আমার প্রিয় পোস্ট

sumon_graph@yahoo.com +৮৮-০১৭৩২৩১৪৮৪১

মা (একটি সত্য ঘটনার আলোকে)

১০ ই মে, ২০০৮ রাত ১০:৩৩

শেয়ার করুন:                   Facebook

দু'পয়সায় এখন আর আলতা পাওয়া যায়না। সেদিন এখন আর নেই। সেই আলতাও এখন আর খাটিটি নেই। এত নেই এর মাঝেও একজন আছে, যে প্রতিদিন পায়ে আলতা লাগাবে। যদিও শাশুড়ির চার ছয়টা কথা আলতার সাথে মিশিয়ে নিতে হয়। তবু তার মন খারাপের কারণ ঘটেনা। ঠোটের দু' কোনেই হাসি থাকে। আমি দেখেছি, মেয়ের পায়েও কি সুন্দর করে আলতা লাগায়। যদিও সে হাটতে শেখেনি। ফুটন্ত এক মেয়ে তার, অবিকল মেয়ের মতো। অথচ তাকে বাবা বলে সম্বোধন করে। "বাবা সুখী"-এমন ডাক কি দিনে শ'বার সুখীর মা'র মুখে শুনিনি? সুখির বাবা অবশ্য "সুখী মা" বলেই ডাকে।সুখীর জন্মের দিন যে, দাদীর মুখ কালো হয়েছে; আজও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। সুখীর আবার মামা নেই। তাই সুখীর দাদী ভীষন দুশ্চিন্তাগ্রস্থ এই ভেবে যে, মায়ের সুখীর নানীর মতো যদি সুখীর মা'র ও কোন ছেলে সন্তান না হয়! এ নিয়ে অবশ্য বুড়ির ছেলে সূজন আলীর কোন মাথাব্যাথা নেই।
অভাবের কষাঘাতে সূজন আলী পিতৃভিটা বিক্রি করে নলুয়ার চরে বাড়ি করে আরও ১০বছর আগে। ৯ কিংবা সাড়ে ৯ ও হতে পারে। তবে ১০এর বেশী নয়। মনে আছে শুধু সেবার আমের মুকুল দিয়েছিলো বেশ, কিন্তু ফলন হয়নি মোটেও। এ নিয়ে আলোচনার সুযোগে মাইনুদ্দিনের চা'র দোকানে বিক্রিও হয়েছিলো বেশ। গ্রাম ত্যাগের দু'দিন আগেও সুখীর মা'কে যতন করে পায়ে আলতা মাখতে দেখেছি। কি জানি হয়তো মনের কষ্টটা আলতায় মেখে পায়ে পরে নিয়েছিলো। যাবার বেলায় তার চোখে পানি দেখিনি দু'ফোটাও। খানিকটা অশ্রু চিক চিক করেছে কেবল। হতাশা ছিলো ভীষণ এবং হাহাকারের ঢেকি দোকা শব্দ বুকে বেজেছিলো বোধ হয়। আজ হয়তো সুখীর মা'র সুখী চুলে বেনী করে। অবশ্য আরও কয়েকজন সুখী বা সুখ মিয়ার জন্ম হয়েছে কিনা তার খবর নেয়া হয়নি একবারও। তবে শুনেছি সুখীরা আর সুখে নেই।
সুখীর দুঃখের অন্ত থাকবেনা যদি সে জানতে পারে একটি রাতের মাত্র ১০/১০ মিনিটের ঘটনা। সে বাস্তবতার সমার্থক কেবলই আঁধার। আগুনে পুড়ে মরার মত অসহায়ত্ব। কি দিয়ে জানি মতিন মাতবরের সুদরে দায় মেটাতে হয়েছিলো। হয়তো সেদিন নারীত্বের মেরুদন্ডটা বাঁকা হয়েছিলো, তবে ভাঙ্গেনি; ভাঙবেনা কভুও।তবে যতদূর জানি সে রাতে সে বাঁশঝাড়ে নিষিদ্ধ কিছু হয়েছিলো। এও জানি, মতিন মাতবরের কু-ইচ্ছা মন থেকে হাতের মুঠে অথবা পান খাওয়া বিশ্রী মুখে উঠে এসেছিল। আরও জানি বাঁশঝাড়ে আম্রয় নেয়া পাখি আর কীটগুলো ভীষণ অস্থির হয়ে পড়েছিল। পাখিরা সে রাতের শুরুতেই বিষাদের কোলাহলে মেতেছিলো। নারীর অসহায়ত্বের ডানা ঝাপটেছিলো পাখিরা। সুখী তখন মাতৃগর্ভে সপ্তম মাসে পড়েছিলো। হয়তো তাই মতিনের মতো অমানুষের মনে কিঞ্চিত মনুষ্যত্বের জন্ম নিয়েছিলো। সুদের টাকার জন্য চরিত্রটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করলো সুখীর মা। অথচ সূজন আলী জানে মুরগীর ডিম বিক্রির টাকা দিয়ে সুদের টাকা শোধ করা হয়েছিলো। যদিও সে ডিম সুখীর মায়ের পেটেই গেছে, গর্ভে থাকা সুখীর বেড়ে ওঠার জন্য। আজও ভাবি কি দিয়ে, কোন রঙের আলতাতে সে কষ্ট মিশিয়েছিলো সুখীর মা?

