি।

এবার মেয়েটির মাথায় একটি বুদ্ধি আসে।

রাজকন্যা: আচ্ছা তুমি কি একটি পরিক্ষা দিতে পারবে?
ছেলেটি: অবশ্যই পারব। তুমি যা বলবে তাতেই রাজী।
রাজকন্যা: ঠিক আছে। তাহলে এক কাজ কর। তুমি যদি তোমার মায়ের গলা কেটে কাল সকালের মধ্যে এসে আমাকে দেখাতে পার তাহলে বুঝব তুমি আমাকে অনেক অনেক ভালোবাস।
ছেলেটি: ঠিক আছে।

ছেলেটি সাথে সাথে সেখান থেকে বের হয়ে তার মায়ের কাছে চলে যায়। মা-তো ছেলেকে ফিরে আসতে দেখে খুব খুশি। আনন্দে মায়ের চোখে পানি চলে আসে। কিন্তু ছেলেটিকে বড় চিন্তিত দেখচ্ছিল। মা জিগেস করলেন-

মা: কিরে বাবা এত মনমরা কেন?
ছেলে: মা আজ রাজকন্যার সাথে দেখা হয়েছে।
মা: তাই!
ছেলে: হ্যা, রাজকন্যাকে আমি সব বলেছি। রাজকন্যা আমাকে বিয়ে করতে রাজীও হয়েছে। তবে একটা শর্ত দিয়েছে।
মা: কি শর্ত বাবা?
ছেলে: রাজকন্যা বলেছে তোমার মাথে কেটে নিয়ে যেতে পারলে সে আমাকে বিয়ে করবে।
মা: ও তাই? তা তোর কি ইচ্ছে বাবা?
ছেলে: আমি রাজকন্যাকে চাই মা।
মা: ঠিক আছে বাবা। তুই যদি তাতেই সুখি হোস তবে তাই কর।

মায়ের কথা শুনে ছেলেটি খুশি হয়ে উঠল। এক মুহুর্তও দেরি না করে দা দিয়ে মায়ের গলা কেটে ফেলে সে। সেই কাঠা মাথা হাতে নিয়ে রাজপ্রাসাদের দিকে দৌড়াতে থাকে। দৌড়ানোর এক পর্যায়ে সে রাস্তায় আছাড় খেয়ে পড়ে যায়। সাথে সাথে মায়ের কাটা মাথাটি বলে উঠে- "বাবা ব্যাথা পাসনি তো? আস্তে আস্তে যা বাবা" ছেলেটি মায়ের কথায় কান না দিয়ে রুদ্ধশ্বাসে দৌড়াতে থাকে। অবশেষে এক সময় সে সেখান পৌছাতে পারে। সে রাজকন্যার নাম ধরে ডাকতে থাকে। রাজকন্যা তার ডাক শুনে নিচে নেমে আসে।

ছেলেটি: দেখ, আমি তোমার জন্য আমার মায়ের গলা কেটে নিয়ে এসেছি।

ছেলেটি এমন কাজ করবে জীবনেও ভাবতে পারেনি সে। ছেলেটির কান্ড দেখে মেয়েটি রাগে জ্বলে উঠে। সে বলে-

রাজকন্যা: তোমাকে বিয়ে করা আমার পক্ষে সম্ভব না।

ছেলেটি: কেন? !!!

রাজকন্যা: আজ তুমি আমার জন্য তুমার মায়ের গলা কেটে নিয়ে এসেছ, কাল যখন আমার চেয়েও সুন্দরী কাওকে তোমার মনে ধরবে তখনতো তুমি তার কথায় আমার গলা কেটে ফেলবে! প্রহরি এক্ষুনি এই ছেলেকে ধরে নিয়ে ফাসি দিয়ে দাও।

ছেলেটি তার ভুল বুঝতে পারল। কিন্তু যখন পারল তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। ছেলেটি তার মায়ের মাথাটা বুকে নিয়ে নিথর হয়ে পরে রইল........ ।

উৎসর্গ: আমার এক বন্ধু ও তার প্রেমিকাকে।
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×