খোকা ঘুমালো,পাড়া জুড়ালো,ওয়াইম্যাক্স এলো দেশে
আমার এই দেশে যখনি নতুন কিছুর সূচনা হয়,তার সাথে আরও অনেক সত্য-অসত্য তথ্য ফ্রি চলে আসে।কয়েকবছর আগে যখন প্রথম শুনলাম ওয়াইম্যাক্স ইন্টারনেটের সুবিধা বাংলাদেশে আসছে,তখন স্বাভাবিকভাবে কিছু গুজবও এর সাথী হয়ে এসেছিল।আর সব বারের মতো সেবারও আশাবাদী মন সেগুলোকে সত্যি ভেবেছিল।ওয়াইম্যাক্স দেশে এসে ডিজিটাল ডিভাইডার দূর করবে।সারা দেশে,সব শ্রেণীর মাণুষের জন্য নেট অ্যাক্সেস হবে ডাল-ভাত।এর মাধ্যমে নাকি এত হাইস্পীডে ডাউনলোড করা যাবে যে,আপনার পিসি ভেঙ্গে এলোমেলো হয়ে যাবে।আরও কত কি...!!!
২০০৮ সালে উন্মুক্ত নিলামে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ বিড করে ৩টি প্রতিষ্ঠান ওয়াইম্যাক্সের লাইসেন্স নিলো।সবাই নড়ে-চড়ে বসলাম।আহা!আসছে সুদিন......
তারপর শুরু হলো অপেক্ষার প্রহর গোণা।বলা হয়েছিল ২০০৯ এর মার্চের মাঝে সারাদেশে ওয়াইম্যাক্স লাইসেন্সধারীদের তাদের কার্যক্রম শুরু করতেই হবে।যা পর্যায়ক্রমে,তিন বছরের মাঝেই সারা দেশে ছড়িয়ে যাবে B- ।কিন্তু,ব্র্যাক বিডিমেইল সময়মতো অর্থ পরিশোধে ব্যার্থ হওয়ায়,শুরুতেই ওয়াইম্যাক্স বাংলা লায়ন ও অজের (কিউবি) এর ডুয়োপলি হয়ে দাঁড়ায়।
বাংলা লায়ন তাদের ওয়েবসাইটে আগ্রহী গ্রাহকদের রেজিস্ট্রেশন করার সুবর্ণ সুযোগ দেয়
গত বছরের শেষ দিকে,সবাইকে অনেকটা অবাক করে দিয়েই কিউবি তাদের ব্যাবসায়িক কার্যক্রম শুরু করে।অবাক হয়েছিলাম কারণ,বাংলা লায়নের ডামাডোলে অজের/কিউবি কে একটু ফিকে লাগছিলো।তার কিছুদিন পরই বাংলা লায়নও বাজারে প্রবেশ করে।এর পরই স্বপ্নভঙ্গের সূচনা।
যতদূর মনে পড়ে,প্রাথমিকভাবে কিউবি'র মাসিক খরচ ছিল ৩৪০০ টাকা আর মডেমের দাম ৭০০০ টাকা!!!
পরবর্তীতে এই মাসিক খরচ নেমে আসে ১৫০০ টাকায় (মিনিমাম,ডেডিকেটেড) আর মডেমের দাম ৪০০০ টাকায়
হঠাৎ করে এই পুরানো গল্প আজ শোনাতে বসলাম কেন?কারণ,সম্প্রতি আমার ওয়াইম্যাক্স বিষয়ক কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছে।বাংলা লায়ন আর কিউবি বিভিন্ন স্হানে তাদের কিছু এক্সপেরিয়েন্স বুথ চালু করেছে।এছাড়া,বাণিজ্য মেলায়ও তারা স্টল দিয়েছিল।বই মেলায় আর বনানীতে এই দুই স্হানে দুই সার্ভিস প্রোভাইডারের সাথে বিস্তারিত কথা বলার সুযোগ পাই।
কিউবি
কিউবি'র ব্রাউজিং ও ডাউনলোড স্পীড তুলনামূলকভাবে বেশ ভালো এবং স্টেবল।তবে প্যাকেজের মূল্য বেশি।ঢাউস সাইজের একটি মডেম ব্যবহার করতে হয়।এখনো মোবিলিটি সুবিধা এ্যাভেইলেবল নয়।সুতরাং আপনাকে আদি ব্র্যাডব্যান্ড যুগের মতো কাজ করতে হবে।অর্থাৎ ল্যাপটপে লাগিয়ে আরামসে ঘুরে বেড়ানোর আশা,এখানে দুরাশা।কিউবি এর কভারেজ অ্যাভারেজ।
বাংলা লায়ন
বই মেলায় বাংলা লায়নের স্টলে ফ্রি ব্রাউজ করার সুযোগ ছিলো (বাণিজ্য মেলাতেও সে সুযোগ ছিলো,কিন্তু ভীড় বেশি থাকায়...)।ঢাকার কোনো স্হানেই (বনানী,বেইলি স্টার,বসুন্ধরা শপিং সেন্টার) কিউবি'র কর্মীরা আমাকে নির্বিঘ্নে ব্রাউজ করতে দেয়নি, সে তুলনায় বাংলা লায়ন বেশ উদার।এক শনিবার সকালে বই মেলায় কোমর বেঁধে ব্রাউজ করতে নেমে পড়ি।ডাউনলোড চালু করে আমার চক্ষু চড়কগাছ। ১২২ কেবিপিএস এন্ড ইনক্রিজিং......
আমি তো ততক্ষণে খুশিতে আকাশে উড়তে শুরু করেছি।হঠাৎ মনের ভুলে বাংলা লায়নের এক স্টাফকে প্রশ্ন করে বসি,"ভাইয়া,এই পিসি গুলোতে কত স্পীড দেওয়া?"
- "৫১২ কেবিপিএস।"
তখনি আমার পা মাটিতে।সর্বনিম্ন প্যাকেজ ১২৮ কেবিপিএস (৬৯০ টাকা)।সেটায় কেমন স্পীড পাওয়া যাবে,তা বের করার জন্য একসাথে ৪টা ডাউনলোড চালু করলাম (আমার হিসাব করার ধরণে ভুল থাকতে পারে)।দেখি,১৭ কেবিপিএস স্পীড পাচ্ছি।স্পীড স্ট্যাবিলিটি আপেক্ষিক।হতাশায় বুক ভেঙে গেলো
যারা জিপি এর নেট ইউজ করতেন (পি-৪),তারা একসময় মিনিমাম ৩০+কেবিপিএস স্পীড পেয়েছেন,আর এখন ৫ কেবিপিএস পাইলেও খুশি হয়ে যান।এরাও একদিন সে অবস্হায় যাবে না তার কি গ্যারান্টি?
সুতরাং,যেখানে ছিলাম সেখানেই রয়ে গিযেছি।সস্তায় হাইস্পীড নেট শুধু দীর্ঘশ্বাস হয়েই রইলো।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০১১ দুপুর ২:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



