somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অদৃষ্টে উড়োচিঠি - ২

১৪ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রিয়...
কেমন আছিস তুই? অনেক দিন হলো তোকে লিখি না। পুরোনো কিছু বিষয়ের সাথে নতুন কিছু আশয়ের মিশ্রনে লেখা চিঠিখানা শুরু করলাম-

আমি ঘুঘু চরা মাঠেই চরতে যেতাম। হাঁটতাম, মাঝে মাঝে দৌড়ানোর চেষ্টাও করতাম। কখনো পারতাম, আবার কখনো পারতাম না। তুই তখন আমাকে খুব জ্বালাতন করতি। একা থাকতে দিতে চাইতি না। কতো অনুনয় বিনয় করেও তোর থেকে আলাদা হতে পারতাম না। অথচ আমি প্রাণপনে চাইতাম ঘাসের সাথে একা থাকতে। ঘাসের প্রতি আমার দুর্বলতা ছোটকাল থেকেই, যখন আমাদের কাজের ছেলে ফকিরা গরুর জন্য সবুজ ঘাস কেটে আনতো। আনমনা হয়ে গরুর সেই ঘাস গ্রহণ খেয়াল করতাম। সৌন্দর্যকে কেমন করে ছিবিয়ে ছিবিয়ে খায়! গরুর প্রতি জন্ম নেয়া রাগ থেকে গরুর দুধ পর্যন্ত দুধ খেতাম না। তুই সেটাও বুঝতে চাইতি না। চাইতি শুধু বারবার জন্ম নিতে।

মাঠে আসতাম ঘাঁসকে বাঁচিয়ে রাখতে। কেউ যেন তাকে হত্যা করতে না পারে। অথচ তুই আসতি পঙতি নির্মাণ করতে। আমাকে দিয়ে লিখিয়ে নিতে এক একটি নতুন চরণ। দারুন বিরক্ত হতাম। বিচ্ছিরি লাগতো তোর সুড়সুড়ি। একদিন গভীর রাতে তোকে ঘুমিয়ে রেখে মাঠে গিয়েছিলাম। রাতদুপুরে ঘাসের ওপর সাপের সঙ্গম দেখে ভয় পেতেই পেছন থেকে গলা জড়িয়ে বললি, "ভয় পাসনে, আমি তোর সাথে"। খুব কৃতজ্ঞতা জানাতে ইচ্ছে হওয়ার আগেই ভাবলাম, "কবিতা বোধহয় ঘুমায় না, মরেও না! জেগে থাকার জন্যই বুঝি তার জনম!" সেদিন তোর সঙ্গ পেয়ে আমি কবি হয়েছিলাম। তখন মগজের ভিতর তোর জন্ম হচ্ছিলো একটু একটু করে। আমি যখন তোকে একটি আস্ত রূপ ধরাতে পারলাম, ততক্ষণে সাপগুলো চলে গিয়েছিলো। তাদের চলে যাবার পর আবার তোর প্রতি বিরক্তি এসে গেলো। আবারও তোকে বোঝা মনে হলো।

সে মাঠে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলাম তারও অনেক পর। গ্রামে তখন মানুষরা দলবেঁধে পায়রা পুষতো। এক কবিরাজ বাড়িতেই ছিলো কয়েকশ পায়রা। মোল্লাবাড়ির জালালী কবুতরগুলো আমার ভালো লাগতে না। কারণ সেগুলো সাদা ছিলো না। সাদা কবুতর দেখলেই আমি কামার্ত হতাম। খুব প্রেম এসে যেতো মনের ভিতর। সাদা পায়রাকে শক্তহাতের নরম মুঠে পুরে খসখসে গালে লাগাতেই আমি মরে যেতে থাকতাম প্রেমে প্রেমে। ঘুমে থেকে থেকে স্বপ্নও দেখতাম পায়রার সঙ্গ নিয়ে।

সেদিন বোধহয় খুব রোদ ছিলো। রোদেলা দিনের পড়ন্ত বিকেল খুব যৌবনাবতী হয়। সেই বিকেলে মাঠ থেকে গবাধিপশু তাড়াতে গিয়ে আমি সর্বনাশ দেখেছিলাম। সাদা পায়রাকে দেখেছিলাম ঘাসের গায়ে আলপনা আঁকতে। আচ্ছা, সাদা পায়রার রক্তের রঙ সাদা নয় কেন? ইস যদি তা সাদা হতো! সাদার গায়ে লালের অংকনে আমি শৈল্পিকতা খোঁজার সময় পাইনি। তার আগেই আমি শিশু হয়ে গিয়েছিলাম। চোখের পানি মুছতে মুছতে মাঠ থেকে দৌড়ে পালিয়ে ছিলাম। কবিতা, সেদিন তোকে প্রশ্রয় দিইনি। একটি শব্দও জন্ম দেয়ার সুযোগন তোমাকে দিইনি।

দৌড়ের ওপর থেকে থেকে আজ আবার পথ ভুলে সেই মাঠে এসে গেছি। যেখানে তোর অবয়বের শুভ্রতার আবরণ এঁটে দেয়া বিশেষ কিছুর লুটোপুটি ঘাসের ওপর সাদা মরা লালের আলপনার চাইতেও বিদঘুটে দু:খ জড়ানো। এতক্ষনে আমার পিঠ চাপড়ে বলার প্রস্তুতি নিচ্ছিস। বুনে যাচ্ছিস কিছু অম্লশ্রুতির কথামালা। "কবিদের ভাঙতে নেই" // "কবিরা ভাঙে না" // "তোমার জেগে থাকা দরকার" // "সামনে অনেক সম্ভাবনা" ইত্যাদি ইত্যাদি। অথচ আমি যখন বলবো, "আমিতো কবি নই, তবেতো আমার ভেঙে পড়াতে দোষ নেই"; তখনো তুই ধানাই পানাই করেই যাবি। আমি জানি তুই তা করবিই। কারণ কবিতাতো জেগে থাকার জন্য সৃষ্ট। মৃত মানুষের মাঝে বসত করার জন্য নয়, বখাটে কথনে খৈ ফোটার জন্যও নয়।

ভালো থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করিস।

তোর যাবতীয় কষ্টের অস্তিত্ব
বখাটে
১৪.১০.০৮
রাত : ১২.২০মি.
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০১২ রাত ২:০৫
১৭টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×