আধপুরা বোতলে আস্ত চোখ ঢুকিয়ে খুব চোস্ত নেশা বেচাকেনা। সামনে পেছনে কাশ, বাঁশ আর যৎসামান্য আলো। আমাদের গ্রামেও একটি বাঁশের পুল ছিলো এবং তার খুঁটিগুলো অতিশয় বৃদ্ধ হাঁড়ের মতো অশক্তির ছিলো। আধখালি বোতলের গায়ে কখনো জ্যোৎস্নার শরীর শুয়ে পড়তেই বোতলধারী যৌবন ফিরে পেতো, আকাশ দেখার সাহস পেতো। একটি গ্রামে একটিই চাঁদ ছিলো অথচ জ্যোৎস্নার পাটি উঁচু মন্দিরটাকেও ছাড় না দিয়ে শরীরটা বিছিয়ে দিতো।
ক'দিন আগেও গ্রাম থেকে বার্তা আসতো। এখন আর আমার জমানো খুচরো পয়সাগুলোর হারিয়ে যাওয়া নিয়ে মায়ের ক্ষমা প্রার্থনা অথবা আমার বানানো দেয়াল মাদুরে ইঁদুরের দাঁতের দাগ নিয়ে বোনের কাঁদো কাঁদো কন্ঠ হেঁটে আসে না। আমার এখানে কিন্তু সবুজ রংয়ের বিষ মুখে প্রায়ই মৌপোকা দল পাকায়। শেষবার দেখে এলাম বিকেলের উঠোনে উঁকুন খোঁজার দল আসন পাতে না। দুপুরগুলো এখনো খালি খালি নিরব থাকে। অথচ পুরো বেলা জুড়ে পুকুর জলে অহেতুক পাপ ভেসে বেড়ায়। দু'এক উঠোন বা পুকুরপাড়ে ভায়োলিনের সুর অতটা বিস্যুরত দেখাতো না।
হাতের ফাঁকে যে বিবিধ শূণ্যস্থান আছে তাতে আকাশটার সাথে সাথে যেকোন মানুষের মুখ এবং ছুটির দিনের ফাঁকা রাস্তা সবই স্পষ্ট দেখা যায়। আর আমি বারান্দায় না গেলে আমাকে নিয়ে পড়ে থাকা কাঠের বুনন একটুও বিরক্ত হবে না। কে জানে হয়তো এসময় আমার আড্ডাঘরে যে রোদ পড়তো এখন আর হয়তো পড়ে না এবং মায়ের হাতে একবারও জানালা খোলার শব্দ হবে না।
সান্ধ্যসময় আমার কেবল মাথাটাই জেগে থাকে। শরীরটাকে ঘুমোতে পাঠিয়ে দিই। রাত আসার আগেই সুযোগ বুঝে আমি পৃথিবী থেকে পালিয়ে যাই। ঢুকে যাই মায়ের গর্ভে। ভীষণ উষ্ণতায় ভুগতে থাকি ভোর পর্যন্ত। প্রতিনিয়ত প্রসব হতে এখনও হাঁফিয়ে ওঠা হয়নি। তবে রাত পাহারা দিতে নিশ্চিত অনিচ্ছুক আমি।
বোধহয় আগেরবার যখন জন্মেছিলাম- ভয় পাবো বলে মা সারারাত আমার ঘরে আলো জ্বালিয়ে রাখতেন। তবে একবার মধ্যরাতে ঘর থেকে বেরিয়ে অমাবশ্যা জয়ের কথা ভুলে যাবার কোন সম্ভাবনা নেই।
আমি জানি - আমাকে আমার চাইতে বেশি আর কেইবা ভালোবাসতে পারে!
===================
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০১২ রাত ২:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


