somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তারা নারীকে মানুষ হতে দিবে না

২৮ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আলাদীনের চেরাগ পেলে ঘঁষা মেরে দৈত্যের কাছে মারবেল আর লাটিম খেলার শৈশবে ফিরে যেতে চাইতাম কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারিনি। তবে আমার এ লেখার উদ্দেশ্যটার সঠিক বর্ণনার বিষয়ে আমার সক্ষমতার কিছু অবশ্যই চাইতাম। ভাবনাগুলো বেজায় বিদঘুটে, নোংরা এবং অশ্লীল। অন্য কিছু নয়, নারী, বাণিজ্য আর মিথ সংক্রান্ত। এ তিনেই ঘুরপাক খাবো।

নারীর অধিকার নিয়ে চিল্লাচিল্লি করতে কিছুটা শরম লাগে। তবে জন্মের পর সিথানে বেশি করে লজ্জাবতী লতা দেয়াতেই রক্ষা, নইলে নিশ্চিত বেগুনি বা খয়েরি হয়ে যেতাম। দোভাগা, তেভাগা আর হতভাগাদের অত্যাচারে নারীর স্ব-ভাগে নির্লজ্জ ভাগাভাগির টি-টুয়েন্টি শটগুলো ওভার বাউন্ডারির পরের বিশেষন খুঁজতেছে। যতো ভয় এটা নিয়ে।

ভাবতেছি- আর কতো রকম রমনীয় প্রসাধন বাজারে আসতে পারে! নারী অংগসমূহ বিশেষ বিবেচনায় আলাদাকরণের মাধ্যমে এর ঘঁষামাজার প্রয়োজনীয়তা এবং উপায় নিয়ে কর্পোরেট টেনশনের আগাগোড়ায় কোন রসায়ন হঠাৎ বিশেষত্ব পেয়ে যায়! সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাজারে প্রচলিত অংগভিত্তিক প্রসাধন ব্যবহার করে শেষ করা একজন রমনীর পক্ষে কতোটা সাধ্যের ব্যাপার?

মাথা একখান সবারই থাকে। মাথার উপরে চুল থাকে আবার মগজও থাকে। এ মাথার ভেতর মগজে এক নারী কতটুকু জ্ঞান ধারণ করতে পারে, এটা নিয়ে সচেতনতা নিয়ে কোন টেনশন নেই। কিন্তু চুল শক্ত হলে কিভাবে ত্যাড়া প্রেমিককে বেঁধে রাখা যাবে, চুল সুন্দর না হলে ভালো পাত্র ঝুটবে কি ঝুটবে না এ সংক্রান্ত বিষয়ে টেনশন করতে করতে পুরুষ স¤প্রদায়ের কর্পোরেট মগজে পলি সংকট দেখা দিচ্ছে। এক নারী তার বুকে কতটা গর্ব ধারণ করতে পারে, এ বিষয়ে ভাবনা সব গোল্লায় যাক। তার বুকে যে নরম মাংসের স্তুপ আছে, এ বিষয়ে আসা যাক। এ মাংস পুরষের খুবই পছন্দের। সুতরাং এটার কোমল্ত্ব ধারণ করার জন্য ক্ষারযুক্ত সাবানের পরিবর্তে কোন প্রসাধন ব্যবহার ঠিক হবে, মাংস যেন ঝুলে না যায় তার জন্য কোন ক্রীমের দরকার? এগুলো বসে বসে ঠিক করি। চুল বলি আর নখ বলি আর বুকই বলি সব কিছুর গন্তব্য ওই পুরুষ এবং তার যৌনাচার।

প্রতিটি অংগের জন্য আর কতরকমের সাজগোজ অথবা প্রসাধন আবিষ্কারের প্রয়োজন আছে?- এমন গবেষনা কাজে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকারত্ব ব্যাপকাকারে নিরসন হলে মুখে তালা লাগিয়ে নিবো।

বাংলাদেশের টেলিভিশনওয়ালা সংসারগুলোতে স্থায়ী সদস্য হিসেবে স্যাটেলাইট চ্যানেলের হিন্দি সিরিয়ালগুলো স্থান করে নিয়েছে। যে হিন্দি সিরিয়ালগুলো দেখার জন্য সংসারের শৃঙ্খলা নষ্ট করতেও রাজি আছে গৃহীনিরা। নারীর পিছিয়ে থাকাকে পুঁজি করে উদ্ভট কাহিনী নিয়ে নির্মিত এসকল সিরিয়ালে অভিনেত্রীরা সর্বক্ষণ উৎকট সাজগোজ নিয়ে থাকে। অভিনেত্রীদের পরিহিত বস্ত্র ক’দিন পর বিভিন্ন নামে বাজারে আসে এবং ওইসকল গৃহীনিরা দলবেঁধে নেমে আসে বস্ত্রগুলো ক্রয় করার জন্য। এ সিরিয়ালগুলোকে ঘিরে হাজার হাজার কোটী টাকার বাণিজ্য।

নারী অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারী কিছু সামাজিক সংগঠনের কাজের ধরন দেখলে “মেয়েলী” বমি আসে। এ আন্দোলন করতে গিয়ে নারীদের জন্য আলাদা ঋণ, আলাদা মহিলা শিক্ষালয়, হাসপাতাল, বাস, পার্লার এসব কিছুর সৃষ্টি হবার পর হয়তো মহিলা ফুটপাত, মহিলা চটপটি হাউস. মহিলা টি-স্টলসহ হাবিজাবি অনেক কিছুই দেখতে পাবো।
সভা সেমিনার, বিজ্ঞাপন, নাটক সিনেমাসহ সবক্ষেত্রে নারীকে বুঝাতে হবে তুমি অবশ্যই আরামদায়ক এবং লোভনীয় কিছু। হয় এই আরাম বা লোভ নিজে উপভোগ করার জন্য তোমাকে সচেতন হতে হবে, নইলে পুরুষ যেন তোমার এই আরাম অন্যায়ভাবে ভোগ করতে না পারে সেজন্য নিজেকে আলাদা করে নিতে হবে।

সব কিছুর শেষ হচ্ছে তুমি নারী। মানে লোভনীয় এবং আরামদায়ক কিছু।

কর্পোরেট শুয়োরের বাচ্চারা নারীকে মানুষ হতে দিবে না।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০১২ রাত ১:৫৯
৩৬টি মন্তব্য ৩২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×