 

 

  • ৩০ টি মন্তব্য
  • ৩২২ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১০ ই মে, ২০০৮ রাত ১০:৩৭
comment by: মুকুল বলেছেন: পড়লাম...
১০ ই মে, ২০০৮ রাত ১০:৩৯

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ মুকুল ভাই।

২. ১০ ই মে, ২০০৮ রাত ১০:৪১
comment by: প্রবাস কন্ঠ বলেছেন: পুরানো সেই দিনের কথা . . .
১০ ই মে, ২০০৮ রাত ১০:৪৫

লেখক বলেছেন:
হ্যাঁ

৩. ১০ ই মে, ২০০৮ রাত ১০:৪৭
comment by: বিহংগ বলেছেন: আজও ভাবি কি দিয়ে, কোন রঙের আলতাতে সে কষ্ট মিশিয়েছিলো সুখীর মা?
মায়ের কষ্ট মা বুঝতে দেন না।
১০ ই মে, ২০০৮ রাত ১০:৪৮

লেখক বলেছেন:
মায়েরা এমনই...

৪. ১০ ই মে, ২০০৮ রাত ১১:৩৬
comment by: আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:

আহারে ! আহারে !
সুখীর মায়ের মতো এরকম কতো অসহায়
মায়েরা যে পড়ে আছে আমাদের চারপাশে !

আপনার বাস্তব গল্প ভাবিয়ে তুললো ।

১০ ই মে, ২০০৮ রাত ১১:৪১

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ শিপন ভাই।

৫. ১০ ই মে, ২০০৮ রাত ১১:৫৪
comment by: একরামুল হক শামীম বলেছেন: পড়লাম লেখাটা।
১১ ই মে, ২০০৮ রাত ১২:১২

লেখক বলেছেন:
ভালো করেছো।

৬. ১১ ই মে, ২০০৮ রাত ১:৫৩
comment by: নিহন বলেছেন: লেখাটা দারুন হয়েছে ।
১১ ই মে, ২০০৮ রাত ১:৫৮

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ নিহন।

৭. ১১ ই মে, ২০০৮ রাত ১:৫৭
comment by: নাজিরুল হক বলেছেন: প্লাসাইলাম।
১১ ই মে, ২০০৮ রাত ১:৫৯

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ।

আপনার ছবিটা দেখলে আমার ভয় লাগে

৮. ১১ ই মে, ২০০৮ সকাল ৭:৪০
comment by: বিষাক্ত মানুষ বলেছেন: +++++
১১ ই মে, ২০০৮ সকাল ১০:০১

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ,
ভালো থাকুন সবসময়।

৯. ১২ ই মে, ২০০৮ রাত ১০:৪৩
comment by: সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন: ছুঁয়ে গেলো.......
"আজও ভাবি কি দিয়ে, কোন রঙের আলতাতে সে কষ্ট মিশিয়েছিলো সুখীর মা?" .....................................।
শুভেচ্ছা থাকলো
১২ ই মে, ২০০৮ রাত ১০:৫৮

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ আপু।

কবিতা চেয়েছিলে, দিলামতো,

কমেন্ট কই?

১০. ১২ ই মে, ২০০৮ রাত ১০:৫২
comment by: বহুরূপী মহাজন বলেছেন: সুন্দর লেখা + আপনার লেখার হাত বেশ ভালো।
১২ ই মে, ২০০৮ রাত ১০:৫৮

লেখক বলেছেন:
লজ্জা দিলেন ভাই;)

১১. ১২ ই মে, ২০০৮ রাত ১১:২০
comment by: পুষ্প বলেছেন: আজও ভাবি কি দিয়ে, কোন রঙের আলতাতে সে কষ্ট মিশিয়েছিলো সুখীর মা?

পড়ে খুব মন খারাপ হয়েছে।আপনার লেখার হাত ভাল।


ছবিটা বদলেছেন মনে হচ্ছে ,সুন্দর হয়েছে।
১২ ই মে, ২০০৮ রাত ১১:২৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

তবে লজ্জা পেলাম।;)

১২. ২২ শে জুন, ২০০৮ রাত ১০:২০
comment by: রাতিফ বলেছেন: দুর্দান্ত লিখছেন সুমন ভাই........আপনার লিখার হাত তো মারাত্মক......চালিয়ে যান।
২২ শে জুন, ২০০৮ রাত ১০:২৪

লেখক বলেছেন:
ভাইয়া ভালো আছেন?

বড় ভাইরা আছেন বলেইতো ছোট ভইয়েরা এগিয়ে যাওয়ার সাহস করে।
দোয়া করবেন ভাইয়া।
ভাবীকেও বলবেন তার পিচ্ছি দেবরটার জন্য যেন দোয়া করে।

আসসালামুআলাইকুম।

১৩. ২১ শে জুলাই, ২০০৮ ভোর ৬:২৩
comment by: কঁাকন বলেছেন: কষ্টের অনেক রং
২১ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ৯:০৬

লেখক বলেছেন: আরে আরে....

এতোদিন পর খুজে পেলেন কিভাবে?
ভালো থাকুন।
অনেক খুশি হলাম।

১৪. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:০৭
comment by: নুশেরা বলেছেন: পড়লাম; কী বলব বুঝতে পারছি না.......
২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৫১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ নুশেরা....

খুব ভালো লাগলো আপনার কমেন্টটি দেখে। এতোদিন পর কেউ পুরোনো লেখা পড়ে কমেন্ট করলে ভালোই লাগে।

অশেষ ধন্যবাদ।

১৫. ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১:০৪
comment by: তারার হাসি বলেছেন: অসহায় একজন নারী !
২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১:১৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ তারার হাসি....

অশেষ খখুশি হলাম

 



 


অথচ অবিশ্বাস্যভাবে তোমার চোখের পাতায় কুয়াশা নেমেছিলো!!!
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৮২৬৭৪